> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩

> Zakat Fund Ordinance, 1982 রহিতক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

**Act No:** ২০২৩ সনের ০৫ নং আইন

যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক আদেশ দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের, অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](/laws/act-957 "Act 957") ের চতুর্থ তপশিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হইয়াছে এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ এ সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পাইয়াছে; এবং

যেহেতু ২০১৩ সনের ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হইয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং

যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে, [Zakat Fund Ordinance, 1982](/laws/act-622 "Act 622") (Ordinance No. VI of 1982) রহিতক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে একটি নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরুপ আইন করা হইল:-

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১।  (১) এই আইন [যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩](/laws/act-1422 "Act 1422") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২।  বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘কমিটি’ অর্থ ধারা ৯ এর অধীন গঠিত কমিটি;

(২) ‘চেয়ারম্যান’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(৩) ‘তহবিল’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত যাকাত তহবিল;

(৪) ‘প্রবিধান’ অর্থ এই আইনের অধীন বোর্ড কর্তৃক প্রণীত কোনো প্রবিধান;

(৫) ‘ফাউন্ডেশন’ অর্থ [Islamic Foundation Act, 1975](/laws/act-492 "Act 492") (Act No. XVII of 1975) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন;

(৬) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোনো বিধি;

(৭) ‘বোর্ড’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন গঠিত যাকাত বোর্ড;

(৮) ‘যাকাত’ অর্থ শরিয়াহ অনুযায়ী কোনো মুসলমানের সম্পত্তির উপর প্রদেয় অর্থ বা সমমানের পণ্যসামগ্রী;

(৯) ‘শরিয়াহ’ অর্থ পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত এবং উহার আলোকে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি বিধান।

### যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ

৩।  বোর্ড, বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করিতে পারিবে।

### যাকাত বোর্ডের গঠন

৪।  (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যাকাত বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকিবে যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, যিনি উহার ভাইস-চেয়ারম্যানও হইবেন;

(গ) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন কর্মকর্তা;

(ঘ) অর্থ বিভাগের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন কর্মকর্তা;

(ঙ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন কর্মকর্তা;

(চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ৫ (পাঁচ) জন বিশিষ্ট ফকিহ বা আলেম;

(ছ) সরকার কর্তৃক মনোনীত দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও ব্যবসায়ী সংগঠনের ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;

(জ) ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) ফাউন্ডেশন, বোর্ডের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করিবে এবং উহার কার্যাবলি নির্বাহ করিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করিবে।

(৩) দফা (চ) এবং (ছ) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্য তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর পরবর্তী মনোনয়ন প্রদান না করা পর্যন্ত পূর্ববর্তী মনোনীত ব্যক্তি কার্যক্রম অব্যাহত রাখিতে পারিবেন।

(৪) সরকার, প্রয়োজনে, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে যেকোনো সময় দফা (চ) এবং (ছ) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্যকে মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে বোর্ডের সদস্য পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) সরকার কর্তৃক মনোনীত বোর্ডের কোনো সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যেকোনো সময় পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

### সভা ও কোরাম

৫।  (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান বা, ক্ষেত্রমত, ভাইস-চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) প্রতি বৎসর বোর্ডের অন্যূন ২ (দুই) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে; তবে বিশেষ প্রয়োজনে বোর্ডের সভাপতি যেকোনো সময়ে সভা আহবান আহ্বান করিতে পারিবেন।

(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন; তবে তাহার অনুপস্থিতিতে বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৫) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে; তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৬) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে, ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারীর দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

### ২০১৮ সনের ৫৭ নং আইনের ধারা ৫৯ এর সংশোধন

৫।  উক্ত আইনের ধারা ৫৯ এর উপ-ধারা (১) এর প্রথম লাইনে উল্লিখিত “সরকারি” শব্দটির পূর্বে “কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে,” শব্দগুলি ও কমা সন্নিবেশিত হইবে।

### বোর্ডের কার্যাবলি

৬।  বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) যাকাত সংগ্রহ, বিতরণ, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন;

(খ) যাকাতের অর্থ দ্বারা শরিয়াহ সম্মত সেবা বা উন্নয়নমূলক কোনো কর্মসূচি, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন;

(গ) যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ কার্য‌ক্রম তদারকিকরণ;

(ঘ) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত স্থানে যাকাত সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা;

(ঙ) বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাকাতযোগ্য সম্পদ, যাকাতের পরিমাণ, যাকাত ব্যয়ের খাত এবং নিসাব নির্ধারণ;

(চ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, তহবিলে যাকাত প্রদানকারী কোনো ব্যক্তিকে, সময় সময়, উপযুক্ত স্বীকৃতি, পুরস্কার, সম্মাননা বা অন্য কোনো আর্থিক বা সামাজিক সুবিধা প্রদান;

(ছ) যাকাত সংগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;

(জ) যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ঝ) প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যাকাত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত বা পরামর্শ প্রদান;

(ঞ) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত যাকাত সংশ্লিষ্ট কোনো কার্য সম্পাদন;

(ট) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় অন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

### যাকাত তহবিল

৭।  (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যাকাত তহবিল নামে একটি তহবিল থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থে গঠিত হইবে, যথাঃ-

(ক) দেশের মুসলিম জনগণ কর্তৃক প্রদত্ত ও বোর্ড কর্তৃক সংগৃহীত যাকাত;

(খ) প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম নাগরিক, কোনো বিদেশি মুসলিম ব্যক্তি বা কোনো সংস্থায় জমাকৃত যাকাতের অর্থ হইতে প্রাপ্ত যাকাত;

(গ) শরিয়াহ সম্মত অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত যাকাত।

(২) তহবিলের অর্থ কোনো তপশিলি ব্যাংকে “সরকারি যাকাত ফান্ড” শিরোনামে সুদ বিহীন হিসাবে জমা রাখিতে হইবে।

ব্যাখ্যা।– ”তপশিলি ব্যাংক” বলিতে [Bangladesh Bank Order, 1972](/laws/act-415 "Act 415") (President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

(৩) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ফাউন্ডেশন, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে তহবিল পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

### তহবিলের অর্থ ব্যয়

৮।  (১) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত খাত এবং বোর্ড কর্তৃক গৃহীত কোনো কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নে তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে।

(২) প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ফাউন্ডেশন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তহবিলের অর্থ ব্যয়ের শরিয়াহ সম্মত খাত নির্ধারণ করিয়া উক্ত খাতে তহবিলের অর্থ ব্যয় করিতে পারিবে।

(৩) শরিয়াহ সম্মত খাত ব্যতীত অন্য কোনো খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় বা বিতরণ করা যাইবে না।

### কমিটি গঠন

৯।  (১) ফাউন্ডেশন, বোর্ডের  অনুমোদনক্রমে, স্থানীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ, বিতরণ বা এতদ্‌সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয়, সিটি কর্পোরেশন, বিভাগ, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া ফাউন্ডেশন, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত কমিটি বোর্ডের অনুমোদন গ্রহণক্রমে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করিতে পারিবে।

### বোর্ড এবং কমিটির ব্যয়-নির্বাহ

১০।  (১) বোর্ডের প্রশাসনিক ও পরিচালন সংক্রান্ত সকল ব্যয় সরকার কর্তৃক নির্বাহ করা হইবে।

(২) ধারা ৯ এর অধীন গঠিত কমিটির প্রশাসনিক ও পরিচালন সংক্রান্ত সকল ব্যয় বোর্ড কর্তৃক নির্বাহ ও অনুমোদিত হইবে।

### জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো

১১।  (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ফাউন্ডেশন, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন এবং কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার বা, ক্ষেত্রমত, ফাউন্ডেশন উহার যেকোনো কর্মচারীকে বোর্ডের কার্য সম্পাদনের জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৩) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণক্রমে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ ও ক্রয় করিতে পারিবে।

### বাজেট

১২। (১) ফাউন্ডেশন, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।

(২) সরকার উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত বাজেট বিবরণী বিবেচনা করিয়া বোর্ডের ব্যয় নির্বাহ করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করিতে পারিবে।

### হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা

১৩।  (১) ফাউন্ডেশন, তহবিল এবং বোর্ডের প্রশাসনিক ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক হিসাবে অভিহিত, প্রতি বৎসর তহবিল এবং বোর্ডের প্রশাসনিক ও পরিচালন সংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও বোর্ডের অনুমোদনক্রমে ফাউন্ডেশন প্রত্যেক বৎসর [Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973](/laws/act-442 "Act 442") (P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ফাউন্ডেশন এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৪) হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত Chartered Accountant বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং বোর্ডের যেকোনো সদস্য বা বোর্ড সংশ্লিষ্ট যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জবানবন্দী গ্রহণ করিতে পারিবেন।

### প্রতিবেদন

১৪।  (১) ফাউন্ডেশন, প্রতি বৎসর মার্চ মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী বৎসরের সম্পাদিত বোর্ডের কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, বোর্ডের নিকট হইতে যেকোনো সময় উহার যেকোনো কার্যের প্রতিবেদন বা বিবরণী তলব করিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

### ক্ষমতা অর্পণ

১৫।  বোর্ড, উহার কোনো ক্ষমতা ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বা উহার কোনো কর্মিচারী বা কমিটিকে অর্পণ করিতে পারিবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৬।  এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

১৭।  এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

১৮।  (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

১৯। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, [Zakat Fund Ordinance, 1982](/laws/act-622 "Act 622") (Ordinance No. VI of 1982) অতঃপর রহিতকৃত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিতকৃত Ordinance এর অধীন-

(ক) গঠিত বোর্ড, এই আইনের অধীন নতুন বোর্ড কার্যক্রম শুরু না করা পর্যন্ত উহার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে;

(খ) কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা বৈধভাবে কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা, গৃহীত কোনো কার্য বা ব্যবস্থা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে উহা রহিতকৃত Ordinance এর অধীন এইরূপভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উহা রহিত হয় নাই;

(ঘ) গঠিত তহবিল, অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, ব্যাংকে গচ্ছিত ও নগদ অর্থ এবং এতদ্‌সংশ্লিষ্ট সকল হিসাব বই, রক্ষিত রেজিস্টার এবং রেকর্ডপত্রসহ অন্য সকল দলিল-দস্তাবেজ এই আইনের অধীন গঠিত বোর্ডের নিকট ন্যস্ত ও হস্তান্তরিত হইবে;

(ঙ) গঠিত বোর্ডের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এই আইনের অধীন গঠিত বোর্ডের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব হিসাবে গণ্য হইবে;

(চ) প্রণীত কোনো বিধি, নতুন বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, বলবৎ থাকিবে;

(ছ) নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিতপূর্বে যে শর্তাধীনে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন সেই একই শর্তে বোর্ডের চাকরিতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1422.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
