> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬

> বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ

**Date of Publication:** \[ ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ]

## Preamble

যেহেতু ের ১৮ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র কর্তৃক জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে এবং বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা এবং বন্যপ্রাণীর সার্বিক কল্যাণ বিধানের নিমিত্ত নূতন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু ের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-

## Sections/Articles

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই অধ্যাদেশ [বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1602 "বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬") নামে অভিহিত হইবে।  (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-  (১) “অন্যান্য এলাকা ভিত্তিক কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা (OECM-Other Effective Area-based Conservation Measures)” অর্থ রক্ষিত এলাকার বাহিরে ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (৪) অনুসারে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত (recognized) কোনো এলাকা যাহা একটি সুনির্দিষ্ট পরিচালনা পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনার আওতায় এমনভাবে পরিচালিত হইতেছে এবং যাহা দীর্ঘমেয়াদি স্বস্থানিক (in-situ) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সমৃদ্ধ ও টেকসই করে, বাস্তুতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সেবা অব্যাহত রাখে এবং স্থানীয়, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য সামাজিক মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রাখে;  (২) “অভয়ারণ্য” অর্থ মুখ্যত বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন- উদ্ভিদ, মাটি ও পানি সংরক্ষণের নিমিত্ত ব্যবস্থাপনা করা হয় এইরূপ এলাকা যাহা ধারা ১৮ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;  (৩) “অসম্পূর্ণ ট্রফি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা আবদ্ধ বন্যপ্রাণীর সম্পূর্ণ বা উহার অংশ বিশেষ যাহা পরিশোধন বা প্রক্রিয়াজাত করা হয় নাই এবং বিনষ্ট হইবার আশঙ্কা রহিয়াছে;  (৪) “আবদ্ধ প্রাণী” অর্থ আবদ্ধ বা আটক অথবা উক্তরূপ অবস্থায় জন্মগ্রহণকারী প্রাণী;  (৫) “আবাসস্থল” অর্থ জলজ, স্থলজ ও ভূ-উপরিস্থ এমন কোনো স্থান যাহা বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান এবং যাহা বন্যপ্রাণীর বিচরণ, প্রজনন ও খাদ্য সংস্থান ক্ষেত্র;  (৬) “ইকোট্যুরিজম বা প্রকৃতি পর্যটন” অর্থ প্রকৃতির কোনো ক্ষতিসাধন না করিয়া প্রকৃতিতে ভ্রমণ যাহার মাধ্যমে কোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকার পরিবেশগত সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও স্থানীয় জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হইয়া থাকে;  (৭) “ইকোপার্ক” অর্থ উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বাস্তুতান্ত্রিক (ecological) আবাসস্থল ও নয়নাভিরাম দৃশ্য সংবলিত এলাকা যেখানে পর্যটকদের প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয় এবং যাহা ধারা ২১ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;  (৮) “উদ্ভিদ উদ্যান” অর্থ ধারা ২১ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত কোনো এলাকা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, জিনপুল (gene pool) উৎস সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়;  (৯) “কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি (Convention on Biological Diversity)” অর্থ পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি (১৯৯২) যাহার মূল লক্ষ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইহার উপাদানসমূহের টেকসই ব্যবহার এবং উহা হইতে প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;  (১০) “কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা (Community Conservation Area)” অর্থ কোনো এলাকা যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে এবং যাহা ধারা ২৩ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;  (১১) “কর্মকর্তা” অর্থ এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধির সকল বা যে কোনো উদ্দেশ্য পালনের নিমিত্ত নিয়োগপ্রাপ্ত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Forest Act, 1927") (Act No. XVI of 1927) এর section 2 এর clause (2) এ সংজ্ঞায়িত বন কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;  (১২) “করিডোর (corridor)” অর্থ বন্যপ্রাণীর আবাসস্হল বা রক্ষিত এলাকার প্রান্ত সীমানায় অবস্থিত চলাচল পথ বা এলাকা যাহার মধ্য দিয়া বন্যপ্রাণী এক বনাঞ্চল বা এলাকা হইতে অন্য বনাঞ্চল বা এলাকায় যাতায়াত করিয়া থাকে এবং যাহা ধারা ২৪ এর অধীন করিডোর হিসাবে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;  (১৩) “কোর জোন (core zone)” অর্থ ধারা ২৪ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত রক্ষিত এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এলাকা যেখানে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বংশবৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং পর্যটন সীমিত করিবার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা হয়;  (১৪) “কুঞ্জবন”অর্থ কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সামাজিক, ধর্মীয়, ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত মূল্য এবং বন্যপ্রাণীর আবাস রহিয়াছে এইরূপ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি ও লতাগুল্মের সমাহার যাহা ধারা ১৬ এর অধীন কুঞ্জবন হিসাবে ঘোষিত;  (১৫) “চিড়িয়াখানা” অর্থ [চিড়িয়াখানা আইন, ২০২৩](/laws/act-1465 "চিড়িয়াখানা আইন, ২০২৩") (২০২৩ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৩) সংজ্ঞায়িত চিড়িয়াখানা;  (১৬) “জলাভূমি” অর্থ [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩") (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত জলাভূমি এবং ভাটার সময় সমুদ্রের পানির গভীরতা ৬ মিটার পর্যন্ত হইয়া থাকে এমন উপকূলীয় জোয়ারভাটা সমৃদ্ধ এলাকাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;  (১৭) “জলাধার” অর্থ [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩") (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৫) এ সংজ্ঞায়িত জলাধার;  (১৮) “জাতীয় উদ্যান”অর্থ ধারা ১৮ এর অধীন সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর কোনো এলাকা যাহা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা করা হয়;  (১৯) ‘‘জীববৈচিত্র্য’’ অর্থ জীবজগতের মধ্যে বিরাজমান বিভিন্নতা, যাহা সামগ্রিকভাবে পরিবেশের অংশ এবং স্থলজ, জলজ বা সামুদ্রিক পরিবেশে বিদ্যমান প্রজাতিগত বিভিন্নতা (species diversity), কৌলিগত বিভিন্নতা (genetic diversity) ও প্রতিবেশগত বিভিন্নতাও (ecosystem diversity) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;  (২০) “ট্রফি (trophy)” অর্থ কোনো মৃত বা আবদ্ধ বন্যপ্রাণীর সম্পূর্ণ বা উহার কোনো অংশ, যাহা পরিশোধন বা প্রক্রিয়াজাত করিয়া স্বাভাবিকভাবে রাখা হয়, যেমন-  (ক) চামড়া, পশমের মোটা চাদর, সম্পূর্ণ বা আংশিক মাউন্টিং বন্যপ্রাণী অথবা ট্যাক্সিডার্মি করা অংশ; এবং  (খ) হরিণের শিং ও হাড়, কচ্ছপের শক্ত খোলস, শামুক ও ঝিনুকের খোল, হস্তীদন্ত, মৌচাক, পশম, পালক, নখ, দাঁত, খুর এবং ডিম;  (২১) “তফসিল” অর্থ এই অধ্যাদেশের তফসিল;  (২২) “নমুনা” অর্থ-  (ক) জীবন্ত বা মৃত কোনো উদ্ভিদ বা বন্যপ্রাণী; বা  (খ) কোনো বন্যপ্রাণী বা সহজেই শনাক্তযোগ্য এমন প্রাণীর দেহাংশ বা উহা হইতে উৎপাদিত বস্তু; বা  (গ) তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোনো উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য;  (২৩) “নির্ধারিত” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত কোনো বিধি দ্বারা নির্ধারিত;  (২৪) “নিষ্ঠুর আচরণ” অর্থ বন্যপ্রাণীর প্রতি এমন কোনো ইচ্ছাকৃত বা অবহেলাজনিত কার্য বা অবহেলা বোঝায়, যাহার ফলে বন্যপ্রাণীর অপ্রয়োজনীয় কষ্ট, আঘাত, অঙ্গহানি বা শারীরিক যন্ত্রণা কিংবা মৃত্যু ঘটে অথবা তাহাদের প্রাকৃতিক আচরণ, আবাসস্থল, প্রজনন ও জীবনধারা বিঘ্নিত হয়;  (২৫) “ন্যূনতম বিপদাপন্ন (Least Concern; LC) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা সবচেয়ে কম বিপদগ্রস্ত, সহজেই দেখা যায় ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত;  (২৬) “পচনশীল বনজ দ্রব্য” অর্থ মৃত বন্যপ্রাণী বা উহার অংশবিশেষ (হাড়, দাঁত, নখ ও শিং ব্যতীত), অপ্রক্রিয়াজাত কাঠ, বাঁশ, বেত, জ্বালানি কাঠ বা উহার অংশ বিশেষ বা উদ্ভিদ হইতে উৎপন্ন কোনো দ্রব্য সামগ্রী, যাহা প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল;  (২৭) “পজেশন সার্টিফিকেট” অর্থ ধারা ২৯ এর অধীন প্রদত্ত পজেশন সার্টিফিকেট;  (২৮) “পবিত্র বৃক্ষ” অর্থ কোনো ধর্ম ও গোত্রের জনগোষ্ঠীর নিকট ধর্মীয় পবিত্র উদ্ভিদ হিসাবে স্বীকৃত কোনো বৃক্ষ;  (২৯) “পরিযায়ী প্রজাতি” অর্থ ঐ সকল বন্যপ্রাণী যাহারা এক বা একাধিক দেশের ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করিয়া বৎসরের একটি নির্দিষ্ট সময় আসা-যাওয়া করিয়া থাকে;  (৩০) “প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “অতিরিক্ত প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “যুগ্মপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “উপপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন যথাক্রমে “প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “অতিরিক্ত প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “যুগ্মপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, উপপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন” ও “বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন” হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;  (৩১) “প্রায়-বিপদাপন্ন (Near Threatened; NT) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা নিকট ভবিষ্যতে বিপদাপন্ন হইয়া পড়িবার ঝুঁকিতে রহিয়াছে;  (৩২) “বনজদ্রব্য” অর্থ [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Forest Act, 1927") (Act XVI of 1927) এর section 2 এর clause (4) এ সংজ্ঞায়িত বনজদ্রব্য;  (৩৩) “বন্যপ্রাণী” অর্থ বিভিন্ন প্রকার ও জাতের প্রাণী বা তাহাদের জীবনচক্রের যেকোনো পর্যায়সমূহ যাহাদের উৎস বন্য হিসাবে বিবেচিত হইয়া থাকে;  (৩৪) “বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড” অর্থ ধারা ৯ অনুসারে গঠিত ট্রাস্ট ফান্ড;  (৩৫) “বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র” অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কেন্দ্র যেখানে দেশি বিলুপ্ত, বিপদাপন্ন, প্রায় বিপদাপন্ন, ন্যূনতম বিপদাপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী পুনর্বাসনের নিমিত্ত রাখিয়া বংশবৃদ্ধি করা হয়;  (৩৬) “বাফার জোন (buffer zone)” অর্থ কোর জোন ব্যতীত রক্ষিত এলাকার অবশিষ্ট অংশ যেখানে রক্ষিত এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রহিয়াছে এবং যাহা ধারা ২৪ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;  (৩৭) “বাস্তুতন্ত্র (ecosystem)” অর্থ প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যস্হিত কার্যকর এলাকা বা ব্যবস্হা (functional unit) যাহা উক্ত এলাকার উদ্ভিদ, প্রাণী, ক্ষুদ্র অণুজীব এবং জড় বস্তুসমূহের আন্তঃসম্পর্কের উপর নির্ভরশীল;  (৩৮) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;  (৩৯) “বোর্ড” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড;  (৪০) “বিদেশি প্রাণী” অর্থ দেশের বাহির হইতে আনা হইয়াছে এমন CITES Appendix ভুক্ত বা বহির্ভূত আবদ্ধ প্রাণী বা উহাদের বংশধর বা মিউট্যান্টসমূহ বা উহার অংশ বা ট্রফি;  (৪১) “বিপদাপন্ন (Threatened) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা IUCN Red List এ মহাবিপন্ন (Critically Endangered; CR), বিপন্ন (Endangered; EN) বা সংকটাপন্ন (Vulnerable; VU) হিসাবে বিবেচিত এবং যাহা বিলুপ্ত হইবার হুমকির সম্মুখীন;  (৪২) “বিপন্ন (Endangered; EN) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহার কোনো একটি দেশে বা বৈশ্বিকভাবে প্রকৃতিতে বিলুপ্ত হইয়া যাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে;  (৪৩) “ব্যক্তি” অর্থ কোনো ব্যক্তি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, সমিতি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা সংবিধিবদ্ধ বা অন্য কোনো সংস্হাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।  (৪৪) “ভারমিন (vermin)” অর্থ তফসিল ৩ এ উল্লিখিত কৃষি ফসলের ক্ষতিকারক প্রাণী;  (৪৫) “মহাবিপন্ন (Critically Endangered; CR) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহার কোনো একটি দেশে বা বৈশ্বিকভাবে প্রকৃতিতে বিলুপ্ত হইয়া যাইবার সর্বোচ্চ ও স্পষ্ট সম্ভাবনা রহিয়াছে;  (৪৬) “রক্ষিত উদ্ভিদ (protected plants)” অর্থ তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোনো প্রজাতির উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি;  (৪৭) “রক্ষিত এলাকা (protected area)”অর্থ ধারা ১৮ ও ২১ অনুসারে সরকার ঘোষিত সকল অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এবং বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা;  (৪৮) “রক্ষিত বন্যপ্রাণী (protected animal)” অর্থ তফসিল ১(ক), তফসিল ১(খ), তফসিল ১(গ) ও তফসিল ২ এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী;  (৪৯) “লাইসেন্স” অর্থ ধারা ২৯ এর অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;  (৫০) “লালন-পালন যোগ্য বন্যপ্রাণী” অর্থ সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে সময় সময় ঘোষিত বন্যপ্রাণী;  (৫১) “ল্যান্ডস্কেপ জোন (landscape zone)” অর্থ কোনো স্বীকৃত অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্ক এর বাহিরে সরকারি বা বেসরকারি এলাকা, যাহা রক্ষিত এলাকার জীববৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণ করিয়া থাকে ও রক্ষিত এলাকার অবক্ষয় রোধে ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্যের সহিত মিল রাখিয়া ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা ধারা ২৪ এর অধীন ল্যান্ডস্কেপ জোন হিসাবে ঘোষিত এলাকা;  (৫২) “শিকার” অর্থ-  (ক) কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ করা বা অনুরূপ কোনো উদ্যোগ; বা  (খ) উপ-দফা (ক) এ বর্ণিত কোনো উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীকে তাড়াইয়া নেওয়া; বা  (গ) কোনো বন্যপ্রাণীকে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং কোনো বন্যপ্রাণীর কোনো অংশ নেওয়া বা বন্য পাখির বা সরীসৃপের বাসা বা ডিম সংগ্রহ বা ধ্বংস করা;  (৫৩) “সহ-ব্যবস্থাপনা” অর্থ ধারা ২৫ এ উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণে কোনো এলাকার বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করা;  (৫৪) “সাইটিস (CITES)” অর্থ Convention on International Trade in Endangered Species of Wild Fauna and Flora;  (৫৫) “সাফারি পার্ক”অর্থ ধারা ২১ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত এইরূপ বন এলাকা যেখানে দেশি-বিদেশি বন্যপ্রাণীর যথাসম্ভব প্রাকৃতিক ও উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করিবার সুযোগ থাকিবে এবং যেখানে দর্শনার্থীদের বন্যপ্রাণী দর্শনের ব্যবস্থা থাকিবে;  (৫৬) “সিএমএস (CMS)” অর্থ Convention on the Conservation of Migratory Species of Wild Animals;  (৫৭) “স্মারক বৃক্ষ” অর্থ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত মূল্য রহিয়াছে এইরূপ ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ বা পুরাতন বয়স্ক দেশীয় উদ্ভিদ বা শতবর্ষী বৃক্ষ;  (৫৮) “সংকটাপন্ন (Vulnerable; VU) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহার কোনো একটি দেশে বা বৈশ্বিকভাবে প্রকৃতিতে বিপন্ন হইয়া পড়িবার সমূহ সম্ভাবনা রহিয়াছে;  (৫৯) “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” অর্থ [ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০](/laws/act-1043 "ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০") (২০১০ সনের ২৩ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (২) এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী;

### অধ্যাদেশের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বন্যপ্রাণীর কল্যাণ, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

### বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ করণীয়

৪। (১) বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করিতে সরকার বন অধিদপ্তরের অধীন বন্যপ্রাণী উইং নামে একটি উইং প্রতিষ্ঠা করিবে।  (২) সরকার বন্যপ্রাণীর কল্যাণ ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করিতে উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।  (৩) সরকার অনুমোদিত বা অনুসমর্থিত বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের প্রতিপালন নিশ্চিত করিবে।  (৪) সরকার বন অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করিবে এবং নিরীক্ষক নিয়োগ অনুমোদন করিবে।  (৫) সরকার এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে এবং বোর্ড ও বন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিবে।

### বন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য

৫। (১) এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী রক্ষিত এলাকা সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা, কল্যাণ, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার প্রাথমিক দায়িত্ব বন অধিদপ্তরের উপর অর্পিত থাকিবে এবং বন অধিদপ্তরের পক্ষে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন ও অন্যান্য ওয়ার্ডেনগণ নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-  (ক) নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে দেশের বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করিবে এবং অবস্থান অনুযায়ী মহাবিপন্ন, বিপন্ন, সংকটাপন্ন ও প্রায়-বিপদাপন্ন বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করিবে;  (খ) দফা (ক) এ উল্লিখিত তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিভিন্ন প্রকার বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি হ্রাস, কল্যাণ, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও করিডোর চিহ্নিত ও সুরক্ষিত রাখিবে, in-situ ও ex-situ সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;  (গ) তফসিল ৪ এ বর্ণিত রক্ষিত উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্হাপনায় উদ্যোগ গ্রহণ করিবে;  (ঘ) ধারা ১৬ অনুসারে ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন সংরক্ষণে দায়িত্ব গ্রহণ করিবে;  (ঙ) বন্যপ্রাণীর কল্যাণ, সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ে, মানুষ-বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব নিরসনে ও সহাবস্থান নিশ্চিত করিতে, বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ রোধে এবং বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, আইনি প্রক্রিয়া, উদ্দীপনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা গ্রহণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;  (চ) এই অধ্যাদেশের অধীন লাইসেন্স এবং পজেশন সার্টিফিকেট প্রদান ও বাতিল, নিবন্ধন সনদ ইস্যু ও বাতিল, লালন-পালন যোগ্য বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন, বন্যপ্রাণী লালন-পালন ও বন্যপ্রাণীর ক্যাপটিভ ব্রিডিং নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট প্রাপ্ত বন্যপ্রাণীর অবস্থা পরিবীক্ষণ করিবে;  (ছ) প্রকৃতি হইতে বিলুপ্ত বন্যপ্রাণীর প্রকৃতিতে পুনরায় ফিরাইয়া আনিতে এবং বিপদাপন্ন প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;  (জ) উদ্ধারকৃত ও আহত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে এবং বন্যপ্রাণীর শুশ্রূষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;  (ঝ) [বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭](/laws/act-1203 "বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭") (২০১৭ সনের ২নং আইন)-সহ বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সকল আইন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করিবে;  (ঞ) CITES সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করিয়া ট্রফিসহ বন্যপ্রাণীর আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করিবে এবং পাচারকৃত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করিবে;  (ট) যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত সাপেক্ষে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে নিজস্ব হেফাজতে ফিরাইয়া আনিতে পারিবে;  (ঠ) সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ইকোট্যুরিজম নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিবে, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার স্বার্থে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করিবে, সাফারি পার্ক ও ইকোপার্কসহ বন্যপ্রাণী পরিদর্শনের সুযোগ রহিয়াছে এইরূপ রক্ষিত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে;  (ড) নির্দেশিকা অনুসরণ করিয়া বন্যপ্রাণীর কল্যাণ ও সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তা গ্রহণ, ব্যক্তি অনুদান গ্রহণসহ অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ করিবে;  (ঢ) বন্যপ্রাণী ও তাহাদের আবাসস্হল সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্হার সহিত যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করিতে পারিবে;  (ণ) সরকার কর্তৃক অনুসমর্থিত বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের প্রতিপালন করিবে;  (ত) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং উপদেষ্টা বোর্ডের নিকট উপস্থাপন করিবে;  (থ) সরকার কর্তৃক নিয়োজিত অডিটরের মাধ্যমে বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে; এবং  (দ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন করিবে।  (২) এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করিবার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং এইরূপ অনুরোধ করা হইলে উক্ত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সহায়তা প্রদান করিবে।

### বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড, ইত্যাদি

৬। (১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, একজন সভাপতি এবং জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করিবে।  (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-  (ক) বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও কল্যাণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা এবং দিক-নির্দেশনা প্রদান;  (খ) বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও কল্যাণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান;  (গ) প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কর্তৃক সরকারের নিকট উপস্থাপিত বাৎসরিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা; এবং  (ঘ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত এতদসম্পর্কিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন;  (৩) উপদেষ্টা বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।  (৪) উপদেষ্টা বোর্ডের সভা বৎসরে কমপক্ষে ২ (দুই) বার সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।  (৫) উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপস্হিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হইবে।

### বৈজ্ঞানিক কমিটি

৭। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিশারদগণের সমন্বয়ে অনধিক ৯ (নয়) সদস্য-বিশিষ্ট একটি বৈজ্ঞানিক কমিটি গঠন করিবে এবং উক্ত প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।  (২) উপ-ধারা (১) এ গঠিত কমিটি একইসাথে CITES Scientific Authority হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

### দায়িত্ব অর্পণ

৮। (১) দেশের বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর কল্যাণ, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণের উপর ন্যস্ত থাকিবে, যথা:-  (ক) প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন;  (খ) অতিরিক্ত প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন;  (গ) যুগ্মপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন;  (ঘ) উপপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন;  (ঙ) বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন।  (২) বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান বন সংরক্ষক, উপপ্রধান বন সংরক্ষক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষকগণ এবং পরিচালক, বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগণ যথাক্রমে অতিরিক্ত প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন, যুগ্মপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন, উপপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন ও বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।  (৩) প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন প্রয়োজনে এই অধ্যাদেশের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাহার অধস্তন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবেন।

### বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড (Wildlife Trust Fund)

৯। সরকার বন্যপ্রাণীর কল্যাণ, সংরক্ষণ, উদ্ধার, উদ্ধার পরবর্তী শুশ্রূষা নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ-প্রজনন (conservation breeding), বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, জনসচেতনতা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কাজে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিয়া বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান বিষয়ে কাজের নিমিত্ত বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড (Wildlife Trust Fund) গঠন করিবে এবং ট্রাস্টটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো ও বিধি-বিধান প্রস্তুত করিবে।

### বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা

১০। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন লাইসেন্স বা ক্ষেত্রমত, পজেশন সার্টিফিকেট, পারমিট গ্রহণ ব্যতীত কোনো ব্যক্তি কোনো বন্যপ্রাণী লালন-পালন, আবদ্ধ রাখা এবং বন্যপ্রাণী, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি দখলে রাখা, ক্রয় বা বিক্রয় বা পরিবহন করিতে পারিবে না বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোনো উদ্ভিদের ক্ষতিসাধন, ধ্বংস, সংগ্রহ বা পরিবহন করিতে পারিবে না।  (২) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা হাট-বাজার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ক্রয়-বিক্রয় করা যাইবে না।  (৩) সকল বন্যপ্রাণী, বন্যপ্রাণীর দেহের অংশ, মাংস, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য সরকারের সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত হইবে।  (৪) কোনো ব্যক্তি বন্যপ্রাণীর প্রতি কোনো নিষ্ঠুর আচরণ করিলে এই অধ্যাদেশের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হইবে।  (৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিষ্ঠুর আচরণ বলিতে বন্যপ্রাণীকে প্রহার, উত্ত্যক্ত করা, চোখ বাঁধিয়া রাখা, অপ্রয়োজনে আটক রাখা, ভীতি প্রদর্শন করা, পরিবহনের ক্ষেত্রে কষ্ট দেওয়া, মাত্রাতিরিক্ত ভার বহন করানো, বৈদ্যুতিক তারের বেষ্টনী দিয়া হত্যা করা, বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ ইত্যাদিকে বুঝাইবে।

### বিপদাপন্ন (Threatened), প্রায়-বিপদাপন্ন (Near Threatened), ন্যূনতম বিপদাপন্ন (Least Concern) প্রজাতি নির্ধারণ

১১। বৈজ্ঞানিক উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিধান বা প্রথা অনুসরণপূর্বক, প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন, বৈজ্ঞানিক কমিটির সহিত পরামর্শক্রমে, তফসিল ১(ক), ১(খ), ১(গ), ২ ও ৩ এ উল্লিখিত কোন কোন প্রজাতির বা উপ-প্রজাতির বন্যপ্রাণী বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোন কোন উদ্ভিদ বিপদাপন্ন, প্রায়-বিপদাপন্ন, ন্যূনতম বিপদাপন্ন তাহা নির্ধারণ করিবেন।

### বন্যপ্রাণী অপসারণ, ইত্যাদি

১২। (১) কোনো বন্যপ্রাণী-  (ক) মানুষের জীবনের প্রতি হুমকির কারণ হইলে, বা  (খ) দৈহিকভাবে বিকলাঙ্গ বা ছোঁয়াচে বা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হইলে,  প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কারণ উল্লেখ করিয়া উক্ত বন্যপ্রাণী অপসারণ, কালিং (culling) বা ক্ষেত্রমত, পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে বিষয়টি উপদেষ্টা বোর্ড ও বৈজ্ঞানিক কমিটিতে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করিবেন।  (২) কোনো বিমানঘাঁটি বা বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে, কোনো বন্যপ্রাণীকে অপসারণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

### এয়ারগান, ইত্যাদি সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা

১৩। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এয়ারগান, ইত্যাদি আমদানি, বিক্রয়, ব্যবহার বা বহনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিতে পারিবে:  তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় শুটিং ফেডারেশন কর্তৃক নিবন্ধিত শুটিং ক্লাব, বনাঞ্চল সন্নিহিত এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার প্রয়োজন উক্তরূপ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকিবে।

### বন্যপ্রাণী অবমুক্তকরণ

১৪। উদ্ধারকৃত বা জব্দকৃত বা ধৃত বন্যপ্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করিবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে:  তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ বন্যপ্রাণী দ্বারা রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা থাকিলে বা উহার শুশ্রূষার প্রয়োজন হইলে আবদ্ধ রাখা যাইবে।

### রক্ষিত উদ্ভিদ সংরক্ষণ

১৫। তফসিল ৪ এর উদ্ভিদসমূহ রক্ষিত উদ্ভিদ হিসাবে বিবেচিত এবং সংরক্ষিত হইবে। তফসিল ৪ এ উল্লিখিত রক্ষিত উদ্ভিদসমূহ পুনরুদ্ধারে (restoration), উহাদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে এবং ঝুঁকি হ্রাসে বন অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করিবে।

### ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন ঘোষণা

১৬। (১) বন অধিদপ্তর, যে কোনো ভূমিতে অবস্থিত প্রাচীন অথবা প্রথাগত, ঐতিহ্যগত, ধর্মীয় বা স্মৃতিস্মারক মূল্য বহনকারী কোনো বৃক্ষ বা বৃক্ষরাজি যাহা বন্যপ্রাণীর আবাসস্হল হিসাবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাহা প্রাচীন বৃক্ষ, ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ বা ক্ষেত্রমত, সরকারের অনুমোদনক্রমে কুঞ্জবন হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে এবং এইরূপ ঘোষিত বৃক্ষ বা বৃক্ষরাজি প্রথাগত ব্যবহার, সাংস্কৃতিক অনুশাসন সাপেক্ষে সংরক্ষণ করিবে।  (২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন বিষয়ক বিধিনিষেধ

১৭। কোনো ব্যক্তি জীবন রক্ষার প্রয়োজন ব্যতীত ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন কর্তন বা অপসারণ বা উহার ক্ষতিসাধন করিতে পারিবে না।

### অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান ঘোষণা ও ব্যবস্থাপনা

১৮। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করিতে পারিবে এবং উহার সুষ্ঠু ব্যবস্হাপনা নিশ্চিত করিবে।  (২) কোনো বন, বনের অংশ, সরকারি ভূমি, জলাধার, জলাভূমি বা যে কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণের নিমিত্ত সুনির্দিষ্টভাবে সীমানা নির্ধারণপূর্বক অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করিতে পারিবে:  তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ঘোষণার পূর্বে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর মতামত গ্রহণ করিতে হইবে।  (৩) প্রতিটি অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের জন্য বন অধিদপ্তর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে উহা বাস্তবায়ন করিবে।  (৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন ঘোষিত অভয়ারণ্যকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, পাখি অভয়ারণ্য, হাতি অভয়ারণ্য, জলাধার বা জলাভূমি নির্ভর বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অভয়ারণ্য, মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসাবে নির্ধারণ করা যাইবে।  (৫) কোনো বনভূমি বা জলাভূমি বা জলাধার বা সামুদ্রিক বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করা হইলে উক্ত এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী, যেমন- বনজীবী, বন নির্ভর জনগোষ্ঠী, জেলে, নৌকাচালকদের পেশাগত, প্রথাগত বা জীবন জীবিকার অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।

### অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বাধা নিষেধ

১৯। (১) কোনো ব্যক্তি অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানে নিম্নবর্ণিত কার্য করিতে পারিবেন না, যথা:-  (ক) অননুমোদিত প্রবেশ;  (খ) চাষাবাদ;  (গ) কোনো শিল্প কারখানা স্থাপন বা পরিচালনা;  (ঘ) আগুন লাগিতে পারে এমন কোনো কাজ;  (ঙ) কোনো বন্যপ্রাণী শিকার, বন্যপ্রাণীকে উত্ত্যক্ত করা বা ভয় দেখানো কিংবা কোনো বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্ট বা বিনষ্ট হইতে পারে এইরূপ কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য, গোলাবারুদ, অন্য কোনো অস্ত্র বা দ্রব্য বা বিষ প্রয়োগ বা শিকার সংক্রান্ত উপকরণ ব্যবহার;  (চ) কোনো বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ;  (ছ) বিদেশি (exotic), এলিয়েন (alien) ও আগ্রাসী (invasive) প্রজাতির প্রাণী বা উদ্ভিদ প্রবেশ;  (জ) কোনো গৃহপালিত পশু প্রবেশ করানো বা কোনো গৃহপালিত পশুকে নিরুদ্দিষ্ট রাখা;  (ঝ) বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর পদার্থ গাদি (ডাম্পিং) করা;  (ঞ) ময়লা, আবর্জনা, যে কোনো খনিজ পদার্থ, বর্জ্য (পচনশীল বা অপচনশীল) ডাম্পিং বা স্তূপ করা;  (ট) কোনো খনিজ পদার্থ আহরণের জন্য অনুসন্ধান কিংবা গর্ত করা;  (ঠ) উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বংশ বিস্তারের উদ্দেশ্যে সিলভিকালচারাল অপারেশন ব্যতীত অন্য কোনো কারণে কোনো উদ্ভিদ বা উহার অংশ কর্তন করা;  (ড) বনভোজন;  (ঢ) জলাভূমি বা জলাধার বা সামুদ্রিক এলাকার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য কোনো ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধ কার্যক্রম করা।  (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিধিনিষেধ সরকার সময় সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করিতে পারিবে।  (৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যানের সীমানা হইতে ২ (দুই) কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ বা ইট ভাটা স্থাপন বা পরিচালনা করিতে পারিবে না।  (৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা শিল্প কারখানার ক্ষেত্রে উহা প্রযোজ্য হইবে না:  তবে শর্ত থাকে যে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্হাপনা ও সুরক্ষার স্বার্থে বন অধিদপ্তর বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

### অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ, ইত্যাদি

২০। (১) এই অধ্যাদেশ বা বিধির অধীন দায়িত্ব পালনরত বা অনুমতি প্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেহ অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ অথবা অবস্থান করিতে পারিবে না।  (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক ও ক্ষেত্রমত, প্রবেশ ফি আদায় সাপেক্ষে নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:-  (ক) শিক্ষা ও গবেষণা;  (খ) বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিষয়ক অনুসন্ধান;  (গ) চিত্রধারণ।  (৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক ও ক্ষেত্রমত, প্রবেশ ফি আদায় সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:-  (ক) শিক্ষা ও গবেষণা;  (খ) বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিষয়ক অনুসন্ধান;  (গ) ইকোট্যুরিজম; ও  (ঘ) চিত্রধারণ।

### সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এবং বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা

২১। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যপ্রাণী স্বীয় আবাসস্থলে (in-situ) বা স্বীয় আবাসস্থলের বাহিরে অন্যত্র (ex-situ) সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা শিক্ষা বা গবেষণা বা প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যান নহে এইরূপ এলাকাকে সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র বা ক্ষেত্রমত, কোনো সরকারি ভূমি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।  (২) সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এবং বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা পরিচালনার জন্য বন অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে ও সরকারের অনুমোদনক্রমে তাহা বাস্তবায়ন করিবে।  (৩) আন্তর্জাতিক আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করিয়া সাফারি পার্কে বিদেশি প্রাণী প্রদর্শন করা যাইবে।

### সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এবং বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা সম্পর্কিত বাধা নিষেধ

২২। (১) কোনো ব্যক্তি সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এবং বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকায় নিম্নবর্ণিত কার্য করিতে পারিবেন না, যথা:-  (ক) অননুমোদিত প্রবেশ;  (খ) চাষাবাদ, তবে সাফারি পার্কের ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীর খাদ্য উপযোগী চাষাবাদ করা যাইবে;  (গ) কোনো শিল্প কারখানা স্থাপন বা পরিচালনা;  (ঘ) আগুন লাগিতে পারে এমন কোনো কাজ;  (ঙ) কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা বা শিকার বা উত্ত্যক্ত করা কিংবা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্ট হইতে পারে এইরূপ কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য, গোলাবারুদ, অন্য কোনো অস্ত্র বা দ্রব্য বা বিষ প্রয়োগ বা শিকার সংক্রান্ত উপকরণ ব্যবহার;  (চ) ব্যক্তিগত পোষা প্রাণী নিয়ে প্রবেশ;  (ছ) অনুমতি ব্যতীত কোনো উদ্ভিদ আহরণ, ধ্বংস বা সংগ্রহ;  (জ) ক্ষতিকর পদার্থ গাদি (ডাম্পিং) করা;  (ঝ) ময়লা, আবর্জনা, যে কোনো খনিজ পদার্থ, বর্জ্য (পচনশীল বা অপচনশীল) ডাম্পিং বা স্তূপ করা;  (ঞ) অনুমতি ব্যতীত কোনো খনিজ পদার্থ আহরণের জন্য অনুসন্ধান কিংবা গর্ত করা;  (ট) অনুমতি ব্যতীত ভিডিও-চিত্র বা ডকুমেন্টারি ধারণ করা;  (ঠ) বন্যপ্রাণীর প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয় এমন কাজ করা।  (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিধিনিষেধ সরকার, সময় সময়, প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করিতে পারিবে।

### কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা, অন্যান্য এলাকাভিত্তিক কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা (OECM), ইত্যাদি ঘোষণা ও সহায়তা প্রদান

২৩। (১) ল্যান্ডস্কেপ জোনের অন্তর্ভুক্ত নহে এইরূপ কোনো জমি বা জলাভূমির মালিক কোনো ব্যক্তি বা কমিউনিটি কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ এর প্রথাগত অথবা কৃষ্টিগত মূল্যবোধ বা ব্যবহার-সংরক্ষণ এবং উক্ত জমি বা জলাভূমির টেকসই উন্নয়ন ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা হিসাবে ঘোষণার লক্ষ্যে সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে।  (২) বন অধিদপ্তর কোনো এলাকার বন্যপ্রাণী এবং আবাসস্হল সংরক্ষণের জন্য সরকারের অনুমোদনক্রমে স্হানীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করিয়া যৌথ ব্যবস্হাপনায় কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা ঘোষণা করিতে পারিবে।  (৩) বন অধিদপ্তর কোনো ব্যক্তি বা স্হানীয় জনগোষ্ঠী কর্তৃক বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কার্যক্রমকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিতে পারিবে এবং কোনো জনগোষ্ঠীকে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করিতে পারিবে।  (৪) সরকার বন্যপ্রাণী এবং আবাসস্হল সংরক্ষণের জন্য কোনো এলাকাকে “অন্যান্য এলাকাভিত্তিক কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা (OECM)” হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করিতে পারিবে।  (৫) উপ-ধারা (২) এবং (৪) এ ঘোষিত বা স্বীকৃত কোনো এলাকা ব্যবস্হাপনার জন্য বন অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### কোর জোন, বাফার জোন, করিডোর ও ল্যান্ডস্কেপ জোন ঘোষণা

২৪। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করিতে কোর জোন, বাফার জোন, করিডোর ও ল্যান্ডস্কেপ জোন চিহ্নিত ও ঘোষণা করিতে পারিবে এবং তদসংক্রান্ত ব্যবস্হাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আরোপ করিতে পারিবে।  (২) কোর জোনে সকল কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকিবে।  (৩) বাফার জোন, ল্যান্ডস্কেপ জোন বা করিডোরে অবক্ষয়িত (degraded) বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুনঃপ্রতিষ্ঠার (restoration) উদ্যোগ গ্রহণ করা যাইবে, তবে বনায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র (ecosystem) ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা প্রাধান্য পাইবে।

### সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি

২৫। (১) সরকার, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ব্যবস্হাপনা ও টেকসই ব্যবহারের প্রয়োজনে বন অধিদপ্তর, বনে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও স্হানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিয়া সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করিতে পারিবে।  (২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় বিধি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে।

### পারমিট প্রদান

২৬। কোনো বন্যপ্রাণী বা বন্যপ্রাণীর দেহাংশ, মাংস, ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি সংগ্রহ এবং তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ সংগ্রহ করা, দখলে রাখা অথবা উহা হইতে উৎপাদিত দ্রব্য কোনো বন অথবা দেশের যে কোনো স্থান হইতে পরিবহনের জন্য নিম্নবর্ণিত কারণে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফি আদায় সাপেক্ষে পারমিট প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:-  (ক) শিক্ষা;  (খ) বৈজ্ঞানিক গবেষণা;  (গ) বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা;  (ঘ) কোনো উদ্ভিদ উদ্যান, সাফারি পার্ক, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, হার্বেরিয়াম অথবা একইরূপ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন;  (ঙ) জীবন রক্ষাকারী ঔষধ তৈরির জন্য উদ্ভিদ বা সাপের বিষ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ; এবং  (চ) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বন্যপ্রাণীর বংশ বিস্তারের জন্য।  ব্যাখ্যা।— এই ধারায় “বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা” অর্থ-  (ক) কোনো বন্যপ্রাণীকে অন্য কোনো সুবিধাজনক আবাসস্থলে স্থানান্তর করা;  (খ) কোনো বন্যপ্রাণী অথবা নির্দিষ্ট প্রজাতির উদ্ভিদের ব্যবস্থাপনার জন্য হত্যা না করিয়া বা বিষ প্রয়োগ না করিয়া অথবা ধ্বংস না করিয়া প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করা; এবং  (গ) বিজ্ঞানসম্মতভাবে কালিং (culling) করা:  তবে শর্ত থাকে যে, কালিংকৃত বন্যপ্রাণী মাটি চাপা দিয়া ধ্বংস করিতে হইবে।

### বন্যপ্রাণীর ট্রফি ও উদ্ভিদ নিবন্ধীকরণ এবং নিবন্ধন সনদ ইস্যু

২৭। (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার ১৮০ (একশত আশি) দিনের মধ্যে প্রত্যেক বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন তাহার এলাকাধীন কোনো ব্যক্তির নিকট সংগৃহীত ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোনো উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপাদিত দ্রব্য নিবন্ধন করাইবে, যথাযথ নিবন্ধনকরণ চিহ্ন প্রদান করিবে এবং উহার সংখ্যা ও অবস্থান উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত বিবরণ প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন এর নিকট প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করিবে।  (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিবন্ধনকরণ চিহ্ন প্রদানের পর উক্ত কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত বন্যপ্রাণীর অংশ, মাংস, ট্রফি বা ক্ষেত্রমত, উদ্ভিদের আইনানুগ দখলের প্রমাণ স্বরূপ নিবন্ধন সনদ ইস্যু করিবে।  (৩) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করিলে উহা অবৈধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং বন অধিদপ্তর উহা জব্দ করিতে পারিবে।

### হস্তান্তর

২৮। (১) নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোনো ব্যক্তি কোনো বন্যপ্রাণীর মাংস, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, বন্যপ্রাণীর অংশবিশেষ (ভারমিন ব্যতীত) অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য দান, বিক্রয় বা অন্য কোনো প্রকারে অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন না।  (২) প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা ক্ষেত্রমত, অতিরিক্ত প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন, যুগ্মপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন, উপপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন এর পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিয়া নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে বা তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে এমন কোনো বন্যপ্রাণীর অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোনো উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা অন্য কাহারো নিকট স্থানান্তর, হস্তান্তর বা পরিবহন করিতে পারিবে।  (৩) চিড়িয়াখানার আবদ্ধ প্রাণী বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

### লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট

২৯। (১) এই অধ্যাদেশের অধীনে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফি আদায় সাপেক্ষে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট প্রদান করিবে, যথা:-  (ক) বন্যপ্রাণীর খামার পরিচালনা, লালন-পালন, বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিক্রয়;  (খ) আমদানি ও রপ্তানি;  (গ) কোনো রক্ষিত উদ্ভিদের বাণিজ্যিক চাষ, আহরণ, উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি:  তবে শর্ত থাকে যে, লালন-পালনযোগ্য বন্যপ্রাণীর জন্য লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট ইস্যুর পূর্বে নিশ্চিত হইতে হইবে যে, উক্ত বন্যপ্রাণী লালন-পালনের জন্য আবেদনকারীর পর্যাপ্ত আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সামর্থ্য ও সুবিধাদি রহিয়াছে এবং বন্যপ্রাণী লালন-পালন সম্পর্কিত জ্ঞান রহিয়াছে:  তবে আরো শর্ত থাকে যে, পালিত বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের প্রমাণ পাইলে বন অধিদপ্তর কোনো কারণ দর্শানো ব্যতীত লালন-পালনের জন্য প্রদত্ত লাইসেন্স এবং পজেশন সার্টিফিকেট বাতিল করিতে পারিবে এবং পালিত বন্যপ্রাণী নিজ তত্ত্বাবধানে রাখিতে অথবা উপযুক্ত ব্যক্তিকে লালন পালনের জন্য প্রদান করিতে পারিবে।  (২) লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেটের মেয়াদ প্রদানের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত বহাল থাকিবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফি প্রদান সাপেক্ষে লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট নবায়ন করিতে হইবে।  (৩) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীনে লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ ব্যতীত কোনো বন্যপ্রাণী লালন-পালন, বন্যপ্রাণী বাণিজ্যিক উৎপাদন, বিক্রয়, আমদানি, রপ্তানি করিতে পারিবে না এবং কোনো রক্ষিত উদ্ভিদের বাণিজ্যিক চাষ, আহরণ, উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি করিতে পারিবে না।  (৪) এই অধ্যাদেশের অধীন লাইসেন্স প্রাপ্ত খামারি প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতীত কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করিতে পারিবে না।  (৫) উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত কোনো অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে এই ধারার আওতায় লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট প্রদান করা যাইবে না।

### লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট বাতিল ও স্থগিতকরণ

৩০। কোনো লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট গ্রহীতা এই অধ্যাদেশ বা বিধি বা লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট এর কোনো শর্ত ভঙ্গ করিলে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট গ্রহীতাকে যুক্তিসংগত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া লাইসেন্স এবং পজেশন সার্টিফিকেট স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে।

### আপীল

৩১। ধারা ২৯ ও ৩০ এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হইলে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করিতে পারিবে।

### তথ্য সংরক্ষণ

৩২। প্রত্যেক লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট গ্রহীতা লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট এর বিপরীতে বন্যপ্রাণী লালন-পালন, বাণিজ্যিক উৎপাদন, বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি এবং রক্ষিত উদ্ভিদের বাণিজ্যিক চাষ, আহরণ, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নির্ধারিত ফরম অথবা রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিবে এবং উক্ত ফরম বা রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিদর্শনের সময় চাহিবামাত্র প্রদর্শন করিবে।

### আমদানি-রপ্তানি

৩৩। (১) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান-  (ক) লাইসেন্স ছাড়া, ক্ষেত্রমত, আগমন ও বহির্গমন শুল্ক বন্দর ব্যতীত অন্য কোনো পথে;  (খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট হইতে সাইটিস (CITES) সার্টিফিকেট, পারমিট, অনাপত্তি পত্র (No Objection Certificate) এবং সাইটিস বহির্ভূত প্রজাতির জন্য অনাপত্তি পত্র ব্যতীত; কোনো বন্যপ্রাণী বা উহার অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি বা বিদেশি প্রাণী অথবা কোনো রক্ষিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য বাংলাদেশে আমদানি বা বাংলাদেশ হইতে রপ্তানি করিতে পারিবে না।  (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এ উল্লিখিত আমদানি বা রপ্তানির জন্য নির্ধারিত বন্যপ্রাণী বা ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি বা বিদেশি প্রাণী অথবা কোনো রক্ষিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য আগমন বা বহির্গমন শুল্ক বন্দর হইতে ছাড়াইতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট প্রদর্শন করিতে হইবে এবং প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক নমুনা বা প্রজাতি শনাক্ত করিতে হইবে।

### বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র

৩৪। বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা সেবা, খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্ত উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে এবং উদ্ধার কেন্দ্র হইতে বন্যপ্রাণী প্রকৃতিতে অবমুক্ত করিবার বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎস দেশে ফেরত পাঠাইবার নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন

৩৫। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, প্রটোকল, চুক্তি ইত্যাদির সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করিবার জন্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমান বন্দর, স্থল বন্দর বা সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য বন অধিদপ্তরের অধীনে এই অধ্যাদেশে উল্লিখিত কর্মকর্তা, শুল্ক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সমন্বয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন করিতে পারিবে।  (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী, সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিবে।

### জব্দকরণ

৩৬। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন কর্মকর্তা, সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহে এমন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদমর্যাদার নিম্নে নহে এমন কোনো কাস্টমস কর্মকর্তা, পেটি অফিসার পদমর্যাদার নিম্নে নহে এমন কোনো কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা বা হাবিলদার পদমর্যাদার নিম্নে নহে এমন কোনো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্মকর্তা এই অধ্যাদেশের অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত দ্রব্য বা সামগ্রী জব্দ করিতে পারিবেন, যথা:-  (ক) লাইসেন্স এবং পজেশন সার্টিফিকেট ব্যতীত শিকার করা, দখলে রাখা বা ধৃত বন্যপ্রাণী বা উহাদের আবদ্ধ অবস্থায় রাখিবার কারণে প্রজননের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী;  (খ) দুর্ঘটনার কারণে মারা গিয়াছে বা মৃতপ্রায় অবস্থায় রহিয়াছে এইরূপ বন্যপ্রাণী;  (গ) এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত অথবা লাইসেন্স এবং পজেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয় নাই এইরূপ কোনো বন্যপ্রাণী বা উহার কোনো অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য;  (ঘ) অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, “ [Evidence Act, 1872](/laws/act-24 "Evidence Act, 1872") ”-এ সংজ্ঞায়িত “Digital record” or “electronic record” বা অন্য কোনো বস্তু, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি;  (ঙ) ধারা ৩৩ অনুযায়ী আমদানি বা রপ্তানি করা হয় নাই এমন কোনো বন্যপ্রাণী বা উহার অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য:  তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রথাগত ঐতিহ্য বা দৈনন্দিন জীবন ধারণের অংশ হিসাবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের পূর্বে সংগৃহীত ও ব্যবহৃত বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা স্মৃতি চিহ্ন এর ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।  (২) উপ-ধারা (১) এ জব্দকৃত সামগ্রী সন্দেহভাজন ধৃত ব্যক্তিসহ নিকটবর্তী ফরেস্ট অফিসে হস্তান্তর করিতে হইবে, তবে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক জব্দকৃত দ্রব্য বা সামগ্রী নিকটতম ফরেস্ট অফিসে আবশ্যিকভাবে হস্তান্তর করিতে হইলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তর করিবার প্রয়োজন নাই, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে নিকটস্হ ফরেস্ট অফিসকে অবহিত করিতে হইবে।  (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত সকল দ্রব্য বা সামগ্রী সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে।  (৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত দ্রব্য বা সামগ্রী দ্রুত পচনশীল হইলে এই অধ্যাদেশের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহা ধ্বংস বা অপসারণ করিতে পারিবেন।

### পরোয়ানা ব্যতীত গ্রেফতারের ক্ষমতা

৩৭। (১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আমলযোগ্য অপরাধের সহিত কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন বলিয়া সন্দেহের যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান থাকিলে ধারা ৩৬ এ বর্ণিত যে কোনো কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ বা পরোয়ানা ব্যতিরেকে এইরূপ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন।  (২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় বিলম্ব ব্যতিরেকে উক্ত মামলার এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লইয়া যাইবেন বা প্রেরণ করিবেন।

### গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে মুচলেকায় মুক্তি প্রদানের ক্ষমতা

৩৮। সহকারী বন সংরক্ষক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোনো কর্মকর্তা, যিনি নিজে অথবা যাহার অধস্তন বা সহযোগী কোনো কর্মকর্তা ধারা ৩৭ এর অধীন কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিয়াছেন, তিনি, এইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক মামলাটি বিচারের এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি এবং যখন প্রয়োজন হয় হাজির হইবার শর্তে মুচলেকা সম্পাদন করিলে, এইরূপ ব্যক্তিকে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন:  তবে শর্ত থাকে যে, যেই ক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি এই অধ্যাদেশের অধীন জামিন অযোগ্য কোনো অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ হয়, সেই ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।

### অপরাধ সংঘটনে বাধা প্রদানের ক্ষমতা

৩৯। এই অধ্যাদেশের অধীন বন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা এবং কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, কাস্টমস কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা বা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্মকর্তা এই অধ্যাদেশের যে কোনো অপরাধ সংঘটনে বাধা প্রদান করিবেন এবং বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে হস্তক্ষেপ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

### প্রবেশ, ইত্যাদির ক্ষমতা

৪০। (১) এই অধ্যাদেশ বা বিধির বিধানাবলির যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করিতে এবং এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগের তদন্ত করিতে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে তল্লাশি, আটক বা নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কোনো স্থানে প্রবেশ বা পরিদর্শন করিতে পারিবেন।  (২) এই ধারার অধীন তল্লাশি, আটক বা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Code of Criminal Procedure, 1898") (Act No. V of 1898) প্রযোজ্য হইবে।

### তফসিল ১ এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী শিকার, ইত্যাদি

৪১। (১) কোনো ব্যক্তি তফসিল ১(ক) এ উল্লিখিত বাঘ বা হাতি শিকার করিতে পারিবে না।  (২) কোনো ব্যক্তি ধারা ২৬ এর অধীন পারমিট গ্রহণ না করিয়া তফসিল ১(ক) এ উল্লিখিত কোনো বাঘ বা হাতির ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করিতে বা দখলে রাখিতে বা ক্রয় বা বিক্রয় বা পরিবহন করিতে পারিবে না।  (৩) কোনো ব্যক্তি তফসিল ১(খ) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী শিকার করিতে পারিবে না।  (৪) কোনো ব্যক্তি তফসিল ১(গ) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী শিকার করিতে পারিবে না।  (৫) কোনো ব্যক্তি ধারা ২৬ এর অধীন পারমিট গ্রহণ না করিয়া তফসিল ১(খ) এবং তফসিল ১(গ) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস বা দেহের অংশ সংগ্রহ করিতে বা দখলে রাখিতে বা ক্রয় বা বিক্রয় বা পরিবহন করিতে পারিবে না।

### তফসিল ২ এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী শিকার, ইত্যাদি

৪২। (১) কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স বা পারমিট ব্যতীত তফসিল ২ এ উল্লিখিত কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করিতে পারিবে না।  (২) কোনো ব্যক্তি ধারা ২৬ এর অধীন পারমিট গ্রহণ না করিয়া তফসিল ২ এ উল্লিখিত কোনো বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করিতে বা দখলে রাখিতে বা ক্রয় বা বিক্রয় বা পরিবহন করিতে পারিবে না।

### মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের

৪৩। এই অধ্যাদেশের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা এই অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘন করিয়া মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করিতে পারিবে না।

### জরিমানা বা দণ্ড

৪৪। (১) যদি কোনো ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত ছকের কলাম (১) এ উল্লিখিত ধারা সমূহের বিধানাবলি লঙ্ঘন বা উহাতে উল্লিখিত নির্দেশ অমান্য করেন, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের জন্য তাহার বিরুদ্ধে কলাম (৩) এ বর্ণিত দণ্ড বা অর্থদণ্ড আরোপণীয় হইবে:         ধারা          অপরাধের বর্ণনা          আরোপণীয় দণ্ড           (১)        (২)        (৩)           ১০, ২৮ ও ৩৩         কোনো ব্যক্তি যদি ধারা ১০, ২৮ ও ৩৩ এর বিধান লঙ্ঘন করেন        সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ১৭, ২২         কোনো ব্যক্তি ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ, কুঞ্জবন, সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এবং বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা সম্পর্কিত বাধা নিষেধ  লঙ্ঘন করেন        সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ১৯         কোনো ব্যক্তি অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান সম্পর্কিত বাধা নিষেধ  লঙ্ঘন করেন        সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৪ (চার) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ২৭         কোনো ব্যক্তি-      (ক) ধারা ২৭ এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত এবং প্রদত্ত নিবন্ধন চিহ্ন নকল, বিনিময় অথবা অন্য কোনো ভাবে হস্তক্ষেপ বা পরিবর্তন করেন        (খ) লাইসেন্স, পজেশন সার্টিফিকেট বা পারমিট ব্যতীত কোনো বন্যপ্রাণী, বন্যপ্রাণীর কোনো অংশ, মাংস, ট্রফি অথবা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য বা বনজদ্রব্য বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ অথবা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্যাদি দখলে রাখা বা ক্রয় বা বিক্রয় করেন            সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ২৯, ৩২         কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট এর শর্ত ভঙ্গ করিলে এবং তথ্য সংরক্ষণ না করিলে        সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।             ৪১(১)         কোনো ব্যক্তি তফসিল ১(ক) এ উল্লিখিত বাঘ বা হাতি শিকার করেন                সর্বনিম্ন ২ (দুই) বৎসর এবং সর্বোচ্চ ৭ (সাত) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ (এক) লক্ষ এবং সর্বোচ্চ ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ১২ (বারো) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ৪১(২)         কোনো ব্যক্তি ধারা ২৬ এর অধীন পারমিট গ্রহণ না করিয়া তফসিল ১(ক) এ উল্লিখিত    কোনো বাঘ বা হাতির ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে বা দখলে রাখিলে বা ক্রয় বা বিক্রয় বা পরিবহন    করিলে              সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ৪১(৩)         কোনো ব্যক্তি    তফসিল ১(খ) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী শিকার    করিলে        সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ৪১(৪)         কোনো ব্যক্তি তফসিল ১(গ) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী শিকার করিলে        সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড    অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৪ (চার) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ৪১(৫)         কোনো ব্যক্তি    ধারা ২৬ এর অধীন পারমিট গ্রহণ না করিয়া    তফসিল ১(খ) এবং তফসিল ১(গ) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস বা দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে বা দখলে রাখিলে বা ক্রয় বা বিক্রয় করিলে          সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড    অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ৪২(১)         কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স বা পারমিট ব্যতিত তফসিল ২ এ উল্লিখিত কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করিলে              সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।             ৪২(২)         কোনো ব্যক্তি পারমিট    গ্রহণ না করিয়া    তফসিল ২ এ উল্লিখিত কোনো বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করেন বা দখলে রাখেন বা ক্রয় বা বিক্রয় বা পরিবহন করেন            সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।           ৪৩         মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের        সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।            (২) এই অধ্যাদেশের যে সকল ধারা ভঙ্গের জন্য দণ্ডের কোনো বিধান নাই, কোনো ব্যক্তি সেই সকল ধারা ভঙ্গ করিলে সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

### অপরাধ সংঘটনের সহায়তা, প্ররোচনা, ইত্যাদির দণ্ড

৪৫। কোনো ব্যক্তি এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করিলে বা উক্ত অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা প্রদান করিলে এবং উক্ত সহায়তা বা প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হইলে, উক্ত সহায়তাকারী বা প্ররোচনাকারী তাহার সহায়তা বা প্ররোচনা দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

### অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিন-যোগ্যতা ও আপসযোগ্যতা

৪৬। (১) ধারা ১৯, ৪১(১), ৪১(২) ও ৪১(৩) এর অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য হইবে এবং ধারা ৪১(৪) ও ৪১(৫) এর অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন যোগ্য হইবে।  (২) অন্যান্য ধারার অধীন সংঘটিত অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন এর পদমর্যাদার নিম্ন নহেন এইরূপ কর্মকর্তা দ্বারা জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় সাপেক্ষে আপসযোগ্য হইবে:  তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে বাজেয়াপ্তযোগ্য কোনো সম্পত্তি জব্দ করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে এইরূপ সম্পত্তির মূল্যানূমান করিয়া উহা বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন এর পদমর্যাদার নিম্ন নহেন এইরূপ কর্মকর্তা দ্বারা যাচাই করিয়া উহার অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে জব্দকৃত যানবাহন বা যন্ত্রপাতি অবমুক্ত করা যাইবে এবং এইরূপ ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই বিষয়ে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

### মামলা দায়ের, অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার

৪৭। (১) ধারা ৪৬ এর বিধান সাপেক্ষে, এই অধ্যাদেশের অধীন প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা অথবা ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ব্যতিরেকে কোনো আদালত এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।  (২) [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Code of Criminal Procedure, 1898") (Act No. V of 1898) বা অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে:  তবে শর্ত থাকে যে, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ক্ষেত্রমত, [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Code of Criminal Procedure, 1898") এর section 12 এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট বা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ বিচার্য হইবে।  (৩) উপ-ধারা (২) এবং [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Code of Criminal Procedure, 1898") এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ১৯, ৪১(১), ৪১(২) ও ৪১(৩) এ উল্লিখিত অপরাধের বিচার Courts of Sessions কর্তৃক বিচার্য হইবে।  (৪) [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Code of Criminal Procedure, 1898") এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই অধ্যাদেশের অনুমোদিত যে কোনো অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।  (৫) প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোনো কর্মকর্তা এই অধ্যাদেশের অধীন দায়েরকৃত মামলায় সরকারের পক্ষে উপস্হিত হইতে, আরজি পেশ করিতে ও পরিচালনা করিতে পারিবে।

### Code of Criminal Procedure এর প্রয়োগ

৪৮। এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Code of Criminal Procedure, 1898") প্রযোজ্য হইবে।

### কোম্পানি, ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

৪৯। কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানির এমন প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।  ব্যাখ্যা।- এই ধারায়-  (ক) “কোম্পানি” অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এ সংজ্ঞায়িত কোনো কোম্পানি এবং কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, সংঘ এবং সংগঠনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং  (খ) “পরিচালক” অর্থ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উহার কোনো অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত।

### বাৎসরিক প্রতিবেদন।

৫০। বন অধিদপ্তর এই অধ্যাদেশের অধীন সম্পাদিত কার্যাবলি এবং বন্যপ্রাণীর অবস্থা বিষয়ে বাৎসরিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং তাহা সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে মুদ্রিত আকারে বা অনলাইনে প্রকাশ করিবে।

### তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা

৫১। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৫২। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### অস্পষ্টতা দূরীকরণ

৫৩। এই অধ্যাদেশের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের বিধানবলির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে উক্তরূপ অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দূর করিতে পারিবে।

### হেফাজত সংক্রান্ত বিধান

৫৪। (১) [বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২](/laws/act-1102 "বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২") (২০১২ সনের ৩০ নং আইন) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।  (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আইনের অধীন-  (ক) কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্হা বা সূচিত কোনো কার্যধারা, এই অধ্যাদেশের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;  (খ) দায়েরকৃত কোনো মামলা, গৃহীত কোনো ব্যবস্হা বা সূচিত কোনো কার্যধারা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে এইরূপভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উহা এই অধ্যাদেশের অধীন দায়েরকৃত বা গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৫৫। (১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।  (২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1602.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
