> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬

> ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১০ এপ্রিল, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ৫০ নং আইন

যেহেতু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, আবাসন, উন্নয়নমূলক কার্য, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা কারণে প্রতিনিয়ত ভূমির প্রকৃতি ও শ্রেণি পরিবর্তিত হইতেছে এবং দেশে কৃষিভূমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইতেছে; এবং

যেহেতু বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে কৃষিভূমি সুরক্ষা এবং ভূমিরূপ, ভূ-প্রকৃতি ও বাস্তবসম্মত ব্যবহার অনুসারে ভূমির অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬](/laws/act-1679 "Act 1679") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।

(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,—

(১) “অকৃষি ভূমি” অর্থ [Non-Agricultural Tenancy Act, 1949](/laws/act-232 "Act 232") (Act No. XXIII of 1949) এর section 2 এর sub-section (4) এ সংজ্ঞায়িত Non-agricultural land;

(২) “কৃষিভূমি” অর্থ, চাষ করা হউক বা না হউক, সকল চাষযোগ্য ভূমি, ও প্রাণিপালন বা প্রাকৃতিকভাবে মৎস্যপালন কার্যে ব্যবহৃত ভূমি, এবং যে সকল ভূমিকে বাৎসরিক, মৌসুম বা বহু বৎসর মেয়াদী উৎপাদন বা ফসলভেদে নিম্নবর্ণিত শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যায়, যথা:-

(ক) এক ফসলি- যে ভূমিতে বৎসরে ১টি ফসল চাষ করা হয়;

(খ) দুই ফসলি- যে ভূমিতে বৎসরে ২টি ফসল চাষ করা হয়;

(গ) তিন ফসলি- যে ভূমিতে বৎসরে ৩টি ফসল চাষ করা হয়;

(ঘ) চার বা ততোধিক ফসলি- যে ভূমিতে বৎসরে ৪টি বা ততোধিক ফসল চাষ করা হয়;

(ঙ) উদ্যান ফসলি- যে ভূমিতে, বিশেষ করিয়া বাগানে, এক বা একাধিক মৌসুমে বা বহু বৎসর মেয়াদে সবজি, ফুল, ফল, ফসল, সুগন্ধি বা মসলা জাতীয় উদ্ভিদ, কন্দাল ফসল, শোভাবর্ধনকারী ও ঔষধ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ এবং বাস্তুতন্ত্রের জন্য উপযোগী যেকোনো উদ্ভিদ চাষ করা হয়; ও

(চ) মাঠ ফসলি- যে ভূমিতে প্রতি বৎসর ফসল জন্মানো হয় এবং যাহার ফল বৎসরের কোনো সময়ে বা বৎসরান্তে পাওয়া যায়; এবং-

সর্বশেষ প্রকাশিত বা বলবৎ ভূমি জরিপের স্বত্বলিপি ও সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে নিম্নবর্ণিত শ্রেণিসমূহের ভূমিও কৃষিভূমি হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:- নাল, বিলান, ধানী ভূমি, বোরো, বালুচর, চরভূমি, বীজতলা, বাগান, পানবরজ, ঘাসবন, পতিত, লায়েক পতিত, হোগলবন, নলবন, বাইদ, চালা, হর্টিকালচার, মৎস্যচাষ, নার্সারী, মাঠ, বেড়, দলা, বেগুন টিলা, মরিচ টিলা, ভিটি, ভিটা, ডাঙ্গা, ছনখোলা, ভাগার, বাঁশঝাড়, গো-চারণ ভূমি, বাথান, পুকুরপাড়, সহুরী, সাটিউড়া, আছারউরা, গভীর নলকূপ ও সমজাতীয় আবাদি ভূমি, এবং এতদুদ্দেশ্যে সময় সময় সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত যেকোনো শ্রেণির ভূমি;

(৩) “ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা” অর্থ, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা সহকারী কমিশনার (ভূমি);

(৪) “জলাধার” অর্থ [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (কক) এ সংজ্ঞায়িত জলাধার, এবং হ্রদ ও লেকও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৫) “জলাভূমি” অর্থ [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "Act 1114") (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত জলাভূমি;

(৬) “জেলা কমিটি” অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত জেলা কমিটি;

(৭) “জোন” অর্থ জোনিং ম্যাপে উল্লিখিত কোনো সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ভূমিসমূহের জোন;

(৮) “তফসিল” অর্থ এই আইনের কোনো তফসিল;

(৯) “পাহাড় ও টিলা” অর্থ [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") এর ধারা ২ এর দফা (চচ) এ সংজ্ঞায়িত পাহাড় ও টিলা;

(১০) “বন” অর্থ সরকার, সময় সময়, যে সকল ভূমি বা এলাকাকে বন হিসাবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করিয়াছে, অথবা যে সকল ভূমি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বন হিসাবে ব্যবস্থাপনার জন্য অধিগ্রহণ, হস্তান্তর বা ন্যস্ত করিয়াছে বা যে সকল ভূমি বন হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছে, এবং উপকূলীয় বন প্রাকৃতিক বন, সৃজিত বন ও জলাভূমির বনও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১১) “বনভূমি” অর্থ, বৃক্ষাচ্ছাদন থাকুক বা না থাকুক, দফা (১০) এ সংজ্ঞায়িত বন, এবং বন হিসাবে গেজেটকৃত, রেকর্ডকৃত বা চিহ্নিত ভূমি;

(১২) “বৎসর” অর্থ বাংলা বর্ষপঞ্জি বা বাংলা সন;

(১৩) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(১৪) “বিশেষ কৃষি অঞ্চল” অর্থ ধারা ৭ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন ঘোষিত কোনো অঞ্চল;

(১৫) “ব্যক্তি” অর্থ যে কোনো ব্যক্তি এবং, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, কোনো কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, ফার্ম বা সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৬) “ভূমি” অর্থ [State Acquisition and Tenancy Act, 1950](/laws/act-241 "Act 241") (Act No. XXVIII of 1951) এর section 2 এর clause (16) এ সংজ্ঞায়িত land;

(১৭) “ভূমি জোনিং” বা “জোনিং” অর্থ কোনো সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকাকে ভূমির বিদ্যমান ব্যবহার, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ভূমিরূপের ভিত্তিতে যথাযথভাবে পরীক্ষা এবং অত্যাধুনিক ডিজিটালাইজড প্রযুক্তির মাধ্যমে ধারণকৃত প্রতিচ্ছবি (image) বিশ্লেষণ ও সরেজমিন পরিদর্শন করিয়া সীমারেখা দ্বারা বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহারভিত্তিক বিভাজন; এবং

(১৮) “ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ” বা “জোনিং ম্যাপ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রণীত ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ।

### আইনের প্রাধান্য

৩। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কৃষিভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিভূমি সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমিসহ প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা সুরক্ষার ক্ষেত্রে [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") (Act No. XVI of 1927); [Protection and Conservation of Fish Act, 1950](/laws/act-233 "Act 233") (Act No. XVIII of 1950); [Building Construction Act, 1952](/laws/act-254 "Act 254") (Act No. II of 1953); [বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫](/laws/act-791 "Act 791") ; [মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০](/laws/act-847 "Act 847") (২০০০ সনের ৩৬ নং আইন); [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "Act 1114") ; [জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩](/laws/act-1122 "Act 1122") (২০১৩ সনের ২৯ নং আইন); [সামুদ্রিক মৎস্য (Marine Fisheries) আইন, ২০২০](/laws/act-1347 "Act 1347") (২০২০ সনের ১৯ নং আইন); [বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1604 "Act 1604") (২০২৬ সনের ১১ নং অধ্যাদেশ)-সহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালা ও আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলাদির বিধান সাপেক্ষে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করিতে হইবে।

### ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন

৪। (১) সরকার, এই আইন কার্যকর হইবার পর, যতদ্রুত সম্ভব, কৃষিভূমি সুরক্ষা ও অঞ্চলভিত্তিক ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী, ভূমি জোনিং করত মৌজা, দাগ বা অন্য কোনো চিহ্ন বা সীমারেখা দ্বারা ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন করিবে এবং এতৎসংক্রান্ত ডাটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করিবে।

(২) জোনিং ম্যাপ সমগ্র দেশের জন্য একইসঙ্গে অথবা কোনো বিশেষ ব্যবহার বা অঞ্চলকে প্রাধান্য প্রদানপূর্বক পর্যায়ক্রমে প্রণয়ন করা যাইবে।

(৩) সরকার, জোনিং ম্যাপ প্রণয়ণের ক্ষেত্রে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে বিবেচনায় লইবে।

(৪) সরকার, জোনিং ম্যাপ প্রণয়ণের নিমিত্ত উহার খসড়া প্রস্তুতপূর্বক, সর্বসাধারণের অবগতি ও জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে ডেটা স্টোরেজের ওয়েবলিংক উল্লেখ করিয়া সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি জারির ব্যবস্থা করিবে।

(৫) যে কোনো ব্যক্তি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে, খসড়া জোনিং ম্যাপের কপি সংগ্রহ করিতে পারিবেন।

(৬) উপ-ধারা (৫) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত কার্যালয়, দপ্তর বা ইনস্টিটিউটকে তাহাদের কার্যালয়, দপ্তর বা ইনস্টিটিউটে খসড়া জোনিং ম্যাপের কপি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখিতে হইবে।

(৭) যে কোনো ব্যক্তি, উপ-ধারা (৪) এর অধীন বিজ্ঞপ্তি জারির ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবর, খসড়া জোনিং ম্যাপের বিষয়ে লিখিত আপত্তি বা মতামত, যদি থাকে, উত্থাপন বা প্রদান করিতে পারিবেন।

(৮) উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে প্রাপ্ত আপত্তি বা মতামত, নিষ্পত্তি বা বিবেচনার জন্য, বিষয়টি জেলা কমিটির নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে।

(৯) জেলা কমিটি, উপ-ধারা (৮) এর অধীন প্রাপ্ত আপত্তি বা মতামত পর্যালোচনা, ক্ষেত্রমত, বিবেচ্য বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার প্রতিবেদন বিবেচনা এবং, প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শুনানি গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক, ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে, লিখিত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবে।

(১০) জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ যে কোনো ব্যক্তি, জেলা কমিটি কর্তৃক সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে, সরকারের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।

(১১) সরকার, উপ-ধারা (৯) এ উল্লিখিত পদ্ধতি ও সময়সীমা অনুসরণ করিয়া, উপ-ধারা (১০) এর অধীন দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি করিবে, যাহা চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

(১২) সরকার, উপ-ধারা (৪) হইতে (১১)-তে উল্লিখিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হইবার পর, খসড়া জোনিং ম্যাপ চূড়ান্ত করিয়া উহা গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করিবে।

(১৩) সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর সহায়তায় এবং নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া জোনিং ম্যাপের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করিবে এবং প্রতি ১০ (দশ) বৎসর অন্তর অন্তর জোনিং ম্যাপ হালনাগাদ করিবে।

(১৪) সরকার ভূমি জোনিং এর পর স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে এবং জোনিং ম্যাপের সহিত স্থানিক পরিকল্পনার সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করিবে।

(১৫) সরকার, এই আইনের অধীন জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ, ভূমি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ এবং স্পারসোসহ, Information Technology (IT), Geographic Information System (GIS) ও Remote Sensing বিশেষজ্ঞ, কৃষি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও সংস্থাকে সম্পৃক্ত করিতে এবং তাহাদের সেবা ও পরামর্শ গ্রহণ করিতে পারিবে।

ব্যাখ্যা।— এই ধারায় উল্লিখিত “স্থানিক পরিকল্পনা” বলিতে [স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫](/laws/act-1584 "Act 1584") (২০২৫ সনের ৭১ নং অধ্যাদেশ) এর ধারা ২ এর দফা (ঠ)-তে সংজ্ঞায়িত স্থানিক পরিকল্পনাকে বুঝাইবে।

### জেলা কমিটি গঠন

৫। (১) সরকার, ধারা ৪ এর উপ-ধারা (৭) এর অধীন খসড়া জোনিং ম্যাপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তি বা প্রদত্ত মতামত নিষ্পত্তি বা বিবেচনার লক্ষ্যে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে জেলা কমিটি গঠন করিবে।

(২) প্রতিটি জেলা কমিটিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ উপযুক্ত পর্যায়ের স্থানীয় সরকার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মকর্তাগণ অন্তর্ভুক্ত থাকিবেন।

### ভূমি জোনিং

৬। (১) সরকার, জোনিং ম্যাপ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ভূমির বিদ্যমান ব্যবহার এবং ভূ-প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভূমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে, সকল ভূমি তফসিল-১ অনুযায়ী জোনিং করিবে।

(২) সরকার, জাতীয় স্বার্থ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীতা বিবেচনায়, সময় সময়, নূতন জোন সৃজন করিতে অথবা বিদ্যমান জোন একত্রীকরণ, পৃথকীকরণ ও বিলুপ্ত করিতে পারিবে।

(৩) সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।

(৪) সরকার, এই আইন প্রণয়নের পর, যতদ্রুত সম্ভব, কৃষিভূমিসহ অন্যান্য ভূমি চিহ্নিত করিয়া ভূমি জোনিং এর কাজ শুরু করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণের নিকট হইতে বিভিন্ন শ্রেণির ভূমির তালিকা ও বিবরণ সংগ্রহ করিবে।

(৫) এক, দুই, তিন ও চার বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে মৎস্যচাষকে কৃষি বিবেচনা করিয়া কৃষিভূমির জোনিং করিতে হইবে।

### কৃষিভূমি সুরক্ষা, ইত্যাদি

৭। (১) সরকার, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহ ও জেলা প্রশাসন ভূমি জোনিং এর ভিত্তিতে কৃষিভূমি সুরক্ষার ব্যবস্থা করিবে।

(২) সরকার, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়, বিশেষ কোনো কৃষিপণ্য অথবা বৎসরে দুই বা ততোধিক ফসল উৎপাদিত হয় এইরূপ কৃষিভূমিসমূহ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কৃষিভূমি এলাকাকে বিশেষ কৃষি অঞ্চল ঘোষণা করিতে পারিবে।

(৩) বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমি ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন এবং কৃষি ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাইবে না।

(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিশেষ কৃষি অঞ্চল বহির্ভূত দুই, তিন ও চার বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমিও কোনো অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাইবে না।

(৫) সরকার, এই ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জ্বালানী, খনিজ সম্পদ এবং প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণসহ অপরিহার্য কোনো জাতীয় প্রয়োজনে, নিরপেক্ষ প্রভাব নিরূপণ সাপেক্ষে, ন্যূনতম পরিমাণ কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত কৃষিভূমির ব্যবহারকে প্রাধান্য প্রদান করিতে হইবে এবং মোট কৃষিভূমির শতকরা ১০ (দশ) ভাগের অধিক অকৃষি কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা যাইবে না।

(৬) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো অকৃষি ভূমি কৃষিকাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো বিধান প্রতিবন্ধক হইবে না।

(৭) ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগ (top soil), পাহাড় ও টিলা বা জলাধারের পাড়ের মাটি ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহণ বা ব্যবহার করা যাইবে না।

(৮) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে জলাধার বা জলাভূমি ভরাট করা যাইবে না, পাহাড় ও টিলা কর্তন করা যাইবে না এবং প্রাকৃতিক বনের ক্ষতিসাধন বা বন-বিরুদ্ধ কোনো কাজ করা যাইবে না।

(৯) কোনো ব্যক্তি কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমি হইতে মাটি অপসারণ করিলে, অথবা কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমি মাটি, বালু বা অন্য কোনো বস্তু দ্বারা ভরাট করিলে, অথবা কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে কোনো বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ কোনো স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করিলে, সংশ্লিষ্ট কার্য এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে, এবং তজ্জন্য দায়ী ব্যক্তি, বিচারিক প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত হিসাবে, সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশ অনুসারে, ক্ষেত্রমত, অপসারিত মাটি পুনঃস্থাপন, অথবা ভরাটকৃত মাটি, বালি বা বস্তু, বা নির্মিত স্থাপনা বা অবকাঠামো অপসারণ করিতে বাধ্য থাকিবেন।

(১০) সরকার, সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(১১) সরকার, আপাতত বলবৎ আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা, কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(১২) [State Acquisition and Tenancy Act, 1950](/laws/act-241 "Act 241") এর section 83-তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কৃষিভূমিসহ সকল রেকর্ডীয় শ্রেণির ভূমি এই আইনের বিধান অনুযায়ী সুরক্ষা করিতে হইবে এবং, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন গ্রহণ ব্যতীত, কোনো ভূমির রেকর্ডীয় শ্রেণি পরিবর্তন করা যাইবে না।

### প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ণে বাধ্যবাধকতা

৮। সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অধিদপ্তর এবং সংবিধিবদ্ধ কোনো কর্তৃপক্ষ বা কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ণের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে এই আইনের বিধানাবলির প্রতিপালন নিশ্চিত করিতে হইবে।

### জেলা প্রশাসকগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য

৯। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জেলা প্রশাসকগণ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দায়িত্ব পালন করিবেন, যথা:-

(ক) জোনিং ম্যাপ প্রণীত হউক বা না হউক, কৃষিভূমির তালিকা প্রস্তুত ও সুরক্ষা;

(খ) প্রচলিত আইন অনুসারে জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমিসহ প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন ভূমির তালিকা প্রস্তুত, সীমানা নির্ধারণ ও সুরক্ষা;

(গ) গো-চারণভূমির তালিকা প্রস্তুত এবং সংরক্ষণ;

(ঘ) ইটভাটার লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে মাটির সু-নির্দিষ্ট উৎস চিহ্নিতকরণ এবং সেইমর্মে ইটভাটার মালিকের নিকট হইতে অঙ্গীকারনামা আদায়;

(ঙ) ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য পতিত ভূমির মাটি বা ড্রেজিংকৃত মাটি চিহ্নিতকরণ এবং উহার বাহিরে অন্য সকল প্রকার মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ;

(চ) কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমি হইতে মাটি অপসারণ, কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমি ভরাট এবং কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ; এবং

(ছ) এই আইনের অধীনে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য আদেশ ও নির্দেশ প্রতিপালন।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে, অবৈধভাবে অপসারিত মাটি প্রতিস্থাপন বা, ক্ষেত্রমত, ভরাটকৃত মাটি, বালু, বস্তু বা স্থাপনা অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণসহ, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে এবং ক্ষতিপূরণ আদায় ও অন্যান্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(৩) এই আইন কার্যকর হইবার পর, অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু, সিলিকা বালু, পাথর ও মাটি জব্দ করিয়া ইজারার মাধ্যমে বিক্রি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সকল আদেশ ও পরিপত্র বাতিল হইবে এবং জেলা প্রশাসকগণ জব্দকৃত বালু, সিলিকা বালু, পাথর ও মাটি নিকটবর্তী সরকারি উন্নয়নকাজে ব্যবহারের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

### কৃষিভূমিতে আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ, ইত্যা

১০। (১) এই আইনের অন্য কোনো ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে, নিজস্ব কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপাসনালয়, কবরস্থান, সমাধি, গুদামঘর, পারিবারিক ব্যবহারের জন্য পুকুর এবং কুটির শিল্পসহ বসতবাড়ির সহিত সম্পর্কিত স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করিতে, অথবা সংশ্লিষ্ট কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রদত্ত অনুমোদনের কোনো শর্ত, যদি থাকে, লংঘিত হইলে, অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ, জনস্বার্থে, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন বাতিল করিতে পারিবে।

(২) কোনো ব্যক্তি অনুমতি গ্রহণ না করিয়া কৃষিভূমিতে কোনো স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করিলে অথবা কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করিলে, সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত স্থাপনা, অবকাঠামো বা উপকরণ অপসারণের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যাহা প্রতিপালন করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক হইবে।

### জোন পরিবর্তন

১১। (১) কৃষিভূমি, পাহাড় ও টিলা, জলাধার এবং জলাভূমি ব্যতীত, কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন করিতে হইলে অথবা জোনিং বহির্ভূত কাজে কোনো ভূমি ব্যবহার করিতে হইলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ভূমির জোন বা ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের কোনো অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই আইনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবে না এবং জনস্বার্থ, প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হইবেনা মর্মে নিশ্চিত হইতে হইবে।

### ক্ষমতা অর্পণ

১২। সরকার, এই আইনের অধীন উহার যে কোনো ক্ষমতা কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাহার নিজ অধিক্ষেত্রে প্রয়োগের নিমিত্ত, অর্পণ করিতে পারিবে।

### আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ইত্যাদির সহায়তা

১৩। ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এই আইনের অধীন ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব পালনের স্বার্থে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের সহায়তা যাচনা করিতে পারিবেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যাচিত সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।

### অপরাধ ও দণ্ড

১৪। (১) নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির উপর তফসিল-২ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট দণ্ড আরোপণীয় হইবে, যথা:-

(ক) অনুমোদন ব্যতীত কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন;

(খ) অনুমোদন ব্যতীত কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার;

(গ) কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ;

(ঘ) ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগ (top soil), পাহাড় ও টিলা বা জলাধারের পাড়ের মাটি ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহণ বা ব্যবহার;

(ঙ) বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমি ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন বা কৃষি ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার; এবং

(চ) জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন ও ভূমিরূপ পরিবর্তন।

(২) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা কতিপয় অপরাধ চিহ্নিত এবং উক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য দণ্ড নির্ধারণ করা যাইবে, যাহা অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের অতিরিক্ত হইবে না।

(৩) এই ধারায় উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে, কৃত অপরাধের জন্য আরোপণীয় দণ্ডের পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি জব্দ করিবার জন্যও আদেশ প্রদান করা যাইবে।

### তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি

১৫। (১) এই আইনে বর্ণিত কোনো অপরাধের তদন্ত ও বিচারসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে, এই আইেনর বিধান সাপেক্ষে, [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Act 75") (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) এই আইনে উল্লিখিত অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।

(৩) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপোষযোগ্যতা তফসিল-২ অনুসারে নির্ধারিত হইবে।

### অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ

১৬। ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।

### মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ

১৭। এই আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ, [মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯](/laws/act-1025 "Act 1025") (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।

### কোম্পানি, ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

১৮। (১) এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানির মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী, যে নামেই অভিহিত হউন না কেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্তরূপ অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি উক্ত উপ-ধারার অধীন অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত হইলে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেও পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করিয়া সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য প্রযোজ্য অর্থদণ্ডের দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি যদি কোনো স্থানীয় সরকার সংগঠন বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা হয়, তাহা হইলে উক্ত সংগঠন, কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কেবল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীই, যে নামেই অভিহিত হউন না কেন, অপরাধটি সংঘটনের জন্য দায়ী হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা অপরাধটি রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

ব্যাখ্যা।— এই ধারায় উল্লিখিত,-

(ক) “কোম্পানি” অর্থ কোনো নিবন্ধিত কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, সমিতি, সংগঠন, ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান; এবং

(খ) “পরিচালক” অর্থ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, কোনো অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৯। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া সরকার নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোনো বিষয়ে বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) জোন পরিবর্তনের বা জোনিং বহির্ভূত কাজে ভূমি ব্যবহার করিবার আবেদন ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া;

(খ) বিভিন্ন প্রকারের কৃষিভূমি চিহ্নিত করিবার প্রক্রিয়া;

(গ) খসড়া জোনিং ম্যাপের কপি সংগ্রহের পদ্ধতি ও প্রদেয় ফি;

(ঘ) স্পারসো এর সহায়তায় জোনিং ম্যাপের তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদকরণ;

(ঙ) ভূমির রেকর্ডীয় শ্রেণি পরিবর্তনে অনুমোদন প্রদান পদ্ধতি;

(চ) কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ;

(ছ) কৃষিভূমি অকৃষিকাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ প্রভাব নিরূপণ পদ্ধতি;

(জ) সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি সুরক্ষা; এবং

(ঝ) এই আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধ চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে দণ্ড নির্ধারণ।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

২০। [ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1605 "Act 1605") (২০২৬ সনের ১২ নং অধ্যাদেশ) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1679.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
