> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬

> বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ

**Date of Publication:** \[ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ]

## Preamble

যেহেতু বাংলাদেশে ভবন নির্মাণ ক্ষেত্রে নিরাপদ ভবন নির্মাণ ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ-বান্ধব গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ, জন-বান্ধব গণপরিসর (Public Place) নির্মাণ, ঐতিহাসিক ভবন ও এলাকা সংরক্ষণ এবং ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনকল্পে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু ের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-

## Sections/Articles

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই অধ্যাদেশ [বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1603 "বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬") নামে অভিহিত হইবে।  (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-  (ক) “উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ” অর্থ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ;  (খ) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ;  (গ) “কোড” অর্থ Bangladesh National Building Code, (BNBC) 2020;  (ঘ) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান;  (ঙ) “পরিচালনা বোর্ড” অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড;  (চ) “পেশাজীবী” অর্থ ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট স্থপতি, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ, ডিপ্লোমা স্থপতি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী;  (ছ) “প্রবিধান” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান;  (জ) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;  (ঝ) “বিল্ডিং অফিসিয়াল” অর্থ ভবনের নকশা অনুমোদন, নির্মাণ বাস্তবায়ন ও অকুপেন্সি সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি;  (ঞ) “বিসি কমিটি” অর্থ ধারা ১১ এর অধীন গঠিত বিল্ডিং কন্সট্রাকশন কমিটি; এবং  (ট) “সদস্য” অর্থ পরিচালনা বোর্ডের সদস্য।

### অধ্যাদেশের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা কোডে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

### কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা

৪। (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।  (২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশ বা তদ্‌ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর বা অস্থাবর অথবা উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

### কর্তৃপক্ষের কার্যালয়

৫। (১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।  (২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে ইহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

### কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি

৬। এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-  (ক) দক্ষ ও কার্যকর প্রতিপালন (compliance) পদ্ধতির ভিত্তিতে ভবন নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক কাঠামো (Regulatory Framework) প্রতিষ্ঠাকরণ;  (খ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মাণ পরিকল্পনা, ভবনের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পেশাজীবীগণকে উপযুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, লাইসেন্স প্রদানপূর্বক উহা তালিকাভুক্তকরণ এবং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলকরণ;  (গ) আধুনিক নির্মাণ সামগ্রী, নির্মাণ কৌশল, প্রযুক্তি ও গবেষণার আলোকে কোড হালনাগাদকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোড প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান;  (ঘ) ভবন নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে প্রযুক্তি ভিত্তিক একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির (Online Platform) প্রবর্তন;  (ঙ) কোড ও নিরাপত্তার বিধিসমূহ লঙ্ঘনের জন্য নির্মাণকারী বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থাসমূহকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;  (চ) ভবন নির্মাণ বিষয়ক প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, এতৎসংক্রান্ত সরকারি বিভিন্ন বিধি ও নীতিমালার মধ্যে সমন্বয় সাধন করিয়া নির্মাণ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান;  (ছ) উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থাসমূহের বিল্ডিং অফিসিয়ালের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিক্ষেত্র নির্ধারণ;  (জ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথ বিবেচিত হইলে যেকোনো প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন; এবং  (ঝ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, অর্পিত অন্য যেকোনো দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন।

### পরিচালনা বোর্ড গঠন, ইত্যাদি

৭। (১) কর্তৃপক্ষের পরিচালনা ও প্রশাসন ইহার পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।  (২) পরিচালনা বোর্ড ৫ (পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং তাহাদের মধ্য হইতে একজনকে সরকার চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিবে।  (৩) সরকার নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ প্রদান করিবে, যথা:-  (ক) ভবন সম্পর্কিত নকশা, নির্মাণ, শিক্ষকতা বা গবেষণা পেশায় ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পুরকৌশলী;  (খ) ভবন সম্পর্কিত নকশা, নির্মাণ, শিক্ষকতা বা গবেষণা পেশায় ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন স্থপতি;  (গ) ভবন ও নগর সম্পর্কিত পরিকল্পনা, শিক্ষকতা বা গবেষণা পেশায় ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পরিকল্পনাবিদ;  (ঘ) ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বিচারক বা আইনজ্ঞ যাহার হাইকোর্ট ডিভিশনে বিচারক হিসাবে নিয়োগের যোগ্যতা রহিয়াছে; এবং  (ঙ) ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা।  (৪) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকরির অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।  (৫) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।  (৬) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃপক্ষেরও চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসাবে গণ্য হইবেন।

### চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের মেয়াদ ও নিয়োগ যোগ্যতা, অপসারণ, ইত্যাদি

৮। (১) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ তাহাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:  তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি ২ (দুই) মেয়াদের অধিক চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না:  আরও শর্ত থাকে যে, কোনো সদস্যের বয়স ৬৭ (সাতষট্টি) বৎসর পূর্ণ হইলে তিনি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিযুক্ত হইবার বা উক্ত পদে বহাল থাকিবার যোগ্য হইবেন না।  (২) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন না অথবা উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না, যদি তিনি-  (ক) বাংলাদেশের নাগরিক না হন;  (খ) শারীরিক বা মানসিক অসামর্থের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন বা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানান;  (গ) কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দেউলিয়াত্বের দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করেন অথবা অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত হন;  (ঘ) কোনো ব্যাংক অথবা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক ঋণ খেলাপি হিসাবে ঘোষিত হন এবং দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;  (ঙ) নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতিজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন;  (চ) কর্তৃপক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো পেশা বা ব্যবসায়ের সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন বা হন;  (ছ) এইরূপভাবে নিজেকে পরিচালনা করেন, বা নিজের পদকে অপব্যবহার করেন যাহা এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বা জনস্বার্থকে ব্যাহত করে; অথবা  (জ) উপযুক্ত কারণ ব্যতীত ৩ (তিন) মাস দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন।  (৩) সরকার, কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিয়া, চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্যকে যেকোনো সময় অপসারণ করিতে পারিবে।  (৪) চেয়ারম্যান বা সদস্যগণের অপসারণ পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।  (৫) এই ধারার অধীন অপসারিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষ বা পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে অথবা সরকার বা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের অন্য কোনো পদে নিয়োজিত বা পুনঃনিয়োজিত হইতে পারিবেন না।

### পরিচালনা বোর্ডের সভা

৯। (১) প্রতি মাসে পরিচালনা বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।  (২) সভার কার্যপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ

১০। (১) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো বা, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।  (২) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### বিল্ডিং কন্সট্রাকশন (বিসি) কমিটি গঠন

১১। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকা ব্যতীত দেশের অন্যান্য সকল এলাকায় ভবনের নকশা অনুমোদন ও নিরাপদ নির্মাণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিল্ডিং কন্সট্রাকশন (বিসি) কমিটি গঠন এবং উহার কার্যপরিধি নির্ধারণ করিবে।

### কর্তৃপক্ষের রেগুলেটরি ক্ষমতা প্রয়োগ

১২। (১) ভবনের নকশা অনুমোদন ও কোডের প্রতিপালনের সহিত সম্পৃক্ত সকল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যক্রমের উপর কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।  (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ উক্ত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থাকে নোটিশ প্রদানপূর্বক নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য, দলিলাদি ও নথিপত্র যাচনা করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ চাহিত তথ্য, দলিলাদি ও নথিপত্র প্রদান করিতে উক্ত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থাসমূহ বাধ্য থাকিবে।  (৩) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্য, দলিলাদি ও নথিপত্র পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করিবে।

### তহবিল

১৩। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-  (ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি বা অনুদান;  (খ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো দেশি বা বিদেশি সংস্থা বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;  (গ) স্থানীয় কোনো কর্তৃপক্ষ হইতে প্রাপ্ত অনুদান;  (ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত ঋণ;  (ঙ) কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয়;  (চ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বা আদায়কৃত ফি, চার্জ, ইত্যাদি; এবং  (ছ) অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।  (২) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি ব্যতীত কর্তৃপক্ষের তহবিলে অন্যান্য অর্থ কর্তৃপক্ষের নামে তফসিলি ব্যাংকে জমা প্রদান করা হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করা হইবে।  ব্যাখ্যা।- “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ [Bangladesh Bank Order, 1972](/laws/act-415 "Bangladesh Bank Order, 1972 ") (President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2 এর clause (j)-তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank।  (৩) কর্তৃপক্ষের সকল ব্যয় উক্ত তহবিল হইতে নির্বাহ করা হইবে:  তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়মনীতি ও বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।  (৪) সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষের তহবিলে কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকিলে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা না থাকিলে উহা কর্তৃপক্ষের তহবিলে সংরক্ষণ করিতে পারিবে।  (৫) কর্তৃপক্ষ তহবিলের অর্থ বা উহার অংশ বিশেষ, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।  (৬) সরকার হইতে প্রাপ্ত অনুদান Personal Ledger Account (PLA) এ জমা হইবে।

### বার্ষিক বাজেট

১৪। কর্তৃপক্ষ কোনো অর্থ বৎসর শুরুর ১২০ (একশত বিশ) দিন পূর্বে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহারও উল্লেখ থাকিবে।

### হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা।

১৫। (১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ এবং হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করিবে।  (২) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।  (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও [Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973](/laws/act-442 "Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 ") (President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।  (৪) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক ব্যালেন্স শিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্তৃপক্ষের যেকোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।  (৫) এই ধারার অধীন কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কর্তৃক নিরীক্ষা করা হইলে কার্য সমাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কর্তৃপক্ষের নিকট নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে।  (৬) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।  (৭) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে [ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫](/laws/act-1169 "ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫") (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর বিধানাবলি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনুসরণ করিতে হইবে।

### প্রতিবেদন

১৬। (১) কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্ত হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে তদ্‌কর্তৃক উক্ত অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।  (২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যেকোনো সময় উহার কার্যক্রম বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, পরিসংখ্যান, হিসাব-নিকাশ এবং আনুষঙ্গিক কাগজপত্র আহ্বান করিতে পারিবে, এবং কর্তৃপক্ষ উক্ত তথ্য ও কাগজপত্র সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।  (৩) সরকার, যেকোনো সময়, কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অথবা যেকোনো প্রকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অনুষ্ঠানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

### ক্ষমতা অর্পণ

১৭। কর্তৃপক্ষ, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উহার যেকোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চেয়ারম্যান, সদস্য এবং কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।

### স্বার্থের বিরোধ।

১৮। (১) কোনো সভায় বোর্ডের চেয়ারম্যান, কোনো সদস্য, কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা কমিটির কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় থাকিলে, তিনি উক্ত বিষয়টি অনতিবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবেন এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উক্ত সভায় অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদান হইতে বিরত থাকিবেন।  (২) কোনো চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা কমিটির সদস্য উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার বিষয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে ব্যর্থ হইলে সরকারের অনুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৯। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

২০। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ এবং তদ্‌ধীন প্রণীত কোনো বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### ইংরেজিতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ

২১। (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।  (২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1603.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
