> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, ২০২৬

> হাওর ও জলাভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১০ এপ্রিল, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ১০ নং আইন

যেহেতু [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](/laws/act-957 "Act 957") ের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব; এবং

যেহেতু হাওর বাংলাদেশের একটি অনন্য প্রতিবেশ ব্যবস্থা; এবং

যেহেতু বাংলাদেশের সকল হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, ২০২৬](/laws/act-1639 "Act 1639") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।

(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,—

(১) “অধিদপ্তর” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর;

(২) “কান্দা” অর্থ হাওর বা জলাভূমি এলাকার মধ্যে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমি;

(৩) “জলাভূমি” অর্থ বাঁওড় ও বিল;

(৪) “জীববৈচিত্র্য” অর্থ [বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭](/laws/act-1203 "Act 1203") (২০১৭ সনের ০২ নং আইন) এর ধারা ২(১১) এ সংজ্ঞায়িত জীববৈচিত্র্য;

(৫) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল;

(৬) “নির্দেশিকা” অর্থ ধারা ২৫ এর অধীন প্রণীত নির্দেশিকা;

(৭) “পরিবেশ” অর্থ [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২(ঘ) এ সংজ্ঞায়িত পরিবেশ;

(৮) “পরিযায়ী প্রজাতি” অর্থ [বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২](/laws/act-1102 "Act 1102") (২০১২ সনের ৩০ নং আইন) এর ধারা ২(২২) এ সংজ্ঞায়িত পরিযায়ী প্রজাতি;

(৯) “পানিধারক স্তর” অর্থ [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "Act 1114") (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২(১৮) এ সংজ্ঞায়িত Aquifer বা পানিধারক স্তর;

(১০) “প্রতিবেশ ব্যবস্থা” অর্থ [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") এর ধারা ২(ছ) এ সংজ্ঞায়িত প্রতিবেশ ব্যবস্থা;

(১১) “বাঁওড়” অর্থ [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "Act 1114") এর ধারা ২(২২) এ সংজ্ঞায়িত বাঁওড়;

(১২) “বিধি” অর্থ ধারা ২৪ এর অধীন প্রণীত বিধি;

(১৩) “বিল” অর্থ [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "Act 1114") এর ধারা ২(২৪) এ সংজ্ঞায়িত বিল;

(১৪) “ব্যক্তি” অর্থ কোনো ব্যক্তি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, সমিতি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা সংবিধিবদ্ধ বা অন্য কোনো সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৫) “সংরক্ষণ” অর্থ পানি সম্পদের উপযোগিতা বৃদ্ধি, অপচয় ও ক্ষয় হ্রাসকরণ এবং সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৬) “সুরক্ষা” অর্থ হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা; এবং

(১৭) “হাওর” অর্থ দুইটি ভিন্ন নদীর মধ্যস্থলে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট কড়াই আকৃতির বৃহদাকার কোনো নিম্নভূমি।

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

### অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা

৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, [বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1604 "Act 1604") (২০২৬ সনের ১১ নং অধ্যাদেশ) এর ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত “বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর” এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত।

(২) অধিদপ্তর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত দপ্তর হইবে।

### প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি

৫। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থাকিবে ঢাকায় এবং অধিদপ্তর, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আঞ্চলিক বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

### মহাপরিচালক

৬। (১) অধিদপ্তরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন, যিনি উহার প্রধান নির্বাহী হইবেন।

(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

### অধিদপ্তরের কার্যাবলি

৭। (১) অধিদপ্তর, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, উহার অধিক্ষেত্রাধীন হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে এবং যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় লিখিত আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) অধিদপ্তর, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) হাওর ও জলাভূমির তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণ;

(খ) বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা, কৌশলপত্র এবং জলমহাল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও নীতিমালার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সহিত পরামর্শক্রমে হাওর ও জলাভূমির সীমানা চিহ্নিতকরণ ও মানচিত্র প্রস্তুতকরণ;

(গ) হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ জারি;

(ঘ) হাওর ও জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ;

(ঙ) হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ;

(চ) হাওর ও জলাভূমির পানি প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখা ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে টেকসই খনন এবং কান্দা সংরক্ষণ;

(ছ) হাওর ও জলাভূমি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে মতামত প্রদান;

(জ) হাওর ও জলাভূমির জীববৈচিত্র্যের বেইজলাইন নির্ণয়, ডাটাবেইজ প্রস্তুত ও সংরক্ষণ;

(ঝ) হাওর ও জলাভূমির পলি ব্যবস্থাপনা;

(ঞ) হাওর ও জলাভূমি এলাকায় পরিযায়ী প্রজাতির পাখিসহ বিভিন্ন প্রকার বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থলের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণের সহিত সমন্বয়সাধন;

(ট) হাওর ও জলাভূমির জলাবন (swamp forest) এবং কান্দার বন সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ;

(ঠ) হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের সহিত সম্পৃক্ত অন্যান্য সরকারি দপ্তর, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় সাধন করিয়া হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের নির্দেশিকা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ;

(ড) হাওরের কৃষি জমিতে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন;

(ঢ) হাওর ও জলাভূমির জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের হুমকি বলিয়া বিবেচিত কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ;

(ণ) হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও আদেশ প্রদান;

(ত) হাওর ও জলাভূমি এলাকায় জলবায়ু সহিষ্ণুতা ও অভিযোজন ক্ষমতা (climate resilience and adaptability) বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ; এবং

(থ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বা সরকার কর্তৃক অধিদপ্তরের উপর অর্পিত অন্য যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

ব্যাখ্যা।—উপ-ধারা (২) এর দফা (ঝ)-তে উল্লিখিত “পলি” বলিতে শিলা, মাটি বা জৈব কণিকামূলক পদার্থকে বুঝাইবে, যাহা প্রাকৃতিক, ভৌত, রাসায়নিক বা জৈব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং পানি, বায়ু, বরফ, মাধ্যাকর্ষণ বা জীবজগতের মাধ্যমে পরিবাহিত হইয়া হাওর বা জলাভূমিতে তলানি আকারে জমা হয়।

### হাওর ও জলাভূমির তালিকা প্রণয়ন, ইত্যাদি

৮। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জেলা প্রশাসক কর্তৃক সরবরাহকৃত তালিকার ভিত্তিতে, হাওর ও জলাভূমির তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে এবং, প্রয়োজনবোধে, সময় সময়, উক্ত তালিকা সংশোধন বা হালনাগাদ করিবে।

### মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন

৯। (১) অধিদপ্তর, সরকারের বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা, কৌশলপত্র, ইত্যাদির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ণের ক্ষেত্রে হাওর ও জলাভূমি নির্ভর জনগোষ্ঠী ও অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং উহা চূড়ান্তকরণের পূর্বে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, জনমত যাচাই করিতে হইবে।

### অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় ও সহায়তা গ্রহণ

১০। (১) এই আইনের অধীন কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, কোনো কর্তৃপক্ষ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করিবার জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ অনুরোধ করা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।

(২) অধিদপ্তর, এই আইনের অধীনে উহার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাসমূহের সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করিবে।

(৩) অধিদপ্তর, ধারা ৭ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদেশ বা নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয়তার নিরিখে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থার মতামত গ্রহণ করিবে।

### সুরক্ষা আদেশ জারি

১১। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারের নিকট যদি এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, মানবসৃষ্ট কারণে কোনো হাওর বা জলাভূমির জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র, অথবা কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হইয়াছে বা হইবার আশঙ্কা রহিয়াছে, তাহা হইলে, সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ধারা ১০ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা অন্যান্যদের মতামত গ্রহণপূর্বক, উক্ত হাওর বা জলাভূমি বা উহার কোনো অংশবিশেষ রক্ষার্থে, সুরক্ষা আদেশ জারি করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো সুরক্ষা আদেশ জারি করা হইলে উক্ত আদেশে, সংশ্লিষ্ট এলাকার ‘ভূমির তফসিল ও সীমানা’ উল্লেখপূর্বক, প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যাইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত সুরক্ষা আদেশে আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে।

### সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি ঘোষণা

১২। (১) সরকার, কোনো হাওর বা জলাভূমি সুরক্ষাকল্পে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ধারা ১০ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা অন্যান্যদের মতামত গ্রহণপূর্বক, উক্ত হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) সরকার, কোনো হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে ঘোষণার ক্ষেত্রে, সংরক্ষিত এলাকার সীমানা এবং সংরক্ষিত এলাকায় কোন্‌ কোন্‌ কাজ করা যাইবে এবং যাইবে না, সংশ্লিষ্ট ঘোষণার দ্বারা, তৎসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করিবে।

(৩) অধিদপ্তর, উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকার পানির প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর স্থাপনা, অবকাঠামো ও কার্যাদি চিহ্নিত করিয়া তাহা নিয়ন্ত্রণ, সংশোধন বা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৪) অধিদপ্তর, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় করিয়া, উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে।

(৫) পরিযায়ী প্রজাতির পাখিসহ বিরল প্রজাতির কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী রক্ষায় কোনো হাওর ও জলাভূমি এলাকাকে অভয়ারণ্য বা মৎস্য অভয়াশ্রম এলাকা ঘোষণা করিবার যৌক্তিকতা থাকিলে অধিদপ্তর, ক্ষেত্রমত, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর বা মৎস্য অধিদপ্তরকে তাহা লিখিতভাবে অবহিত করিবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর বা সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে, উক্ত এলাকাকে অভয়ারণ্য বা মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করিয়া সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অভয়ারণ্য বা মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণার ক্ষেত্রে [বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২](/laws/act-1102 "Act 1102") ; [Protection and Conservation of Fish Act, 1950](/laws/act-233 "Act 233") (Act No. XVIII of 1950) এবং [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর বা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীতব্য কোনো কার্যক্রম বারিত হইবে না।

(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন অভয়ারণ্য ও মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমত, [বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২](/laws/act-1102 "Act 1102") ; [Protection and Conservation of Fish Act, 1950](/laws/act-233 "Act 233") এবং [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") এ বর্ণিত বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

ব্যাখ্যা।—এই ধারায় উল্লিখিত—

(ক) “অভয়ারণ্য” বলিতে [বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২](/laws/act-1102 "Act 1102") এর ধারা ২(১) এ সংজ্ঞায়িত অভয়ারণ্যকে বুঝাইবে; এবং

(খ) “মৎস্য অভয়াশ্রম” বলিতে [Protection and Conservation of Fish Act, 1950](/laws/act-233 "Act 233") এর section 2(7) এ সংজ্ঞায়িত Fish Sanctuary-কে বুঝাইবে।

### হাওর ও জলাভূমি এলাকায় কতিপয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ

১৩। (১) হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা ও সংরক্ষণের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকিবে, যথা:-

(ক) হাওর ও জলাভূমি হইতে এমনভাবে পানি উত্তোলন, আহরণ বা ব্যবহার, যাহার ফলে পানিধারক স্তরের নিরাপদ সীমা ব্যাহত হয় বা জলজ প্রাণীর আবাসস্থল বা জলজ উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়;

(খ) হাওর ও জলাভূমি এবং কান্দার অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত খনন, পরিবর্তন বা রূপান্তর;

(গ) হাওর ও জলাভূমির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এইরূপ অবকাঠামো নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালনা;

(ঘ) হাওর ও জলাভূমির পানি, মাটি ও পরিবেশ দূষিত হয় এইরূপ কার্যক্রম;

(ঙ) হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের সহিত সম্পৃক্ত সরকারি দপ্তর, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ব্যতীত হাওর ও জলাভূমি এবং কান্দার মাটি, বালু, পাথর, বা যে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন বা আহরণ;

(চ) হাওর ও জলাভূমি এবং কান্দা এলাকায় পরিযায়ী প্রজাতির পাখি বা সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার বা আহরণ, হাওরের জলাবন বা কান্দার বন বিনষ্টকরণ অথবা পশু-পাখির আবাসস্থল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা;

(ছ) হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিষিদ্ধ জাল, বৈদ্যুতিক শক, বিষটোপ বা বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে মৎস্য আহরণ; এবং

(জ) মাছ অথবা জলজ প্রাকৃতিক সম্পদ এমনভাবে আহরণ, যাহার ফলে মাছ বা জলজ প্রাণীর প্রজনন বা উৎপাদন বিঘ্নিত হয়।

(২) ধারা ১২ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকায় উক্ত ধারার উপ-ধারা (২) এর অধীন আরোপিত বিধিনিষেধ এই ধারার অধীন নিষিদ্ধ কার্যক্রম হিসাবে গণ্য হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত নিষিদ্ধ কার্যক্রম এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা তফসিল অনুসারে দণ্ডনীয় হইবে।

### উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ, ইত্যাদি

১৪। (১) হাওর বা জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের নিকট হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, মতামত গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে অধিদপ্তরের মতামত যাচনা করা হইলে, অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনে সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক মতামত প্রদান করিবে।

(৩) অধিদপ্তর কর্তৃক উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত মতামতে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকিবে, যথা:—

(ক) উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হইবে কিনা;

(খ) পানির স্বাভাবিক প্রবাহে কোনো প্রকার বাধার সৃষ্টি হইবে কিনা;

(গ) জনসাধারণের হাওর বা জলাভূমি কেন্দ্রিক জীবিকা অর্জনে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়িবে কিনা; এবং

(ঘ) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থাপিত কোনো অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হইবে কিনা।

(৪) কোনো সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তি কর্তৃক হাওর বা জলাভূমির সীমানার মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের নিকট হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, মতামত গ্রহণ করিতে হইবে এবং মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে অধিদপ্তর উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান অনুসরণ করিবে।

(৫) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিদ্যমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সংস্কার, মেরামত ও পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) হইতে (৪) এর কোনো বিধান প্রযোজ্য হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "Act 1114") এবং [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") অনুসরণপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুমোদন এবং ছাড়পত্র গ্রহণ করিতে হইবে।

### হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ

১৫। (১) মহাপরিচালকের নিকট যদি এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো কাজ করা বা না করা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধন করিতেছে বা করিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক উহা পরিশোধ এবং যথাযথ ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা উভয় প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ অনুসারে নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ প্রদান না করিলে, মহাপরিচালক যথাযথ এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা বা উক্ত নির্দেশ পালনে ব্যর্থতার জন্য ফৌজদারি মামলা অথবা উভয় প্রকার মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, কারিগরি কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণ করিবেন।

### কমিটি গঠন

১৬। সরকার ও অধিদপ্তর, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

### ক্ষমতা অর্পণ

১৭। (১) সরকার, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন উহার যে কোনো ক্ষমতা লিখিতভাবে মহাপরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।

(২) মহাপরিচালক, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন তাহার যে কোনো ক্ষমতা লিখিতভাবে উপযুক্ত কোনো কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

### অধিদপ্তরের কর্মচারী

১৮। (১) সরকার, অধিদপ্তরের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) অধিদপ্তরের কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি

১৯। (১) এই আইনে বর্ণিত যে কোনো অপরাধের তদন্ত ও বিচারসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Act 75") (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপোষযোগ্যতা তফসিল অনুসারে নির্ধারিত হইবে।

### অপরাধ ও দণ্ড

২০। (১) এই আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তফসিলে বর্ণিত দণ্ড আরোপণীয় হইবে।

(২) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা কতিপয় অপরাধ চিহ্নিত এবং উক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য দণ্ড নির্ধারণ করা যাইবে, তবে এইরূপ দণ্ড ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের অতিরিক্ত হইবে না।

### অপরাধের সহায়তাকারী, ইত্যাদি

২১। এই আইনে বর্ণিত কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা বা প্ররোচণা প্রদান করা বা হুকুম প্রদান করা বা প্রলুব্ধ করা হইলে, সংশ্লিষ্ট সহায়তাকারী বা প্ররোচণা প্রদানকারী বা হুকুম প্রদানকারী বা প্রলুব্ধকারী মূল অপরাধ সংঘটনকারীর ন্যায় একই অপরাধে অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন, যাহা মূল অপরাধ সংঘটনকারীর ন্যায় একইভাবে দণ্ডনীয় হইবে।

### অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ

২২। মহাপরিচালক বা এতদুদ্দেশ্যে তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।

### মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ

২৩। এই আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ, [মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯](/laws/act-1025 "Act 1025") (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২৪। সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষমতা

২৫ । অধিদপ্তর , এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে , হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ , প্রতিবেশ , জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত , সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে ।

### সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ

২৬। এই আইনের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্যের ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

২৭। এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে [বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1604 "Act 1604") (২০২৬ সনের ১১ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত অধ্যাদেশের অধীন বা দ্বারা-

(ক) কৃত কোনো কার্য বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা প্রদত্ত কোনো আদেশ এই অধ্যাদেশের অধীন কৃত বা গৃহীত বা প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং

(খ) কোনো কার্যধারা অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন নিষ্পন্ন করিতে হইবে।

(৩) উক্ত অধ্যাদেশ রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর এর-

(ক) সকল সম্পদ, অধিকার ও দাবি, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও জামানত, প্রকল্প, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ড, দলিল, ভূমি ও দালান, যদি থাকে, যথাক্রমে, অধিদপ্তরের সম্পদ, অধিকার ও দাবি, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও জামানত, প্রকল্প, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ড, দলিল, ভূমি ও দালান হিসাবে গণ্য হইবে;

(খ) সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি, যদি থাকে, যথাক্রমে, অধিদপ্তরের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(গ) বিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা, যদি থাকে, অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) কর্মচারীগণ অধিদপ্তরের কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যে শর্তে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে অধিদপ্তরের চাকরিতে নিয়োজিত এবং, ক্ষেত্রমত, বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, সাবেক বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মচারী উক্ত অধ্যাদেশ প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে ঘোষিত অধিদপ্তরের চাকরিতে নিয়োজিত থাকিলে, কোনো চুক্তি বা চাকরির শর্তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তিনি অধিদপ্তরের নিয়মিত বা আত্মীকৃত কর্মচারী হিসাবে গণ্য হইবেন; এবং

(ঙ) কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য “বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২২” রহিত, বা এই আইনের বিধান অনুযায়ী নিয়োগ বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, এমনভাবে বলবৎ থাকিবে যেন, উহা এই আইনের অধীন প্রণীত হইয়াছে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1639.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
