> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬

> বনভূমির ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বনভূমির দখল প্রতিরোধ, বন ও বনভূমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ, বনভূমির পরিমাণ হ্রাস রোধকল্পে এবং বৃক্ষ সংরক্ষণে বিধানকল্পে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১০ এপ্রিল, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ৫৬ নং আইন

যেহেতু [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](/laws/act-957 "Act 957") ের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশের ১৮ক অনুচ্ছেদে বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে; এবং

যেহেতু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দেশের বনাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিয়া থাকে; এবং

যেহেতু বৃক্ষের অনিয়ন্ত্রিত কর্তন ও অপসারণ সংশ্লিষ্ট এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিষ্ঠিত বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য বিনষ্ট করিতে সক্ষম; এবং

যেহেতু রক্ষিত এলাকা ও গণপরিসরে বৃক্ষ সংরক্ষণ করা এবং প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষসহ অন্যান্য বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু বিপদাপন্ন বৃক্ষের ক্ষেত্রে সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি; এবং

যেহেতু বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার অতিরিক্ত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল:—

## প্রথম অধ্যায় - প্রারম্ভিক

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬](/laws/act-1685 "Act 1685") নামে অভিহিত হইবে

(২) ইহা ৬ জানুয়ারি,২০২৬ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে—

(১) “অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন (Unclassed State Forest)” অর্থ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ন্যস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) সরকারি অথবা বন্দোবস্তকৃত এইরূপ বনভূমি, যাহা সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত বন (Reserved Forest), রক্ষিত বন (Protected Forest), অর্জিত বন (Acquired Forest), অর্পিত বন (Vested Forest) বা অন্য কোনো বন হিসাবে গেজেটভুক্ত নহে;

(২) “আগ্রাসী প্রজাতি (Invasive Species)” অর্থ এইরূপ প্রাণী বা উদ্ভিদ বা অন্যান্য জীব যাহা ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাহাদের প্রাকৃতিক পরিসরের বাহিরে প্রবর্তন করিবার কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, বাস্তুতন্ত্র বা বাস্তুতান্ত্রিক সেবার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে;

(৩) “গণপরিসর (Public Place)” অর্থ উদ্যান, পার্ক, মাঠ, জলাশয়ের পাড়, সড়কের পাশ ও বিভাজিকা, ফুটপাতসহ জনসাধারণের ব্যবহার্য অন্যান্য উন্মুক্ত স্থান;

(৪) “জলাভূমি” অর্থ [বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩](/laws/act-1114 "Act 1114") (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত জলাভূমি এবং ভাটার সময় সমুদ্রের পানির গভীরতা ৬ মিটার পর্যন্ত হইয়া থাকে এইরূপ উপকূলীয় জোয়ারভাটা সমৃদ্ধ এলাকাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৫) ‘‘জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)” অর্থ জীবজগতের মধ্যে বিরাজমান বিভিন্নতা, যাহা সামগ্রিকভাবে পরিবেশের অংশ এবং স্থলজ, জলজ বা সামুদ্রিক পরিবেশে বিদ্যমান প্রজাতিগত বিভিন্নতা (Species Diversity), কৌলিগত বিভিন্নতা (Genetic Diversity) ও প্রতিবেশগত বিভিন্নতাও (Ecosystem Diversity) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৬) “বন” অর্থ সরকার সময় সময় যে সকল ভূমি বা এলাকাকে বন হিসাবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করিয়াছে, যে ভূমি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বন হিসাবে ব্যবস্থাপনার জন্য অধিগ্রহণ, হস্তান্তর বা ন্যস্ত করিয়াছে বা যে ভূমি বন হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছে এবং উপকূলীয় চরাঞ্চলের বনভূমি, প্রাকৃতিক বন, সৃজিত বন ও জলাভূমির বন (Swamp Forest) এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৭) “বনজ সম্পদ” অর্থ বনভূমি, বনের জীববৈচিত্র্য বা বন হইতে উৎপাদিত বনজদ্রব্য ও উৎপন্ন সেবাসমূহ;

(৮) “বিধি” অর্থ এই  আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৯) “বনভূমি” অর্থ বৃক্ষাচ্ছাদন থাকুক বা না থাকুক, দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত বন বা বন হিসাবে রেকর্ডকৃত বা গেজেটকৃত ভূমি;

(১০) “বিপদাপন্ন প্রজাতি (Threatened Species)” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা IUCN Red List এ মহাবিপন্ন (Critically Endangered; CR), বিপন্ন (Endangered; EN) বা সংকটাপন্ন (Vulnerable; VU) হিসাবে বিবেচিত এবং যাহা বিলুপ্ত হইবার হুমকির সম্মুখীন;

(১১) “বৃক্ষ” অর্থ চতুর্থ অধ্যায়ে সরকার কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত বৃক্ষের তালিকা;

(১২) “ব্যক্তি” অর্থ প্রাকৃতিক সত্তাবিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি এবং ইহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, কর্পোরেশন, ফার্ম, সমিতি, সংঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৩) “বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (Tree Conservation Officer)” অর্থ এই আইনের অধীন ক্ষমতায়িত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা;

(১৪) “রক্ষিত বন (Protected Forest)” অর্থ [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") এর  ধারা ২৯ ধারা অনুযায়ী ঘোষিত রক্ষিত বন;

(১৫) “সংরক্ষণ” অর্থ বনভূমি, বন ও বনের বাস্তুতন্ত্র, বনজসম্পদ ও বৃক্ষের সুরক্ষা ও উন্নয়ন;

(১৬) “সংরক্ষিত বন (Reserved Forest)” অর্থ [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") -এর ধারা ২০ এ ঘোষিত সংরক্ষিত বন, Assam Forest Regulation, 1891 অনুযায়ী ঘোষিত সুনির্দিষ্ট ভূমি; [Attia Forest (Protection) Ordinance, 1982](/laws/act-631 "Act 631") -এর তফসিলভুক্ত ও অবমুক্ত নহে এইরূপ সংরক্ষিত বন এবং ইহার অনুবৃত্তিক্রমে প্রণীত আইনসমূহে ঘোষিত সংরক্ষিত বন;

(১৭) “ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন (Compensatory Afforestation)” অর্থ এই আইনের বিধান সাপেক্ষে জাতীয় অপরিহার্য প্রয়োজনে, বনভূমির ভিন্ন বনবিরুদ্ধ বা বনবর্হিভূত ব্যবহারে অনুমতি প্রদান করা হইলে তাহার বিপরীতে বিকল্প বা পরিপূরক বাস্তুসংস্থান গড়িয়া তুলিবার লক্ষ্যে বনভূমির বাহিরে বৃক্ষাচ্ছাদন সৃজনের প্রক্রিয়া।

### অন্যান্য আইনের অতিরিক্ততা

৩। এই আইন বন, বনভূমি, বনের বাস্তুসংস্থান, বনজ সম্পদ ও বৃক্ষ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") এবং [বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬](/laws/act-1715 "Act 1715") এর পরিপূরক ও অতিরিক্ত হইবে।

## দ্বিতীয় অধ্যায় - দায়িত্ব ও কর্তব্য

### বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে সাধারণ করণীয়

৪। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার—

(ক) ইহার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল বনভূমি, বন ও বনের বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিবে;

(খ) দফা (ক) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অবক্ষয়িত বন ফিরাইয়া আনিতে, বন ও বনভূমি সুরক্ষা করিতে ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এবং বন, বনের বাস্তুতন্ত্র, বনজসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করিবে, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও উহার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করিবে;

ব্যাখ্যা।—‘‘অবক্ষয়িত বন” বলিতে বৃক্ষাচ্ছাদন শূন্য ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারানো বনভূমিকে বুঝাইবে;

(গ) বন, বনের বাস্তুতন্ত্র, বনজসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও দেশের অন্যান্য আইন ও সংস্থার সহিত সমন্বয় সাধন নিশ্চিত করিবে;

(ঘ) বনভূমি রক্ষা, পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়, অনুশাসন ও দিকনির্দেশনা প্রদান করিবে;

(ঙ) বৃক্ষরোপণে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও পুরস্কার প্রদান করিবে; এবং

(চ) বন ও বনের বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা সাপেক্ষে [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") এর বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বন অধিকার, ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত রাখিতে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### বন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য

৫। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বন অধিদপ্তর নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবে, যথা:—

(ক) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বনের সীমানা নির্ধারণ, বন, বনভূমি, বনের বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem), বনজসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা;

(খ) অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, বন ও বনভূমি সুরক্ষা এবং সম্প্রসারণ এবং বিপদাপন্ন বৃক্ষের সংরক্ষণের লক্ষ্যে অংশীজনকে সম্পৃক্ত করিয়া, সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা;

(গ) বন ও বনের বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা সাপেক্ষে [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") এর বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বন অধিকার, ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত রাখা;

(ঘ) বনভূমির দখল প্রতিরোধ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ঙ) বন ও বনভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করিতে প্রচলিত পদ্ধতির সহিত প্রযুক্তি নির্ভর মনিটরিং কার্যক্রম গ্রহণ করা;

(চ) বন, বনভূমি, বনের বাস্তুতন্ত্র, বনজসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশ; এবং

(ছ) বন, বনভূমি, বনের বাস্তুতন্ত্র, বনজসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্যে বন অধিদপ্তর নিম্নবির্ণিত বিষয়াবলি নিশ্চিত করিবে, যথা:—

(ক) বন, বনভূমি, বনের বাস্তুতন্ত্র, বনজসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বনায়নের কর্মপরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সম্পৃক্ত করিবে ও তাহাদের প্রথাগত জ্ঞান চর্চাকে গুরুত্ব প্রদান করিবে;

(খ) বন অধিকার ও প্রথাগত ব্যবহারের তালিকা সংরক্ষণ ও যথাযথ পদ্ধতি নির্ধারণ ও অনুসরণ করিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিবে;

(গ) সকল বনায়নে স্থানীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ ও আগ্রাসী প্রজাতি পরিহার ও অপসারণ নিশ্চিত করিবে;

(ঘ) বিপদাপন্ন বৃক্ষের তালিকা হালনাগাদ করিবে;

(ঙ) মহাসড়ক, সড়ক, রেলপথ, গণপরিসর, বাঁধ, জেগে উঠা চরসহ নদী-তীরবর্তী প্রান্তিক ও পতিত ভূমিতে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করিবে;

(চ) বনায়ন, বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করিবে;

(ছ) উদ্ভিদ উদ্যান স্থাপন ও সংরক্ষণ, বৃক্ষমেলা আয়োজন ও নার্সারি পরিচালনা করিবে;

(জ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করিয়া আগ্রাসী প্রজাতি চিহ্নিতকরণ ও নির্মূলীকরণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করিবে;

(ঝ) বিদেশি প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণি আমদানি নিয়ন্ত্রণ করিবে;

(ঞ) প্রাকৃতিক বৃক্ষাচ্ছাদিত ভূমি এবং অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বনে (Unclassed State Forest) মনোকালচার, হর্টিকালচার ও বাণিজ্যিক চাষাবাদ নিয়ন্ত্রণ করিবে;

(ট) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করিয়া, সময় সময়, উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির লাল তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ করিবে;

(ঠ) বন, বনের বাস্তুতন্ত্র, বনজসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও দেশের অন্যান্য আইন ও সংস্থার সহিত সমন্বয় সাধন করিবে;

(ড) বন, বনজ সম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করিবে; এবং

(ঢ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন করিবে।

## তৃতীয় অধ্যায় - বনভূমি ব্যবস্থাপনা

### বনভূমির জরিপ ও রেকর্ড

৬। (১) বৃক্ষাচ্ছাদন থাকুক বা না-ই থাকুক, গেজেট দ্বারা ঘোষিত বনভূমি বন বিভাগের নামে রেকর্ড নিশ্চিত করিতে হইবে।

(২) রক্ষিত ও অর্জিত বনভূমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত হইবে ও বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় থাকিবে, এবং বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন রক্ষিত, অর্পিত, অর্জিত বনভূমি বন্দোবস্তি প্রদান করা যাইবে না।

(৩) কোনো বনভূমি বিধি মোতাবেক অবমুক্ত হইয়া থাকিলে সেই ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) ও (২) প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) এই আইন কার্যকর হইবার পর বন অধিদপ্তর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনভূমির জরিপ ও বনভূমির সীমানা চিহ্নিত করিতে এবং রেকর্ড হালনাগাদ করিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।

(৫) যে সকল দাগে বন বিভাগের আংশিক ভূমি রহিয়াছে, সেই সকল দাগ এবং বনভূমির দাগ সংলগ্ন খাস ভূমি বন্দোবস্তের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে অবহিত করিয়া যৌথ জরিপের মাধ্যমে বনভূমি ও খাস ভূমির সীমানা চিহ্নিত করিতে হইবে।

(৬) বনের অখণ্ডতা রক্ষার্থে সরকার বনের অভ্যন্তরে বিদ্যমান খাস ভূমি বন বিভাগের অনুকূলে হস্তান্তর করিতে পারিবে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি বন বিভাগের অনুকূলে অধিগ্রহণপূর্বক বন ঘোষণা করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে ভূমিসহ অন্যান্য ঐতিহ্যগত ও প্রথাগতভাবে ভোগকৃত বন অধিকার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে।

### বনভূমি সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা

৭। (১) কোনো প্রাকৃতিক বন বনবিরুদ্ধ বা বনবর্হিভূত কার্যে ব্যবহার করা যাইবে না, তবে অন্যান্য বনভূমির ক্ষেত্রে শুধু অপরিহার্য জাতীয় প্রয়োজনে এবং অন্য কোনো বিকল্প না থাকিলে নিরপেক্ষ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ, ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি, বিপদাপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ঝুঁকি বিবেচনা করিয়া মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার বনভূমির বনবর্হিভূত ব্যবহার (Non-Forest Use) অনুমোদন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের ক্ষেত্রে বিকল্প বা পরিপূরক বাস্তুসংস্থানের পরিকল্পনা বন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত হইবে এবং ইহার বাস্তবায়ন বন অধিদপ্তর তদারকি করিবে; এবং একইসঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিপরীতে প্রদেয় অর্থ বন অধিদপ্তর কর্তৃক আদায়যোগ্য হইবে, এবং এতদুদ্দেশ্যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য সরকার নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে।

(৩) ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিপরীতে আদায়যোগ্য অর্থ বন অধিদপ্তর পরিচালিত একটি নির্দিষ্ট তহবিলে জমা হইবে, যাহা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বনায়নের কার্যে ব্যবহৃত হইবে, এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্যে একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে।

### বনভূমি শর্তসাপেক্ষে বিনিময়

৮। (১) কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভূমির অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নভাবে এক একরের নিম্নে কোনো বনভূমি থাকিলে অপরিহার্যতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের অনুমোদনক্রমে বিনিময়ের অনুমতি প্রদান করা যাইবে ।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উক্ত বনভূমির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বন সংলগ্ন বনায়ন উপযোগী দ্বিগুণ নিষ্কণ্টক ভূমি উক্ত সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বন বিভাগকে হস্তান্তর করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হস্তান্তরিত ভূমি সরকার সংরক্ষিত বনভূমি হিসাবে ঘোষণা করিবে।

## চতুর্থ অধ্যায় - বৃক্ষ ব্যবস্থাপনা

### বৃক্ষ সংরক্ষণ ও কর্তনের বিধিবিধান

৯। (১) বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ধারা [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") এর ৪ ও ৬ এর অধীন গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিসরের বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ করা যাইবে।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব অর্পণ করিবেন।

(৩) গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকায় বর্ণিত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক, সময় সময়, রক্ষিত বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো বৃক্ষ কর্তন করা যাইবে না।

(৪) গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির বৃক্ষসমূহ উপ-ধারা (৫) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে কর্তন করা যাইবে।

(৫) কোনো ব্যক্তি অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় উল্লিখিত বৃক্ষ কর্তন করিতে চাহিলে তিনি সংশ্লিষ্ট বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবর বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড় (Girth at Breast Height-GBH), কর্তনের কারণ ইত্যাদি উল্লেখ করিয়া ফরম ‘ক’ পূরণ করিয়া আবেদন করিবেন, এবং বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফরেস্টারের নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো কর্মকর্তা দ্বারা আবেদন যাচাই-বাছাই ও বৃক্ষ পরিদর্শনের পর আবেদনের বিষয়ে কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।

(৬) পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌজা রিজার্ভে (VCF) বৃক্ষ কর্তনের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১), (৪) ও (৫) এর পরিবর্তে Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900 এর অধীন প্রণীত Rules for the Administration of the Chittagong Hill Tracts,1900 এর Rule 41A প্রযোজ্য হইবে।

(৭) বৃক্ষ কর্তনের আবেদন মঞ্জুর করা হইলে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নিশ্চিত করিবেন যে, কর্তিত বৃক্ষের বিপরীতে আবেদনকারী একই এলাকায় নির্দিষ্ট প্রজাতি ও সংখ্যার বৃক্ষরোপণ করিয়াছেন।

(৮) বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি বন অধিদপ্তরের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী বন সংরক্ষকের নিকট আপিল করিতে পারিবেন যাহা ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিযোগ্য হইবে।

(৯) এই ধারার কোনো বিধান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের আওতাধীন বনভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

(১০) কর্তন নিষিদ্ধ বৃ্ক্ষ এবং অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় উল্লিখিত বৃক্ষ ব্যতীত অন্যান্য সকল বাণিজ্যিক প্রজাতির বৃক্ষ বা গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ব্যবহৃত বৃক্ষ কর্তনের ক্ষেত্রে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমোদনের প্রয়োজন হইবে না।

(১১) উপ-ধারা (৩) ও (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিমালিকানাধীন বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণের ক্ষেত্রে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হইবে না, যথা:-

(ক) রোগাক্রান্ত বা মৃত বৃক্ষ;

(খ) ঝড়ে পড়া বৃক্ষ;

(গ) সড়ক যোগাযোগে বাধাসৃষ্টিকারী বৃক্ষ;

(ঘ) বজ্রপাত, অগ্নিকাণ্ড, ভারি বৃষ্টিপাত বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বৃক্ষ;

(ঙ) জননিরাপত্তা অর্থাৎ জীবন বা সম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ বৃক্ষ।

(১২) উপ-ধারা (৪) ও (৯) এর অধীন কর্তনকৃত বৃক্ষ অপসারণ বা পরিবহনের ক্ষেত্রে [Forest Act, 1927](/laws/act-144 "Act 144") এর ধারা ৪১  এর অধীন প্রণীত বনজদ্রব্য পরিবহন বিধিমালা প্রযোজ্য হইবে, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) বিভিন্ন শ্রেণির ভূমির বৃক্ষ কর্তন, অপসারণ ও পরিবহন Chittagong Hill Tracts Forest Transit Rules, 1973 অনুযায়ী পরিচালিত হইবে।

(১৩) বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে বৃক্ষের ক্ষতিসাধন করা যাইবে না।

(১৪) বন অধিদপ্তর বৃক্ষ সংরক্ষণ ও কর্তন সংক্রান্ত এই  আইনের বিধি-বিধানের ব্যাপক প্রচারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(১৫) এই আইন প্রবর্তনের তারিখ হইতে ৩ মাসের মধ্যে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষ এবং অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকা প্রকাশ করিবে এবং, সময় সময়, প্রয়োজনে, তালিকা হালনাগাদ করিতে পারিবে।

## পঞ্চম অধ্যায় - অপরাধ ও দণ্ড

### দণ্ড

১০। (১) ধারা ৯ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান লঙ্ঘনের জন্য আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে অতিরিক্ত দণ্ড হিসাবে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করিতে পারিবে।

(২) ধারা ৯ এর উপ-ধারা (৪) এর বিধান লঙ্ঘনের জন্য আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে অতিরিক্ত দণ্ড হিসাবে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করিতে পারিবে।

(৩) ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১৩) এর বিধান লঙ্ঘনের জন্য আদালত অপরাধী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন।

(৪) এই আইনের অধীন অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ফরেস্টার বা বিট অফিসার বা সমমানের পদের নিম্নে নহেন, এইরূপ কোনো ফরেস্ট অফিসার মামলা দায়ের, অপরাধ তদন্ত এবং উক্তরূপ তদন্তে সাক্ষ্য গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করিতে পারিবেন, অপরাধ তদন্তের উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি বা জব্দ বা নমুনা সংগ্রহ করিতে পারিবেন এবং যে কোনো আদালতে বিচারধীন মামলায় বন অধিদপ্তরের পক্ষে উপস্থিত হইয়া মামলা পরিচালনা কারিতে পারিবেন।

### কোম্পানি, ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

১১। কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানির এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

### আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণ

১২। এই আইন ও Forest Act,1927 প্রয়োগ বা উহাদের অধীন কার্য সম্পাদনের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ বন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে।

### অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

১৩। ধারা ৯ এর উপ-ধারা (৩), (৪), (১৩) এবং ধারা ১০ এর উপ-ধারা (৪) লঙ্ঘনের জন্য সংঘটিত অপরাধ আমল-অযোগ্য ও জামিনযোগ্য হইবে।

### Code of Criminal Procedure, 1898 এর প্রয়োগ

১৪। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Act 75") প্রযোজ্য হইবে।

## ষষ্ঠ অধ্যায় - বিবিধ

### অস্পষ্টতা দূরীকরণ

১৫। এই আইনের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে উক্তরূপ স্পষ্টীকরণ করিতে পারিবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়,  বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

১৭। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) ইংরেজি পাঠ এবং মূল বাংলা পাঠের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

১৮। (১) [বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬](/laws/act-1601 "Act 1601") (২০২৬ সালের ০৮ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত অধ্যাদেশ এর অধীন কৃত কোনো কার্য বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1685.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
