> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯

> মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০০৮ রহিতক্রমে এতদ্‌সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন

**Status:** Repealed

**Date of Publication:** ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০০৯

**Act No:** ২০০৯ সনের ৮ নং আইন

**এই আইনটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ০৫ নং আইন) দ্বারা রহিত করা হইয়াছে ।**

যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ১২ নং অধ্যাদেশ) রহিতক্রমে এতদ্‌সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯](/laws/act-1006 "Act 1006") নামে অভিহিত হইবে।

(২) এই আইন ২ বৈশাখ, ১৪১৫ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৫ এপ্রিল, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হইতে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

### সংজ্ঞা

২। -বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(ক) "আর্থিক প্রতিষ্ঠান" অর্থ [আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩](/laws/act-781 "Act 781") (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২(খ) এ সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান;

(খ) "আদালত" অর্থ স্পেশাল জজ এর আদালত;

(গ) "তদন্তকারী সংস্থা" অর্থ [দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪](/laws/act-914 "Act 914") (২০০৪ সনের ৫ নং আইন) এর অধীন গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন; এবং কমিশনের নিকট হইতে তদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(ঘ) "নগদ টাকা" অর্থে কোন দেশের যথাযথ মুদ্রা হিসাবে উক্ত দেশ কর্তৃক স্বীকৃত কোন ধাতব মুদ্রা, কাগজের মুদ্রা, ট্রাভেলার্স চেক, পোস্টাল নোট, মানি অর্ডার, চেক, ব্যাংক ড্রাফট, বিয়ারার বন্ড, লেটার অব ক্রেডিট, বিল অব এক্সচেঞ্জ বা প্রমিজরি নোটও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ঙ) "নিষ্পত্তি" অর্থে ক্ষয়যোগ্য, দ্রুত পচনশীল অথবা নির্দিষ্ট সময়ের পর ব্যবহার অযোগ্য সম্পত্তি বিক্রয় বা অন্য কোন আইনের অধীন ধ্বংস করার উপযোগী সম্পত্তি ধ্বংসকরণ বা আইনসম্মতভাবে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে হস্তান্তরও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(চ) "বাংলাদেশ ব্যাংক" অর্থ [Bangladesh Bank Order, 1972](/laws/act-415 "Act 415") (P.O. No. 127 of 1972) এর অধীন স্থাপিত Bangladesh Bank;

(ছ) "বীমা কোম্পানী" অথ [Insurance Act, 1938](/laws/act-175 "Act 175") (Act No. IV of 1938) এর section 2 (8) এ সংজ্ঞায়িত insurance company;

(জ) "বৈদেশিক মুদ্রা" অর্থ [Foreign Exchange Regulation Act, 1947](/laws/act-218 "Act 218") (Act No. VII of 1947) এর section 2(d) তে সংজ্ঞায়িত foreign exchange;

(ঝ) "ব্যাংক" অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ৫ (ণ) এ সংজ্ঞায়িত ব্যাংক কোম্পানী;

(ঞ) "মানি চেঞ্জার" অর্থ [Foreign Exchange Regulation Act, 1947](/laws/act-218 "Act 218") (Act No. VII of 1947) এর section 3 এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;

(ট) "মানিলণ্ডারিং" অর্থ-

(অ) সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate offence) সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করিবার উদ্দেশ্যে উহার হস্তান্তর, রূপান্তর, বিদেশে প্রেরণ বা বিদেশ হইতে বাংলাদেশে প্রেরণ বা আনয়ন করা বা বৈধ ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তি বিদেশে পাচার;

(আ) কোন আর্থিক লেনদেন এইরূপভাবে সম্পন্ন করা বা সম্পন্ন করিবার চেষ্টা করা যাহাতে এই অধ্যাদেশের অধীন উহা রিপোর্ট করিবার প্রয়োজন হইবে না;

(ই) এইরূপ কোন কার্য করা যাহার দ্বারা উক্তরূপ অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করা হয় বা এইরূপ কার্যসম্পাদনের চেষ্টা করা বা অনুরূপ কার্যসম্পাদনে স্বজ্ঞানে সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করা।

(ঠ) "রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা" অর্থ -

(অ) ব্যাংক;

(আ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান;

(ই) বীমা কোম্পানী;

(ঈ) মানি চেঞ্জার;

(উ) অর্থ প্রেরণকারী বা অর্থ স্থানান্তরকারী কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান;

(ঊ) বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিক্রমে ব্যবসা পরিচালনাকারী অন্য কোন প্রতিষ্ঠান; বা

(ঋ) সরকারের অনুমোদন্ক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময়ে সময়ে, বিজ্ঞপ্তি জারীর মাধ্যমে ঘোষিত অন্য কোন প্রতিষ্ঠান।

(ড) "হাইকোর্ট বিভাগ" অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ;

(ঢ) "সন্দেহজনক লেনদেন" অর্থ এইরূপ লেনদেন -

(অ) যাহা স্বাভাবিক লেনদেনের ধরণ হইতে ভিন্ন ;

(আ) যাহার সম্পর্কে এইরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে ইহার সহিত কোন অপরাধ হইতে অর্জিত সম্পত্তির সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে;

(ণ) "সম্পত্তি" অর্থ -

(অ) যে কোন প্রকৃতির, দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান, স্থাবর বা অস্থাবর, সম্পত্তি; বা

(আ) নগদ টাকা, ইলেট্রনিক বা ডিজিটালসহ অন্য যে কোন প্রকৃতির দলিল বা ইন্সট্রুমেন্ট যাহা কোন সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব বা মালিকানা স্বত্বে কোন স্বার্থ নির্দেশ করে।

(ত) "স্পেশাল জজ" অর্থ [Criminal Law Amendment Act, 1958](/laws/act-277 "Act 277") (Act No. XL of 1958) এর section 3 এর অধীন নিযুক্ত Special Judge;

(থ) "সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate offence)" অর্থ নিম্নবর্ণিত এইরূপ অপরাধ, যাহা সংঘটনের মাধ্যমে, অর্জিত কোন অর্থ বা সম্পদ লন্ডারিং করা বা করিবার চেষ্টা করা হয়, যথা :-

(১) দুর্নীতি ও ঘুষ;

(২) মুদ্রা জালকরণ;

(৩) দলিল দস্তাবেজ জালকরণ;

(৪) চাঁদাবাজি;

(৫) প্রতারণা;

(৬) জালিয়াতি;

(৭) অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা;

(৮) অবৈধ মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা;

(৯) চোরাই ও অন্যান্য দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা;

(১০) অপহরণ, অবৈধভাবে আটকাইয়া রাখা ও পণবন্দী করা;

(১১) খুন, মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি;

(১২) নারী ও শিশু পাচার;

(১৩) চোরাকারবার এবং দেশী ও বিদেশী মুদ্রা পাচার;

(১৪) চুরি বা দস্যুতা বা ডাকাতি;

(১৫) আদম পাচার ও অবৈধ অভিবাসন;

(১৬) যৌতুক; এবং

(১৭) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সরকারের অনুমোদনক্রমে গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত অন্য যে কোন সম্পৃক্ত অপরাধ।

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে।

### মানিলন্ডারিং অপরাধ ও শাস্তি

৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানিলণ্ডারিং হইবে একটি অপরাধ।

(২) কোন ব্যক্তি মানিলণ্ডারিং অপরাধ করিলে বা মানিলণ্ডারিং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা, বা ষড়যন্ত্র করিলে তিনি অন্যূন ৬ (ছয়) মাস এবং অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত যে অপরাধের জন্য তিনি দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন সেই অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে।

### অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ লংঘনের শাস্তি

৫। কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ লংঘন করিলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদন্ড বা অনূর্ধব ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

### তথ্য ফাঁসকরণের শাস্তি

৬। (১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহতকরণ বা উহাতে কোন বিরূপ প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তদন্ত সম্পর্কিত কোন তথ্য বা প্রাসংগিক অন্য কোন তথ্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা সংবাদ মাধ্যমে ফাঁস করিবেন না।

(২) এই আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা এজেন্ট কর্তৃক চাকুরীরত বা নিয়োগরত থাকা অবস্থায় কিংবা চাকুরী বা নিয়োগজনিত চুক্তি অবসায়নের পর তৎকর্তৃক সংগৃহীত, প্রাপ্ত, আহরিত, জ্ঞাত কোন তথ্য এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার, প্রকাশ ও ফাঁস করা হইতে বিরত থাকিবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান লংঘন করিলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনূর্ধব ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

### তদন্তে বাধা বা অসহযোগিতা, প্রতিবেদন প্রেরণে ব্যর্থতা বা তথ্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার শাস্তি

৭। - (১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন -

(ক) কোন তদন্ত কার্যক্রমে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বাধা প্রদান করিলে বা সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে; বা

(খ) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে যাচিত কোন প্রতিবেদন প্রেরণে বা তথ্য সরবরাহে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে;

তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা অনূর্ধব ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

### মিথ্যা তথ্য প্রদানের শাস্তি

৮। (১) কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অর্থের উৎস বা হিসাব ধারকের পরিচিতি সম্পর্কে বা কোন হিসাবের সুবিধাভোগী বা নমিনি সম্পর্কে কোনরূপ মিথ্যা তথ্য প্রদান করিবেন না।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা অনূর্ধব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

### অপরাধের তদন্ত ও বিচার

৯। (১) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ [দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪](/laws/act-914 "Act 914") (২০০৪ সনের ৫ নং আইন) এর অধীন তফসিলভুক্ত অপরাধ গণ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন বা কমিশন হইতে তদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্তযোগ্য হইবে।

(২) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ [Criminal Law Amendment Act, 1958](/laws/act-277 "Act 277") (Act XL of 1958) এর section 3 এর অধীন নিযুক্ত স্পেশাল জজ কর্তৃক বিচার্য হইবে।

(৩) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের তদন্ত, বিচার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে এই আইনের বিধানাবলীর সহিত বিরোধের ক্ষেত্রে, [দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪](/laws/act-914 "Act 914") এবং [Criminal Law Amendment Act, 1958](/laws/act-277 "Act 277") এর বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

### স্পেশাল জজ এর বিশেষ এখতিয়ার

১০। (১) স্পেশাল জজ এই আইনের অধীন অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ড আরোপ এবং, ক্ষেত্রমত, অধিকতর তদন্ত, সম্পত্তি অবরুদ্ধকরণ, ক্রোক, বাজেয়াপ্তকরণ আদেশসহ আবশ্যক অন্য যে কোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) স্পেশাল জজ এই আইনের অধীন দায়েরকৃত কোন মামলায় অধিকতর তদন্তের আদেশ প্রদান করিলে উক্তরূপ আদেশে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি সময়সীমা নির্দিষ্ট করিয়া দিবেন, যাহা ৬ (ছয়) মাসের অধিক হইবে না।

### অপরাধের আমলযোগ্যতা, অ-আপোষযোগ্যতা ও অ-জামিনযোগ্যতা

১১। এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (cognizable), অ-আপোষযোগ্য (non-compoundable) এবং অ-জামিনযোগ্য (non-bailable) হইবে।

### দু্‌র্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদনের অপরিহার্যতা

১২। (১) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রদত্ত অনুমোদন বা দুর্নীতি দমন কমিশনের সরাসরি আবেদন ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে গ্রহণ (cognizance) করিবেন না।

(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্ত সমাপ্ত হইবার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করিবার পূর্বে কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিবেন এবং কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদন পত্রের একটি কপি প্রতিবেদনের সহিত আদালতে দাখিল করিবেন।

### জামিন সংক্রান্ত বিধান

১৩। - এই আইনের অধীন অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি -

(ক) তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের উপর অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানীর সুযোগ দেওয়া না হয়; এবং

(খ) তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে মর্মে আদালত সন্তুষ্ট হন; অথবা

(গ) তিনি নারী, শিশু বা শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ না হন এবং তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে আদালত সন্তুষ্ট না হন।

### সম্পত্তির অবরুদ্ধকরণ (Freezing) বা ক্রোক (Attachment) আদেশ

১৪। (১) তদন্তকারী সংস্থার লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির দেশে বা দেশের বাহিরে অবস্থিত সম্পত্তি, যাহাতে দেশের মানুষের স্বার্থ রহিয়াছে, এইরূপ ক্ষেত্রে অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তদন্তকারী সংস্থা কোন সম্পত্তির অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশের জন্য আদালতে লিখিত আবেদন দাখিলের সময় উহাতে নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি উল্লেখ করিবে, যথা :-

(ক) অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশের নিমিত্ত সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ;

(খ) সম্পত্তিটি মানিলণ্ডারিং এর সহিত জড়িত থাকিবার সপক্ষে যুক্তি ও প্রাথমিক প্রমাণাদি;

(গ) দায়েরকৃত মামলায় সফলতা লাভের সম্ভাবনা;

(ঘ) প্রার্থীত আবেদন মোতাবেক আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদান করা না হইলে মামলা নিষ্পত্তির পূর্বেই সম্পত্তিটি অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত হইবার আশংকা।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ প্রদান করা হইলে আদালত সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণসহ বিষয়টি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সরকারী গেজেটে এবং অন্যূন ১টি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রচার করিবে।

(৪) এই ধারার অধীন অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, জাতীয়তা, পদবী (যদি থাকে), পেশা, ট্যাক্স পরিচিতি নম্বর (TIN), বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং অন্য কোন পরিচিতি, যতদূর সম্ভব, উল্লেখ থাকিবে।

(৫) উপ-ধারা (৬) এর বিধান সাপেক্ষে, এই ধারার অধীন কোন ব্যক্তির সম্পত্তি অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোকের জন্য আদালত আদেশ প্রদান করিলে আদেশ কার্যকর থাকাকালীন, আদালত কর্তৃক ভিন্নরূপ কোন আদেশ প্রদান করা না হইলে, উক্ত সম্পত্তি কোনভাবে বা প্রকারে অন্যত্র হস্তান্তর, উক্ত সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট কোন প্রকার লেনদেন বা উক্ত সম্পত্তিকে কোনভাবে দায়যুক্ত করা যাইবে না।

(৬) কোন ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্ট অবরুদ্ধকরণ আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় উক্ত আদেশে ভিন্নরূপ উল্লেখ না থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি প্রাপ্য হইয়াছে এইরূপ সমুদয় অর্থ তাহার অবরুদ্ধ ব্যাংক একাউন্টে জমা করা যাইবে।

### অবরুদ্ধকৃত বা ক্রোককৃত সম্পত্তি ফেরত প্রদান

১৫। (১) ধারা ১৪ এর অধীন আদালত কোন সম্পত্তি অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ প্রদান করিলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির উক্ত সম্পত্তিতে কোন স্বার্থ থাকিলে তিনি উহা ফেরত পাইবার জন্য অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশের বিজ্ঞপ্তি ১টি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রচারের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন ব্যক্তি আদালতে আবেদন করিলে আবেদনপত্রে নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি উল্লেখ করিতে হইবে, যথা :-

(ক) মানিলণ্ডারিং এর সহিত উক্ত সম্পত্তির কোন সংশ্লিষ্টতা নাই;

(খ) অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোককৃত সম্পত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন স্বত্ব, স্বার্থ বা মালিকানা নাই; এবং

(গ) অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোককৃত সম্পত্তিতে আবেদনকারীর স্বত্ব, স্বার্থ ও মালিকানা রহিয়াছে।

(৩) ধারা ১৪ এর উপ-ধারা (৫) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীন সম্পত্তি ফেরত পাইবার জন্য আদালত কোন আবেদনপ্রাপ্ত হইলে আবেদনকারী, তদন্তকারী সংস্থা ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিবেন এবং শুনানী অন্তে, প্রয়োজনীয় কাগজাদি পর্যালোচনাক্রমে, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদনকারীর আবেদন সম্পর্কে আদালত সন্তুষ্ট হইলে অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ বাতিলক্রমে সম্পত্তিটি, আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, আবেদনকারীর অনুকূলে হস্তান্তরের আদেশ প্রদান করিবেন।

### সম্পত্তির অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশের বিরুদ্ধে আপীল

১৬। (১) এই আইনের অধীন আদালত কোন সম্পত্তির অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ প্রদান করিলে উক্তরূপ আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আপীল দায়ের করা হইলে আপীল আদালত পক্ষবৃন্দকে, শুনানীর জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়া, শুনানী অন্তে যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) ধারা ১৪ এর অধীন কোন সম্পত্তির বিষয়ে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশের বিরুদ্ধে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপীল করিলে এবং আপীল আদালত কর্তৃক ভিন্নরূপ কোন আদেশ প্রদান করা না হইলে, আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্তরূপ অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ কার্যকর থাকিবে।

### সম্পত্তির বাজেয়াপ্তকরণ

১৭। (১) এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তি মানিলণ্ডারিং অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইলে আদালত অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত দেশে বা দেশের বাহিরে অবস্থিত সম্পত্তি, যাহাতে দেশের মানুষের স্বার্থ রহিয়াছে এইরূপ ক্ষেত্রে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

২) এই আইনের অধীন মানিলণ্ডারিং অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত কোন ব্যক্তি পলাতক থাকিলে বা মৃত্যুবরণ করিলে আদালত উক্ত ব্যক্তির অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

**ব্যাখ্যা।-** যথাযথ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করিতে ব্যর্থ হয় বা উক্ত সময়ের মধ্যে তাহাকে গ্রেফতার করা না যায় তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পলাতক বলিয়া গণ্য হইবেন।

(৩) এই ধারার অধীন আদালত কর্তৃক কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদানের পূর্বে কিংবা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করিবার পূর্বে যদি কোন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং উপযুক্ত মূল্য প্রদান সাপেক্ষে বাজেয়াপ্তের জন্য আবেদনকৃত সম্পত্তি ক্রয় করিয়া থাকেন এবং আদালতকে তিনি এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, তিনি উক্ত সম্পত্তিটি মানিলণ্ডারিং এর সহিত সম্পৃক্ত বলিয়া জ্ঞাত ছিলেন না এবং তিনি সরল বিশ্বাসে সম্পত্তিটি ক্রয় করিয়াছিলেন, তাহা হইলে আদালত উক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান না করিয়া উহার বিক্রয়লব্ধ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, জমা দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবে।

(৪) এই ধারার অধীন কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হইলে বাজেয়াপ্ত আদেশের নোটিশ আদালত কর্তৃক যে ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে সম্পত্তিটি রহিয়াছে সেই ব্যক্তির সর্বশেষ জ্ঞাত ঠিকানায় রেজিস্ট্রার্ড ডাকযোগে পাঠাইতে হইবে এবং সম্পত্তির তফসিলসহ সকল বিবরণ উল্লেখক্রমে সরকারী গেজেটে এবং অন্যূন ২ (দুই) টি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করিতে হইবে।

(৫) এই ধারার অধীন আদালত কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিলে উক্ত সম্পত্তির মালিকানা রাষ্ট্রের উপর ন্যস্ত হইবে এবং বাজেয়াপ্ত করিবার তারিখে সম্পত্তিটি যাহার জিম্মায় বা মালিকানায় থাকিবে তিনি, যথাশীঘ্র সম্ভব, উক্ত সম্পত্তির দখল রাষ্ট্রের বরাবরে হস্তান্তর করিবেন।

### বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি ফেরত প্রদান

১৮। (১) ধারা ১৭ এর অধীন আদালত কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিলে উক্ত সম্পত্তিতে দোষী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির কোন স্বত্ব, স্বার্থ বা অধিকার থাকিলে তিনি উহা ফেরত পাইবার জন্য বাজেয়াপ্তকরণের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় সর্বশেষ প্রচারের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আবেদনপ্রাপ্ত হইলে আদালত মামলা দায়েরকারী, দোষী ব্যক্তি এবং আবেদনকারীকে, শুনানীর জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়া, শুনানী অন্তে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিয়া প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) অপরাধ সংঘটনের সহিত আবেদনকারী বা বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির কোন সংশ্লেষ ছিল কি না;

(খ) বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি অর্জনে আবেদনকারীর বৈধ অধিকার রহিয়াছে কি না;

(গ) অপরাধ সংঘটনের সময়কাল এবং বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি আবেদনকারীর মালিকানায় আসিয়াছে এইরূপ দাবিকৃত সময়কাল; এবং

(ঘ) আদালতের নিকট প্রাসঙ্গিক বিবেচিত অন্য যে কোন তথ্য।

### বাজেয়াপ্তকরণ আদেশের বিরুদ্ধে আপীল

১৯। (১) এই আইনের অধীন আদালত কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিলে উক্তরূপ আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আপীল দায়ের করা হইলে আপীল আদালত উভয় পক্ষকে, শুনানীর যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়া, শুনানী অন্তে যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

### বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির নিষ্পত্তিকরণ প্রক্রিয়া

২০। (১) এই আইনের অধীন কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হইলে, সরকার, যেই সম্পত্তি অন্য কোন আইনের অধীন ধ্বংস করিতে হইবে সেই সম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য সম্পত্তি, প্রকাশ্য নিলামে বা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক অন্য কোন আইনসম্মত উপায়ে বিক্রয় বা অন্য কোনভাবে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সম্পত্তি বিক্রয় বা অন্য কোনভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হইবে।

### অবরুদ্ধকৃত, ক্রোককৃত বা বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবস্থাপক বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ

২১। এই আইনের অধীন কোন সম্পত্তি অবরুদ্ধ, ক্রোক বা বাজেয়াপ্ত করা হইলে, তদন্তকারী সংস্থা বা উহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্তরূপ সম্পত্তির সম্পূর্ণ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি বা অন্য কোনভাবে নিষ্পত্তির জন্য, আদালত, স্বীয় বিবেচনায়, যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ শর্তে কোন ব্যক্তি বা আইনী সত্ত্বাকে উক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপক বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করিতে পারিবে।

### আপীল

২২। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুন না কেন, আদালত কর্তৃক এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ, রায়, ডিক্রি বা আরোপিত দন্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্তরূপ আদেশ, রায়, ডিগ্রি; বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবে।

### মানিলণ্ডারিং অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

২৩। (১) মানিলণ্ডারিং অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ এবং উক্তরূপ অপরাধমূলক তৎপরতা রোধ করিবার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিম্নরূপ ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা :-

ক) কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থায় নগদ লেনদেন এবং সকল সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কিত তথ্যাদি পর্যালোচনা এবং উহার ডাটা সংরক্ষণ করা;

(খ) কোন লেনদেন মানিলন্ডারিং এর সহিত সম্পৃক্ত বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকিলে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হইতে উক্তরূপ লেনদেন সম্পর্কিত যে কোন তথ্য বা প্রতিবেদন সংগ্রহ করা;

(গ) কোন অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে কোন অর্থ বা সম্পত্তি কোন ব্যক্তির হিসাবে জমা হইয়াছে মর্মে সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকিলে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য কোন হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা বন্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করা :-

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত হিসাবের লেনদেন সম্পর্কিত সঠিক তথ্য উৎঘাটনের প্রয়োজন দেখা দিলে লেনদেন স্থগিত বা বন্ধ রাখিবার মেয়াদ আরো ৩০ (ত্রিশ) দিন বর্ধিত করা যাইবে;

(ঘ) মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ করিবার উদ্দেশ্যে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে, সময় সময়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা;

(ঙ) রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক কতর্ৃক যাচিত তথ্য বা প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রেরণ করিয়াছে কিনা কিংবা তদ্‌কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করিয়াছে কিনা তাহা তদারকি করা এবং, প্রয়োজনে, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শন করা;

(চ) এই আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় যে কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ সভা, সেমিনার, ইত্যাদির আয়োজন করা;

(ছ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন কার্য সম্পাদন করা।

(২) মানিলন্ডারিং বা সন্দেহজনক লেনদেন তদন্তে তদন্তকারী সংস্থা কোন তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করিলে, প্রচলিত আইনের আওতায় বা যদি অন্য কোন কারণে বাধ্যবাধকতা না থাকে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত তথ্য প্রদান করিবে।

### ফাইন্যান্সিয়াল ইন্‌টেলিজেন্স ইউনিট (FIU) প্রতিষ্ঠা

২৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্‌টেলিজেন্স ইউনিট (FIU) নামে একটি ইউনিট থাকিবে।

(২) এই আইনের বিধান অনুযায়ী অন্য কোন দেশের সহিত সম্পাদিত কোন চুক্তি বা ব্যবস্থার অধীন সংশ্লিষ্ট দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মানিলন্ডারিং বা কোন সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে কোন তথ্য চাহিলে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যাচিত তথ্যাদি সরবরাহ করিবে এবং অন্য কোন দেশের নিকট হইতে কোন সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে যে কোন তথ্য চাহিতে পারিবে।

### মানিলণ্ডারিং অপরাধ প্রতিরোধে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার দায়-দায়িত্ব

২৫। (১) মানিলন্ডারিং অপরাধ প্রতিরোধে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার নিম্নরূপ দায়-দায়িত্ব থাকিবে, যথা :-

(ক) উহার গ্রাহকের হিসাব পরিচালনাকালে গ্রাহকের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করা;

(খ) কোন গ্রাহকের হিসাব বন্ধ হইলে বন্ধ হওয়ার তারিখ হইতে অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত উক্ত হিসাবের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা;

(গ) দফা (ক) ও (খ) এর অধীন সংরক্ষিত তথ্যাদি বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক, সময় সময়, সরবরাহ করা;

(ঘ) কোন হিসাবে মানিলন্ডারিং জড়িত থাকিতে পারে এইরূপ সন্দেহ হইলে স্ব-উদ্যোগে অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা।

(২) কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক -

(ক) উক্ত সংস্থাকে অন্যূন ১০ (দশ) হাজার টাকা এবং অনূর্ধব ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবে; এবং

(খ) দফা (ক) এর অধীন আরোপিত জরিমানার অতিরিক্ত উক্ত সংস্থার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অনুমতি বা লাইসেন্স বাতিল করিতে পারিবে এবং, ক্ষেত্রমত, উক্তরূপ অনুমতি বা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করিবে, যাহাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্ব-স্ব আইন বা বিধি মোতাবেক উক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আরোপিত জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক তৎকর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায় করিবে এবং আদায়কৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করিবে।

### বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত চুক্তি

২৬। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার বা, ক্ষেত্রমত, বাংলাদেশ ব্যাংক কোন সমঝোতা স্মারক, দ্বি পাক্ষিক বা বহু পাক্ষিক চুক্তি, কনভেনশন বা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অন্য কোনভাবে কোন বিদেশী রাষ্ট্র বা সংস্থার সহিত চুক্তি করিতে পারিবে।

(২) এই ধারার অধীন সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক কোন বিদেশী রাষ্ট্র বা সংস্থার সহিত চুক্তিবদ্ধ হইলে মানিলণ্ডারিং অপরাধ প্রতিরোধে সরকার বা, ক্ষেত্রমত, বাংলাদেশ ব্যাংক -

(ক) উক্ত বিদেশী রাষ্ট্র বা সংস্থার নিকট প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চাহিতে পারিবে; এবং

(খ) উক্ত বিদেশী রাষ্ট্র এবং সংস্থা কর্তৃক যাচিত তথ্যাদি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি না হইলে, সরবরাহ করিবে।

(৩) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন চুক্তির অধীন কোন বিদেশী রাষ্ট্রের আদালতের কোন আদেশ কার্যকর করিবার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার বা ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনক্রমে আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে; একইভাবে বাংলাদেশে আদালতের বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ বা উক্ত সম্পত্তি ফেরত আনার আদেশ বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের অধীনস্থ রাষ্ট্রকে অনুরোধ করিতে পারিবে।

### কোম্পানী ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

২৭। (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধ কোন কোম্পানী কর্তৃক সংঘটিত হইয়া থাকিলে উক্তরূপ অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এইরূপ প্রত্যেক মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধরোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

**ব্যাখ্যা।-** এই ধারায় -

(ক) "কোম্পানী" বলিতে কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি বা এক বা একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং

(খ) "পরিচালক" বলিতে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ড, যে নামেই অভিহিত হউক, এর সদস্যকেও বুঝাইবে।

(২) কোন কোম্পানী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানিলণ্ডারিং এর সাথে জড়িত থাকিলে উক্ত কোম্পানীর নিবন্ধন বাতিলযোগ্য হইবে।

### সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ

২৮। এই আইন বা বিধির অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য সরকার বা সরকারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাইবে না।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২৯। সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### আইনের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ

৩০। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

৩১। (১) মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ১২ নং অধ্যাদেশ) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিত হওয়া সত্ত্বেও উক্ত অধ্যাদেশের অধীন দায়েরকৃত কোন মামলা বা গৃহীত কোন কার্যধারা অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এইরূপে নিষ্পন্ন হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন দায়েরকৃত বা গৃহীত হইয়াছে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1006.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
