> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬

> জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিতপূর্বক নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

**Status:** Repealed

**Date of Publication:** ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ১০৬ নং আইন

যেহেতু মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য; এবং

যেহেতু সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা (Universal Declaration of Human Rights)-সহ মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন, সনদ, এবং এই সংক্রান্ত চুক্তিসমূহ পরিপালন করিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; এবং

যেহেতু [জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯](https://laws.sayed.app/laws/act-1023.md "Act 1023") (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন)-এর অধিকতর উৎকর্ষ সাধনের জন্য উহা রহিতপূর্বক নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

## প্রথম অধ্যায় - প্রারম্ভিক

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬](https://laws.sayed.app/laws/act-1736.md "Act 1736") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “কমিশন” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন;

(খ) “কমিশনার” অর্থ কমিশনের কোনো কমিশনার এবং চেয়ারপার্সনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(গ) “চেয়ারপার্সন” অর্থ কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্বপালনরত কোনো ব্যক্তি;

(ঘ) “তদন্ত” অর্থ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নির্ধারণ, ইহার প্রকৃতি ও কারণ নিরূপণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শনাক্তকরণ, দায়-এর পরিধি নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতের প্রক্রিয়া;

(ঙ) “দণ্ডবিধি” অর্থ The [Penal Code, 1860](https://laws.sayed.app/laws/act-11.md "Act 11") (Act No. XLV of 1860);

(চ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(ছ) “ফৌজদারি কার্যবিধি” অর্থ The [Code of Criminal Procedure, 1898](https://laws.sayed.app/laws/act-75.md "Act 75") (Act No. V of 1898);

(জ) “ব্যক্তি” অর্থ প্রাকৃতিক সত্তাবিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি এবং ইহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারী কারবার, কর্পোরেশন, ফার্ম, সমিতি, সংঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ঝ) “মানবাধিকার” অর্থ [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](https://laws.sayed.app/laws/act-957 "Act 957") বা বলবৎ যেকোনো আইন দ্বারা নিশ্চিত কোনো মানবাধিকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত এবং বাংলাদেশে প্রচলিত আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে ঘোষিত মানবাধিকার এবং বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রথাগত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত মানবাধিকার;

(ঞ) “দেওয়ানি কার্যবিধি” অর্থ The [Code of Civil Procedure, 1908](https://laws.sayed.app/laws/act-86.md "Act 86") (Act No. V of 1908);

(ট) “সরকারি কর্মচারী” অর্থ The [Penal Code, 1860](https://laws.sayed.app/laws/act-11.md "Act 11") (Act No. XLV of 1860) এর section 21-এ বর্ণিত ব্যক্তি;

(ঠ) “সংবিধান” অর্থ [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](https://laws.sayed.app/laws/act-957 "Act 957") ;

(ড) “সুপ্রীম কোর্ট” অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট;

(ঢ) “সাক্ষ্য আইন” অর্থ The [Evidence Act, 1872](https://laws.sayed.app/laws/act-24.md "Act 24") (Act No. I of 1872);

(ণ) “শৃঙ্খলা-বাহিনী” অর্থ-

(অ) সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী;

(আ) পুলিশ-বাহিনী;

(ই) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ব্যাটালিয়ন আনসার;

(ঈ) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি);

(উ) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (কোস্ট গার্ড);

(ঊ) সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ;

(ঋ) সরকারি তদন্তকারী সংস্থাসমূহ;

(এ) The [Armed Police Battalions Ordinance, 1979](https://laws.sayed.app/laws/act-593.md "Act 593") (Ordinance No. XXV of 1979)-এর অধীন গঠিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বা অন্য কোনো বাহিনী;

(ঐ) উল্লিখিত এক বা একাধিক বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী বা যৌথ বাহিনী; বা

(ও) আইনের দ্বারা ঘোষিত যেকোনো শৃঙ্খলা-বাহিনী।

## দ্বিতীয় অধ্যায় - মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা

### জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা

৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, [জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯](https://laws.sayed.app/laws/act-1023.md "Act 1023") (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।

(২) কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হইবে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উহার উন্নয়ন সাধন করিবে।

(৩) কমিশনের স্থায়ী ধারাবাহিকতা থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার যেকোনো ধরনের সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

### কমিশনের কার্যালয়

৪। কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হইবে এবং সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যেকোনো স্থানে ইহার কার্যালয় স্থাপন করা যাইবে।

### কমিশন গঠন

৫। (১) ১ (এক) জন চেয়ারপার্সন ও ৪ (চার) জন কমিশনার সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হইবে, যাহাদের মধ্যে ন্যূনতম একজন নারী হইবেন এবং ন্যূনতম একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য হইবেন।

(২) কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণ সার্বক্ষণিক হইবেন।

(৩) চেয়ারপার্সন কমিশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন।

### চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ ইত্যাদি

৬। (১) রাষ্ট্রপতি, বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে, কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণকে নিয়োগ করিবেন।

(২) বিষয়ভিত্তিক ও পেশাগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে আইন, বিচার, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, মানবকল্যাণ, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত এক বা একাধিক বিষয়সহ মানবাধিকারের উন্নয়ন বা বাস্তবায়নে অন্যূন ১৫ (পনেরো) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে চেয়ারপার্সন ও কমিশনার নিযুক্ত হইবেন।

(৩) পেশাগত জীবনে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মানবাধিকার রক্ষা, সততা ও শুদ্ধাচার পালনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছেন এমন ব্যক্তিকে চেয়ারপার্সন ও কমিশনার হিসাবে নিয়োগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নেওয়া হইবে।

(৪) কোনো ব্যক্তি চেয়ারপার্সন ও কমিশনার পদে নিয়োগ লাভে অযোগ্য হইবেন, যদি-

তিনি বাংলাদেশের নাগরিক না হন;

তিনি ঋণখেলাপি সাব্যস্ত বা দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি না পাইয়া থাকেন;

তিনি সংসদ-সদস্য, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত পদাধিকারী, কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হন অথবা, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন এবং কমিশনের চেয়ারপার্সন বা কমিশনার পদে মনোনীত হইলে উক্ত পদ হইতে পদত্যাগ করিবার বা, ক্ষেত্রমত, স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের বিধি মোতাবেক প্রেষণ, লিয়েন বা অবৈতনিক ছুটি গ্রহণের অঙ্গীকার না করেন;

তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন বা নৈতিক স্খলন বা কোনো ফৌজদারি অপরাধে আদালত কর্তৃক অথবা কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা-বিরোধী কোনো কাজের জন্য বিভাগীয় মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হইয়া থাকেন।

(৫) কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং কমিশনারগণ অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, একই ব্যক্তি চেয়ারপার্সন বা কমিশনার হিসাবে বা উভয় পদ মিলিয়ে ২ (দুই) মেয়াদ দায়িত্ব পালন করিলে, তিনি পুনরায় চেয়ারপার্সন বা কমিশনার হিসাবে নিয়োগ লাভ করিবেন না।

(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে চেয়ারপার্সন বা কোনো কমিশনার রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যেকোনো সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৭) চেয়ারপার্সনের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারপার্সন তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারপার্সন তাহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারপার্সন পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ কমিশনার চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

### বাছাই কমিটি

৭। (১) চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণের নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের জন্য নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) জাতীয় সংসদের স্পীকার, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(গ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(ঘ) জাতীয় সংসদের ২ (দুই) জন সংসদ-সদস্য, যাহাদের মধ্যে একজন সরকারি দল কর্তৃক এবং অন্যজন বিরোধী দল কর্তৃক মনোনীত হইবেন;

(ঙ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব;

(চ) বাংলাদেশের স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ও মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১ (এক) জন অধ্যাপক, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক মনোনীত হইবেন;

(ছ) মানবাধিকার, বিশেষ করে, নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত ১ (এক) জন নাগরিক প্রতিনিধি, যিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হইবেন;

(জ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বা তদকর্তৃক মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাংবাদিক প্রতিনিধি;

(ঝ) নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্য হইতে তাহাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করিবার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত ১ (এক) জন প্রতিনিধি, যিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হইবেন।

(২) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।

(৩) অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে।

(৪) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেনো, বাছাই কমিটির সভাপতির অবর্তমানে বা অনুপস্থিতিতে কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সম্মতিতে অন্য কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।

(৫) চেয়ারপার্সন ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাছাই কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করিবে এবং সিদ্ধান্তের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের নির্ণায়ক সিদ্ধান্ত প্রদানের অধিকার থাকিবে।

(৬) বাছাই কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

### চেয়ারপার্সন ও কমিশনার নিয়োগ বিষয়ক সুপারিশ

৮। কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনার পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে, এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, বাছাই কমিটি-

(ক) গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত বা মনোনয়ন আহ্বান করিবে, ইহা ছাড়াও উহার বিবেচনায় উপযুক্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য স্বীয় উদ্যোগে সংগ্রহ করিতে পারিবে;

(খ) দাখিলকৃত দরখাস্ত ও মনোনয়নসমূহ এবং স্বীয় উদ্যোগে সংগৃহীত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করিবে;

(গ) উক্তরূপ যাচাই-বাছাইপূর্বক বাছাই কমিটির বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করিবে; এবং

(ঘ) উপরিউক্ত কার্যধারা সমাপ্তির পর নিয়োগযোগ্য চেয়ারপার্সন বা কমিশনারের প্রতিটি পদের বিপরীতে ২ (দুই) জন প্রার্থীর নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করিবে।

### চেয়ারপার্সন ও কমিশনারের অপসারণ

৯। (১) সুপ্রীম কোর্টের কোনো বিচারক যেইরূপ পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ব্যতীত চেয়ারপার্সন বা কোনো কমিশনারকে অপসারণ করা যাইবে না এবং সুপ্রীম কোর্টের বিচারকগণের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি চেয়ারপার্সন এবং কমিশনারগণের জন্য প্রযোজ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেনো, রাষ্ট্রপতি চেয়ারপার্সন বা অন্য কোনো কমিশনারকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি-

(ক) কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া বা অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হন;

(খ) চেয়ারপার্সন বা কমিশনার হওয়া সত্ত্বেও পারিশ্রমিকের বিনিময়ে স্বীয় দায়িত্ব বহির্ভূত অন্য কোনো পদে নিয়োজিত হন;

(গ) কোনো ফৌজদারি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন;

(ঘ) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন;

(ঙ) এই আইনের ধারা ৬ এর উপ-ধারা (৪) এ প্রদত্ত কোনো অযোগ্যতার অবস্থা তৈরি হয়।

### কমিশনার পদে শূন্যতার কারণে কার্য বা কার্যধারা অবৈধ না হওয়া

১০। কেবল কোনো কমিশনার পদে শূন্যতার কারণে কমিশনের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না৷

### কমিশনারগণের বেতন, ভাতা, ইত্যাদি

১১। (১) চেয়ারপার্সন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারকের সমপরিমাণ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পাইবার অধিকারী হইবেন।

(২) কমিশনারগণ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারকের সমপরিমাণ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পাইবার অধিকারী হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাদি কেবল তাহাদের দায়িত্বকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য হইবে, মেয়াদ শেষ হওয়া, পদত্যাগ কিংবা অন্য কোনোভাবে পদ শূন্য হইবার ক্ষেত্রে নয়।

### কমিশনের সভা

১২। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কমিশন উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) চেয়ারপার্সন কমিশনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে উপস্থিত কমিশনারগণের মধ্য হইতে বয়োজ্যেষ্ঠ কমিশনার সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৩) কমিশনারগণের মধ্য হইতে অন্যূন ৩ (তিন) জনের উপস্থিতিতে কমিশনের সভার কোরাম গঠিত হইবে।

(৪) কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক কমিশনারের ১ (এক)টি ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।

(৫) চেয়ারপার্সন, আবশ্যক মনে করিলে, কমিশনের কমিশনার নহেন এমন কোনো ব্যক্তিকে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করিবার জন্য কমিশনের সভায় আমন্ত্রণ করিতে পারিবেন এবং অনুরূপভাবে আমন্ত্রিত ব্যক্তি মতামত ও পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবেন, কিন্তু ভোটদানের অধিকারী হইবেন না।

(৬) প্রতি মাসে কমিশনের কমপক্ষে ১ (এক)টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৭) কমিশনের সকল সভায় অনুষ্ঠিত আলোচনার বিষয়বস্তু ও গৃহীত সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং সভায় উপস্থিত সকল কমিশনার কর্তৃক উহা স্বাক্ষরিত হইবে।

### কমিশনের কার্যাবলি

১৩। কমিশন নিম্নবর্ণিত সকল বা যেকোনো কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-

(ক) এই আইনে সংজ্ঞায়িত মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কিত বিষয়ে অবগত হইবার পর, যেকোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে কিংবা স্বপ্রণোদিত হইয়া তদন্তপূর্বক প্রাথমিক সত্যতা উদঘাটন এবং এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

(খ) মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তকালীন বা পরবর্তী সময়ে যেকোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং যেকোনো স্থান, অফিস-আদালত, হাজতখানা বা আটককেন্দ্র পরিদর্শন;

(গ) নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সংকটাপন্ন (vulnerable) জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতকরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এই আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

(ঘ) মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগসমূহ তদন্তের পাশাপাশি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা;

(ঙ) মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও অভিযুক্তের নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাকরণ;

(চ) মানবাধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সংবিধান বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীন স্বীকৃত ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা করা এবং উহাদের সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ পেশ;

(ছ) বাংলাদেশের আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ অথচ এই আইনের মানবাধিকারের সংজ্ঞায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয় এমন অধিকারসমূহের বলবৎযোগ্যতা সম্প্রসারণের জন্য সরকারের নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;

(জ) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের সহিত দেশীয় আইনের সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সহিত সমন্বয় নিশ্চিতকরণের স্বার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় সংশোধনী সুপারিশ করা;

(ঝ) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিসমূহ অনুসমর্থন বা উহাতে স্বাক্ষর প্রদানে সরকারকে পরামর্শ প্রদান এবং দেশীয় প্রেক্ষাপটে উহাদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা;

(ঞ) মানবাধিকার সংরক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি হইতে সুরক্ষা প্রদানে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা;

(ট) শিক্ষা ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানে মানবাধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করা, মানবাধিকার বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করা এবং ইন্টার্নশিপ পরিচালনা করা;

(ঠ) সমাজকে সচেতন করিবার লক্ষ্যে মানবাধিকার শিক্ষার প্রচার, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ, প্রকাশনা ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা;

(ড) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নাগরিক সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা, উহাদের সহিত নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে মানবাধিকার উন্নয়নে অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।

## তৃতীয় অধ্যায় - অভিযোগ, তদন্ত ও প্রতিকার

### অভিযোগ গ্রহণ

১৪। এই আইনের অধীন মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কে কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার নিম্নবর্ণিত উপায়ে অভিযোগ গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত, মৌখিক অথবা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো মাধ্যমে, কোনো প্রকার ফি প্রদান ব্যতীত, অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে; বা

(খ) গণমাধ্যমসহ অন্য কোনো মাধ্যম হইতে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে স্বপ্রণোদিত হইয়া:

তবে শর্ত থাকে যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে (ক) দফায় বর্ণিত অভিযোগ দায়ের করা যাইবে:

আরও শর্ত থাকে যে, উপরোক্ত (ক) দফার অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর আইনগত ও শারীরিক অসামর্থ্য, ভয়ভীতি, বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে যুক্তিসঙ্গত কারণে কমিশন বিলম্ব মওকুফ করিতে পারিবে।

### অভিযোগের তদন্ত

১৫। (১) ধারা ১৪-এর অধীন কোনো অভিযোগ দায়ের বা তথ্য প্রাপ্তির পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার স্বীয় বিবেচনায় আমলে নেওয়ার উপযুক্ত মনে করিলে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, অভিযোগ বা তথ্যটি প্রাথমিকভাবে ভিত্তিহীন মনে হইলে উল্লিখিত কমিশনার অভিযোগকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শ্রবণ করিয়া লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক অভিযোগটি নথিজাত করিতে পারিবেন:

আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত কমিশনার যদি কোনো অভিযোগ আমলে না নিয়া তদন্তে প্রেরণ না করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তবে উল্লিখিত ১৫ (পনেরো) দিন অতিক্রান্ত হইবার পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে ভুক্তভোগী কমিশন বরাবর পুনর্বিবেচনার আবেদন করিতে পারিবেন এবং কমিশন পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত আবেদন শুনানি-অন্তে নিষ্পত্তি করিবেন এবং এইরূপক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(২) তদন্তের আদেশ প্রাপ্ত হইবার পর তদন্ত কর্মকর্তা ৩ (তিন) মাসের মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত করিবেন, কোনো কারণে ইহা সম্ভব না হইলে, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার কারণ উল্লেখপূর্বক অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কোনো তদন্তকার্য সম্পন্ন না হইলে, কমিশন যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হইবার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়ী, তাহা হইলে ইহা তাহার অদক্ষতা ও অসদাচরণ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এই অদক্ষতা ও অসদাচরণ তাহার বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে লিপিবদ্ধ করা হইবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

(৪) এই আইনের অধীন তদন্তকার্য পরিচালনাকালে তদন্ত কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লিখিত একজন তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৫) তদন্তকার্য পরিচালনাকালে তদন্ত কর্মকর্তার নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমিশনে দায়েরকৃত অভিযোগে বা স্বপ্রণোদিত হইয়া প্রাপ্ত তথ্যে এমন ঘটনার উল্লেখ আছে যাহার প্রেক্ষিতে তাহার বিরুদ্ধে কোনো আমলযোগ্য অপরাধের মামলা দায়ের করা হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারপূর্বক থানায় সোপর্দ করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলা-সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার অধীন ন্যস্ত হইবেন এবং এই আইনের অধীন নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা উক্ত মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করিবেন এবং তিনি এই আইনের অধীন তাহার নিজস্ব প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করিবেন।

(৬) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা কমিশন বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন এবং ইহার ১ (এক) টি কপি অভিযোগকারী বরাবর প্রেরণ করিবেন।

### অভিযোগ নিষ্পত্তি

১৬। (১) কমিশন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পর্যালোচনার জন্য একটি দিন ধার্য করিবে।

(২) উক্ত ধার্যকৃত তারিখে কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করিয়া নিম্নবর্ণিত যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুতর ত্রুটি পরিলক্ষিত হইলে কমিশন কারণ উল্লেখপূর্বক অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে অধিকতর তদন্তের আদেশ প্রাপ্ত হইবার পর ২ (দুই) মাসের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাকে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিতে হইবে;

(খ) তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিকভাবে সঠিক প্রতীয়মান হইলে কিন্তু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে, কমিশন অভিযোগটি নথিজাত করিতে পারিবে;

(গ) তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিকভাবে সঠিক প্রতীয়মান হইলে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দেওয়ানি কার্যবিধিতে উল্লিখিত পদ্ধতিতে নোটিশ প্রদান করিবে এবং পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উভয়পক্ষকে শুনানির দিন ধার্য করিবে।

(৩) কমিশন, ধার্যকৃত তারিখে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে, বা যথাযথভাবে নোটিশ প্রদান করা সত্ত্বেও কোনো পক্ষ অনুপস্থিত থাকিলে তাহার বা তাহাদের অনুপস্থিতিতে, শুনানি করিবে এবং প্রথম শুনানির তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে শুনানি সম্পন্ন করিয়া অভিযোগ নিষ্পত্তি করিবে।

(৪) শুনানি-অন্তে অভিযোগ সত্য প্রতীয়মান না হইলে, কমিশন কারণ উল্লেখপূর্বক অভিযোগটি নথিজাত করিবে।

(৫) শুনানিতে অভিযোগ সত্য প্রতীয়মান হইলে, কমিশন-

(ক) বিষয়টি একটি আপসঅযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে প্রতীয়মান হইলে কিংবা প্রচলিত আইন বা ব্যবস্থায় কোনো আদালত বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কমিশনের চাইতে বিষয়টির অধিকতর কার্যকর সুরাহা করা সম্ভব প্রতীয়মান হইলে উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করিবেন এবং পক্ষগণকে উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করিবে;

(খ) বিষয়টি দফা (ক) এর আওতাবহির্ভূত হইলে, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিভাগীয়, শৃঙ্খলামূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করিতে পারিবে এবং কমিশনের সুপারিশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইহা বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কমিশনের আদেশ বাস্তবায়নে বিশেষ কোনো অসুবিধা তৈরি হয়, সেইক্ষেত্রে সুপারিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনকে অবহিত করিবে এবং কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করিয়া যেই সুপারিশ প্রেরণ করিবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত সুপারিশ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে:

আরও শর্ত থাকে যে, দফা (খ) এর অধীন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা সত্ত্বেও, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, কমিশন প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করিয়া উহার দ্বিগুণ বা উহার অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি বরাবর প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) কমিশন সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত রিপোর্টের সারার্থ, উক্ত রিপোর্টের উপর কমিশনের সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ এবং গৃহীত প্রতিকার কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।

(৭) উপ-ধারা (৫) এর দফা (ক) এর অধীন কমিশনের কোনো প্রতিবেদন কোনো আদালত বা প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হইলে উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট প্রচলিত আইন অনুসরণপূর্বক উপযুক্ত কার্যধারা গ্রহণ করিবে; এবং কমিশনের প্রতিবেদন উক্ত কার্যধারায় সাক্ষ্য আইনের অধীন সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।

(৮) এই ধারার অধীন কমিশন কোনো অভিযোগ নথিজাত করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে কিংবা অভিযুক্তের অভিযোগ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত ক্ষেত্রমত পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে কমিশন বরাবর উক্তরূপ নথিজাত করিবার আদেশ পুনর্বিবেচনা করিবার আবেদন করিতে পারিবেন এবং কমিশন অনুরূপ আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ইহা নিষ্পত্তি করিবে।

### মধ্যস্থতা ও সমঝোতা

১৭। (১) ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (৫) এর দফা (খ) এর অধীন অভিযোগ নিষ্পত্তি হইবার পূর্বে যেকোনো পর্যায়ে উভয়পক্ষ যদি অভিযোগের বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে আগ্রহী হয়, তাহা হইলে কমিশন, তদন্ত বা প্রতিকার প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করিয়া বিষয়টি মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং উক্ত মধ্যস্থতা সফল না হইলে, যেক্ষেত্রে কার্যধারা স্থগিত রাখা হয়, সেইক্ষেত্রে কার্যধারা যেই পর্যায়ে স্থগিত হইয়াছিল, সেই পর্যায় হইতে পুনরায় আরম্ভ করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে মধ্যস্থতা চলাকালীন তদন্ত বা প্রতিকার প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পন্ন করিতে হইবে।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতা বা সমঝোতার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৩) কমিশন, মধ্যস্থতা ও সমঝোতাকারীর নিয়োগের পদ্ধতি এবং ক্ষমতা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৪) কমিশন, মীমাংসা কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করিয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি বরাবর যথাযথ পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

### অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা

১৮। (১) তদন্তকালে যেক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার বা কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ভুক্তভোগী অবিলম্বে বিশেষ কোনো সহায়তা বা সুরক্ষা না পাইলে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হইবেন, সেইক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার বা কমিশন যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে লিখিত আদেশ দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা, সুরক্ষা বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার বা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশ বাস্তবায়ন করিবে।

(২) কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন কমিশন উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বা সুপারিশ করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত নির্দেশ বা সুপারিশ কার্যকর করিবে।

### শৃঙ্খলা-বাহিনীর ক্ষেত্রে অনুসরণীর পদ্ধতি

১৯। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেনো, শৃঙ্খলা-বাহিনী বা ইহার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন নিজ উদ্যোগে বা কোনো আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে প্রতিবেদন চাহিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন চাওয়া হইলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনের নিকট একটি প্রতিবেদন দাখিল করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর কমিশন-

(ক) সন্তুষ্ট হইলে, এই বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করিবে না;

(খ) সন্তুষ্ট না হইলে, কমিশন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিকট সুপারিশ পেশ করিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কমিশনের নিকট হইতে কোনো সুপারিশ প্রাপ্তির ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ইহার গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে লিখিতভাবে কমিশনকে অবহিত করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনকে অবহিত না করিলে, অথবা গৃহীত কার্যক্রম কমিশনের নিকট সন্তোষজনক বিবেচিত না হইলে, কমিশন স্বপ্রণোদিতভাবে এই আইনের অভিযোগ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করিয়া প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।

### সুপ্রীম কোর্ট হইতে রেফারেন্স

২০। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন আবেদন হইতে উদ্ভূত মানবাধিকার সম্পর্কিত কোনো বিষয় তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিল করিবার জন্য সুপ্রীম কোর্ট, কমিশনের নিকট প্রেরণ করিলে কমিশন তদন্ত করিয়া রেফারেন্সে উল্লিখিত সময়সীমা, যদি থাকে, এর মধ্যে সুপ্রীম কোর্টে প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে।

### পরিদর্শন, তদন্ত ইত্যাদি সম্পর্কিত ক্ষমতা

২১। (১) এই আইনের অধীন কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কমিশন বা কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি বা তদন্ত কর্মকর্তা নিম্নবর্ণিত বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন একটি দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন, যথা:-

(ক) সাক্ষীর সমন ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং সাক্ষীর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা;

(খ) কোনো লিখিত বা মৌখিক সাক্ষ্য শপথের মাধ্যমে প্রদানের জন্য তলব করা;

(গ) কোনো ব্যক্তিকে কমিশনের কোনো বৈঠকে উপস্থিত হইয়া সাক্ষ্য দেওয়া বা তাহার দখলে আছে এমন কোনো দলিল উপস্থাপন করিবার জন্য তলব করা; এবং

(ঘ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা।

(২) কমিশন, তৎকর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি বা তদন্ত কর্মকর্তা কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান হইতে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলব করিতে পারিবে।

(৩) অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেনো, কমিশন উহার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত স্থানের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ বা তাহাদের অবহিত করিবার আবশ্যকতা প্রযোজ্য হইবে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনের পরিদর্শন কাজে সহযোগিতা করিবে।

(৪) কমিশন উহার কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিংবা তদন্ত কার্যক্রমে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।

### কমিশনের নিকট সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা

২২। (১) কমিশনের নিকট সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তির ন্যায় সকল সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হইবেন।

(২) কমিশনের সম্মুখে সাক্ষ্য প্রদানকালে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি বা বক্তব্যের জন্য তাহার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা রুজু করা যাইবে না বা উক্ত বিবৃতি বা বক্তব্য তাহার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি কার্যধারায় ব্যবহার করা যাইবে না, তবে উক্তরূপ বিবৃতি বা বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিথ্যা সাক্ষ্য থাকিলে তজ্জন্য তিনি ফৌজদারি দায় হইতে অব্যাহতি পাইবেন না।

### সমন জারি

২৩। (১) এই আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার বা কমিশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষরে সমন জারি করা হইবে।

(২) প্রত্যেক সমন উহাতে উল্লিখিত ব্যক্তির নিকট, এবং যেক্ষেত্রে তাহা সম্ভব না হয়, সেইক্ষেত্রে তাহার সর্বশেষ জ্ঞাত বাসস্থানের ঠিকানায় সরবরাহ করিয়া বা রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া জারি করা হইবে এবং ইহা ছাড়াও উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির যেকোনো মাধ্যমে প্রেরণ করা যাইবে।

(৩) যেই ব্যক্তির নিকট সমন জারি করা হয় তিনি উহাতে উল্লিখিত সময় ও স্থানে কমিশনের সম্মুখে উপস্থিত থাকিবেন এবং কমিশন কর্তৃক তাহাকে জিজ্ঞাসিত সকল প্রশ্নের জবাব দিবেন এবং তাহার নিকট হইতে যাচিত এবং তাহার দখলে আছে এইরূপ সকল দলিল সমনের মর্মার্থ অনুসারে উপস্থাপন করিবেন।

### ক্ষতিপুরণ আদায়ের পদ্ধতি

২৪। (১) এই আইনের অধীন আরোপিত ক্ষতিপূরণের অর্থ দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি হইতে আদায়যোগ্য হইবে।

(২) এই আইনের অধীন ক্ষতিপূরণের অনাদায়ী অর্থ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, কালেক্টরের মাধ্যমে আদায় করা যাইবে এবং অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য কমিশন এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, কালেক্টরের নিকট অনুরোধপত্র প্রেরণ করিলে উহার ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬ ও ৩৮৭ এর প্রক্রিয়া অনুসারে অর্থ আদায় প্রক্রিয়া আরম্ভ হইবে এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধিতে জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে পরোয়ানা জারি করিতে পারিবেন এবং জারির পর অনাদায়ী সম্পূর্ণ অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পদ্ধতি ছাড়াও প্রয়োজনে [Public Demands Recovery Act, 1913](https://laws.sayed.app/laws/act-98.md "Act 98") (ACT NO. III OF 1913) অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অনাদায়ী অর্থ আদায় করা যাইবে।

### কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন

২৫। (১) প্রতি বৎসরের ৩১ মার্চ তারিখের মধ্যে কমিশন উহার পূর্ববর্তী বৎসরের কার্যাবলি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত প্রতিবেদনের সহিত একটি পৃথক বিবরণী থাকিবে, যাহাতে, অন্যান্যের মধ্যে, কমিশনের সুপারিশ অনুসারে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিবার কারণ, কমিশন যতদূর অবগত ততদূর, লিপিবদ্ধ থাকিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন দাখিল করিবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে কমিশন উহার ওয়েসবাইটে উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে এবং উক্ত প্রতিবেদন মূল্যায়ন এবং কমিশনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে পরামর্শ গ্রহণের লক্ষ্যে মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মতবিনিময় সভার আয়োজন করিবে।

### ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, তথ্য প্রকাশকারী ও সাক্ষীর গোপনীয়তা ও সুরক্ষা

২৬। (১) কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তথ্য প্রমাণ কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রকাশ করিলে, তিনি [জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১](https://laws.sayed.app/laws/act-1072.md "Act 1072") (২০১১ সনের ৭ নং আইন) এর অধীন সুরক্ষার অধিকারী হইবেন এবং উক্ত আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) কমিশন স্বীয় বিবেচনায় বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধির আবেদনের ভিত্তিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী বা কোনো সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষার্থে কিংবা প্রতিশোধ, ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি বা যেকোনো প্রকার বিরূপ কার্য হইতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত কোনো আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত আদেশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

### কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে বাধ্যবাধকতা

২৭। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উক্ত আদেশ প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবে।

(২) কোনো ব্যক্তি কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে বা গাফিলতি প্রদর্শন করিলে, তাহা দায়ী ব্যক্তির অসদাচরণ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং যদি উক্ত ব্যক্তি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, তবে কমিশন তাহার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত না থাকেন, সেইক্ষেত্রে তাহার বিরুদ্ধে কমিশনের বিবেচনায় যেকোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে এবং কমিশন কোনো আদেশ প্রদান করিলে আদিষ্ট ব্যক্তি কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নপূর্বক দ্রুততম সময়ে তাহা কমিশনকে অবহিত করিবে।

(৩) কোনো প্রতিষ্ঠান কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে বা গাফিলতি প্রদর্শন করিলে, যেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়, সেইক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এবং যেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান কোনো কোম্পানি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হয়, সেইক্ষেত্রে উহার মালিক, অংশীদার, স্বত্বাধিকারী, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার, ম্যানেজার বা এজেন্ট, কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত ব্যর্থতা তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত ব্যর্থতা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

### বিচারাধীন বিষয় সম্পর্কে গৃহীতব্য ব্যবস্থা

২৮। (১) আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে কমিশন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত বিষয়ের সহিত যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় জড়িত থাকে, সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমোদনক্রমে কমিশন বিষয়টির উপর তদন্ত পরিচালনা করিতে পারিবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের নিকট উপস্থাপন করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আদালতে উপস্থাপিত তদন্ত প্রতিবেদন উক্ত আদালতের কার্যধারায় সাক্ষ্য আইনের অধীন সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।

### কমিশনের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা

২৯। ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (১) এবং ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত, কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কোনো পক্ষ পুনর্বিবেচনার আবেদন করিতে পারিবে এবং কমিশন উক্ত আবেদন দায়ের হইবার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ইহা নিষ্পত্তি করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো আদেশের বিরুদ্ধে কেবল একবার পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাইবে।

## চতুর্থ অধ্যায় - কমিশনের কর্মকর্তা, জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট, তহবিল ইত্যাদি

### কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী

৩০। (১) কমিশনের একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবেন।

(২) এই আইনের অধীন কমিশন উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনের মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন বা মানবাধিকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হইবে।

(৩) নির্বাহী পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও চাকরির অন্যান্য শর্ত প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও চাকরির অন্যান্য শর্ত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(৪) সরকার, কমিশনের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে, কমিশনে, প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রেষণে নিযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা কমিশনের মোট জনবলের ৩০ (ত্রিশ) শতাংশের অধিক হইবে না।

### কমিশনে ইন্টার্নশিপ

৩১। (১) সরকার, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হইতে আইন বা মানবাধিকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের জন্য কমিশনে নিয়মিত ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।

(২) ইন্টার্নশিপের সংখ্যা ও শর্তাদি এতৎসংক্রান্ত সরকারি বিধি-বিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

### কমিশনের তদন্ত দল

৩২। (১) প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশন এক বা একাধিক তদন্ত দল গঠন করিতে পারিবে।

(২) কমিশনের লিখিত সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে, সরকার, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কমিশনের তদন্ত দলে প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

### জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট

৩৩। (১) নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণ এবং দণ্ডবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল (Optional Protocol to the Convention against Torture and other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট (National Preventive Mechanism Unit), অতঃপর উক্ত ইউনিট বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিবে, যথা:-

(ক) চেয়ারপার্সন, যিনি উক্ত ইউনিটের প্রধানও হইবেন;

(খ) কমিশন কর্তৃক মনোনীত একজন কমিশনার; এবং

(গ) কারাবন্দি বা স্বাধীনতা বঞ্চিতদের অধিকার ও কল্যাণ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ একজন মানবাধিকার কর্মী, যিনি কমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন।

(২) উক্ত ইউনিট পেশাগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে আইন, ফরেনসিক মেডিসিন, মনোবিজ্ঞান বা মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গ (gender) বা আটক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।

(৩) উক্ত ইউনিটের নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-

(ক) কারাগার, হাজতখানা, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, কিশোর/কিশোরী সংশোধনাগার, থানা, অভিবাসী আটক কেন্দ্র, মানসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, বন্দি বা আটক ব্যক্তিদের পরিবহন যান, সেফ হোম এবং পরিচর্যা কেন্দ্রসহ যে-সকল স্থানে ব্যক্তিস্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়, সেই সকল স্থান চিহ্নিত করা এবং উক্ত স্থানসমূহ নিয়মিত এবং পূর্ব ঘোষণা ব্যতিরেকে পরিদর্শন করা;

(খ) ব্যক্তি স্বাধীনতা সংকুচিত হইয়াছে এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা, পরিচয়, অবস্থান, অবস্থা ও তাহাদের প্রতি আচরণ সংক্রান্ত যেকোনো রেজিস্টার, নথি, রেকর্ড, উপাত্ত, পদ্ধতি ও সামগ্রীসহ প্রাসঙ্গিক সকল তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার লাভ করা;

(গ) ব্যক্তি স্বাধীনতা সংকুচিত হইয়াছে এমন ব্যক্তিগণ, তাহাদের স্বজন, আটক কেন্দ্রের কর্মীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির একান্ত ও গোপন সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা; এবং

(ঘ) ব্যক্তি স্বাধীনতা সংকুচিত হইয়াছে এমন ব্যক্তিদের সুরক্ষা জোরদারকরণ এবং নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কমিশনের নিকট সুপারিশ প্রদান করা এবং সুপারিশসমূহের বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত কার্যকর যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখা।

(৪) এই ধারার অধীন দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে, উক্ত ইউনিট জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটি (Sub-committee on Prevention of Torture), বিভিন্ন দেশের জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বজায় রাখিবে।

(৫) উক্ত ইউনিট পরিদর্শন ও তদন্ত সম্পর্কিত বিষয়ে ধারা ২১ এ উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(৬) উক্ত ইউনিটের সুপারিশ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হইলে কমিশন উহা বাস্তবায়নের জন্য এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৭) উক্ত ইউনিট তথ্যের গোপনীয়তা ও তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে এই আইনে উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(৮) উক্ত ইউনিটের কার্যাবলি কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় জনবল, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করিবে এবং উক্ত ইউনিটের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ রাখিবে যাহা উক্ত ইউনিটের কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করিবার জন্য পর্যাপ্ত হইবে।

(৯) উক্ত ইউনিট উহার কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি পৃথক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা দাখিল ও প্রকাশ করিবে এবং একইসঙ্গে উক্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটিতে প্রেরণ করা হইবে।

(১০) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের আওতায় জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট কর্তৃক পরিদর্শন ও তদন্ত সম্পর্কিত নীতিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### মানবাধিকার কমিশন তহবিল

৩৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানবাধিকার কমিশন তহবিল নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে।

(২) মানবাধিকার কমিশন তহবিল, অতঃপর এই ধারায় তহবিল বলিয়া উল্লিখিত, এর পরিচালনা ও প্রশাসন, কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে।

(৩) তহবিল হইতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা প্রদানের ব্যয়সহ অনুরূপ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

(৪) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বাৎসরিক অনুদান;

(খ) প্রচলিত বিধি-বিধান মোতাবেক কোনো বিদেশি সরকার বা সংস্থা বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঘ) কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঙ) কমিশনের নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ বা অন্য কোনো উৎস হইতে অর্জিত আয়;

(চ) অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ:

তবে শর্ত থাকে যে, স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হইতে পারে কিংবা এই আইনের সহিত অসংগতির কারণ হইতে পারে, এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হইতে অনুদান গ্রহণ করা যাইবে না।

(৫) কমিশন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করিবে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করিবে।

### কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা

৩৫। (১) সরকার, প্রতি অর্থ বৎসরে কমিশনের ব্যয়ের জন্য উহার অনুকূলে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, সময় সময়, সরকার কর্তৃক জারীকৃত ব্যয় সম্পর্কিত বিধি-বিধান প্রযোজ্য হইবে।

(২) এই ধারার বিধান দ্বারা সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহাহিসাব-নিরীক্ষকের অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাইবে না।

### হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা

৩৬। (১) কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কমিশনের নিকট পেশ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কমিশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কমিশনের কোনো কমিশনার বা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সহিত উক্ত বিষয়ে আলোচনা করিতে পারিবেন।

### ক্ষমতা অর্পণ

৩৭। কমিশন উহার যেকোনো ক্ষমতা, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চেয়ারপার্সন, কমিশনার, নির্বাহী পরিচালক বা যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক জারীকৃত Delegation of Financial Power-এর বিধি-বিধান প্রযোজ্য হইবে।

### কমিশনের সুরক্ষা

৩৮। (১) কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, ইহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কার্য সম্পাদনে বাধা তৈরি করা হইলে কিংবা আইনগত কর্তৃত্ব অবমাননা সম্পর্কিত দণ্ডবিধির CHAPTER X ও section 228 এ উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধির CHAPTER XXXV এর বিধান, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

(২) কমিশন, ফৌজদারি কার্যবিধির CHAPTER XXXV এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং ইহার কার্যধারা দণ্ডবিধির section 193 ও section 228 এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিচারিক কার্যধারা (Judicial Proceeding) হিসাবে গণ্য হইবে।

(৩) চেয়ারপার্সন, কমিশনার, নির্বাহী পরিচালক, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এই আইনের অধীন কার্য সম্পাদনের জন্য কমিশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা দণ্ডবিধির section 21 এর public servant অভিব্যক্তিটি যেই অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে public servant বলিয়া গণ্য হইবেন।

### স্বার্থের সংঘাতের ক্ষেত্রে পদ্ধতি

৩৯। যেক্ষেত্রে এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনকালীন বিবেচনাধীন কোনো বিষয়ে কোনো কমিশনারের স্বার্থ জড়িত থাকে, সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিশনার, যথাশীঘ্র সম্ভব, বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে কমিশনের তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত থাকিবেন।

### প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৪০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

৪১। (১) [জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯](https://laws.sayed.app/laws/act-1023.md "Act 1023") (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্তরূপ রহিতকৃত আইনের অধীন-

(ক) কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) কমিশনের নির্বাহী পরিচালকসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসাবে গণ্য হইবেন, এবং তাহারা যেই শর্তে কমিশনে নিয়োগকৃত বা কর্মরত ছিলেন সেই একই শর্তে কমিশনে নিয়োগকৃত বা কর্মরত রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাহাদের চাকরির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকিবে;

(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে এইরূপভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন দায়েরকৃত বা গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৪২। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) এই আইন ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।

***

### Footnotes

> [!NOTE]
>
> Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1736.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.


This documentation is built and hosted on [Mintlify](https://mintlify.com), a developer documentation platform.