> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬

> জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা এবং ইহার সহিত সম্পর্কিত ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১০ এপ্রিল, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ৮০ নং আইন

যেহেতু বৈশ্বিক ক্রমবিকাশমান প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সহিত সামঞ্জস্য বিধান করিয়া ও নাগরিক সেবার সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করিতে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃপরিচালনের নীতিগত ও প্রযুক্তিগত কাঠামো প্রয়োজন; এবং

যেহেতু ব্যক্তিগত উপাত্তের সম্মতিভিত্তিক ও বৈধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সংরক্ষণ, স্থানান্তর, শনাক্তকরণ ও হালনাগাদকরণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, উপাত্তের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা এবং উদ্দেশ্যের নিরিখে উক্ত উপাত্তের আইনসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং দায়িত্ব পালনে আইনি বিধানের লঙ্ঘন বা বিচ্যুতির ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিতকরণার্থে সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান থাকা বাঞ্ছনীয়; এবং

যেহেতু সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মাঝে আইনানুগভাবে ব্যক্তিগত উপাত্ত বা অন্য কোনো উপাত্তের আন্তঃপরিচালন নিশ্চিত এবং উপাত্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক; এবং

যেহেতু এই সংক্রান্ত একটি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা এবং উপরিউক্ত উদ্দেশ্যসমূহ সাধনে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐক্যবদ্ধ সমন্বয় নিশ্চিত করা বিধেয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ণ করা হইল:—

## প্রথম অধ্যায় - প্রারম্ভিক

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ

১। (১) এই আইন [জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬](/laws/act-1709 "Act 1709") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা ৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) এই আইন নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা:—

(ক) সমগ্র বাংলাদেশে, এবং বাংলাদেশের বা অন্য কোনো আইনি সত্তার মালিকানাধীন যে কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ বা কৃত্রিম উপগ্রহের পরিচালনা সংক্রান্ত কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত থাকিলে;

(খ) কোনো ব্যক্তি, মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, সংবিধিবদ্ধ, সাংবিধানিক এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধিতে সৃষ্ট ও রক্ষিত ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্ত বা তথ্য একাধিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মাঝে পারস্পরিক সমাঝোতার ভিত্তিতে উদ্দেশ্যের নিরিখে (need and purpose based) আইনসম্মতভাবে আন্তঃপরিচালন এবং সমন্বয় সাধন।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) “আন্তঃপরিচালন (interoperability)” অর্থ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য-ব্যবস্থা ও সেবার মধ্যে তথ্য, উপাত্ত বিনিময়ের এমন একটি সমন্বয়মূলক সক্ষমতা, যাহার মাধ্যমে উপাত্ত ও সেবা প্রযুক্তিগত (technological), অর্থগত (semantic), আইনি (legal) ও সাংগঠনিক (organizational) স্তরে নিরাপদ, প্রমিত ও অর্থপূর্ণভাবে বিনিময় ও ব্যবহারযোগ্য হয়, এবং জনসেবামূলক উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃপরিচালন ব্যবস্থাপনার অধীন সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সমন্বিত, দক্ষ ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রযোজ্য;

(২) “অ্যাপ্লিকেশন (application)” অর্থ এমন কোনো ধরনের নির্দেশনা বা নির্দেশনার সমষ্টি যাহা কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে পরিচালনা করা হইলে উক্ত সিস্টেম কম্পিউটারের কার্যসমূহ পরিচালনা করে, এবং উক্ত উদ্দেশ্যে কম্পিউটারের সিস্টেমে কার্যকর অপসারণযোগ্য মাধ্যমসমূহ দ্বারা সম্পন্ন নির্দেশাবলিসহ কম্পিউটারের সিস্টেমের ডাটাবেস-প্রোগ্রাম, ওয়ার্ড প্রসেসর, ওয়েব ব্রাউজার, স্প্রেডশিট, উন্নয়ন সরঞ্জাম, অঙ্কন, রং, ইহার ইমেজ এডিটিং প্রোগ্রাম, যোগাযোগ প্রোগ্রাম, ইত্যাদিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৩) “উপাত্ত (data)” অর্থ ইলেকট্রনিক, অডিও, ভিজ্যুয়াল, লিখিত বা অন্য কোনো ডিজিটাল আকারে সংরক্ষিত যেকোনো তথ্য, রেকর্ড বা লগ;

(৪) “উপাত্তধারী (data-subject)” অর্থ ব্যক্তিগত উপাত্ত সংশ্লিষ্ট কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি যিনি শনাক্ত বা শনাক্তযোগ্য কিংবা জীবিত বা মৃত যাহাই হউক না কেন;

(৫) “উপাত্ত চ্যুতি (data breach)” অর্থ উপাত্তের নিরাপত্তার চ্যুতি যাহার ফলে কোনো উপাত্তে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ বা বেআইনিভাবে স্থানান্তর, প্রকাশ, পরিবর্তন বা যথাযথ প্রক্রিয়া ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত দুর্ঘটনা, বিনষ্ট, ক্ষতি, অনুপ্রবেশের সুযোগ বিদ্যমান থাকে;

(৬) “উপাত্ত-জিম্মাদার (data-fiduciary)” অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি, একক বা যৌথভাবে, কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে, কার্যসম্পাদনের আইনগত ভিত্তির উপস্থিতি সাপেক্ষে বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়া করেন বা উক্ত উদ্দেশ্যে উহা তত্ত্বাবধান করেন বা ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের উদ্দেশ্যে অন্য কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান করেন;

(৭) “এপিআই (application programming interface)” অর্থ একটি মান পদ্ধতি, যাহা দ্বারা এক বা একাধিক সফটওয়্যারের উপাদানসমূহ উপাত্ত আদানপ্রদান বা প্রক্রিয়াকরণ করিতে পারে;

(৮) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ;

(৯) “কম্পিউটার” অর্থ [তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬](/laws/act-950 "Act 950") (২০০৬ সালের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ২(১৩) এ সংজ্ঞায়িত কম্পিউটার;

(১০) “গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত-জিম্মাদার (significant data-fiduciary)” অর্থ নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির ভিত্তিতে, সরকার কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত প্রতিষ্ঠান:—

(ক) রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের উপর সম্ভাব্য প্রভাব;

(খ) উপাত্তের পরিমাণ বা প্রক্রিয়াকৃত উপাত্তের আর্থিক সংশ্লেষ;

(গ) উপাত্তধারীর অধিকারের উপর ঝুঁকি;

(ঘ) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসুরক্ষা, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং জনস্বাস্থ্যের উপর সম্ভাব্য হমকি;

(১১) “ছদ্মনামীকরণ (pseudonymization)” অর্থ ব্যক্তিগত উপাত্ত এমনভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা, যাহাতে অতিরিক্ত ও পৃথকভাবে সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার ব্যতীত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উক্ত তথ্যের সহিত সম্পর্কিত করা যায় না;

(১২) “জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা (national data governance)” অর্থ রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট উপাত্তের সমগ্র জীবনচক্রে (data life-cycle) আইনসম্মত উদ্দেশ্য, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরীক্ষা যোগ্যতার নীতি মানিয়া একীভূত নীতিমালা, মানদণ্ড, প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম পরিচালনা, যথা:—

(ক) শ্রেণিবিন্যাস ও প্রক্রিয়াকরণের মান নির্ধারণ;

(খ) সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, গুণগত নিশ্চয়তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ;

(গ) নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও জিরো-ট্রাস্টভিত্তিক সুরক্ষা;

(ঘ) আন্তঃপরিচালন, বৈধ পুনঃব্যবহার (re-sharing) ও ন্যূনতমতার (minimization) নীতি নির্ধারণ; এবং

(ঙ) সংরক্ষণকাল, আর্কাইভিং ও ধ্বংসকরণ।

(১৩) “জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার (zero-trust architecture)” অর্থ একটি নিরাপত্তা মডেল, যেখানে প্রতিটি উপাত্ত, ব্যবহারকারী, ডিভাইস বা সেবা-সংক্রান্ত অনুরোধ উৎপত্তি নির্বিশেষে সন্দেহমুক্ত ধরা হয় না; বরং পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা নীতি ও নিয়মাবলি অনুসরণ করিয়া প্রত্যেকটি অনুরোধের পরিচয় যাচাই, অনুমোদন ও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অধিকার প্রদানের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়, যাহার মাধ্যমে উপাত্ত ও সেবার সার্বিক গোপনীয়তা, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা সংরক্ষিত থাকে;

(১৪) “টোকেন (token)” অর্থ একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে সুরক্ষিত, সময়-সীমাযুক্ত প্রমাণপত্র, যাহা এপিআই অ্যাক্সেসের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করে;

(১৫) “ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডিপিআই (Digital Public Infrastructure, DPI)” অর্থ মান-অনুগ, পুনঃব্যবহারযোগ্য ও সেক্টর (খাত)-নিরপেক্ষ মূল ডিজিটাল সক্ষমতা, নেটওয়ার্ক ও প্ল্যাটফর্মসমূহের সমষ্টি, যাহা জনসেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বেসরকারি সেবায় পরিচয়/প্রমাণীকরণ, অনুমোদন, উপাত্ত-বিনিময়/আন্তঃপরিচালন ও নিরাপদ আদান-প্রদান/অর্থপ্রদান ইত্যাদি সক্ষমতা প্রদান করে; যাহার নকশা, পরিচালনা ও সনদায়ন কর্তৃপক্ষ ঘোষিত জাতীয় স্থাপত্য ও মানদণ্ড (যেমন “বাংলাদেশ জাতীয় উপাত্ত ও আন্তঃপরিচালন স্থাপত্য (BNDIA)” ও “জাতীয় দায়িত্বশীল উপাত্ত বিনিময় (NRDEX)”) অনুযায়ী সম্পাদিত হইবে; এবং যাহা জিরো-ট্রাস্ট নিরাপত্তা, ছদ্মনামীকরণসহ গোপনীয়তা-রক্ষাকারী নীতি, ন্যূনতমতা, উদ্দেশ্য-সীমাবদ্ধতা ও নিরীক্ষা যোগ্যতার নীতি অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত ও ব্যবহৃত হইবে;

(১৬) “নির্বাহী চেয়ারম্যান” অর্থ ধারা ১২ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান;

(১৭) “ন্যাশনাল রেসপন্সিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম, এনআরডিএক্স (National Responsible Data Exchange, NRDEX Platform)” অর্থ একটি সুরক্ষিত এপিআই (API) ভিত্তিক স্তর, যাহা সংস্থা ও সেবাসমূহের মধ্যে উদ্দেশ্য-ভিত্তিক উপাত্ত প্রবাহকে সক্ষম করে;

(১৮) “প্রক্রিয়াকরণ” অর্থ ব্যক্তিগত উপাত্তের উপর চলমান বা সম্পাদিত যেকোনো কার্যক্রম, উহা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হউক বা না হউক, যেমন-উপাত্ত সংগ্রহ, লিপিবদ্ধ, বিন্যাস (organization), গঠন (structuring), মজুত (Storage), ধারণ (retention), স্থানান্তর, অভিযোজন বা পরিবর্তন, পুনরুদ্ধার, ব্যবহার, সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রকাশ, বিতরণ বা অন্য কোনোভাবে প্রাপ্তিসাধ্য, সারিবদ্ধ (alignment) বা সংযোজন (combination), সীমিত বা বিনষ্ট করা অথবা মুছিয়া ফেলা;

(১৯) “প্রক্রিয়াকারী (processor)” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা, যাহারা একজন জিম্মাদারের পক্ষে ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ করে;

(২০) “বাংলাদেশ জাতীয় উপাত্ত ও আন্তঃপরিবাহিতা আর্কিটেকচার (BNDIA)” অর্থ সরকার অনুমোদিত রেফারেন্স আর্কিটেকচার, যাহা জাতীয় আন্তঃপরিবাহিতার ভিত্তি হিসাবে কাজ করে, এবং ফিজিক্যাল লেয়ার ও সফটওয়্যার উভয়ই ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২১) “বোর্ড” অর্থ ধারা ৫ এ উল্লিখিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা নীতি নির্ধারণী বোর্ড;

(২২) “ব্যক্তি” অর্থ-

(অ) উপাত্তধারীর ক্ষেত্রে, যে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি; বা

(আ) উপাত্ত-জিম্মাদার বা প্রক্রিয়াকারীর ক্ষেত্রে, কোনো আইনগত ব্যক্তিসত্তা;

(২৩) “ব্যক্তিগত উপাত্ত” অর্থ কোনো ব্যক্তিসম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত, যেমন-নাম, শনাক্তকরণ সংক্রান্ত উপাত্ত, যোগাযোগ সংক্রান্ত উপাত্ত, আর্থিক উপাত্ত (financial data), অবস্থান (location) চিহ্নিতকরণ উপাত্ত বা অনুরূপ অন্য কোনো অনলাইন শনাক্তকারী উপাত্ত অথবা কোনো একক ব্যক্তির পিতা-মাতার নাম, শারীরিক, শরীরবৃত্তীয়, জেনেটিক, বায়োমেট্রিক, মনস্তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য সংবলিত উপাদান ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য সংবলিত উপাদান, যাহার দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়;

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, নিরাপত্তা বিধান, ব্যক্তি পরিচয় শনাক্তকরণসহ সার্বিকভাবে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃপরিচালনের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

### আইনের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ

৪। এই আইনের বিধানাবলি বাস্তবায়নকল্পে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে, বিধিমালায় নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এবং আদালতের অতিরাষ্ট্রিক এখতিয়ার রহিয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।

## দ্বিতীয় অধ্যায় - জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা নীতি নির্ধারণী বোর্ড

### জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা নীতি নির্ধারণী বোর্ড

৫। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করিয়া নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা নীতি নির্ধারণী বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকিবে, যথা:-

(ক) প্রধানমন্ত্রী -চেয়ারম্যান;

(খ) মন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়-সদস্য;

(গ) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সদস্য;

(ঘ) মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সদস্য;

(ঙ) মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সদস্য;

(চ) মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সদস্য;

(ছ) মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়-সদস্য;

(জ) মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সদস্য;

(ঝ) মন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়- সদস্য;

(ঞ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সদস্য;

(ট) মুখ্যসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সদস্য;

(ঠ) গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক- সদস্য;

(ড) সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ- সদস্য;

(ঢ) নির্বাহী চেয়ারম্যান- সদস্য;

(ণ) সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়- সদস্য;

(ত) স্পিকার কর্তৃক মনোনীত জাতীয় সংসদের দুইজন সদস্য, তন্মধ্যে একজন হইবেন সরকারি দল হইতে, এবং অন্যজন হইবেন বিরোধী দলের-সদস্য;

(থ) সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ডেটা সায়েন্টিস্ট/সলিউশন আর্কিটেক্ট, ডেটা গভর্নেন্স এবং ইন্টারঅপারেবিলিটি এক্সপার্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা/লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এক্সপার্ট, ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড এক্সপার্ট, উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ- প্রতিটি ক্ষেত্র হইতে ১ জন করিয়া সরকার কর্তৃক মনোনীত ৬ (ছয়) জন বিশেষজ্ঞ সদস্য (subject matter expert), যাহার মধ্যে অন্তত দুইজন হইবেন মহিলা-সদস্য; এবং

(দ) নাগরিক সমাজ বা মানবাধিকার সম্পর্কিত সংগঠন হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিনিধি- সদস্য।

(২) নির্বাহী চেয়ারম্যান, বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন, এবং বোর্ডের কার্যসম্পাদনে কর্তৃপক্ষকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (থ) ও (দ) এর অধীন মনোনীত কোনো ব্যক্তির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে বিধিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণে, সরকার, তাহাকে সদস্যপদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, এবং তদস্থলে অন্য একজন সদস্য মনোনীত করিবে।

### নীতি নির্ধারণী বোর্ডের সভা

৬। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।

(২) বোর্ডের সকল সভা, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক আহূত হইবে।

(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে বোর্ডের জ্যেষ্ঠ্যতম সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

(৫) বোর্ডের সভার কোনো আলোচ্যসূচির উপর সরকারের কোন বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব বা সংস্থা প্রধানের, বা বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণের সুবিধার্থে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো যাইবে।

(৬) প্রতি ৬ মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

### জরুরি পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদানের ক্ষমতা

৭। এই আইনের আওতাভুক্ত বা সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো বিষয়ে জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং উহা তাৎক্ষণিক সমাধানকল্পে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় কিংবা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে পারিবেন।

## তৃতীয় অধ্যায় - জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা ও গঠন, ইত্যাদি

### জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি

৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হইবে।

(২) কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহিত সংযুক্ত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

### কর্তৃপক্ষ গঠন

৯। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ১ (এক) জন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ৬ (ছয়) জন সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করিবে, যথা:-

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত যেকোনো সদস্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করিবেন এবং তাহার সম্পাদিত কর্মের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দায়বদ্ধ থাকিবেন।

(৩) কর্মবণ্টন ও দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সদস্যগণের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্জিত অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও সততা প্রাধান্য পাইবে।

### কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

১০। (১) কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীগণের নিম্নবর্ণিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে, যথা:—

(ক) নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হইতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যূনতম ১৫ (পনের) বৎসরের কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে;

(খ) সদস্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হইতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যূনতম ১০ (দশ) বৎসরের কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে।

(২) কোনো ব্যক্তি নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি—

(ক) বাংলাদেশের নাগরিক না হন;

(খ) কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ খেলাপি হিসাবে ঘোষিত হন;

(গ) আদালত কর্তৃক দেউলিয়া অথবা অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হন;

(ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক অন্যূন ২ (দুই) বৎসর বা তদুর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং উক্ত দণ্ড হইতে মুক্তি লাভের পর ৫ (পাঁচ) বৎসর সময় অতিক্রান্ত না হয়; এবং

(ঙ) নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে নিয়োজিত থাকাকালীন তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথানিয়মে তাহার নিয়োগের অবসান ঘটে।

(৩) কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত কোনো কিছুতে ব্যবসায়িক স্বার্থ রহিয়াছে এমন কোনো ব্যক্তি নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে নিয়োগের যোগ্য হইবেন না।

(৪) নির্বাহী চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য ধারা ১২ এর বিধান সাপেক্ষে ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বৎসর বয়স পর্যন্ত স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন।

(৫) নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্তির পর তিনি নিজ নামে বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে এই আইনের পরিধিভুক্ত খাতে ব্যবসায়িক স্বার্থে জড়িত হইতে পারিবেন না এবং চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্তির পূর্বে এই ধারার বিধানাবলির সহিত তাহার যোগ্যতার অসামঞ্জস্যতা না থাকা সম্পর্কে একটি ঘোষণাপত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বা সরকারের নিকট জমা প্রদান করিবেন।

### নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিয়োগের অবসান

১১। কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর যে কোনো সময় যদি উদঘাটিত হয় যে, চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য পদে নিয়োগ লাভের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন, বা দায়িত্ব পালনকালে নৈতিক স্খলন বা ক্ষমতার অপব্যবহারে অর্থলাভ বা অন্য কোনো সুবিধা লাভ করিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে বহাল থাকিবার অনুপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন এবং সরকার নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাহী চেয়ারম্যান বা, ক্ষেত্রমত, সদস্যের চাকরির অবসান ঘটাইতে পারিবে।

### নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিয়োগ ও মেয়াদ

১২। (১) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ধারা ১০ এ বর্ণিত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধান ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত তাহাদের যোগ্যতা ও চাকরির শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।

(২) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সভাপতি;

(খ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন-সদস্য;

(গ) সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সদস্য;

(ঘ) প্রধানমন্ত্রী মনোনীত ২ (দুই) জন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি (কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটাসায়েন্স কিংবা সমতুল্য অনুষদের ডিন বা প্রধান মর্যাদার, একজন সরকারি ও একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে)-সদস্য; এবং

(ঙ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত আইসিটি বিষয়ক কর্মকর্তা-সদস্য।

(৩) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই ও পর্যালোচনা বৈঠকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।

(৪) বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি বৎসরে অন্তত একবার কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করিবে ও বৈঠক করিবে এবং এই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্ম-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৫) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদে সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন সাপেক্ষে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।

(৬) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ ২ (দুই) মেয়াদের বেশি নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সদস্য প্রথম মেয়াদে সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকিবে না।

(৭) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন।

(৮) কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন উহার দায়িত্ব পালনে সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি-নির্দেশনা (policy guidelines) অনুসরণ করিবে।

(৯) নির্বাহী চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে, বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে নির্বাহী চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান দায়িত্বভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা নির্বাহী চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতম সদস্য অস্থায়ীভাবে নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।

### নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য পদ পূরণ

১৩। নির্বাহী চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ বা স্বীয় পদ ত্যাগ করিলে বা অপসারিত হইলে, সরকার উক্ত পদ শূন্য হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে শূন্য পদে নিয়োগ করিবে।

### সদস্যপদে শূন্যতার কারণে কার্য বা কার্যধারা অবৈধ না হওয়া

১৪। কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

### নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, পদমর্যাদা, ইত্যাদি

১৫। (১) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকরির অন্যান্য শর্ত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(২) দেশে-বিদেশে কর্মরত মেধাবী, উদ্ভাবনশীল ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিগণকে কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে নিয়োগে আকৃষ্ট করিবার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্তানুযায়ী আর্থিক ভাতা বা অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করা যাইবে।

### নির্বাহী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা

১৬। (১) নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।

(২) নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সদস্যগণের দায়িত্ব পালন ও কর্ম সম্পাদন সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত ক্ষমতা বিধি বা প্রবিধানের বিধান অনুসরণে নির্বাহী চেয়ারম্যান এইরূপভাবে সম্পাদন করিবেন যাহাতে সদস্যগণের তাহাদের কর্মপরিধিভুক্ত বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাগ্রস্ত না হয়।

(৪) নির্বাহী চেয়ারম্যান এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে ও অন্য কোনো আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইলে তদসংশ্লিষ্ট বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে তাহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।

### নির্বাহী চেয়ারম্যানের ও সদস্যদের কার্যাবলি

১৭। নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, এই আইন বা অন্য কোনো আইন দ্বারা কর্তৃপক্ষের উপর আরোপিত কার্যাবলি উদ্দেশ্যের নিরিখে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সময়োপযোগী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

### কর্তৃপক্ষের কার্যালয়

১৮। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

### কর্তৃপক্ষের সভা

১৯। (১) কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অন্যান্য বিধান এবং প্রবিধান দ্বারা উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) কর্তৃপক্ষের সভা নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে, এবং কর্তৃপক্ষের সকল সভায় নির্বাহী চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন।

(৩) কর্তৃপক্ষের সভায় কোরামের জন্য নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ অন্যূন ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

(৪) সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির একটি অতিরিক্ত নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৫) কর্তৃপক্ষের সকল সিদ্ধান্ত সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিতে গৃহীত হইবে।

### কর্তৃপক্ষের সচিব

২০। (১) সরকার, যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে কর্তৃপক্ষের সচিব নিয়োগ করিবে।

(২) সচিব নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবেন, যথা:—

(ক) নির্বাহী চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী প্রবিধানের বিধানাবলি অনুসরণে কর্তৃপক্ষের সভা আহবান এবং অন্যান্য সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা;

(খ) নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যগণের চাহিদা অনুযায়ী এই আইন বা অন্য কোনো আইন দ্বারা কর্তৃপক্ষের উপর অর্পিত যে কোনো কার্য, এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহিত দাপ্তরিক যোগাযোগ;

(গ) অফিস পরিচালনার সহিত সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষের প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় যে কোনো কার্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণে বা তাহার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিপালন।

### কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি

২১। (১) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং এইরূপ প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, প্রশাসনিক আদেশ দ্বারা, এই সকল বিষয়ে অনুসরণীয় নিয়মাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৩) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরামর্শক নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৪) কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের কল্যাণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনসহ অন্যবিধ স্কীম প্রণয়ন, উহার নিয়ন্ত্রণ এবং এইরূপ তহবিল বা স্কীমে অর্থ যোগান, ইত্যাদির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

### প্রেষণে কর্তৃপক্ষের জনবল নিয়োগ

২২। কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সম্পাদনের লক্ষ্যে যে কোনো সরকারি কর্মচারী বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীকে, তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে।

## চতুর্থ অধ্যায় - কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি ও ক্ষমতা

### কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি

২৩। কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) এই আইন বা দেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিল, চুক্তি, ইত্যাদি দ্বারা অর্পিত যে কোনো কার্য;

(খ) সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে ব্যক্তিগত উপাত্তসহ অন্য যে কোনো উপাত্ত উদ্দেশ্যের নিরিখে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আন্তঃপরিচালন, ইহার সমন্বয় সাধন ও তত্ত্বাবধান;

(গ) বোর্ডের সুপারিশসমূহ কার্যকরকরণ;

(ঘ) “বাংলাদেশ জাতীয় উপাত্ত ও আন্তঃপরিচালন স্থাপত্য (Bangladesh National Data Governance and Interoparability Architecture)” ও NRDEX প্ল্যাটফর্ম এর নকশা, প্রতিষ্ঠা, প্রস্তুতকরণ ও বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, এতদসংক্রান্ত যাবতীয় নীতি নির্ধারণ, এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে সাথে উহাদের হালনাগাদকরণ;

(ঙ) নাগরিককে সেবা প্রদান ও সরকারি কার্যক্রম সংক্রান্ত উপাত্ত ভান্ডার ও সফটওয়্যার সিস্টেমকে যথাক্রমে জাতীয় উপাত্ত ভান্ডার ও রাষ্ট্রীয় সফটওয়্যার সম্পদ ঘোষণা করিয়া তাহাদের বিশেষ পরিবীক্ষণের প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহিত যথাক্রমে নীতিগত ও কারিগরি সমন্বয় সাধন করিতে হইবে;

(চ) NRDEX প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে কোনো উপাত্ত আদান-প্রদান করিবার পূর্বে, প্রাপক কিংবা প্রদানকারী উভয় পক্ষের সহিত বৈধ তথ্য পুনঃব্যবহার চুক্তি (Data Resharing Agreement, DRA) সম্পাদন, এবং উপাত্ত বিনিময় সংক্রান্ত ত্রিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে পক্ষভুক্ত হওয়া;

(ছ) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উভয়ের পরস্পরের মধ্যে উপাত্ত প্রবাহের নীতিমালা প্রণয়ন ও সমন্বয়;

(জ) যেকোনো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মানসম্পন্ন উপাত্ত-ব্যবস্থাপনা এবং উক্ত প্ল্যাটফর্ম ও ব্যবহারকারী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;

(ঝ) সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাসমূহে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার (enterprize software) ও আইটি অবকাঠামোর (IT infrastructure) নিরাপদ ও মানসম্মত ব্যবহারের নির্দেশিকা প্রণয়ন;

(ঞ) সমন্বিত ইলেকট্রনিক নাগরিক আইডেন্টিফিকেশন (e-ID) ও প্রমাণীকরণ ব্যবস্থা বিকাশ ও তত্ত্বাবধান করা, এবং NRDEX প্ল্যাটফর্ম এর সহিত এই ব্যবস্থার ইন্টারফেসিং নিশ্চিতকরণ; এই মর্মে ধারা ২৯ এ বর্ণিত মৌলিক নাগরিক উপাত্তের উপাত্তভান্ডারগুলির সমন্বয়ে একটি আইডেন্টিটি লেয়ার (Identity Layer) স্থাপন এবং জাতীয় সমন্বিত পরিচয় ব্যবস্থাপনা (Unified/Universal Identity Management) সিস্টেম গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, এবং সঠিকতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বর্ণিত সমন্বিত সিস্টেমে সিস্টেম-ওয়াইড তথ্য হালনাগাদকরণ;

(ট) নাগরিক সেবাসমূহের কার্যকারিতা ও সন্তুষ্টি পরিমাপক সূচক প্রণয়ন ও নিয়মিত পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সেবার মান উন্নয়নের জন্য প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে পরামর্শ প্রদান;

(ঠ) সরকারি কার্যক্রমে দুর্নীতি, অনিয়ম বা অপচয় প্রতিরোধে তথ্যভান্ডারের উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকি বা অসামঞ্জস্যতা শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিদমন বা তদারকি সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য-সহায়তা প্রদান;

(ড) তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃপরিচালন বিষয়ে এ আইনের অধীনে প্রণীত জাতীয় অনুসরণযোগ্যতা (compliance) মানদণ্ড প্রণয়ন এবং সরকারি ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাসমূহের সেই মানদণ্ড প্রতিপালনের স্তর নিরীক্ষণ ও প্রত্যয়ন (certification);

(ঢ) জাতীয় কোড রেপোজিটরি বা সংরক্ষণাগার প্রতিষ্ঠা, যেখানে সরকারি উদ্যোগে তৈরিকৃত বা ক্রয়কৃত সকল সফটওয়্যারের সম্পূর্ণ ডকুমেন্টেশনসহ (কনফিগারেশন, ডেপ্লয় দেওয়ার পদ্ধতি ইত্যাদি বর্ণনসহকারে সম্পূর্ণ) হালনাগাদকৃত সোর্সকোড (ভার্শন কন্ট্রোলসহ), এবং জাতীয় কোড রেপোজিটরির কোড রাষ্ট্রীয় সফটওয়্যারে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকিবে;

(ণ) জাতীয় উপাত্তভান্ডার ইকোসিস্টেম (National Datacentre Ecosystem, NDE) এর পরিধি নির্ধারণ, নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম ও প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, ডিআর (Disaster Recovery) শেয়ারিং, ডেটা ট্রাফিক লোড শেয়ারিংসহ এই ইকোসিস্টেমকে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক উপযোগিতা নিশ্চিতকল্পে সরকারকে নীতি সহায়তা প্রদান;

(ত) সকল গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত-জিম্মাদারের ও কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপাত্ত কর্মকর্তা এবং টেকনিক্যাল টিমের সহিত সরাসরি যোগাযোগ করা ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, নীতি ও মান বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান;

(থ) উপাত্ত-জিম্মাদার ও প্রক্রিয়াকারীদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও প্রয়োজনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

### বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা

২৪। কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য কর্তৃপক্ষ চাহিত সহায়তা, যাচিত অনুরোধ বা প্রদত্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান অনাগ্রহ বা অবহেলা করিলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সমীপে উপস্থাপন করিবে, এবং উক্তরূপে প্রাপ্ত প্রতিকারের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হইবে।

### আইনের বিধান বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসন

২৫। এই আইনের কোনো বিধানের অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর কবিরার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার এই আইনের অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

### কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতা অর্পণ

২৬। কর্তৃপক্ষ, এই আইনের বিধানে উল্লিখিত উহার উপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব লিখিত আদেশ দ্বারা কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত বা উহার নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কোনো দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।

### কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা

২৭। (১) কর্তৃপক্ষ এই আইন বা অন্য যে কোনো আইন দ্বারা উহার উপর অর্পিত দায়িত্ব, কার্যক্রম ও ক্ষমতাবলির উদ্দেশ্য সাধনকল্পে প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে যে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে প্রযোজ্যতা অনুযায়ী নির্দেশ বা পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যকর হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত পরামর্শ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পরামর্শ অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে যথানিয়মে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবে।

### কমিটি গঠন

২৮। কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য যে কোনো সদস্য এবং কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তি সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন এবং উহার কর্মপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

## পঞ্চম অধ্যায় - উপাত্তের আন্তঃপরিচালন, ব্যবস্থাপনা, এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ/সংবেদনশীল উপাত্ত বিনিময়ের বিশেষ বিধান

### উপাত্ত-ভান্ডারের স্তরসমূহ

২৯। আন্তঃপরিচালন ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালনার স্বার্থে উপাত্তভান্ডারসমূহকে নিম্নবর্ণিত ৫ (পাঁচ) ভাগে বিভক্ত করা যাইবে, যথা:—

(ক) সর্বজনীন মৌলিক নাগরিক উপাত্ত (core citizen data) সংক্রান্ত উপাত্তভান্ডার;

(খ) সরকারি নীতি ও প্রশাসন (Government Policy & Administration) সংক্রান্ত উপাত্তভান্ডার;

(গ) সরকারি খাতে সেবা প্রদান (Public Sector Service Delivery) সংক্রান্ত উপাত্তভান্ডার;

(ঘ) বেসরকারি খাতে সেবা প্রদান (Private Sector Service Delivery) সংক্রান্ত উপাত্তভান্ডার।

(ঙ) স্বায়ত্তশাসিত খাতে সেবা প্রদান (Autonomous Sector Service Delivery) সংক্রান্ত উপাত্তভান্ডার।

### ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্তের জাতীয় ব্যবস্থাপনা

৩০। (১) ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য কাঠামো বিনির্মাণের স্বার্থে পর্যায়ক্রমিক (phase-wise) কার্যক্রম গ্রহণ করিতে হইবে।

ব্যাখ্যা।—এই উপ-ধারায় বর্ণিত কার্যক্রম নিম্নবর্ণিতভাবে পর্যায়ক্রমে সম্পাদন করিতে হইবে, যথা:-

(ক) সিস্টেম ইন্টারঅপারেবিলিটি;

(খ) জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, উপাত্তভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা।

(২) বিদ্যমান চুক্তিভিত্তিক বা অন্যান্য উপায়ে সরকারি-বেসরকারি পক্ষসমূহের মধ্যে উপাত্ত বিনিময়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত মানদণ্ড অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সংগৃহীত উপাত্তের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখিয়া কোনো এক বা একাধিক উদ্দেশ্যের নিরীখে ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্ত পুনর্ব্যবহার (re-use) করিতে পারিবে।

(৩) বিধি, প্রবিধান, সাধারণ পরিচালন-পদ্ধতি, নীতিমালা বা আদেশ ইত্যাদি দ্বারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত মান বজায় রাখিয়া উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পক্ষগণ ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্ত বিনিময় করিতে পারিবে।

(৪) কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধিতে সৃষ্ট ব্যক্তিগত উপাত্ত বা অন্য কোনো উপাত্তের, এই অধ্যায় বা আইনের অন্য কোনো বিধানে বর্ণিত আন্তঃপরিবাহিতা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা প্রবিধানের বিধান অনুসারে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করিবে।

(৫) কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থা উহার অধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত মান ও নীতিমালা অনুসরণ করিয়া উক্ত মন্ত্রণালয় বা সংস্থার আওতাধীন সেবা ও কার্যক্রমের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ (need and purpose based) বিষয়ভিত্তিক বা সেক্টোরাল আন্তঃপরিচালন গেটওয়ে কাঠামো গঠন করিতে পারিবে, এবং এইরূপ যেকোনো বিষয়ভিত্তিক আন্তঃপরিচালন কাঠামো অবশ্যই কর্তৃপক্ষের NRDEX প্ল্যাটফর্ম এর সহিত কারিগরিভাবে যুক্ত হইবে।

(৬) তফসিলভুক্ত সংস্থাসমূহসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উহাদের তত্ত্বাবধানে রক্ষিত উপাত্তভান্ডার প্রবিধানের বিধান অনুসরণে NRDEX প্ল্যাটফর্ম এর সহিত সংযুক্তি সম্পন্ন করিবে।

(৭) NRDEX প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করিয়া এবং ইহার সহিত সংযুক্ত হইয়া সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সেবাদান প্রক্রিয়া সহজীকরণের নিমিত্ত এবং দুর্নীতি দমনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপ্লিকেশনসমূহ প্রয়োগ করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অ্যাপ্লিকেশনসমূহ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিপিপি প্রণয়ন ও পর্যালোচনা, পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট প্রোসেস রিভিউ এবং পর্যালোচনা, কর-জাল বৃদ্ধি, আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি রোধ, বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানগত অসামাজ্যতা অডিট ও নিরীক্ষা এবং বাৎসরিক উন্নয়ন বাজেটের সঠিক বাস্তবায়ন এবং সহজ নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত করিতে হইবে।

### রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ/সংবেদনশীল উপাত্ত বিনিময়ের বিশেষ বিধান

৩১। (১) এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নে বর্ণিত উপাত্তসমূহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ/সংবেদনশীল উপাত্ত হিসেবে বিবেচিত হইবে, যথা-

(ক) রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা সম্পর্কিত উপাত্ত;

(খ) জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইতে পারে এইরূপ কোনো উপাত্ত;

(গ) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমারেখা ও সীমান্তের সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট কোনো উপাত্ত;

(ঘ) [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](/laws/act-957 "Act 957") ের অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) এর অধীন ঘোষিত জরুরী অবস্থা সম্পর্কিত কোনো তথ্য; এবং

(ঙ) সরকার ঘোষিত কোনো তথ্য বা উপাত্ত যাহা জনশৃঙ্খলা, ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনাক্রমে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা উহাতে উল্লিখিত সীমা ও শর্তে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য বা উপাত্ত আন্তঃপরিচালন, বিনিময়, ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে।

### উপযোগিতার নিরিখে আন্তঃপরিচালন ও উপাত্ত-ভান্ডারের উন্নয়ন

৩২। (১) ধারা ৩০ এর বাস্তবায়নকালে, কর্তৃপক্ষের নিকট সঙ্গত কারণে সময়োপযোগী প্রতীয়মান হইলে, তফসিলভুক্ত সংস্থাসমূহের উপাত্ত বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় উপাত্তভান্ডার-ব্যবস্থায় মজুত করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তফসিলভুক্ত সংস্থাসমূহ উহাদের নিজস্ব এখতিয়ারাধীন প্রযোজ্যতা অনুযায়ী ব্যক্তিগত উপাত্ত বা অন্য কোনো উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ এবং জাতীয় উপাত্ত-ভান্ডারে হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত এই আইন বা অন্য কোনো আইনে উহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব বাধ্যতামূলকভাবে পালন করিবে।

## ষষ্ঠ অধ্যায় - মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও অন্যান্যদের দায়িত্ব, ইত্যাদি

### মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা ও অন্যান্যদের দায়িত্ব

৩৩। (১) প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান তাহার প্রতিষ্ঠানে বা সংস্থায় আন্তঃপরিচালন বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন, এবং তিনি নিম্নবর্ণিত দায়িত্বসমূহ পালন করিবেন, যথা:-

(ক) এই আইনের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ আন্তঃপরিচালনার রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;

(খ) কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে বিশেষ বিবেচনায় “জাতীয় আন্তঃপরিচালন নীতিমালা” অনুসারে কোনো খাতের জন্য সেই খাতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে সংযুক্ত করিয়া নির্দিষ্ট আন্তঃপরিচালন কাঠামোর NRDEX প্ল্যাটফর্ম গঠন, পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে উক্ত কাঠামোর সহিত বাধ্যতামূলকভাবে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংযুক্তিকরণ;

(গ) নিজ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন এবং প্রধান উপাত্ত কর্মকর্তা নিয়োগ বা উক্ত দায়িত্বপ্রদান, যিনি কর্তৃপক্ষের সহিত নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করিবেন;

(ঘ) প্রকাশযোগ্য প্রত্যেক ডেটাসেটের জন্য সুস্পষ্ট ডেটা এক্সচেঞ্জ রুল (শ্রেণিকরণ-স্তর, আইনসঙ্গত ভিত্তি, উদ্দেশ্য-কোড ও সংরক্ষণ-প্যারামিটার) অনুমোদন;

(ঙ) প্রযুক্তিগত আর্কিটেকচার ও অবকাঠামো উইং-এর জিরো-ট্রাস্ট নিরাপত্তা, টোকেন-প্রমাণীকরণ ও সার্ভিস-লেভেল পরীক্ষাকরণ;

(চ) নিজ প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল আর্কিটেকচার অনুসারে তথ্য-সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা;

(ছ) কর্তৃপক্ষ দ্বারা ঘোষিত হালনাগাদকৃত 'জাতীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার মানদণ্ড' এর প্রতিফলনে যে কোনো সফটওয়্যার, বা অ্যাপ্লিকেশন, বা হার্ডওয়্যার উন্নয়ন বা ক্রয়;

(জ) বাস্তবায়ন কমিটি বা টেকনিক্যাল উইং প্রদত্ত নির্দেশ, সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন;

(ঝ) ই-সেবা প্রদানে বিএনডিআইএ অনুবর্তিতা এবং সরকারি অ্যাপ্লিকেশন বা সিস্টেম বা ই-সেবার সহিত আন্তঃপরিচালন নিশ্চিতকরণ;

ঞ) নিজ প্রতিষ্ঠানের আইসিটি রোডম্যাপ-কে হালনাগাদ বিএনডিআইএ কৌশল-এর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণকরণ;

(ট) রোডম্যাপ ও ডিজিটাল আর্কিটেকচার ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষণ;

(ঠ) নিজ প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল আর্কিটেকচারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ;

(ড) প্রতিটি সেবা প্রদানের বিপরীতে গ্রাহকের সহিত সম্পাদিত লেনদেন সংশ্লিষ্ট রেকর্ড বা লগ উক্ত লেনদেনের সময়কালের নিরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যথাযথ প্রক্রিয়ায় মজুত ও ধারণ;

(ঢ) মানদণ্ড-বহির্ভূত কোনো সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত হইতে থাকিলে, দ্রুততম সময়ে মানদণ্ড সম্পন্নকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ;

(ণ) এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার বাস্তবায়ন ও বিএনডিআইএ-ফ্রেমওয়ার্ক পরিপালনে শ্রেষ্ঠ উদ্যোগসমূহ চিহ্নিতকরণ ও উৎসাহ প্রদান; এবং

(ত) সকল আন্তঃমন্ত্রণালয় বা আন্তঃসংস্থা তথ্যযোগাযোগ, ডিআরএ অনুমোদন ও সরকারি নির্দেশনা এনআরডিইএক্স-এর মাধ্যমে এবং ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর দ্বারা সম্পাদন ও বিনিময়।

(২) সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ এর নূতন ডিপিআই (Digital Public Infrastructure)/ জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র ভিত্তিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যমান সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়িক উন্নয়ন নিশ্চিত করিতে হইবে।

### সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিধান লঙ্ঘনের প্রতিকার

৩৪। (১) সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হয় এইরূপ অন্য কোনো আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ, মজুত বা ধারণ বা হস্তান্তর বা প্রকাশ বা স্থানান্তরকালে উপাত্তধারীর অধিকার লঙ্ঘিত (Violation) হয়, এইরূপ কোনো কর্ম সম্পাদনে সরকারি কর্মচারী জড়িত থাকিলে উহা অসদাচরণ গণ্যে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা যাইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা অনুযায়ী সরকার বিধি, বা কর্তৃপক্ষ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### সমন্বয় কার্যক্রম

৩৫। এই আইনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কার্যক্রমের পর্যালোচনা ও সমন্বয় করিবে।

## সপ্তম অধ্যায় - কর্তৃপক্ষের আর্থিক বিষয়াদি

### কর্তৃপক্ষের তহবিল

৩৬। (১) কর্তৃপক্ষের জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃপরিচালন তহবিল নামে একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ও ঋণ;

(খ) বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা অন্য কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) এই আইনের অধীন জমাকৃত ফি, চার্জ, ইত্যাদি; এবং

(ঘ) অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) তহবিলের সকল অর্থ উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত নামে কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্তরূপ অর্থ হইতে কর্তৃপক্ষ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি পরিশোধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করিতে পারিবে।

ব্যাখ্যা।—এই ধারায় উল্লিখিত “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ [Bangladesh Bank Order, 1972](/laws/act-415 "Act 415") (P.O. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

(৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে।

(৪) কোনো অর্থ বৎসরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষের তহবিলে উদ্বৃত্ত অর্থ থাকিলে সরকারের নির্দেশ অনুসারে উহার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ সরকারের কোষাগারে জমা করিতে হইবে।

### বার্ষিক বাজেট বিবরণী

৩৭। (১) কর্তৃপক্ষ যেকোনো অর্থবৎসর শুরু হইবার পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রথম মাসে সংশ্লিষ্ট বৎসরে উহার পরিচালন ব্যয় বহন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থের যৌক্তিক কারণে প্রয়োজন উহার বরাদ্দ চাহিয়া অর্থ বিভাগ বরাবরে প্রস্তাব প্রেরণ করিবে।

(২) অর্থবিভাগ উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রস্তাব প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষের সহিত পরামর্শক্রমে বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করিবে।

(৩) কর্তৃপক্ষ আর্থিক বরাদ্দ হইতে উহার খাত ভিত্তিক খরচ করিতে পারিবে, তবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি অনুসরণ করিতে হইবে।

(৪) কর্তৃপক্ষ প্রতি ৬ (ছয়) মাস অন্তর অন্তর উহার আয়-ব্যয়ের বিবরণী অর্থ বিভাগে প্রেরণ করিবে এবং আর্থিক শৃংখলার সংরক্ষণ ও অনুনমোদিত ব্যয় পরিলক্ষিত হইলে অর্থ বিভাগ উহার ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ ইহা বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিপালন করিবে।

### হিসাব ও নিরীক্ষা

৩৮। (১) কর্তৃপক্ষ উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের যে কোনো সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও কর্তৃপক্ষ প্রতি বৎসর [Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973](/laws/act-442 "Act 442") (P.O. No 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবে।

### ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা

৩৯। কর্তৃপক্ষ, বোর্ডের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগী হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।

### প্রতিবেদন, ইত্যাদি

৪০। (১) প্রতি অর্থবৎসর সমাপ্তির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তদ্‌কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উহার কার্যাবলি বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য, রিটার্ন, বিবরণী, প্রাক্কলন, পরিসংখ্যান অথবা অন্য কোনো তথ্য চাহিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

## অষ্টম অধ্যায় - প্রশাসনিক জরিমানা এবং উহার বিরুদ্ধে আপীল

### ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার বিধান লঙ্ঘনে প্রশাসনিক জরিমানা

৪১। (১) কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্যতা অনুযায়ী এই আইন বা অন্য কোনো আইন দ্বারা কর্তৃপক্ষের উপর আরোপিত ক্ষমতা অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা নির্ধারণ ও আরোপ করিতে পারিবে।

(২) অভিযোগের গুরুত্ব অনুসারে প্রশাসনিক জরিমানার ক্ষেত্র ও প্রশাসনিক জরিমানার পরিমাণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### এই আইনের বিধান লঙ্ঘনের জন্য অভিযোগ দায়ের ও প্রশাসনিক জরিমানা

৪২। (১) ধারা ৪১ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো উপাত্তধারী মনে করেন যে উপাত্ত-জিম্মাদার বা প্রক্রিয়াকারী তাহার অধিকার লঙ্ঘন করিয়াছে তাহা হইলে তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১), বা এই আইনের আওতাভুক্ত ব্যক্তিগত উপাত্ত বা প্রযোজ্যতা অনুযায়ী অন্য কোনো উপাত্তের আন্তঃপরিচালনের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলের বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে।

### প্রশাসনিক জরিমানা আদায়

৪৩। ধারা ৪১ ও ৪২ এর অধীন নির্ধারিত প্রশাসনিক জরিমানার অর্থ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায়যোগ্য হইবে।

### ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়

৪৪। (১) অভিযোগকারী বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ বলিয়া প্রমাণিত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অভিযোগকারী বা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং ইহা প্রশাসনিক জরিমানার অতিরিক্ত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক লেনদেনে নিয়োজিত মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (MFS) এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রদেয় হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ প্রদানে কোনো ব্যক্তি ব্যর্থ হইলে উহা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ব্যক্তির মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হইতে আদায়যোগ্য হইবে।

### কর্তৃপক্ষের আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল

৪৫। (১) কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হইলে উক্ত আদেশের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৮ এর অধীন স্থাপিত ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে পারিবে।

(২) বিধি দ্বারা ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তির বিধান প্রণীত হইবে।

## নবম অধ্যায় - বিবিধ

### জনসেবক

৪৬। কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, সদস্যগণ এবং কর্মচারীগণ এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে [Penal Code, 1860](/laws/act-11 "Act 11") এর section 21 এ “public servant (জনসেবক)” অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবেন।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৪৭। (১) সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) সরকার, বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করিবার লক্ষ্যে উহার উপর অংশীজন বা জনসাধারণের মতামত চাহিয়া উহাতে উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে মতামত প্রদানের বিজ্ঞপ্তি খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে অংশীজন ও জনসাধারণের নিকট হইতে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনাপূর্বক, বিধিমালার খসড়াটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক উহা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।

### প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৪৮। (১) কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধিমালার অন্তর্ভুক্ত নয় এইরূপ যে কোনো বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) কর্তৃপক্ষ, প্রবিধানমালার খসড়া চূড়ান্ত করিবার লক্ষ্যে উহার উপর অংশীজন বা জনসাধারণের মতামত উহাতে উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে মতামত প্রদানের বিজ্ঞপ্তি খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে অংশীজন ও জনসাধারণের নিকট হইতে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনাপূর্বক প্রবিধানমালার খসড়াটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক উহা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

৪৯। (১) [জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫](/laws/act-1573 "Act 1573") (২০২৫ সনের ৬০ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ

৫০। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) বাংলা পাঠ এবং ইংরেজিতে অনূদিত পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1709.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
