> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন, ২০১৬

> Foreign Donations (Voluntary Activities) Regulation Ordinance, 1978 এবং Foreign Contributions (Regulation) Ordinance, 1982 রহিতক্রমে উহাদের বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পরিমার্জনপূর্বক নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১৩ অক্টোবর, ২০১৬

**Act No:** ২০১৬ সনের ৪৩ নং আইন

যেহেতু [Foreign Donations (Voluntary Activities) Regulation Ordinance, 1978](/laws/act-577 "Act 577") (Ordinance No. XLVI of 1978) এবং [Foreign Contributions (Regulation) Ordinance, 1982](/laws/act-630 "Act 630") (Ordinance No. XXXI of 1982) রহিতক্রমে উহাদের বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পরিমার্জনপূর্বক নূতন আইন প্রণয়ন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল : -

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন, ২০১৬](/laws/act-1197 "Act 1197") নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।

* এস, আর, ও নং ৩৫৩-আইন/২০১৬, ২২ কার্তিক, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ০৬ নভেম্বর, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে -

(১) ‘‘এনজিও’’ অর্থ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত কোন সংস্থা এবং কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন সংস্থা বা এনজিও, যাহা এই আইনের অধীনও নিবন্ধিত, ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(৩) ‘‘প্রকল্প’’ অর্থ এই আইনের অধীন ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত কোনো প্রকল্প;

<sup><a id="fnref-1" href="#fn-1">1</a></sup> \[(৩ক) “প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা তহবিল” অর্থ প্রকল্প সহায়তার বাহিরে দাতা সংস্থা কর্তৃক কোনো এনজিও কে প্রদত্ত অনুদান যাহা ব্যুরোর অনুমতিক্রমে এই আইনের অধীনে বর্ণিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হইবে;]

(৪) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৫) ‘‘বৈদেশিক অনুদান’’ অর্থ বিদেশি কোন সরকার, প্রতিষ্ঠান বা নাগরিক অথবা প্রবাসে বসবাসরত কোন বাংলাদেশি নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্বেচ্ছাসেবামূলক বা দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোন সংস্থা, এনজিও বা ব্যক্তিকে প্রদত্ত নগদ অর্থ (cash) বা পণ্যসামগ্রী (goods) অথবা অন্য কোনভাবে প্রদত্ত যে কোন অনুদান, দান, সাহায্য বা সহযোগিতা;

(৬) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ এই আইনের অধীন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বৈদেশিক অনুদান গ্রহণের নিমিত্ত ব্যুরো কর্তৃক অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তি;

(৭) ‘‘ব্যুরো’’ অর্থ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো;

(৮) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক;

(৯) ‘‘সংস্থা’’ অর্থ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীন নিবন্ধিত অরাজনৈতিক, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(১০) ‘‘স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম’’ অর্থ অলাভজনক সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি ও কৃষি উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসচেতনতা, দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়ন ও অধিকার রক্ষা, শিশু ও কিশোর-কিশোরী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ ও অধিকার রক্ষা, সম-অধিকার ও সম-অংশগ্রহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, বৃত্তিমূলক কার্যক্রম, সমাজকল্যাণ, গবেষণামূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন জাতি সত্তা, ভূমি অধিকার রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত অন্য কোন কার্যক্রমও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

### বৈদেশিক অনুদান গ্রহণক্রমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা

<sup><a id="fnref-2" href="#fn-2">2</a></sup> \[৩।  (১) আপতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন ব্যুরোর নিকট নিবন্ধন গ্রহণ ব্যতীত কোন সংস্থা বা এনজিও বৈদেশিক অনুদান গ্রহণক্রমে কোন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনা করিতে পারিবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বৈদেশিক অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের প্রয়োজন হইবে না, ব্যুরোর অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা তহবিল সংক্রান্ত বিধানবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]

### বৈদেশিক অনুদান গ্রহণক্রমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিবন্ধন, নিবন্ধন নবায়ন, ইত্যাদি

<sup><a id="fnref-3" href="#fn-3">3</a></sup> \[৪।  (১) এই আইনের অধীন নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আবেদনপত্রের সহিত নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি ও দলিলাদি দাখিল করিতে হইবে, যথা:-

(ক) বৈদেশিক অনুদান প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎস ও পরিমাণসহ প্রমাণক; এবং

(খ) স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে প্রাপ্ত বৈদেশিক অনুদান ব্যবহারের ক্ষেত্র ও পদ্ধতি অর্থাৎ অনুদান ব্যবহারের রূপরেখা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন, তথ্য ও দলিলাদি সঠিক প্রতীয়মান হইলে উহার বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য মহাপরিচালক আবেদন, তথ্য ও দলিলাদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রেরণ করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আবেদন, তথ্য ও দলিলাদি প্রাপ্তির পর উল্লিখিত মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করিয়া কারণ উল্লেখপূর্বক নিবন্ধনের সুপারিশ করিবার পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত বা সুপারিশ মহাপরিচালকের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ হইতে আবেদনকারীর অনুকূলে নিবন্ধন প্রদানের পক্ষে মতামত বা সুপারিশ প্রাপ্ত হইলে মহাপরিচালক উক্ত মতামত বা সুপারিশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীর অনুকূলে নির্ধারিত ফর্মে নিবন্ধন সনদ ইস্যু করিবেন।

(৬) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ উহার মতামত বা সুপারিশ প্রেরণ না করিলে মহাপরিচালক উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীর অনুকূলে নিবন্ধন সনদ ইস্যু করিতে পারিবেন।

(৭) বৈদেশিক অনুদান গ্রহণক্রমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিবন্ধন এবং নিবন্ধন নবায়ন সনদের মেয়াদ হইবে উহাতে উল্লিখিত তারিখ হইতে ১০ (দশ) বৎসর।

(৮) নিবন্ধন সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার ৬ (ছয়) মাস পূর্বে নিবন্ধন নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।

(৯) উপ-ধারা (৮) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন, তথ্য ও দলিলাদির সঠিকতা যাচাই এবং আবেদনকারীর পূর্ববর্তী ৫ (পাঁচ) বৎসরের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা করিয়া মহাপরিচালক নিবন্ধন নবায়ন করিবেন।

(১০) উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নবায়ন আবেদন দাখিল করা হইলে মহাপরিচালক কর্তৃক উক্ত আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলেও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী তাঁহার স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখিতে পারিবেন।]

### বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ নিষিদ্ধ

৫। নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করিতে পারিবে না, যথা :-

(ক) জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী;

(খ) জাতীয় সংসদের সদস্য;

(গ) স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি;

(ঘ) কোন রাজনৈতিক দল;

(ঙ) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিচারকসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি;

(চ) সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী;

(ছ) এই আইনের অধীন নিবন্ধিত এনজিও বা সংস্থার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী;

(জ) [সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯](/laws/act-1009 "Act 1009") (২০০৯ সনের ১৬ নং আইন) এর ধারা ১৮ এর অধীন, ক্ষেত্রমত, তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তা।

### প্রকল্প অনুমোদন, প্রশাসনিক ব্যয়, বৈদেশিক অনুদান অবমুক্তি, ইত্যাদি

<sup><a id="fnref-4" href="#fn-4">4</a></sup> \[৬। (১) ব্যুরো কর্তৃক প্রকল্প অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো এনজিও বা সংস্থা বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করিতে পারিবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুমোদন গ্রহণের লক্ষ্যে প্রকল্পের ক্ষেত্রে বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ ও ব্যয়ের জন্য স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা উল্লেখ করিয়া নির্ধারিত ফর্মে প্রকল্প-প্রস্তাব প্রস্তুতপূর্বক মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত প্রকল্প-প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবেন, যথা:-

(ক) এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধিমালা বা সাধারণ আদেশ বা বিশেষ আদেশ বা নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী প্রকল্প প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা; এবং

(খ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Rules of Business, 1996 অনুযায়ী প্রকল্প বা প্রকল্প-এলাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ:

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ করিতে হইবে না, যথা:

(অ) প্রকল্প প্রস্তাব একাধিক পর্ব বা পর্যায় বা ধাপ বিশিষ্ট হইলে এবং উক্ত প্রস্তাবে উল্লিখিত এলাকা অপরিবর্তিত থাকিলে উক্ত প্রকল্পের কোনো একটি পর্ব বা পর্যায় বা ধাপ সমাপ্তির ধারাবাহিকতায় পরবর্তী পর্ব বা পর্যায় বা ধাপ আরম্ভ করিবার ক্ষেত্রে পুনরায় একই প্রকল্পের বিষয়ে; এবং

(আ) বিদেশি এনজিও এর প্রশাসনিক ব্যয় সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ উহার মতামত বা সুপারিশ প্রেরণ না করিলে মহাপরিচালক উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন করিতে পারিবেন এবং প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত ব্যতীত অন্য কোনো সংস্থার প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হইবে না।

(৫) মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত বা সুপারিশ অনুসারে, প্রয়োজনে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প-প্রস্তাব পরিবর্তন বা সংশোধন করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট এনজিও বা ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধনের পরামর্শ প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হইতে পারিবে না।

(৬) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত বা সুপারিশ অপ্রয়োজনীয় বা অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করিলে উহা প্রধানমন্ত্রীর বা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রেরণ করিবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৭) কোনো এনজিও বা ব্যক্তির স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিতে হইবে।

(৮) কোনো প্রকল্পে অনুমোদিত ব্যয়ের ২০ (বিশ) শতাংশের অধিক অর্থ প্রশাসনিক খাতে ব্যয় করা যাইবে না।

(৯) কোনো এনজিও কর্তৃক বৎসরে ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৈদেশিক অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যুরোর অনুমোদনের প্রয়োজন হইবে না তবে, এইক্ষেত্রে প্রকল্পের সকল কর্ম ও এলাকার বিষয়ে ব্যুরোকে পূর্বে অবহিত করিতে হইবে এবং প্রকল্প শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যুরো কর্তৃক তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক ফার্ম দ্বারা প্রস্তুতকৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদন ব্যুরোতে প্রেরণ করিতে হইবে।

(১০) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দুর্যোগকালীন বা দুর্যোগ পরবর্তী জরুরি ত্রাণ কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালনা করিতে উদ্যোগী ব্যক্তি বা এনজিও-এর আবেদন, তথ্য ও দলিলাদি যথাযথ বিবেচিত হইলে মহাপরিচালক ৭২ (বাহাত্তর) ঘণ্টার মধ্যে উক্ত প্রকল্প অনুমোদনসহ বৈদেশিক অনুদান অবমুক্তির আদেশ জারি করিতে পারিবেন।]

### এনজিও, ইত্যাদি কর্তৃক সাহায্য প্রদান

৭। এই আইনের অধীন নিবন্ধিত এনজিও সংগৃহীত বৈদেশিক অনুদান হইতে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে কোন বাংলাদেশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে নিম্নবর্ণিত শর্তে সাহায্য প্রদান করিতে পারিবে, যথা-

(ক) সাহায্য গ্রহণকারীকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীন নিবন্ধিত সংস্থা হইতে হইবে;

(খ) ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত সাহায্য প্রদানকারী কর্তৃক প্রণীত প্রকল্প প্রস্তাবে সাহায্য গ্রহণকারীর বিস্তারিত বিবরণ ও অর্থ ব্যয়ের রূপরেখা থাকিতে হইবে; এবং

(গ) প্রকল্প অনুমোদনের শর্ত মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা নিশ্চয়তা প্রদান করিবে।

### বিদেশি উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ বা কর্মকর্তার নিয়োগে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদান

<sup><a id="fnref-5" href="#fn-5">5</a></sup> \[৮।  (১) কোনো অনুমোদিত প্রকল্পে বিদেশি উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ বা কর্মকর্তার নিয়োগ বা নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলাদিসহ মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নিয়োগ বা নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত সংশ্লিষ্ট প্রকল্প-প্রস্তাবে উল্লিখিত জন-মাসের (person-month) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন, তথ্য ও দলিলাদি প্রাপ্তির পর মহাপরিচালক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহার প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন করিয়া নিরাপত্তা ছাড়পত্রের বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য আবেদন, তথ্য ও দলিলাদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আবেদন, তথ্য ও দলিলাদি প্রাপ্তির পর উক্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রেরিত বিষয় পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করিয়া উহার মতামত বা সুপারিশ মহাপরিচালকের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ উহার মতামত বা সুপারিশ প্রেরণ না করিলে মহাপরিচালক, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদন অনুমোদন করিতে পারিবেন।]

### প্রকল্পের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ

<sup><a id="fnref-6" href="#fn-6">6</a></sup> \[৮ক।  প্রকল্পে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি উক্ত প্রকল্পের অনুমোদিত অর্থে প্রকল্প-বিষয়ক কোনো কাজে বিদেশ ভ্রমণ করিলে সংশ্লিষ্ট এনজিও উহার বাৎসরিক প্রতিবেদনে এইরূপ ভ্রমণের বিষয় লিপিবদ্ধ রাখিবে।]

### বৈদেশিক অনুদানের হিসাব সংরক্ষণ

৯। (১) প্রত্যেক ব্যক্তি বা এনজিওকে বৈদেশিক মুদ্রায় অথবা দেশিয় মুদ্রায় প্রাপ্ত সকল বৈদেশিক অনুদানের অর্থ যে কোন তফসিলি ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টের (মাদার একাউন্ট) মাধ্যমে গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) কোন ব্যাংক ব্যুরোর অর্থ ছাড়ের অনুমোদনপত্র ব্যতীত বৈদেশিক অনুদানের অর্থ কোন ব্যক্তি বা এনজিওকে প্রদান করিতে পারিবে না।

(৩) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যেক ব্যক্তি বা এনজিও কর্তৃক প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার ষান্মাসিক হিসাব প্রতি বৎসর জুলাই ও জানুয়ারি মাসে ব্যুরো এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রেরণ করিবে।

(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক এই আইনের অধীনে নিবন্ধিত কোন ব্যক্তি বা এনজিও কর্তৃক প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব ব্যুরো এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের চাহিদা মোতাবেক প্রেরণ করিবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক বলিতে [Bangladesh Bank Order, 1972](/laws/act-415 "Act 415") (President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 3 এর অধীন স্থাপিত Bangladesh Bank কে বুঝাইবে।

### পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা

১০। (১) ব্যুরো এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তি এবং এনজিও কর্তৃক পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও উহার অগ্রগতি, সময় সময়, পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ব্যুরো মনিটরিং কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে, বহিঃপর্যবেক্ষণকারী (third party assessor) নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৩) পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের সময় প্রত্যেক এনজিও চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিবরণী, হিসাব বহি, দলিলাদি ও তথ্যাবলী সরবরাহ করিবে।

(৪) ব্যুরোর পক্ষে, বিভাগীয় কমিশনার, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহাদের নিজ নিজ এলাকার এনজিও কর্তৃক পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও সমন্বয় করিবেন।

(৫) ব্যুরোর পক্ষে, জেলা প্রশাসক এবং ক্ষেত্রমত, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহাদের নিজ নিজ এলাকার এনজিও কর্তৃক পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও উহার অগ্রগতি প্রতি মাসে সমন্বয় সভার মাধ্যমে পর্যালোচনা করিবেন এবং কোন এনজিওর বিষয়ে কোন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে ব্যুরোকে অবহিত করিবেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন আকারে অবহিত করিবেন ও উহার অনুলিপি ব্যুরোতে প্রেরণ করিবেন।

(৬) [পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮](/laws/act-822 "Act 822") (১৯৯৮ সনের ১২ নং আইন) এর অধীন স্থাপিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ উক্ত আইনের ধারা ২২ এর দফা (ছ) এর বিধান অনুসারে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহাদের নিজ নিজ এলাকার এনজিওর কার্যাবলীর সার্বিক সমন্বয় ও তদারকি করিবেন।

(৭) পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার এনজিওসমূহের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও মূল্যায়ন করিবার জন্য জেলা পর্যায়ে নির্ধারিত একটি কমিটি থাকিবে এবং উক্ত কমিটি প্রতি চার মাসে অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এনজিওদের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয় করিবে।

(৮) উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত এনজিওসমূহ নিয়মিত তাহাদের কার্যাবলী সম্পর্কে কমিটির আহবায়ক বরাবরে অগ্রগতি ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করিবে এবং প্রতিবেদনের অনুলিপি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে প্রেরণ করিবে।

### গঠনতন্ত্র ও পরিচালনা পর্ষদ

১১। প্রতিটি এনজিওর গঠন, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিচালনা সংক্রান্ত একটি গঠনতন্ত্র থাকিবে এবং উহার পরিচালনা পর্ষদ ও সাধারণ পর্ষদের উল্লেখ গঠনতন্ত্রে থাকিবে।

### নিরীক্ষা ও হিসাব

১২। (১) প্রত্যেক এনজিও এবং ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) প্রকল্প সমাপ্তির পর খরচের ভাউচারসমূহ নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, এনজিওর কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়সমূহ ৫(পাঁচ) বৎসরের জন্য সংরক্ষণ করিবে।

### প্রতিবেদন এবং ঘোষণা

১৩। (১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রত্যেক এনজিও এবং ব্যক্তি উক্ত অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন মহাপরিচালকের নিকট পেশ করিবে।

(২) মহাপরিচালক, প্রয়োজনবোধে, যে কোন এনজিও এবং ব্যক্তির নিকট হইতে যে কোন সময় ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী তলব করিতে পারিবে এবং উক্ত এনজিও এবং ব্যক্তি উহা মহাপরিচালকের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

(৩) সরকার কর্তৃক লিখিত আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি বা এনজিওকে অব্যাহতি প্রদান না করা হইলে, সম্পূর্ণ বা আংশিক বৈদেশিক অনুদান দ্বারা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি বা এনজিওকে মহাপরিচালকের নিকট, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে, একটি ঘোষণাপত্র দাখিল করিতে হইবে এবং উক্ত ঘোষণাপত্রে প্রাপ্ত বৈদেশিক অনুদান, উহার উৎস এবং ব্যবহার বিধৃত থাকিবে।

### অপরাধ

১৪। কোন এনজিও বা ব্যক্তি এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত কোন বিধি বা আদেশের বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন এবং <sup><a id="fnref-7" href="#fn-7">7</a></sup> \[\*\*\*] রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ড করিলে বা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন, পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা সহায়তা করিলে অথবা নারী ও শিশু পাচার বা মাদক ও অস্ত্র পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকিলে উহা দেশে প্রচলিত আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।

### অপরাধের শাস্তি

১৫। (১) ধারা ১৪ এর অধীন কোন অপরাধ করিলে, মহাপরিচালক-

(ক) পত্র জারির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত এনজিও বাব্যক্তিকে সতর্ক হইবার বা সংশোধনের জন্য লিখিত নির্দেশ দিতে পারিবেন;

(খ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত এনজিও বা সংস্থার অনুকূলে ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত নিবন্ধন বাতিল, স্থগিত বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্জক্রম বন্ধ করিতে পারিবেন;

(গ) বিনা অনুমতিতে বৈদেশিক অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সর্বনিম্ন গৃহীত বৈদেশিক অনুদানের আর্থিক মূল্যের সমপরিমাণ অথবা অনধিক উহার তিনগুণ পরিমাণ অর্থ জরিমানা আদায় করিতে পারিবেন;

(ঘ) দেশের প্রচলিত আইনের অধীন শাস্তি প্রদানের নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট এনজিও বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(২) কোন এনজিওর কোন কর্মকর্তা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে তাহার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোন ব্যক্তি প্রমাণ করিতে পারেন যে, সংঘটিত অপরাধটি তাহার জ্ঞাতসারে ঘটে নাই বা অপরাধ যাহাতে সংঘটিত না হয় সেই জন্য তিনি যথেষ্ট প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই ক্ষেত্রে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য শাস্তিযোগ্য হইবেন না।

### ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত নিবন্ধন বাতিল বা কার্যক্রম স্থগিত, ইত্যাদির ক্ষেত্রে করণীয়

১৬। এই আইনের অধীন কোন এনজিওর নিবন্ধন বাতিল বা কার্যক্রম স্থগিত করা হইলে, অথবা নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলে, অথবা অন্য কোন কারণে বিলুপ্ত হইলে মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিম্নবর্ণিত আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যথা :-

(ক) কোন ব্যাংক বা ব্যক্তি যাহার নিকট সংশ্লিষ্ট এনজিওর বৈদেশিক অনুদানের অর্থ, অথবা উক্ত অনুদানের অর্থ দ্বারা অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, সিকিউরিটিজ অথবা অন্য কোন সম্পত্তি গচ্ছিত রহিয়াছে তাহাদিগকে উক্ত সম্পদ মহাপরিচালকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ;

(খ) কোন এনজিও বিলুপ্ত করিবার জন্য অথবা অন্য কোন কারণে মোকদ্দমা দায়ের ও মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ;

(গ) সংশ্লিষ্ট এনজিওর সকল দায়-দেনা পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত অবশিষ্ট অর্থ বা সম্পদ সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক অনুদান প্রদানকারীর নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ:

(ঘ) যদি কোন কারণে দফা (গ) এর অধীন উদ্বৃত্ত অবশিষ্ট অর্থ বা সম্পদ সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক অনুদান প্রদানকারীর নিকট হস্তান্তর করা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে উক্ত উদ্বৃত্ত অবশিষ্ট অর্থ বা সম্পদ, ক্ষেত্রমত, সরকারি হিসাবে অথবা বিলুপ্ত এনজিওর উদ্দেশ্য সম্বলিত অনুরূপ কোন এনজিওর নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ প্রদান।

### আপিল

১৭। (১) কোন এনজিও বা ব্যক্তি এই আইনের অধীন ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে উক্তরূপ আদেশ প্রদানের <sup><a id="fnref-8" href="#fn-8">8</a></sup> \[৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের] মধ্যে সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বরাবর আপিল করিতে পারিবেন এবং সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আপিল কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, যুক্তিসঙ্গত কারণে উক্ত <sup><a id="fnref-9" href="#fn-9">9</a></sup> \[৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের] মধ্যে আপিল করিতে ব্যর্থ হইলে সেইক্ষেত্রে আবেদনকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল দায়েরের সময় অনধিক <sup><a id="fnref-10" href="#fn-10">10</a></sup> \[১৫ (পনেরো) দিন] বর্ধিত করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আপিল গ্রহণ বা প্রাপ্তির ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) <sup><a id="fnref-11" href="#fn-11">11</a></sup> \[দিনের] মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

(৩) আপিল কর্তৃপক্ষ ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন আদেশ বহাল, বাতিল অথবা সংশোধন করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

### সরকার-এনজিও পরামর্শ কাউন্সিল (জিএনসিসি) প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি

<sup><a id="fnref-12" href="#fn-12">12</a></sup> \[১৮।  (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি সরকার-এনজিও পরামর্শ কাউন্সিল (জিএনসিসি) গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) প্রধানমন্ত্রীর/ প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক যিনি ইহার সহ-সভাপতিও হইবেন;

(গ) সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মনোনীত ০৮ (আট) জন প্রতিনিধি ইহার সদস্য হইবেন;

(ঘ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ০৮ (আট) জন এনজিও প্রতিনিধি ইহার সদস্য হইবেন;

(২) সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সরকার এনজিও পরামর্শ কাউন্সিল গঠন করিবে।

(৩) জিএনসিসি স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও বৈদেশিক অনুদান সংক্রান্ত সংলাপ, নীতি-পরামর্শ, সরকার-এনজিও অংশীদারিত্বের সম্প্রসারণ ও সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করিবে।

(৪) জিএনসিসি-এর কার্যাবলি ও কার্যপদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৯। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রয়োজনে, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, যে কোন কার্যক্রম গ্রহণ ও সম্পাদন সম্পর্কে নির্দেশ প্রদান করিত পারিবে।

### নির্বাহী আদেশ জারি

২০। আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, প্রয়োজনে, সময় সময় নির্বাহী আদেশ জারি করিতে পারিবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

২১। (১) [Foreign Donations (Voluntary Activities) Regulation Ordinance, 1978](/laws/act-577 "Act 577") (Ordinance No. XLVI of 1978) এবং [Foreign Contributions (Regulation) Ordinance, 1982](/laws/act-630 "Act 630") (Ordinance No. XXXI of 1982) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও রহিত Ordinance দুইটির অধীন –

(ক) কৃত কোন কাজ-কর্ম বা প্রণীত কোন বিধি বা জারীকৃত কোন আদেশ, বিজ্ঞপ্তি বা প্রজ্ঞাপন বা প্রদত্ত কোন নোটিশ বা দায়েরকৃত কোন অভিযোগ বা দাখিলকৃত কোন দরখাস্ত, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন কৃত, প্রণীত, জারীকৃত, প্রদত্ত, দায়েরকৃত এবং দাখিলকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) কোন কার্যক্রম চলমান থাকিলে, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উহা এমনভাবে চলমান ও অব্যাহত থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন গৃহীত হইয়াছে; এবং

(গ) এই আইন প্রবর্তনের তারিখে কোন আদালতে কোন মামলা বা আইনগত কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, উক্ত মামলা বা কার্যধারা রহিত অধ্যাদেশ দুইটির বিধান অনুসারে এইরূপে নিষ্পত্তি করিতে হইবে, যেন উক্ত অধ্যাদেশ দুইটি রহিত হয় নাই।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২২। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

***

### Footnotes

<a id="fn-1" />**1.** “দফা (৩ক)” [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ২ ধারাবলে সন্নিবেশিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-2" />**2.** “ধারা ৩” [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ৩ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-3" />**3.** “ধারা ৪” [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-4" />**4.** “দফা ৬” [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ৫ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-5" />**5.** “দফা ৮” [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ৬ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-6" />**6.** “দফা (৮ক)” [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ৭ ধারাবলে সন্নিবেশিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-7" />**7.** “সংবিধান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক ও অশালীন কোন মন্তব্য করিলে বা” কমা ও শব্দ [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ৮ ধারাবলে বিলুপ্ত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-8" />**8.** “৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি “৩০ (ত্রিশ) কর্ম দিবসের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ০৯(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-9" />**9.** “৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি “৩০ (ত্রিশ) কর্ম দিবসের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ০৯(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-10" />**10.** “১৫ (পনেরো) দিন” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি “১৫ (পনেরো) কর্ম দিবস” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ০৯(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-11" />**11.** “দিনের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি “কর্মদিবসের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ০৯(গ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<a id="fn-12" />**12.** “দফা ১৮” [বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1683 "Act 1683") (২০২৬ সনের ৫৪ নং আইন) এর ১০ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর)।

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1197.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
