> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩

> নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা অমর্যাদাকর আচরণ অথবা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের কার্যকারিতা প্রদানের লক্ষ্যে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ২৭ অক্টোবর, ২০১৩

**Act No:** ২০১৩ সনের ৫০ নং আইন

যেহেতু ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক, লাঞ্ছনাকর ব্যবহার অথবা দণ্ডবিরোধী একটি সনদ স্বাক্ষরিত হইয়াছে; এবং

যেহেতু ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর স্বাক্ষরিত দলিলের মাধ্যমে উক্ত সনদে বাংলাদেশও অংশীদার হইয়াছে; এবং

যেহেতু [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](/laws/act-957 "Act 957") ের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক, লাঞ্ছনাকর ব্যবহার ও দণ্ড মৌলিকভাবে নিষিদ্ধ করিয়াছে; এবং

যেহেতু জাতিসংঘ সনদের ২(১) ও ৪ অনুচ্ছেদ নির্যাতন, নিষ্ঠুর, অমানবিক ও লাঞ্ছনাকর ব্যবহার ও দণ্ড অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করিয়া নিজ নিজ দেশে আইন প্রণয়নের দাবি করে; এবং

যেহেতু বাংলাদেশে উপরিউক্ত সনদে বর্ণিত অঙ্গীকারসমূহের কার্যকারিতা প্রদানে আইনী বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:—

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩](/laws/act-1133 "Act 1133") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে—

(১) ‘অভিযোগকারী’ অর্থ এই আইনের অধীনে কোন অভিযোগ উত্থাপনকারী কোন ব্যক্তি।

(২) ‘সনদ’ অর্থ ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে স্বাক্ষরিত নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক, লাঞ্ছনাকর ব্যবহার অথবা দণ্ডবিরোধী সনদ।

(৩) ‘সরকারি কর্মকর্তা’ অর্থ প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী।

(৪) ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ অর্থ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ভিডিপি ও কোস্টগার্ডসহ দেশে আইন প্রয়োগ ও বলবৎকারী সরকারি কোন সংস্থা।

(৫) ‘সশস্ত্র বাহিনী’ অর্থ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী অথবা অপর কোনো রাষ্ট্রীয় ইউনিট যাহা বাংলাদেশ প্রতিরক্ষার জন্য গঠিত।

(৬) ‘নির্যাতন’ অর্থ কষ্ট হয় এমন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন; এতদ্‌ব্যতীত—

(ক) কোনো ব্যক্তি বা অপর কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে তথ্য অথবা স্বীকারোক্তি আদায়ে;

(খ) সন্দেহভাজন অথবা অপরাধী কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদানে;

(গ) কোনো ব্যক্তি অথবা তাহার মাধ্যমে অপর কোন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখানো;

(ঘ) বৈষম্যের ভিত্তিতে কারো প্ররোচনা বা উস্কানি, কারো সম্মতিক্রমে অথবা নিজ ক্ষমতাবলে কোনো সরকারি কর্মকর্তা অথবা সরকারি ক্ষমতাবলে—

এইরূপ কর্মসাধনও নির্যাতন হিসাবে গণ্য হইবে।

(৭) ‘হেফাজতে মৃত্যু’ অর্থ সরকারি কোনো কর্মকর্তার হেফাজতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু; ইহাছাড়াও হেফাজতে মৃত্যু বলিতে অবৈধ আটকাদেশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক গ্রেপ্তারকালে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুকেও নির্দেশ করিবে; কোনো মামলায় সাক্ষী হউক বা না হউক জিজ্ঞাসাবাদকালে মৃত্যুও হেফাজতে মৃত্যুর অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৮) ‘ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি’ অর্থ ঐ ব্যক্তি যাহাকে এই আইনের অধীনে তাহার উপর অথবা তাহার সংশ্লিষ্ট বা উদ্বিগ্ন এমন কারো উপর নির্যাতন করা হইয়াছে।

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

### আদালতে অপরাধের অভিযোগ

৪। (১) ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure 1898, Act V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তাহা সত্ত্বেও এই আইনের এখতিয়ারাধীন কোন আদালতের সামনে কোন ব্যক্তি যদি অভিযোগ করে যে, তাহাকে নির্যাতন করা হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত আদালত—

(ক) তাৎক্ষণিকভাবে ঐ ব্যক্তির বিবৃতি লিপিবদ্ধ করিবেন;

(খ) একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা অবিলম্বে তাহার দেহ পরীক্ষার আদেশ দিবেন;

(গ) অভিযোগকারী মহিলা হইলে রেজিস্টার্ড মহিলা চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করিবার ব্যবস্থা করিবেন।

(২) চিকিৎসক অভিযোগকারী ব্যক্তির দেহের জখম ও নির্যাতনের চিহ্ন এবং নির্যাতনের সম্ভাব্য সময় উল্লেখপূর্বক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উহার একটি রিপোর্ট তৈরী করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক প্রস্তুতকৃত রিপোর্টের একটি কপি অভিযোগকারী অথবা তাহার মনোনীত ব্যক্তিকে এবং আদালতে পেশ করিবেন।

(৪) চিকিৎসক যদি এমন পরামর্শ দেন যে পরীক্ষাকৃত ব্যক্তির চিকিৎসা প্রয়োজন তাহা হইলে আদালত ঐ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন।

### আদালত কর্তৃক মামলা দায়েরের নির্দেশ দান

৫। (১) ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) (ক) অনুযায়ী বিবৃতি লিপিবদ্ধ করিবার পর আদালত অনতিবিলম্বে বিবৃতির একটি কপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কাছে বা ক্ষেত্রমত, তদূর্ধ্ব কোন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করিবেন এবং একটি মামলা দায়েরের নির্দেশ প্রদান করিবেন।

(২) পুলিশ সুপার উক্ত আদেশ প্রাপ্তির পর পরই ঘটনা তদন্ত করিয়া চার্জ বা চার্জবিহীন রিপোর্ট পেশ করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি মনে করেন যে পুলিশ দ্বারা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি যদি আদালতে আবেদন করেন এবং আদালতে যদি তাহার আবেদনে এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন যথার্থ সেক্ষেত্রে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) রিপোর্ট দাখিলের সময় তদন্ত কর্মকর্তা, ক্ষেত্রমত, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কর্মকর্তা ধারা ৪(১) এর অধীনে বিবৃতি প্রদানকারী ব্যক্তিকে তারিখসহ রিপোর্ট দাখিল সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করিবেন।

(৪) উপরোল্লিখিত উপ-ধারা (৩) এর অধীনে নোটিশপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নোটিশ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে নিজে ব্যক্তিগতভাবে অথবা আইনজীবী মারফত আদালতে আপত্তি জানাইতে পারিবে।

(৫) আদালত সংঘটিত অপরাধের সংগে জড়িত ব্যক্তির পদমর্যাদার নিম্নে নহে এমন পদমর্যাদার কোন পুলিশ অফিসারকে মামলার তদন্ত অনুষ্ঠানের নির্দেশ প্রদান করিবেন।

### তৃতীয় পক্ষ দ্বারা অভিযোগ

৬। (১) কোনো ব্যক্তিকে অন্য কোন ব্যক্তি নির্যাতন করিয়াছে বা করিতেছে এইরূপ কোন তথ্য তৃতীয় কোন ব্যক্তি আদালতকে অবহিত করিলে আদালত ধারা ৫ মোতাবেক অভিযোগকারীর বিবৃতির ওপর নিজের মন্তব্য লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধান করিবেন।

(২) যদি অভিযোগকারীর বক্তব্যে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করা প্রয়োজন তাহা হইলে আদালত উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিতে পারিবেন।

### অভিযোগের অপরাপর ধরন

৭। (১) ধারা ৫ ও ৬ এ বর্ণিত প্রক্রিয়া ছাড়াও কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া সত্ত্বে তৃতীয় কোন ব্যক্তি দায়রা জজ আদালতে অথবা পুলিশ সুপারের নিচে নয় এমন কোন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট নির্যাতনের অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার অথবা তাহার চেয়ে ঊধ্বর্তন পদমর্যাদার কোনো অফিসার তাৎক্ষণিক একটি মামলা দায়ের ও অভিযোগকারীর বক্তব্য রেকর্ড করিবেন এবং মামলার নম্বরসহ এই অভিযোগের ব্যাপারে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে উহা অভিযোগকারীকে অবহিত করিবেন।

(৩) উপরে বর্ণিত উপ-ধারা (২) মোতাবেক অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকারী পুলিশ সুপার অথবা তাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়রা জজ আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করিবেন।

### অপরাধের তদন্ত

৮। (১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীনে কোন অপরাধের তদন্ত প্রথম অভিযোগ লিপিবদ্ধ করিবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে।

(২) কোন যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হইয়া বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করিবেন।

(৩) আদালত ক্ষতিগ্রস্ত/সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি/ব্যক্তিদের শুনানী গ্রহণ করিয়া ৩০ দিনের মধ্যে সময় বৃদ্ধির বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবেন।

### ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ

৯। এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, কোন অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে Code of Criminal Procedure 1898 (Act V of 1898) এর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।

### অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ইত্যাদি

১০। (১) এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় সকল অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণীয় (Cognizable), অ-আপোষযোগ্য (non-compoundable) ও জামিন অযোগ্য (non-bailable) হইবে।

(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত মূল এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি—

(ক) তাহাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের উপর অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানীর সুযোগ দেওয়া না হয়; এবং

(খ) তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে মর্মে আদালত সন্তুষ্ট হন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি নারী বা শারীরিকভাবে অসুস্থ (sick or infrom) হইলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে আদালত সন্তুষ্ট হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ব্যক্তি ব্যতীত এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া ন্যায়সংগত হইবে মর্মে আদালত সন্তুষ্ট হইলে তদ্‌মর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারিবে।

### নিরাপত্তা বিধান

১১। (১) অভিযোগকারী কোনো ব্যক্তি এই আইনে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বিধানকল্পে দায়রা জজ আদালতে পিটিশন দায়ের করিতে পারিবে।

(২) রাষ্ট্র এবং যাহার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা চাওয়া হইয়াছে তাহাদেরকে উক্ত পিটিশনের পক্ষভুক্ত করা যাইবে।

(৩) পিটিশন গ্রহণ করিয়া আদালত বিবাদীকে সাত দিনের নোটিশ জারি করিবে এবং ১৪ দিনের মধ্যেই পিটিশনের ওপর একটি আদেশ প্রদান করিবে।

(৪) উপরে উল্লিখিত উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত এ ধরনের কোনো মামলা নিষ্পত্তিকালে আদালত প্রয়োজনবোধে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যূন সাত দিনের অন্তরীণ আদেশ দিতে পারিবে এবং সময়ে সময়ে উহা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৫) আদালত এই আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের তদন্ত কর্মকর্তাদের আদালতের আদেশ পালন নিশ্চিত করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।

(৬) আদালত নিরাপত্তা প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে আদালত স্থানান্তর এবং বিবাদীর নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করাসহ নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

### যুদ্ধ অথবা অন্য ধরনের অজুহাত অগ্রহণযোগ্য

১২। এই আইনের অধীনে কৃত কোন অপরাধ যুদ্ধাবস্থা, যুদ্ধের হুমকি, আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অথবা জরুরি অবস্থায়; অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সরকারি কর্তৃপক্ষের আদেশে করা হইয়াছে এইরূপ অজুহাত অগ্রহণযোগ্য হইবে।

### অপরাধসমূহ

১৩। (১) কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন করিলে তাহা ঐ ব্যক্তির কৃত একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোনো অপরাধ—

(ক) সাধনে উদ্যোগী হন;

(খ) সংঘটনে সহায়তা ও প্ররোচিত করেন; অথবা

(গ) সংঘটনে ষড়যন্ত্র করেন—

তাহা হইলে এই আইনের অধীনে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) এই আইনে কৃত অপরাধের দায়ভার অপরাধীকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করিতে হইবে।

### বিচার

১৪। (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার কেবলমাত্র দায়রা জজ আদালতে অনুষ্ঠিত হইবে।

(২) মামলা দায়েরের ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য নিষ্পন্ন করিতে হইবে।

(৩) কোন যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা (২) এর অধীন সময়সীমার মধ্যে মামলার বিচারকার্য সমাপ্ত করা সম্ভব না হইলে, আদালত পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সমাপ্ত করিবে।

### শাস্তি

১৫। (১) কোন ব্যক্তি এই আইনের ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (১) এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি অন্যূন পাঁচ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অন্যূন পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উহার অতিরিক্ত পঁচিশ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত/সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি/ব্যক্তিদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।

(২) কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে যদি নির্যাতন করেন এবং উক্ত নির্যাতনের ফলে উক্ত ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহা হইলে নির্যাতনকারী এই আইনের ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উহার অতিরিক্ত দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত/সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি/ব্যক্তিদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।

(৩) কোনো ব্যক্তি এই আইনের ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (২) এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি অন্যূন দুই বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অন্যূন বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৪) এই আইনের অধীনে কোন অপরাধের জন্য সাজাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে দণ্ড ঘোষণার দিন থেকে ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এ বর্ণিত অর্থ বিচারিক আদালতে জমা দিতে হইবে। এইরূপ আবশ্যিকতা পূরণ ব্যতীত এই আইনের আওতায় কোন অপরাধের দণ্ডের বিরুদ্ধে কোন আপীল করা যাইবে না।

### আপীল

১৬। (১) এই আইনের অধীনে অপরাধের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করা যাইবে।

(২) ক্ষতিগ্রস্ত/সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি/ব্যক্তিরাও আপীল অথবা রিভিউর জন্য ঊর্ধ্বতন আদালতের দ্বারস্থ হইতে পারিবে।

### অ-নাগরিক

১৭। এই আইনের অধীনে কৃত কোনো অপরাধের জন্য যদি বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কাউকে গ্রেফতার করা হয় সে ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি—

(ক) বাংলাদেশে অবস্থিত তাহার দেশের হাই কমিশনের সহিত;

(খ) বাংলাদেশে তাহার দেশের হাই কমিশন না থাকিলে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থিত তাহার দেশের হাই কমিশনের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করিতে পারিবে।

### প্রত্যর্পণ

১৮। (১) এই আইনের অধীনে কৃত কোন অপরাধের জন্য যদি বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কাউকে গ্রেফতার করা হয় সেক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে উক্ত অপরাধের বিচারের নিমিত্তে তাহাকে প্রত্যর্পণ করিতে অনুরোধ জানাইবে।

(২) নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য অপর কোনো দেশের সরকার বাংলাদেশের সরকারকে অনুরোধ জানাইলে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ অনুরোধ জ্ঞাপনকারী দেশকে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত অথবা প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত ব্যক্তির বিচার অথবা প্রত্যর্পণ সম্পর্কে অবহিত করিবে।

(৩) এই আইনের অধীনে নির্যাতনের অপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কোন ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার অনুরোধ করিলে প্রত্যর্পণ আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সালের ৫৮ নং আইন) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

(৪) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অপর যেসব দেশের সরকারের প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা রহিয়াছে (প্রত্যর্পণ আইন, ১৯৭৪) সেই ব্যবস্থার মধ্যে সনদে উল্লিখিত নির্যাতন এবং নির্যাতনে সহায়তা, প্ররোচনা অথবা ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা বিধৃত রহিয়াছে বলিয়া ধরিয়া নেওয়া হইবে।

(৫) যে সকল দেশের সহিত বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি নাই সে সকল দেশের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করা হইলে প্রত্যর্পণ আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সালের ৫৮ নং আইন) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

(৬) নির্যাতন অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সে দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরকার সরবরাহ করিতে পারিবে।

### ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও অপ্রত্যক্ষ প্রমাণ

১৯। কোন সরকারি কর্মকর্তা অথবা তাহার পক্ষে কর্তব্যরত কোন ব্যক্তির গাফিলতি বা অসতর্কতার কারণে অভিযোগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই প্রমাণ করিতে হইবে যে, তাহার বা তাহার পক্ষে কর্তব্যরত ব্যক্তির গাফিলতি বা অসতর্কতার কারণে ঐ ক্ষতি হয় নাই।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২০। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1133.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
