> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬

> গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগী ও তাহাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন

**Status:** Active

**Date of Publication:** ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ১০৭ নং আইন

যেহেতু গুম (enforced disappearance) ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি এবং মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন যাহার প্রতিরোধ ও প্রতিকার রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার; এবং

যেহেতু ব্যাপক (widespread) বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে (systematic) সংঘটিত গুম ইতোমধ্যে [International Crimes (Tribunals) Act, 1973](https://laws.sayed.app/laws/act-435.md "Act 435") (Act No. XIX of 1973) এ অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত ব্যাপক বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সংঘটিত গুম ব্যতীতও বাংলাদেশে বিভিন্ন গুমের ঘটনা সংঘটিত হইয়াছে; এবং

যেহেতু ব্যাপক বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সংঘটিত গুম ব্যতীত অন্যান্য গুম প্রতিরোধ, উহার তদন্ত, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগী ও তাহাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে এতদ্‌বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল-

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬](https://laws.sayed.app/laws/act-1737.md "Act 1737") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(১) “অভিযোগকারী” অর্থ এই আইনের অধীন অভিযোগ উত্থাপনকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;

(২) “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল” অর্থ [International Crimes (Tribunals) Act, 1973](https://laws.sayed.app/laws/act-435.md "Act 435") (Act No. XIX of 1973) এর অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনাল;

(৩) “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন” অর্থ [International Crimes (Tribunals) Act, 1973](https://laws.sayed.app/laws/act-435.md "Act 435") (Act No. XIX of 1973);

(৪) “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” অর্থ এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত;

(৫) “গোপন আটক কেন্দ্র” অর্থ এইরূপ আটককেন্দ্র, যাহা আইন দ্বারা অনুমোদিত নহে এবং, ক্ষেত্রমত, আইন দ্বারা অনুমোদিত হওয়া স্বত্ত্বেও, যেখানে আটককৃত ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে তাহার আত্মীয়স্বজন বা সন্ধান-প্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবগত নহেন;

(৬) “গুম” অর্থ ধারা ৪ এ বর্ণিত গুম;

(৭) “ফৌজদারি কার্যবিধি” অর্থ [Code of Criminal Procedure, 1898](https://laws.sayed.app/laws/act-75.md "Act 75") (Act No. V of 1898);

(৮) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৯) “ভুক্তভোগী” অর্থ গুম হওয়া ব্যক্তি, তাহার পরিবারের কোনো সদস্য বা উক্ত গুমের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি;

(১০) “শৃঙ্খলা-বাহিনী” অর্থ-

(অ) সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী;

(আ) পুলিশ বাহিনী;

(ই) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ব্যাটালিয়ন আনসার;

(ঈ) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি);

(উ) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (কোস্ট গার্ড);

(ঊ) সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা;

(ঋ) সরকারি তদন্তকারী সংস্থা;

(এ) র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বা অনুরূপ অন্য কোনো সংস্থা বা বাহিনী;

(ঐ) উল্লিখিত এক বা একাধিক বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী বা যৌথ বাহিনী; এবং

(ও) আইন দ্বারা ঘোষিত যেকোনো শৃঙ্খলা-বাহিনী;

(১১) “ষড়যন্ত্র” অর্থ [Penal Code, 1860](https://laws.sayed.app/laws/act-11.md "Act 11") (Act No. XLV of 1860) এর section 120A এ সংজ্ঞায়িত criminal conspiracy;

(১২) “সরকারি কর্মচারী” অর্থ [Penal Code, 1860](https://laws.sayed.app/laws/act-11.md "Act 11") (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ সংঙ্গায়িত public servant; এবং

(১৩) “সাক্ষ্য আইন” অর্থ [Evidence Act, 1872](https://laws.sayed.app/laws/act-24.md "Act 24") (Act No. I of 1872)।

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

### গুম

৪। কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য উক্তরূপ পরিচয়ের বলে নিজে, অথবা শৃঙ্খলা-বাহিনী বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতির বলে যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যদি-

(ক) কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার, আটক, অপহরণ অথবা অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা-হরণ করে; এবং

(খ) সেই ব্যক্তির গ্রেফতার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা-হরণ করিবার বিষয়টি অস্বীকার করে অথবা উক্ত ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখে, এবং উক্তরূপ কার্যের ফলে উক্ত ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা হইতে বঞ্চিত হয়-

তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য একটি ফৌজদারি অপরাধ যাহা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ব্যাপক (widespread) বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে (systematic) সংঘটিত কোনো গুম এই আইনের অধীন ‘গুম’ হিসাবে গণ্য হইবে না; উহা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত আইনের অধীন গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার্য হইবে:

আরও শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি গ্রেফতারের পর [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](https://laws.sayed.app/laws/act-957 "Act 957") ের অনুচ্ছেদ ৩৩(২) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে হাজির করা হয়, তবে ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে হাজির করিবার পূর্ব পর্যন্ত উক্ত গ্রেফতারের ঘটনা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অবস্থান বা অবস্থা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ না করা হয় তবে উহা গুম হিসাবে গণ্য হইবে না।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-

(অ) “অপহরণ” অর্থ [Penal Code, 1860](https://laws.sayed.app/laws/act-11.md "Act 11") (Act No. XLV of 1860) এর section 362 এ সংজ্ঞায়িত “abduction”; এবং

(আ) “স্বাধীনতা-হরণ” অর্থ কোনো ব্যক্তিকে তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ রাখা।

### গুমের দণ্ড

৫। গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তি অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর বা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

### গুমের ফলে মৃত্যু, ইত্যাদির দণ্ড

৬। যদি গুমের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায় অথবা গুমের ঘটনার ৫ (পাঁচ) বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পরও তাহাকে জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন অন্য কোনো অপরাধের জন্য দায়েরকৃত মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও এই ধারার অধীন নূতন মামলা দায়ের আইনত বারিত হইবে না।

### গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ বিনষ্ট, ইত্যাদির দণ্ড

৭। যদি কোনো ব্যক্তি সজ্ঞানে গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ বিনষ্ট, গোপন, বিকৃত বা পরিবর্তন করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

### গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, ব্যবহার, ইত্যাদির দণ্ড

৮। যদি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি বা তাহারা অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং প্রত্যেকে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

### অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা, ইত্যাদির দণ্ড

৯। যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৫, ৬, ৭ এবং ৮ এ উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটনে-

(ক) দৃশ্যমান কোনো চেষ্টা করেন;

(খ) আদেশ, নির্দেশ, সহায়তা বা প্ররোচনা দেন; অথবা

(গ) ষড়যন্ত্র করেন-

তাহা হইলে তিনিও একই অপরাধে অপরাধী এবং তিনি সংশ্লিষ্ট মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

ব্যাখা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “সহায়তা বা প্ররোচনা” অর্থ [Penal Code, 1860](https://laws.sayed.app/laws/act-11.md "Act 11") (Act No. XLV of 1860) এর section 107 এ সংজ্ঞায়িত “abetment”।

### শৃঙ্খলা-বাহিনীর ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান

১০। শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতা যদি-

(ক) ধারা ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ এ উল্লিখিত যেকোনো অপরাধ, অতঃপর উক্ত অপরাধ বলিয়া উল্লিখিত, সংঘটনে অধস্তনদের আদেশ, অনুমতি, সম্মতি, অনুমোদন বা প্ররোচনা দেন অথবা উক্ত অপরাধে নিজেই অংশগ্রহণ করেন;

(খ) উক্ত অপরাধ সংঘটনের সহিত জড়িত কোনো পরিকল্পনা বা কার্যকলাপের সহিত যুক্ত থাকেন;

(গ) শৃঙ্খলা বজায় রাখিবার অথবা অধস্তনদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান করিবার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অবহেলা করেন, যাহার ফলে তাহার অধস্তনরা উক্ত অপরাধ সংঘটন করেন; অথবা

(ঘ) এইরূপ কোনো তথ্য জানেন, বা এইরূপ কোনো তথ্য যাহা তাহার অবগতিতে ছিল মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে, বা এইরূপ কোনো তথ্য সচেতনভাবে উপেক্ষা করেন যাহা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, তাহার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণাধীন অধস্তন কোনো ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধ সংঘটন করিতেছেন বা সংঘটন করিতে যাইতেছেন এবং উক্ত অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হন;

তাহা হইলে তিনিও মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-

(অ) “নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান” অর্থ অধস্তনদের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা এবং এই ধরনের আদেশ পালনের নিশ্চয়তা বিধানের সক্ষমতা; এবং

(আ) ভিন্নরূপ সাক্ষ্যপ্রমাণের অবর্তমানে আদালত অনুমান করিতে পারিবে যে, শৃঙ্খলা-বাহিনীর অধস্তনের ওপর ঊর্ধ্বতনের নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান ছিল।

### শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য নহে এইরূপ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান

১১। শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নহে এইরূপ কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি যদি ধারা ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ এ উল্লিখিত-

(ক) কোনো অপরাধ, অতঃপর উক্ত অপরাধ বলিয়া উল্লিখিত, সংঘটন সম্পর্কিত এইরূপ কোনো তথ্য জানেন, অথবা সচেতনভাবে উপেক্ষা করেন যাহা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, তাহার নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধানাধীন অধস্তন কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ সংঘটন করিতেছেন বা সংঘটন করিতে যাইতেছেন;

(খ) উক্ত অপরাধের সহিত জড়িত কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন বা কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন কিংবা উক্ত অপরাধ সংঘটনের সহিত জড়িত কোনো পরিকল্পনায় যুক্ত থাকেন; অথবা

(গ) উক্ত অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনে অথবা তদন্ত ও বিচারের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবার জন্য তাহার কর্তৃত্বাধীন সকল ধরনের প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন বা বিরত থাকেন;

সেইক্ষেত্রে উক্ত ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিও মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান” অর্থ অধস্তনদের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা এবং এই ধরনের আদেশ পালনের নিশ্চয়তা বিধানের সক্ষমতা।

### চলমান অপরাধ

১২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, গুম একটি চলমান অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে, যতক্ষণ না অপরাধ সংঘটনকারী গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি প্রকাশ করে অথবা যতক্ষণ না উল্লিখিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়:

তবে শর্ত থাকে যে, গুম হওয়া ব্যক্তি মৃত বলিয়া নিশ্চিত হওয়া গেলে, তাহার মরদেহ বা অবশিষ্টাংশের অবস্থান শনাক্ত এবং তাহা আইনানুগ ওয়ারিশগণের নিকট হস্তান্তর না করা পর্যন্ত উক্ত অপরাধ সমাপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য করা যাইবে না।

### রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অথবা অন্য ধরনের অজুহাত অগ্রহণযোগ্য

১৩। অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অথবা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ অনুযায়ী করা হইয়াছে এইরূপ অজুহাত অগ্রহণযোগ্য হইবে।

### গুমের অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের, তদন্ত ও আমলে গ্রহণ

১৪। (১) এই আইনের অধীন গুম-সংক্রান্ত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে ভুক্তভোগী নিজে অথবা ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী অথবা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি অভিযোগকারী হিসাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কারণে থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগ গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিলে অভিযোগকারী এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি উপস্থিত হইয়া নালিশি মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুসারে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে থানা, বা, ক্ষেত্রমত, এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নালিশি মামলা দায়েরের পর ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৩) কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনী বা উহার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনীত হইলে সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা-বাহিনী উক্ত অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা করিতে পারিবে না এবং উক্ত ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অথবা স্বপ্রণোদিত হইয়া সরকার উক্ত অভিযোগের তদন্তভার অভিযুক্ত শৃঙ্খলা-বাহিনী ব্যতিরেকে অন্য কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের নিকট অর্পণ করিবে।

(৪) কোনো অভিযোগের তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্তির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্নপূর্বক সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণসহ একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন, তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণে এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্তের মেয়াদ ৩০ (ত্রিশ) দিন পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে, এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন না হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

(৫) তদন্ত সম্পন্ন হইবার পর যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামতসহ প্রস্তুতকৃত তদন্ত প্রতিবেদন তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করিতে হইবে এবং প্রাপ্ত প্রতিবেদন ও তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট হইলে অপরাধ আমলে গ্রহণপূর্বক এখতিয়ারসম্পন্ন বিচারিক আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করিবে এবং উহার ভিত্তিতে এখতিয়ারসম্পন্ন বিচারিক আদালত বিচারকার্য শুরু করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধ আমলে গ্রহণ করিবার ক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণের আবশ্যকতা প্রযোজ্য হইবে না।

### কতিপয় ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন

১৫। (১) ধারা ১৪ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে কোনো অভিযোগে উল্লেখ থাকে যে, শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ধারা ১০ এর দফা (গ) ও (ঘ) এর অধীন অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট, উপযুক্ত মনে করিলে, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শুধু উক্ত বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবার নির্দেশ দিতে পারিবেন; এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্তরূপ প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবার নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা বাহিনীর আদেশ-কাঠামোর (command structure) সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমূহের নিকট হইতে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করিবেন।

(২) যেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্তোষজনক কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নাই, সেইক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট, অনুরূপ প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর সন্তুষ্ট হইলে, অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও, উক্ত ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিকে কার্যধারা হইতে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ঊর্ধ্বতন কোনো ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া সত্ত্বেও, যদি তদন্ত শেষে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনে জড়িত, তাহা হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন।

### গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান প্রক্রিয়া এবং অনুসন্ধানে তল্লাশি পরোয়ানা জারি

১৬। (১) এই আইনের অধীন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কোনো অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে খুঁজিয়া বাহির করিবার উদ্দেশ্যে আটক কেন্দ্র, অন্য কোনো স্থান বা স্থাপনায় ফৌজদারি কার্যবিধির section 100 এ বর্ণিত তল্লাশি পরোয়ানা জারি করিতে পারিবে।

(২) এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত, উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত তল্লাশি পরোয়ানা পুলিশ বা অন্য কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য কিংবা উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তি কর্তৃক কার্যকর করিতে পারিবে।

### দণ্ড লাঘব যা বৃদ্ধির পরিস্থিতি (Mitigating or aggravating factors)

১৭। (১) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে, আদালত এই ধারায় বর্ণিত লাঘব বা বৃদ্ধির পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া দণ্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) এই আইনের অধীন দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহকে দণ্ড লাঘব পরিস্থিতি (Mitigating factors) হিসাবে গণ্য করা যাইবে, যথা:-

(ক) যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি গুম হওয়া ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারে সরাসরি বা কার্যকর ভূমিকা পালন করেন, গুমের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন, বা গুমের সহিত জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করিতে কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করেন; অথবা

(খ) আদালত কর্তৃক বিবেচিত অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত পরিস্থিতি।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আদালত দণ্ড লাঘব করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে, এই আইনের ধারা ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ এ উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য নির্ধারিত অন্যূন দণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) এই আইনের অধীন দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহকে দণ্ড বৃদ্ধির পরিস্থিতি (Aggravating factors) হিসাবে গণ্য করা যাইবে, যথা:-

(ক) যদি গুমের শিকার ব্যক্তি শিশু, গর্ভবর্তী নারী, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী, শারীরিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় কারণে অরক্ষিত বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কেউ হন; অথবা

(খ) আদালত কর্তৃক বিবেচিত অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত পরিস্থিতি।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন আদালত দণ্ড বৃদ্ধি করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে, এই আইনের ধারা ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ এ উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করিবে না।

(৬) এই ধারার অধীন আদালত দণ্ড লাঘব বা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে উক্ত লাঘব বা বৃদ্ধির পরিস্থিতি রায়ে লিপিবদ্ধ করিবে।

### অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার।

১৮। ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার লক্ষ্যে পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন এবং তাহার আশু গ্রেফতারের কোনো সম্ভাবনা নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে উক্ত অনুপস্থিতি, পলাতক বা আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করিবার নিমিত্ত তথ্যপ্রযুক্তির যেকোনো উপযুক্ত মাধ্যমে বা বহুল প্রচারিত একটি বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা বা বিদেশি দূতাবাস বা ইন্টারপোলসহ অন্যবিধ যুক্তিসঙ্গত যেকোনো উপায়ে উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ জারি করিয়া হাজির হইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি উক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির না হন, তাহা হইলে আদালত তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির হইবার পর বা তাহাকে আদালতে হাজির করিবার পর বা তাহাকে আদালত কর্তৃক জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর পলাতক হন, তাহা হইলে তাহার ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিধান প্রযোজ্য হইবে না, এবং সেইক্ষেত্রে আদালত, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাহার বিচার সম্পন্ন করিতে পারিবে।

### বিচার

১৯। (১) এই আইনের অধীন গুমের অপরাধের বিচার কেবল এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা জজ আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।

(২) এই আইনের অধীন অপরাধের বিচার অভিযোগ গঠনের ৯০ (নব্বই) কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে।

(৩) যদি উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সমাপ্ত না করা যায় তাহা হইলে বিচারিক আদালত কর্তৃক উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্য সমাপ্ত করিতে হইবে এবং অবিলম্বে উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সুপ্রীম কোর্টের নিকট একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করিতে হইবে।

### আদালতের এখতিয়ার

২০। (১) এই আইনের অধীন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত অপরাধ আমলে গ্রহণ ও বিচার করিতে পারিবে, যদি-

(ক) অপরাধটি বাংলাদেশের এখতিয়ারাধীন ভূখন্ডে, দূতাবাসে বা বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোনো জাহাজ, বিমান বা অন্য কোনো যানে সংঘটিত হয়; বা

(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হন; বা

(গ) গুম হওয়া ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হন।

(২) যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় উপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হউক বা না হউক, আদালতে তাহার বিচার চলিতে থাকিবে, যতক্ষণ না বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নিকট উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সমর্পণ করা হয় কিংবা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে বাংলাদেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিকট উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তর বা প্রত্যর্পণ করে।

### মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

২১। এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর রায় প্রদানকালে যদি এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক, তাহা হইলে উক্ত আদালত মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ বরাবর যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারিবে এবং, প্রয়োজনে, ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের পাশাপাশি উক্ত মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তিকে অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

### আপিল

২২। এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করিতে পারিবেন।

### ক্ষতিপূরণ ও উহা আদায়ের পন্থা

২৩। (১) এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত এই আইনের অধীন আরোপিত অর্থদণ্ডকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিবে এবং উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীকে প্রদান করিবে, দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হইতে উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়যোগ্য হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির উপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হইতে আদায় করা সম্ভব না হইলে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীকে উহা প্রদানে বাধ্য থাকিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয়বিধ সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুতক্রমে ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় বা ক্রোক ব্যতীত সরাসরি নিলামে বিক্রয় করিয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টরকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

### অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনঅযোগ্যতা, আপোসঅযোগ্যতা ইত্যাদি

২৪। (১) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনঅযোগ্য এবং আপসঅযোগ্য হইবে।

(২) এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি-

(ক) তাহাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের উপর অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেওয়া না হয়; এবং

(খ) তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হইবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে মর্মে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত সন্তুষ্ট হন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি নারী বা শিশু হইলে কিংবা শারীরিকভাবে অসুস্থ (sick or infirm) হইলে, উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত সন্তুষ্ট হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইবে।

### ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা

২৫। অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পাদিত কথোপকথন বা যোগাযোগ কিংবা অপরাধসংশ্লিষ্ট স্থির বা ভিডিওচিত্রসহ যেকোনো ডিজিটাল সাক্ষ্য, সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুসারে এই আইনের অধীন বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।

### ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ, ইত্যাদি

২৬। এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার ও নিষ্পত্তিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

### ভুক্তভোগী, তথ্য প্রকাশকারী ও সাক্ষীর গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা

২৭। (১) কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো গুমের ঘটনার তথ্যপ্রমাণ এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত, অথবা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রকাশ করিলে তিনি [জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১](https://laws.sayed.app/laws/act-1072.md "Act 1072") (২০১১ সনের ৭ নং আইন) এর অধীন সুরক্ষার অধিকারী হইবেন এবং উক্ত আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত অথবা তদন্তকারী কর্মকর্তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত নিজ বিবেচনায় কিংবা ভুক্তভোগী বা তাহার প্রতিনিধির আবেদনের ভিত্তিতে গুমসংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী বা কোনো সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষার্থে কিংবা প্রতিশোধ, ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি বা যেকোনো প্রকার বিরূপ কার্য হইতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত যেকোনো আদেশ প্রদান এবং উক্ত আদেশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

### ভুক্তভোগীর অধিকার

২৮। (১) নিম্নবর্ণিত বিষয়ে ভুক্তভোগীর তথ্য জানিবার অধিকার থাকিবে, যথা:-

(ক) গুম সম্পর্কিত বিস্তারিত ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতা;

(খ) গুম সম্পর্কিত তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল; এবং

(গ) গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি।

(২) ভুক্তভোগীদের গুম সম্পর্কিত সংগঠন গঠন এবং স্বাধীনভাবে উহার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অধিকার থাকিবে।

(৩) যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভুক্তভোগীদের সহায়তা করিতে পারিবে।

(৪) ভুক্তভোগীদের [আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০](https://laws.sayed.app/laws/act-834.md "Act 834") (২০০০ সনের ৬ নং আইন) এর অধীন সরকারি আইনগত সহায়তা পাইবার অধিকার থাকিবে।

(৫) গুম হওয়া ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা শনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে কিংবা গোপন আটকের ক্ষেত্রে, মুক্ত করিবার উদ্দেশ্যে কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় উক্ত ব্যক্তির দেহাবশেষ শনাক্ত, দাফন-কাফন বা সৎকার ও ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপযুক্ত শৃঙ্খলা-বাহিনী ও অন্যান্য ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ যথাযথ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

### গুম হওয়া ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী বা সন্তান কর্তৃক সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি

২৯। (১) গুম হওয়া ব্যক্তির দায় পরিশোধ, তাহার স্বামী বা স্ত্রী বা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ বা অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্য গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তর করিবার নিমিত্ত, তাহার স্বামী বা স্ত্রী বা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্যের আবেদন অনুসারে, এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ ব্যয় নির্বাহ করিবার উদ্দেশ্য তাহার সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য গুম সনদ ইস্যুসহ অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে এবং সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারিবে।

(২) এই আইনের অধীন দায়েরকৃত কোনো মামলায় বা এতদুদ্দেশ্যে দায়েরকৃত কোনো কার্যধারায় এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত উক্তরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) সাক্ষ্য আইনের section 108 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন ৫ (পাঁচ) বছর ধরিয়া গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরিয়া না আসেন, সেইক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত, উক্ত ব্যক্তির যেকোনো বৈধ উত্তরাধিকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, আদেশ প্রদানের সময় উক্ত ব্যক্তির বিদ্যমান সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য মর্মে ঘোষণা প্রদান এবং এই মর্মে গুম সনদ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) এই ধারার অধীন আবেদনপত্র এবং গুম সনদের ধরন ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারণ করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত বিষয়সমূহ এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘গুম হওয়া ব্যক্তি’ অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি এস.আর.ও. নম্বর ৩১২-আইন/২০২৪, তারিখ ১৫-০৯-২৪ এর অধীন গঠিত কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রমে, অথবা এই আইনের অধীন দায়েরকৃত কোনো মামলায় গৃহীত তদন্ত প্রতিবেদনে বা প্রদত্ত রায়ে গুম হইয়াছেন মর্মে সাব্যস্ত হইয়াছেন এবং এই ধারায় এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত জীবিত ফিরিয়া আসেন নাই এইরূপ ব্যক্তিকে বুঝাইবে।

### ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল

৩০। গুমের শিকার ব্যক্তির চিকিৎসা ও ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার একটি তহবিল গঠন, তহবিলে অর্থ সংগ্রহ এবং তহবিল হইতে ব্যয় করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে, প্রয়োজনে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, সরকার, আদেশ দ্বারা তহবিল পরিচালনা করিতে পারিবে।

### আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

৩১। গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাহার পরিবারকে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে কিংবা গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান, শনাক্তকরণ ও মুক্তির উদ্দেশ্যে কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ উত্তোলন ও পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিংবা গুমের ঘটনায় কোনো অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার অন্য রাষ্ট্রকে সহযোগিতা প্রদান করিবে, যদি উক্ত রাষ্ট্র বাংলাদেশকে একই ধরনের সহযোগিতা প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হইয়া থাকে।

### গুমসংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার

৩২। (১) এই আইনের অধীন সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি তথ্যভাণ্ডার (database) থাকিবে যেখানে গুম হওয়া ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষিত থাকিবে।

(২) উক্ত তথ্যভাণ্ডারে নিম্নরূপ তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:-

(ক) গুম হওয়া, গুম হইতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তি এবং গুমের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত সন্তানদের নাম, পিতা ও মাতার নাম, লিঙ্গ, বয়স, পেশা, ঠিকানা;

(খ) নিখোঁজ হইবার তারিখ, স্থান, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য কারণ (যেমন, রাজনৈতিক মতাদর্শ, পেশাগত দ্বন্দ্ব, ফৌজদারি মামলা, পারিবারিক বিরোধ বা সামাজিক প্রেক্ষাপট, ইত্যাদি);

(গ) পরিবারের পক্ষ হইতে দাখিলকৃত অভিযোগ ও প্রাথমিক সাক্ষ্য;

(ঘ) অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচয় (যেমন, বাহিনীর নাম, ইউনিট, পদবি, দায়িত্বকাল, তদন্ত, আদালতের আদেশ এবং আপিলের অবস্থা);

(ঙ) ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত তথ্য; এবং

(চ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়াদি।

(৩) তথ্যভাণ্ডারের উপাত্ত বিশ্লেষণ, গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিতকরণে একটি সুনির্দিষ্ট লিঙ্গ ও শিশু-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রবর্তন করা হইবে।

(৪) ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে তথ্যভান্ডারে এতদ্‌সংক্রান্ত সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকিবে, তবে জনস্বার্থে, উহার সার-সংক্ষেপিত অংশ প্রকাশযোগ্য হইবে।

### ব্যাপক (widespread) বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে (systematic) সংঘটিত গুম সংক্রান্ত বিশেষ বিধান

৩৩। (১) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের section 3(2)(a) এ উল্লিখিত Crimes against humanity এর অন্তর্ভুক্ত ব্যাপক (widespread) বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে (systematic) সংঘটিত Enforced Disappearance অপরাধের ক্ষেত্রে উক্ত আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের section 3(2)(a) এর অধীন কোনো কার্যধারা চলমান থাকিলে একই ঘটনায় উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাইবে না।

### আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন, মামলা, ইত্যাদি প্রেরণ

৩৪। (১) এই আইনের অধীন তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনাক্রমে এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, দাখিলকৃত অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন বিচার্য, তাহা হইলে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ উক্ত আইনের অধীন চীফ প্রসিকিউটর বরাবর প্রেরণ করিতে হইবে।

(২) রায় প্রদানের পূর্বে বিচার পর্যায়ে এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন বিচার্য, সেইক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বরাবর প্রেরণ করিবে এবং উক্তরূপ কোনো মামলা প্রাপ্ত হইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উক্ত আইনের অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত হইতে প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন অথবা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের মতামতসহ প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনাপূর্বক যেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর চীফ প্রসিকিউটর মনে করেন যে, অতিরিক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও দলিলপত্রাদি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সেইক্ষেত্রে অধিকতর তদন্ত পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা থাকিবে না।

### অসুবিধা দূরীকরণ

৩৫। এই আইন কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানের সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দূর করিতে পারিবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৩৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৩৭। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) মূল বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

***

### Footnotes

> [!NOTE]
>
> Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1737.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.


This documentation is built and hosted on [Mintlify](https://mintlify.com), a developer documentation platform.