> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫

> মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ (১৯৯১ সনের ৫ নং আইন) রহিতক্রমে মানবদেহে সংযোজনের নিমিত্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও উহার আইনানুগ ব্যবহার নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে বিধানকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ

**Date of Publication:** \[ ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ]

## Preamble

যেহেতু মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপনের জন্য এর বিধান অপ্রতুল; এবং যেহেতু মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপন সহজীকরণ, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার রোধ এবং অবৈধ পাচার রোধকল্পে (১৯৯৯ সনের ৫ নং আইন) রহিতক্রমে একটি যুগোপযোগী অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সমীচীন; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু ের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-

## Sections/Articles

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই অধ্যাদেশ [মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫](/laws/act-1579 "মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫") নামে অভিহিত হইবে।  (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-  (১) “অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ” অর্থ মানবদেহের কিডনি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, অন্ত্র, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, অস্থি, অস্থিমজ্জা, চক্ষু, চর্ম ও টিস্যুসহ মানবদেহে সংযোজনযোগ্য যে-কোনো অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ;  (২) “অসামঞ্জস্য জোড়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনিময় বা প্রতিস্থাপন (Swap Transplant)” অর্থ এমন একটি সংযোজন ও প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া, যেখানে একজন রোগীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন অথচ যাহার জীবিত দাতা অসামঞ্জস্য (Mismatch), তাহার অন্য একজন জীবিত অসামঞ্জস্য দাতা-গ্রহীতা জুটির সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনিময়;  (৩) “অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (Bone Marrow Transplant)” অর্থ রোগীর দেহে নিজের বা অন্যের স্টেমসেল প্রতিস্থাপন;  (৪) “আইনানুগ উত্তরাধিকারী” অর্থ বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যাহারা উত্তরাধিকারী হিসাবে স্বীকৃত;  (৫) “ক্যাডাভেরিক (Cadaveric)” অর্থ হৃৎপিন্ড স্পন্দনরত ও স্পন্দনহীন এইরূপ মানবদেহ যাহা অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ কর্তৃক ব্রেইন ডেথ মর্মে ঘোষিত এবং যাহার অঙ্গসমূহ অন্য মানবদেহে প্রতিস্থাপনের জন্য লাইফ সাপোর্ট দ্বারা কার্যক্ষম রাখা হইয়াছে;  (৬) “টিস্যু” অর্থ একই ধরনের একগুচ্ছ কোষ যাহা একই ধরনের কাজ করে; যেমন-স্টেমসেল, বোন-ম্যারো সেল, ম্যাজেনকাইমাল সেল, লিম্ফোসাইট ইত্যাদি;  (৭) “নিকট আত্মীয়” অর্থ পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী ও রক্ত-সম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা, নানি, দাদা, দাদি, নাতি, নাতনি, আপন চাচাতো, মামাতো, ফুপাতো, খালাতো ভাই বা বোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্নে-ভাগ্নী এবং সৎ ভাই বা বোন;  (৮) “নিঃস্বার্থবাদী দাতা (Emotional Donor)” অর্থ সেই ব্যক্তি যিনি গ্রহীতার সহিত আত্মীয়তার সম্পর্কে সম্পর্কিত হউক বা নাই হউক তাহার দীর্ঘদিনের পরিচয়সূত্রে সম্পর্কের কারণে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে তাহার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতাকে দান করিবার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন;  (৯) “বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল” অর্থ [বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০](/laws/act-1065 "বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০") (২০১০ সনের ৬১ নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল;  (১০) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশ এর অধীন প্রণীত বিধি;  (১১) “ব্রেইন ডেথ” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন ঘোষিত ব্রেইন ডেথ;  (১২) “মেডিকেল বোর্ড” অর্থ ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত মেডিকেল বোর্ড;  (১৩) “রিভিউ বোর্ড” অর্থ এই অধ্যাদেশ এর ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত রিভিউ বোর্ড;  (১৪) “সমন্বয়কারী” অর্থ ধারা ৯ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক;  (১৫) “সংশ্লিষ্ট বিষয়” অর্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভেদে-  (ক) কিডনির ক্ষেত্রে নেফ্রোলজি, ইউরোলজি;  (খ) যকৃত-অগ্ন্যাশয়ের ক্ষেত্রে হেপাটোলজি, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি;  (গ) হৃৎপিন্ডের ক্ষেত্রে কার্ডিওলজি, কার্ডিও থোরাসিক সার্জারি;  (ঘ) অস্থির ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক্স, অস্থিমজ্জার ক্ষেত্রে হেমাটোলজি;  (ঙ) কর্নিয়ার ক্ষেত্রে অপথালমোলজি;  (চ) ফুসফুসের ক্ষেত্রে পালমোনালজি, কার্ডিও থোরাসিক এবং থোরাসিক সার্জারি;  (ছ) অন্ত্রের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি, জেনারেল সার্জারি এবং কলোরেকটাল সার্জারি;  (জ) ত্বকের ক্ষেত্রে ডার্মাটোলজি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি এবং জেনারেল সার্জারি; এবং  (ঝ) দফা (ক) হইতে (জ)-এ উল্লিখিত হয় নাই, এইরূপ ক্ষেত্রে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত বিষয়; এবং  (১৬) “হাসপাতাল” অর্থ চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত কোনো সরকারি হাসপাতাল বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ বা বেসরকারি হাসপাতাল।

### অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি

৩। (১) কোনো হাসপাতাল কেবল সরকারের অনুমতি গ্রহণ-সাপেক্ষে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করিতে পারিবে।  (২) কোনো হাসপাতাল মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করিতে ইচ্ছুক হইলে অনুমতির জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্ত বা পদ্ধতি পূরণ-সাপেক্ষে সরকারের নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উক্ত আবেদন ৬০ (ষাট) কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।  (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর সরকার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনকারী হাসপাতাল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে তাহা হইলে উক্ত হাসপাতালকে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি প্রদান করিবে এবং অনুমতি প্রদান না করিলে তাহা অবহিত করিতে হইবে।  (৪) সরকার কর্তৃক স্থাপিত বা প্রতিষ্ঠিত মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সংক্রান্ত হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রেও অনুমতি লইবার প্রয়োজন হইবে।

### জীবিত ব্যক্তি কর্তৃক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান

৪। (১) ধারা ৫ এর বিধানসাপেক্ষে, সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো জীবিত ব্যক্তি তাহার এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যাহা বিযুক্তির কারণে তাহার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকিলে উহা, তাহার কোনো নিকট আত্মীয়ের দেহে সংযোজনের জন্য দান করিতে পারিবেন।।  (২) ধারা ৫-এর বিধানসাপেক্ষে, সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো জীবিত ব্যক্তি তাহার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যাহা বিযুক্তির কারণে তাহার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকিলে, নিঃস্বার্থবাদী দাতা (Emotional Donor) হিসাবে গ্রহীতার দেহে সংযোজনের জন্য দান করিতে পারিবেন।  (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয় বা নিঃস্বার্থবাদী দাতা (Emotional Donor) হইবার প্রয়োজন হইবে না।  (৪) এই ধারার অধীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের সহিত সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তকরণ

৫। (১) ধারা ৬ এর বিধান-সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে কোনো ব্যক্তির দেহ হইতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে সংযোজনের উদ্দেশ্যে বিযুক্ত করা যাইবে, যথা:-  (ক) উক্ত ব্যক্তি জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় তাহার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করিলে;  (খ) দফা (ক)-এ উল্লিখিত দানের অবর্তমানে উক্ত ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণার পর তাহার কোনো আইনানুগ উত্তরাধিকারী যদি উক্ত ব্যক্তির দেহ হইতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্ত করিবার জন্য লিখিতভাবে অনুমতি প্রদান করেন;  (গ) কোনো ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪(চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে কোনো দাবিদার না থাকিলে ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পালনকারী ব্যক্তি; অথবা  (ঘ) চক্ষু, চর্ম, টিস্যু বিযুক্তকরণের ক্ষেত্রে মৃতদেহ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট বা প্রতিষ্ঠান বা স্থানে থাকিলে উক্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থান যে জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন তিনি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি অনুরূপ বিযুক্তির জন্য লিখিত অনুমতি প্রদান করেন।  (২) এই ধারার অধীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তির সহিত সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### ব্রেইন ডেথ ঘোষণা

৬। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে, মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি এবং এ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক অথবা সমপদমর্যাদার অন্যূন ৩ (তিন) জন চিকিৎসক সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কোনো ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করিতে পারিবে:  তবে শর্ত থাকে যে, ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী কমিটির কোনো চিকিৎসক বা তাহার কোনো নিকট আত্মীয় এইরূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বা সংযোজন প্রক্রিয়ার সহিত কোনোভাবে জড়িত থাকিতে পারিবেন না।  (২) কোনো ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করিবার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি পূরণ করিতে হইবে, যথা:-  (ক) অন্যূন ১২ (বারো) ঘণ্টা সুস্পষ্ট কারণে অবিরাম কোমা (Coma) অবস্থায় থাকা:  তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত কোনো কারণে কোমা অবস্থার সৃষ্টি হইলে উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না, যথা:-  (অ) কার্ডিওজেনিক শক হইতে রিভাইভকৃত ব্যক্তির কোমা অবস্থা ৩৬ (ছত্রিশ) ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া;  (আ) কোমার অব্যবহিত পূর্বে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৫০ সেলসিয়াস বা উহার নিচে থাকা; এবং  (ই) কোনো ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় কোমা অবস্থার সৃষ্টি হওয়া;  (খ) কোমার পূর্বে কোনো মেটাবোলিক বা এন্ডোক্রাইন ডিসঅর্ডার নিরসন না হওয়া;  (গ) স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া অকার্যকর হইবার পর ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস সঞ্চালন করা; এবং  (ঘ) নিম্নবর্ণিত অবস্থায় ব্রেইন স্টেম রিফ্লেক্স সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত থাকা, যথা:-  (অ) দুই চোখের মণি প্রসারিত ও স্থির (ডাইলেটেড এবং ফিক্সড) থাকা;  (আ) দুই চোখের কর্ণিয়ায় রিফ্লেক্স এর অনুপস্থিতি;  (ই) যে-কোনো ধরনের পেইন সেনসেশন (Pain Sensation) রিফ্লেক্স-এর অনুপস্থিতি;  (ঈ) অকুলো কেফালিক বা ডলস রিফ্লেক্স এর অনুপস্থিতি; এবং  (উ) ভেসটিবিউলো অকুলার রিফ্লেক্স এর অনুপস্থিতি।  (৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত অবস্থার অনুপস্থিতিতে নিম্নবর্ণিত পরীক্ষা দ্বারা ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা যাইবে, যথা:-  (ক) ন্যূনতম ৩০ (ত্রিশ) মিনিট ব্যাপী মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষা অথবা মস্তিষ্কের এনজিওগ্রাম;  (খ) এপনিয়া টেস্ট।  (৪) ২ (দুই) বৎসর হইতে ১৩ (তেরো) বৎসর বয়স্ক কোনো শিশুর ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করিতে হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুটিকে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষা দ্বারা অন্যূন ১২ (বারো) ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করিতে হইবে।

### অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা (Donor) ও গ্রহীতার (Recipient) যোগ্যতা

৭। (১) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসাবে কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যদি-  (ক) ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির, ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে, বয়স ২ (দুই) বৎসর থেকে ৭০ (সত্তর) বৎসরের মধ্যে হয়;  (খ) জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে, বয়স ১৮ (আঠারো) বৎসর থেকে ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বৎসরের মধ্যে হয়, তবে বিশেষ প্রয়োজনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দাতার বয়সসীমা শিথিলযোগ্য করা যাইবে;  (গ) মৃত্যুর পূর্বে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে তাহার পক্ষ হইতে কোনো ধরনের লিখিত আপত্তি না করা হইয়া থাকে;  (ঘ) তাহার সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হইবার সম্ভাবনা না থাকে;  (ঙ) তাহার চক্ষু, অস্থিমজ্জা ও যকৃত প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে, এইচ.বি.এস.এ.জি, এন্টি এইচ.সি.ভি অথবা এইচ.আই.ভি পজেটিভ না থাকে;  (চ) তিনি কোনো মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করিতে অযোগ্য বলিয়া ঘোষিত না হন;  (ছ) তিনি নিম্নবর্ণিত কোনো রোগে আক্রান্ত না হন, যথা:-  (অ) চর্ম বা মস্তিস্কের প্রাইমারি স্টেজ ক্যান্সার ব্যতীত অন্য যে-কোনো ধরনের ক্যান্সার;  (আ) কিডনি রোগ সংক্রান্ত;  (ই) এইচ.আই.ভি এবং হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত কোনো রোগ:  তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষেত্রবিশেষে মেডিকেল বোর্ড কিংবা রিভিউ বোর্ড এর অনুমোদনসাপেক্ষে যকৃত প্রতিস্থাপনে উক্ত বিধান প্রযোজ্য হইবে না;  (ঈ) মেলিগন্যান্ট হাইপারটেনশন;  (উ) চক্ষু ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ইনসুলিন নির্ভরশীল ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস;  (ঊ) জীবাণু সংক্রমণজনিত রোগ (আনট্রিটেড বা ইনএডিকুয়েটলি ট্রিটেড সিস্টেমিক ইনফেকশন)।  (২) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসাবে কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যদি-  (ক) তাহার বয়স ২ (দুই) বৎসর হইতে ৭০ (সত্তর) বৎসর বয়স সীমার মধ্যে হয়:  তবে শর্ত থাকে যে ১৫ (পনোরো) বৎসর হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর পর্যন্ত বয়সসীমার ব্যক্তিগণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসাবে অগ্রাধিকার লাভ করিবেন:  আরও শর্ত থাকে যে কর্ণিয়া, চর্ম ও টিস্যু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না;  (খ) তিনি যেসকল রোগের কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বা সংযোজনের সাফল্য বিঘ্নিত হইতে পারে সেই সকল রোগে আক্রান্ত না হন; এবং  (গ) তিনি মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে অযোগ্য বলিয়া ঘোষিত না হন।

### নিঃস্বার্থবাদী দাতার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

৮। (১) নিঃস্বার্থবাদী দাতা হিসাবে কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যদি-  (ক) তাহার বয়স ১৮ বৎসরের ঊর্ধ্বে হয়;  (খ) মানসিকভাবে সুস্থ হন এবং সজ্ঞানে সম্মতি প্রদানে সক্ষম হন;  (গ) কোনো আর্থিক প্রলোভন কিংবা চাপে পড়ে নয় বরং স্বেচ্ছায় আগ্রহী হন;  (ঘ) তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতার নিকট আত্মীয় নন এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত হন;  (ঙ) নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটির সুপারিশ প্রাপ্ত হন।  (২) কোনো ব্যক্তি নিঃস্বার্থবাদী দাতা হইবার জন্য অযোগ্য হইবেন, যদি-  (ক) তিনি মাদকাসক্ত হন;  (খ) বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কিংবা আর্থিক প্রলোভনে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে আগ্রহী হন; এবং  (গ) এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হন যা তাহাকে সাধারণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসেবে অনুপযুক্ত করিয়া তোলে।

### মেডিকেল বোর্ড গঠন ও উহার কার্যাবলি

৯। (১) মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করিতে হইবে, যথা:-  (ক) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গভেদে) অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধ্যাপক পদমর্যাদার মেডিসিনে ১ (এক) জন এবং সার্জারিতে ১ (এক) জন করে মোট ২ (দুই) জন চিকিৎসক;  (খ) অন্যূন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার ১ (এক) জন এ্যানেসথেসিওলজিস্ট; এবং  (গ) অন্যূন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার ১ (এক) জন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ।  (২) মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী অনধিক ৩ (তিন) জন অন্যূন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার বিশেষজ্ঞ (চিকিৎসক) সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।  (৩) মেডিকেল বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-  (ক) এই অধ্যাদেশের বিধান সাপেক্ষে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের সিদ্ধান্ত প্রদান;  (খ) ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ ও জীবিত দেহে সংযোজনের সিদ্ধান্ত প্রদান; এবং  (গ) ধারা ১১ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে অগ্রাধিকার নির্ধারণের সুপারিশ প্রদান।  (৪) কোনো হাসপাতালে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে সরকার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোনো অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক অথবা সমপদমর্যাদার কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সমন্বয়কারী হিসাবে নিয়োগ করিবে।  (৫) কোনো ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা হইলে তৎসম্পর্কে উক্তরূপ ঘোষণাকারীগণ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সমন্বয়কারীকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত সমন্বয়কারী মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ ও সংযোজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

### ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি গঠন ও উহার কার্যাবলি

১০। (১) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের অনুমতি প্রদানের লক্ষ্যে সরকার, উপ-ধারা (২) এর বিধানসাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি গঠন করিবে, যথা:-  (ক) উপাচার্য, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;  (খ) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনকারী হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান;  (গ) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, এর সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন অধ্যাপক;  (ঘ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;  (ঙ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;  (চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালের একজন প্রতিনিধি;  (ছ) বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি বা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি;  (জ) সরকার কর্তৃক মনোনীত প্রথিতযশা একজন নিউরোলজিস্ট, একজন কার্ডিওলজিস্ট ও একজন এ্যানেসথেসিওলজিস্ট; এবং  (ঝ) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, যিনি ইহার সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন।  (২) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গভেদে বিষয়ভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (খ), (গ) এবং (চ) এ বর্ণিত প্রতিনিধিগণ অন্তর্ভুক্ত হইবেন।  (৩) ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-  (ক) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ কার্যক্রমের বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান;  (খ) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন; এবং  (গ) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ কার্যক্রম সহজীকরণ, সম্প্রসারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য তাৎক্ষণিক পরামর্শ প্রদান এবং এতৎসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান।  (৪) ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি, প্রয়োজনে, উহার কোনো সদস্য সমন্বয়ে উপকমিটি গঠন ও উহার দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।  (৫) ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটির সভা সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন পদ্ধতি

১১। (১) নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) সংবলিত কোনো হাসপাতাল ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সমন্বয়কারীর মাধ্যমে গ্রহণ করিতে পারিবে।  (২) সমন্বয়কারী বিযুক্ত ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ সচল রাখিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।  (৩) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত গ্রহীতাগণ অগ্রাধিকার পাইবে, যথা:-  (ক) ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তি কর্তৃক তাহার জীবদ্দশায় তাহার কোনো নিকট আত্মীয় বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ লিখিতভাবে দানের সম্মতি প্রদান করা হইলে;  (খ) ধারা ১৭ অনুসারে গঠিত জাতীয় রেজিস্টার (National Register) এ তালিকাভুক্ত ব্যক্তি;  (গ) তুলনামূলক কমবয়সী;  (ঘ) রোগীর জীবন রক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় অধিকতর মুমূর্ষু ব্যক্তি; এবং  (ঙ) ভৌগোলিক দূরত্ব বা ভ্রমণের সময় বিবেচনায় তুলনামূলক নিকটবর্তী ব্যক্তি।  (৪) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও বিযুক্তকরণ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে উৎসাহ প্রদান

১২। (১) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ দাতাদের জাতীয় মর্যাদায় দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করা হইবে।  (২) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জাতীয় দিবসে ক্যাডাভেরিক অঙ্গদাতার পরিবারকে বিশেষ সম্মাননা বা পদক প্রদান করা হইবে।  (৩) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন ও প্রচার করা হইবে।

### অসামঞ্জস্য জোড়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনিময় বা প্রতিস্থাপন (SWAP Transplant) এর পদ্ধতি

১৩। (১) জীবিত নিকট আত্মীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা-গ্রহীতা জুটি যখন চিকিৎসাগতভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (Mismatch) হয়, তখন তাহারা জোড়া বিনিময় কর্মসূচিতে নাম নথিভুক্ত করিবে।  (২) চিকিৎসা প্রদানকারী হাসপাতাল বা জাতীয় রেজিস্ট্রি (National Registry) অসামঞ্জস্যপূর্ণ জোড়ার একটি ডেটাবেজ সংরক্ষণ করিবে এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ জোড়াগুলি খুঁজিয়া বাহির করিবে।  (৩) উক্ত জোড়া বা জোড়াগুলির মধ্যে দাতা-গ্রহীতার সম্মতিক্রমে অঙ্গ বিনিময় করিতে পারিবে।  (৪) জোড়া বিনিময় কর্মসূচির আওতাধীন দাতা-গ্রহীতার বিনিময় বা প্রতিস্থাপন সম্পর্কিত সকল অস্ত্রোপচার একই বা নির্ধারিত সময়ে এক বা একাধিক হাসপাতালে সম্পন্ন করিতে হইবে।

### নিকট আত্মীয় ও আইনানুগ উত্তরাধিকারী নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন ও উহার কার্যাবলি

১৪। (১) মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি নিকট আত্মীয় ও আইনানুগ উত্তরাধিকারী নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করিতে হইবে যথা:-  (ক) সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক এবং বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন, যিনি উক্ত বোর্ডর নেতৃত্বে থাকিবেন;  (খ) জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি;  (গ) একজন বিজ্ঞ গভর্নমেন্ট প্লিডার/পাবলিক প্রসিকিউটর;  (ঘ) পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি (সহকারী পুলিশ সুপার বা সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহে)।  (২) বোর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী অনধিক ২ (দুই) জন অন্যূন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার (চিকিৎসক) সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবেন।  (৩) নিকট আত্মীয় ও আইনানুগ উত্তরাধিকারী নির্ধারণী বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-  (ক) ক্যাডাভেরিক দাতার ক্ষেত্রে আইনানুগ উত্তরাধিকারী নির্ধারণ;  (খ) জীবিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা-গ্রহীতার আত্মীয়তার সম্পর্ক নির্ধারণ।  (৪) আত্মীয়তার সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দলিলাদি আবশ্যক হইবে, যথা:-  (ক) জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/ডিজিটাল জন্ম সনদ;  (খ) পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);  (গ) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যয়িত হলফনামা;  (ঘ) ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন হইতে আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রত্যয়নপত্র;  (ঙ) নিকাহনামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);  (চ) পারিবারিক ছবি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);  (ছ) ডিএনএ পরীক্ষা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।  (৫) অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না; তবে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য দাতা (Donor) ও গ্রহীতা (Recipient) নির্বাচনের স্বার্থে তাদের যোগ্যতা (Eligibility) সংশ্লিষ্ট বিভাগের ন্যূনতম ২ (দুই) জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (কনসালটেন্ট পর্যায়ের) লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে চূড়ান্ত হইবে।  (৬) অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### রিভিউ (Review) বোর্ড গঠন ও উহার কার্যাবলি

১৫। (১) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ ও সংযোজনে সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি রিভিউ বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-  (ক) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, যিনি এই বোর্ডের সভাপতিও হইবেন;  (খ) সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক; এবং  (গ) সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক বা তত্ত্বাবধায়ক, যিনি এই বোর্ডের সদস্য সচিবও হইবেন।  (২) রিভিউ বোর্ডের কার্যাবলি হবে নিম্নরূপ, যথা:  (ক) ধারা ১৪ এর উপ-ধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন নিকট আত্মীয় ও আইনানুগ উত্তরাধিকারী নির্ধারণের জন্য বোর্ড কর্তৃক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা ও গ্রহীতার আত্মীয়তা সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ বা জটিলতা দেখা দিলে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান;  (খ) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের সকল ডাটা সংরক্ষণ কার্যক্রম তদারকি ও পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান।

### নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটি ও উহার কার্যাবলি

১৬। (১) নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদানের জন্য একটি নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটি থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-  (ক) উপ-উপাচার্য, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-সভাপতি;  (খ) প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সদস্য;  (গ) প্রতিনিধি (পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিম্নে নহে), পুলিশ সদর দপ্তর-সদস্য;  (ঘ) পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-সদস্য;  (ঙ) একজন অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সদস্য;  (চ) একজন মানবাধিকারকর্মী (সরকার কর্তৃক মনোনীত)-সদস্য;  (ছ) যুগ্মসচিব, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ-সদস্য সচিব।  (২) নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-  (ক) নিঃস্বার্থবাদী দাতা হইবার জন্য দাখিলকৃত আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ;  (খ) নিঃস্বার্থবাদী দাতা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতার মাঝে কোনো আর্থিক লেনদেন সংঘটিত না হওয়া এবং নিঃস্বার্থবাদী দাতা অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে অর্থ প্রদানের বিষয়ে অঙ্গিকার না করার বিষয়টি নিশ্চিত বা পরীক্ষা করা;  (গ) নিঃস্বার্থবাদী দাতা কর্তৃক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা এবং যে প্রেক্ষিতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে আগ্রহী হন তাহা ব্যাখ্যা করা;  (ঘ) দাতা-গ্রহীতার মাঝে সম্পর্কের বিষয়ে দালিলিক প্রমাণ পরীক্ষা করা;  (ঙ) দাতা-গ্রহীতার একত্রে কোনো পুরাতন ছবি থাকিলে তা পরীক্ষা করা;  (চ) দাতা গ্রহীতার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাঝে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি, দালাল বা এজেন্সির সম্পৃক্ততা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা;  (ছ) দাতা যেনো মাদকাসক্ত না হয় তাহা নিশ্চিত করা;  (জ) দাতা ও গ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি পরীক্ষা করা এবং প্রমাণক হিসেবে তাহাদের বিগত ৩ অর্থবছরের আয় ব্যয়ের বিবরণী বা ব্যাংক হিসাব যাচাই করা;  (ঝ) দাতার কোনো নিকট আত্মীয় কিংবা নিকট আত্মীয় না থাকিলে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি যিনি দাতার সহিত রক্ত সম্পর্কে বা বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ তাহাকে দাতা কর্তৃক অঙ্গ দানের বিষয়ে সচেতন কি না, দাতার সহিত গ্রহীতার সম্পর্ক কি, অঙ্গ দানের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা এবং কোনো জোরালো মতামত কিংবা আপত্তি অথবা ভিন্ন মত পাওয়া গেলে তাহা রেকর্ড করা; এবং  (ঞ) দাতার মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি পরীক্ষা করা এবং অঙ্গ দান করিলে তাহার শারীরিক কোনো জটিলতা হইবে কি না সেই বিষয়ে তাহাকে অবগত করা।

### জাতীয় রেজিস্টার (National Register) সংরক্ষণ

১৭। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির তত্ত্বাবধানে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনে আগ্রহী বা সম্মত দাতা-গ্রহীতার তথ্য সংবলিত একটি জাতীয় রেজিস্টার থাকিবে।

### অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়বিক্রয় ইত্যাদি নিষিদ্ধ

১৮। মানব দেহের যেকোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়বিক্রয় বা উহার বিনিময়ে কোনো প্রকার সুবিধা লাভ এবং সেই উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার বিজ্ঞাপন প্রদান বা অন্য কোনোরূপ প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

### অপরাধ ও দণ্ড

১৯। (১) কোনো ব্যক্তি নিকট আত্মীয়তা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করিলে অথবা উক্তরূপ তথ্য প্রদানে উৎসাহিত, প্ররোচিত বা ভীতি প্রদর্শন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।  (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ ব্যতীত এই অধ্যাদেশের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে অথবা লঙ্ঘনে সহায়তা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।  (৩) এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধের জন্য কোনো চিকিৎসক দণ্ডিত হইলে, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক তাহাকে প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন বাতিলযোগ্য হইবে।

### হাসপাতাল কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

২০। (১) কোনো হাসপাতাল কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ হাসপাতালের পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার সহিত জড়িত মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, তিনি যে নামেই পরিচিত হউন না কেন, উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।  (২) কোনো হাসপাতাল কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উহার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি বাতিল হইবে ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য অর্থ দণ্ড আরোপ করা যাইবে এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের লাইন্সেস স্থগিত করিতে পারিবে।

### অপরাধের তদন্ত, বিচার ইত্যাদি

২১। এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Code of Criminal Procedure, 1898") (Act No. V of 1898) প্রযোজ্য হইবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২২। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

২৩। (১) [মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯](/laws/act-828 "মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯") (১৯৯৯ সনের ৫ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।  (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত আইনের অধীন-  (ক) কৃত কোনো কাজ-কর্ম, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রণীত কোনো বিধি, জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি, প্রদত্ত আদেশ, নিবন্ধন বা লাইসেন্স, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং এই অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কৃত, গৃহীত, প্রণীত, জারিকৃত বা প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে;  (খ) সূচিত কোনো কার্যধারা অসম্পূর্ণ থাকিলে উহা উক্ত আইন অনুযায়ী এইরূপে সমাপ্ত করা হইবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই;  (গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা মোকদ্দমা কোনো আদালতে চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২৪। (১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।  (২) এই অধ্যাদেশ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ প্রাধান্য পাইবে।

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1579.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
