> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬

> জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১০ এপ্রিল, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ২৯ নং আইন

যেহেতু বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যাহা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসাবে স্বীকৃতি পায়;

যেহেতু উক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকান্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হইয়া উঠে;

যেহেতু উপরি-উক্ত প্রতিরোধকর্মে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করিবার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](/laws/act-957 "Act 957") ের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন;

যেহেতু এতদুদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল:-

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬](/laws/act-1658 "Act 1658") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা ১১ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই হইতে বলবৎ হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে—

(ক) “গণঅভ্যুত্থানকারী” অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি;

(খ) “কমিশন” অর্থ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন;

(গ) “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান;

(ঘ) “বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার” অর্থ রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সঙ্কীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড;

(ঙ) “রাজনৈতিক প্রতিরোধ” অর্থ ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যাবলি।

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

### মামলা প্রত্যাহার ও নূতন মামলা দায়ের বারিত

৪। (১) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসরণপূর্বক প্রত্যাহার করা হইবে এবং ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, এতদ্‌সম্পর্কিত নূতন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত বারিত হইবে।

(২) যেক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক এই মর্মে প্রত্যয়ন করা হয় যে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করিবার কারণে দায়ের করা হইয়াছে, তাহা হইলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত কোনো আইনজীবী উক্ত প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করিবেন; উক্ত আবেদন দাখিলের পর আদালত উক্ত মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিবে না, উহা প্রত্যাহারকৃত বলিয়া গণ্য হইবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা ক্ষেত্রমত, খালাসপ্রাপ্ত হইবেন।

### কতিপয় কার্য সংক্রান্ত অভিযোগ ও তদন্ত

৫। (১) ধারা ৪ এর বিধান সত্ত্বেও, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকিলে তাহা কমিশনে দাখিল করা যাইবে এবং কমিশন উক্ত অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, [জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯](/laws/act-1023 "Act 1023") (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন) এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, সেইক্ষেত্রে কমিশন উক্ত প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করিবে না; তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে গ্রহণ করিবার প্রয়োজন হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করিয়া কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিবেন।

ব্যাখ্যা।—এই উপ-ধারায় “প্রতিষ্ঠান” বা “বাহিনী” অর্থ বাংলাদেশের কোনো আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনী।

(২) যেক্ষেত্রে কমিশনের তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযোগে উল্লিখিত কার্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, সেইক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করিবে; অতঃপর আদালত উক্ত প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন সমতূল্য গণ্যপূর্বক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করিবে।

(৩) যেক্ষেত্রে কমিশনের তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযোগে উল্লিখিত কার্য রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেইক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে সরকারকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে; এবং উক্ত ক্ষেত্রে কোনো আদালতে সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পর্কিত কোনো মামলা দায়ের করা যাইবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৬। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

৭। (১) [জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1611 "Act 1611") (২০২৬ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত অধ্যাদেশর অধীন কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1658.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
