> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬

> সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও টেকসই উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১০ এপ্রিল, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ৩১ নং আইন

যেহেতু বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ীয়া তুলিবার উদ্দেশ্যে টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু ও দুর্যোগ সংবেদনশীলতা, সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি ও জলাশয় সুরক্ষাপূর্বক একটি সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:—

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬](/laws/act-1660 "Act 1660") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,—

(ক) “অঞ্চল” অর্থ সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রশাসনিক বিভাগ অথবা এইরূপ কোনো ভৌগোলিক এলাকাকে বুঝাইবে, যাহার বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে সমজাতীয়তা, সমরূপতা বা স্থানিক মিথস্ক্রিয়া (Spatial Interaction) বিদ্যমান এবং যাহার একটি সামষ্টিক ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে;

(খ) “আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি” অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত স্থানিক পরিকল্পনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি;

(গ) “আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা (Regional Spatial Plan)” অর্থ জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামোর অধীন কোনো নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগ অথবা কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অঞ্চলের (যেমন- হাওর, উপকূলীয় বা পার্বত্য অঞ্চল) জন্য প্রণীত একটি মধ্য-মেয়াদি (Mid-Term) কৌশলগত পরিকল্পনা, যাহা জাতীয় পরিকল্পনার লক্ষ্যসমূহকে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপনপূর্বক সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্বতন্ত্র সম্ভাবনা ও ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি সমন্বিত উন্নয়ন রূপরেখা প্রদান করে;

(ঘ) “উন্নয়ন” অর্থ পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে জনগণের সার্বিক কার্যকলাপের ভিত্তিতে ভূমি ও অবকাঠামোর ন্যায়সংগত ও টেকসই ব্যবহারের স্থানিক ইতিবাচক পরিবর্তন;

(ঙ) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, সরকার কর্তৃক আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা গঠিত কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা; এবং পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠান;

(চ) “জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা (National Spatial Plan)” অর্থ দেশের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকার জন্য প্রণীত একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত স্থানিক পরিকল্পনা দলিল, যাহা জাতীয় আর্থ-সামাজিক লক্ষ্যমাত্রা ও সেক্টরাল নীতিমালার স্থানিক প্রতিফলন ঘটায় এবং ভূমি ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনের বিষয়ে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে;

(ছ) “জেলা কমিটি” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত জেলা স্থানিক পরিকল্পনা বিষয়ক কমিটি;

(জ) “পরিষদ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন গঠিত জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা পরিষদ;

(ঝ) “বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা (Special Spatial Plan)” অর্থ বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা এলাকার জন্য প্রণীত স্থানিক পরিকল্পনা;

(ঞ) “বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা এলাকা” অর্থ পরিষদ কর্তৃক, সময় সময়, বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা এলাকা হিসাবে ঘোষিত কোনো এলাকা বা অঞ্চল;

(ট) “ব্যক্তি” অর্থ যেকোনো ব্যক্তি, এবং কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ঠ) “স্থানিক পরিকল্পনা (Spatial Plan)” অর্থ একটি দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড, টেকসই উন্নয়ন, অবকাঠামো, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের স্থানিক বণ্টন (Spatial Distribution) বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করে এইরূপ জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় বা বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা; এবং

(ড) “স্থানীয় স্থানিক পরিকল্পনা (Local Spatial Plan)” অর্থ আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনার আলোকে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত এলাকার জন্য প্রণীত স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান, স্ট্রাকচার প্ল্যান, আরবান এরিয়া প্ল্যান, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান, অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান, ইত্যাদি সংক্রান্ত বিশদ ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা।

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছু্ই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

### পরিষদের গঠন, ইত্যাদি

৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) মন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ;

(গ) সচিব, অর্থ বিভাগ;

(ঘ) সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়;

(ঙ) সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ;

(চ) সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়;

(ছ) সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ;

(জ) সচিব, সেতু বিভাগ;

(ঝ) সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়;

(ঞ) সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়;

(ট) সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়;

(ঠ) সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়;

(ড) সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ;

(ঢ) সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়;

(ণ) সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়;

(ত) সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়;

(থ) সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ;

(দ) সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ;

(ধ) সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়;

(ন) সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়;

(প) মেয়র, সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন;

(ফ) বিভাগীয় প্রধান, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়;

(ব) সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স;

(ভ) সভাপতি, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ;

(ম) সভাপতি, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ; এবং

(য) পরিচালক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) প্রতি বৎসর পরিষদের অন্যূন ২ (দুই) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাইবে।

(৩) পরিষদের সভাপতি পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) পরিষদের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৫) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৬) পরিষদ, প্রয়োজনে, সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।

### আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন, ইত্যাদি

৫। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি স্থানিক পরিকল্পনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) পরিকল্পনা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(গ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঘ) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঙ) স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(চ) ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ছ) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(জ) সেতু বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঝ) কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঞ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঠ) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ড) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঢ) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ণ) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ত) রেলপথ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(থ) বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(দ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ধ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(প) সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ফ) বিভাগীয় প্রধান, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ব) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ভ) ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ম) ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(য) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব;

(র) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; এবং

(ল) পরিচালক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) ও (য) এ বর্ণিত সদস্যগণের মেয়াদ হইবে তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর এবং তাহারা পুনঃমনোনীত হইতে পারিবেন।

(৩) সরকার, যেকোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উপ-ধারা (১) এর দফা (য) ও (র) এ বর্ণিত সদস্যগণের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে।

(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে উপ-ধারা (১) এর দফা (য) ও (র) এ বর্ণিত কোনো সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৫) প্রতি বৎসর আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অন্যূন ৪ (চার)টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাইবে।

(৬) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৭) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৮) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৯) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি, প্রয়োজনে, সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।

### জেলা কমিটি গঠন, ইত্যাদি

৬। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে প্রত্যেক জেলার জন্য একটি করিয়া জেলা স্থানিক পরিকল্পনা কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মনোনীত উহার একজন প্রতিনিধি;

(গ) সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান;

(ঘ) মেয়র, সংশ্লিষ্ট পৌরসভা;

(ঙ) নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর;

(চ) নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর;

(ছ) উপ-পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর;

(জ) উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর;

(ঝ) সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার;

(ঞ) প্রতিনিধি, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ট) সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলার একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব;

(ঠ) সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলার একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; এবং

(ড) নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এ বর্ণিত সদস্যগণের মেয়াদ হইবে তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর এবং তাহারা পুনঃমনোনীত হইতে পারিবেন।

(৩) সরকার, যেকোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এ বর্ণিত সদস্যগণের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে।

(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এ বর্ণিত কোনো সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৫) প্রতি বৎসর জেলা কমিটির অন্যূন ৪ (চার) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাইবে।

(৬) জেলা কমিটির সভাপতি জেলা কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৭) জেলা কমিটির সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৮) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জেলা কমিটির সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৯) জেলা কমিটি, প্রয়োজনে, সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।

(১০) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারিত হইবে।

(১১) সকল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে জেলা কমিটি স্থানিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মনিটরিং সংক্রান্ত কার্য সম্পাদন করিবে।

### স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা

৭। (১) স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে—

(ক) নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত নীতিমালা ও ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করিবে; এবং

(খ) জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে, কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় স্থানিক পরিকল্পনা বা বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা করিবে।

(২) স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাস্তুচ্যুতি এড়াইতে পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে।

### স্থানিক পরিকল্পনা অনুমোদন

৮। (১) কর্তৃপক্ষ, স্থানিক পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট এবং বহুল প্রচারিত অন্যূন ২ (দুই) টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উহার প্রাক্-প্রকাশ করিবে।

(২) স্থানিক পরিকল্পনা অনুমোদনের পূর্বে উহার খসড়ার উপর অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিনব্যাপী বা সংশ্লিষ্ট আইনে উল্লিখিত সময়, যাহা অধিক হইবে, অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হইবে এবং গণশুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) কর্তৃপক্ষ গণশুনানি হইতে প্রাপ্ত আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনাপূর্বক আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির নিকট পেশ করিবে।

(৪) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরিষদ স্থানিক পরিকল্পনা সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে অনুমোদন করিবে।

(৫) পরিষদের অনুমোদন প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় ও বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করিবে।

### অসামঞ্জস্যতা ও দ্বৈততা নিরসন

‌‌৯। (১) কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মসূচি, স্কিম অথবা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট স্থানিক পরিকল্পনার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ না হইলে অথবা দ্বৈততা পরিলক্ষিত হইলে কর্তৃপক্ষ উহা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করিবে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি আলোচনাক্রমে উহা নিষ্পত্তি করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি না হইলে পরিষদ প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী উহা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।

### প্রতিকার

১০। (১) এই আইনের অধীন কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মচারীর সিদ্ধান্ত দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি বা তাহার মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিকার চাহিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে উক্ত ব্যক্তি সন্তুষ্ট না হইলে সরকারের নিকট প্রতিকার চাহিতে পারিবেন।

### স্থানিক পরিকল্পনা পরিপন্থি কার্যক্রম গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, ইত্যাদি

১১। (১) এই আইনের অধীন প্রণীত কোনো স্থানিক পরিকল্পনা এবং উহার অধীন প্রণীত স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান, স্ট্রাকচার প্ল্যান, আরবান এরিয়া প্ল্যান, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান, অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান, ইত্যাদির ব্যত্যয় করিয়া কোনো ব্যক্তি কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো ব্যক্তি কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিলে বা অবৈধভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করিলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত কার্যক্রম বন্ধ করিবার নির্দেশ প্রদান করিবে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

### অপরাধ ও দণ্ড

১২। কোনো ব্যক্তি ধারা ১১ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো কার্য সংঘটন করিলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

### মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ

১৩। এই আইনে উল্লিখিত অপরাধসমূহ, [মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯](/laws/act-1025 "Act 1025") (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক বিচার করা যাইবে।

### প্রবেশ, ইত্যাদির ক্ষমতা

১৪। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি এই আইন, বিধি বা এতদ্‌সংক্রান্ত কোনো আদেশ বা ইস্যুকৃত কোনো নির্দেশ বাস্তবায়নের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) কোনো জায়গা বা স্থাপনার উপরে বা ভিতরে প্রবেশ, পরিদর্শন, জরিপ, মূল্যায়ন অথবা তদন্ত কার্য পরিচালনা; এবং

(খ) স্থানিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা অথবা এতদ্‌সংশ্লিষ্ট কোনো শর্ত বা সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে তদারকিকরণ।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

১৬। (১) [স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫](/laws/act-1584 "Act 1584") (২০২৫ সনের ৭১ নং অধ্যাদেশ) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কোনো কার্য বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

১৭। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) এই আইন ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1660.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
