> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) আইন, ২০২৬

> Armed Police Battalions Ordinance, 1979 রহিতপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

**Status:** Repealed

**Date of Publication:** ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

**Act No:** ২০২৬ সনের ১১০ নং আইন

যেহেতু দেশের বহুমাত্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করিয়া আসিতেছে; এবং

যেহেতু জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যপরিধি, দায়িত্ব ও কর্তব্য ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হইয়াছে; এবং

যেহেতু [Armed Police Battalions Ordinance, 1979](https://laws.sayed.app/laws/act-593.md "Act 593") (Ordinance No. XXV of 1979) রহিতপূর্বক উহাকে যুগোপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল:-

## প্রথম অধ্যায় - প্রারম্ভিক

### সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন [আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) আইন, ২০২৬](https://laws.sayed.app/laws/act-1740.md "Act 1740") নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(১) "অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক” অর্থ ধারা ৭ এর অধীন নিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, এপিবিএন;

(২) “অধস্তন কর্মকর্তা (Subordinate Officer)" অর্থ পুলিশ উপ-পরিদর্শক ও পুলিশ সহকারী উপ-পরিদর্শক:

(৩) "অধিনায়ক (Commanding Officer)” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য যিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ড করেন;

(৪) “আর্মড পুলিশ সদস্য” অর্থ কর্মকর্তা ব্যতীত যেকোনো পুলিশ সদস্য;

(৫) “ইউনিট” অর্থ এই আইন অনুসারে গঠিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn), স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (SPBn), পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন;

(৬) "ইউনিট সদস্য" অর্থ ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মকর্তা, আর্মড পুলিশ সদস্য, নন-পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী;

(৭) "উপ-অধিনায়ক” অর্থ অধিনায়ককে সহযোগিতার নিমিত্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে তাহার দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা;

(৮) "ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (Superior Officer)" অর্থ সহকারী পুলিশ সুপার হইতে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা;

(৯) “কর্মকর্তা” অর্থ পুলিশ পরিদর্শক হইতে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা;

(১০) "কোম্পানি” অর্থ কতিপয় সশস্ত্র প্লাটুন সমন্বয়ে গঠিত কোনো কোম্পানি;

(১১) "ক্যাম্প” অর্থ নিজ কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় মোতায়েনকৃত ইউনিট;

(১২) “তফসিল” অর্থ এই আইনের সহিত সংযোজিত তফসিল;

(১৩) "তদন্ত” অর্থ [Code of Criminal Procedure, 1898](https://laws.sayed.app/laws/act-75.md "Act 75") (Act No. V of 1898) এর Section 4 এর sub-section (1) এর clause (1) এ সংজ্ঞায়িত Investigation;

(১৪) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(১৫) "প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(১৬) "পুলিশ বাহিনী" অর্থ [Police Act, 1861](https://laws.sayed.app/laws/act-12.md "Act 12") (Act No. V of 1861) এর অধীন গঠিত বাহিনী;

(১৭) "প্লাটুন” অর্থ কতিপয় সশস্ত্র সেকশনের সমন্বয়ে গঠিত কোনো প্লাটুন;

(১৮) “ফৌজদারি কার্যবিধি" অর্থ [Code of Criminal Procedure, 1898](https://laws.sayed.app/laws/act-75.md "Act 75") (Act No. V of 1898);

(১৯) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(২০) “বিশ্বাস করিবার কারণ", "অপরাধমূলক বল প্রয়োগ”, “আক্রমণ", "প্রতারণামূলকভাবে” এবং “স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান" অর্থ [Penal Code, 1860](https://laws.sayed.app/laws/act-11.md "Act 11") (Act No. XLV of 1860) এ উল্লিখিত যথাক্রমে, "Reason to Believe", "Criminal Force", "Assault", "Fraudulently" এবং "Voluntarily Causing Hurt";

(২১) “বিশেষ আদালত” অর্থ ধারা ২২ এর অধীন গঠিত বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত;

(২২) "ব্যাটালিয়ন" অর্থ কতিপয় সশস্ত্র কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ব্যাটালিয়ন;

(২৩) “শৃঙ্খলা বাহিনী” অর্থ [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](https://laws.sayed.app/laws/act-957 "Act 957") ের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত শৃঙ্খলা বাহিনী;

(২৪) "সংক্ষিপ্ত আদালত” অর্থ ধারা ২২ এর অধীন গঠিত সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত; এবং

(২৫) "সেকশন” অর্থ একজন অধস্তন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নির্ধারিত সংখ্যক আর্মড পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত সেকশন।

### আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

## দ্বিতীয় অধ্যায় - ইউনিট প্রতিষ্ঠা, গঠন, ইত্যাদি

### ইউনিট প্রতিষ্ঠা, গঠন, ইত্যাদি

৪। (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীর অধীন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) প্রতিষ্ঠা, গঠন ও পরিচালনা করা হইবে।

(২) ইউনিটে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন ও অন্য কোনো ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।

(৩) বিধি দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যাসকৃত পদের এবং সংখ্যার কর্মকর্তা ও আর্মড পুলিশ সদস্য সমন্বয়ে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ব্যাটালিয়নসমূহ গঠিত ও পরিচালিত হইবে।

(৪) কার্য সম্পাদনের সুবিধার্থে ইউনিটে সাইবার সেল গঠন করা যাইবে।

(৫) ইউনিট পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে থাকিবে।

(৬) এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার প্রশাসনিক ও আইনি বিষয়সমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আইনজীবী, মনোবিদ, চিকিৎসক, বিচার বিভাগীয় সদস্য, ইত্যাদিসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক নন-পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরাসরি অথবা প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।

### ইউনিটের পতাকা, প্রতীক ও পোশাক

৫। ইউনিটের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত একটি পতাকা, প্রতীক ও সুনির্দিষ্ট পোশাক থাকিবে।

### ইউনিটের সদর দপ্তর ও দপ্তর

৬। (১) ইউনিটের সদর দপ্তর ঢাকায় থাকিবে।

(২) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোনো স্থানে ইউনিটের দপ্তর স্থাপন করা যাইবে।

### অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, এপিবিএন

৭। (১) ইউনিটের প্রধান পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।

(২) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, এপিবিএন ইউনিটের নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা ও আর্মড পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশনে শ্রেণিবিন্যাস করিতে পারিবেন।

(৩) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

(৪) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ও অপারেশনাল কাজে পুলিশ মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে পুলিশের অন্যান্য ইউনিটকে সহায়তা করিবেন।

### ইউনিটের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা

৮। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, পুলিশ মহাপরিদর্শকের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের আদেশে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হইবে।

### ইউনিট হইতে অব্যাহতি

৯। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ইউনিটের প্রত্যেক সদস্য তাহার নিয়োগ বা অন্তর্ভুক্তির মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবেন কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শক অথবা এইরূপ অন্য অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদপূর্তির পূর্বেই নির্ধারিত শর্তাধীনে অব্যাহতি প্রাপ্ত হইতে পারিবেন।

## তৃতীয় অধ্যায় - ইউনিটের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি

### ইউনিটের দায়িত্ব ও কার্যাবলি

১০। ইউনিটের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) জননিরাপত্তা রক্ষা;

(খ) রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার কর্তৃক ঘোষিত ভিআইপি ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা (Security) ও প্ররক্ষা (Protection) কাজে সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলাবাহিনীকে সহযোগিতা;

(গ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থাপনা ও বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ;

(ঘ) সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন;

(ঙ) বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার;

(চ) মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ছ) নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ;

(জ) আইন শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ;

(ঝ) পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা;

(ঞ) আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক কর্তৃক নির্দেশিত হইয়া উল্লিখিত অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত কার্যক্রম; এবং

(ট) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন।

### অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন

১১। এই আইন, বিধি, প্রবিধান অথবা সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত নির্দেশনা সাপেক্ষে, ইউনিটের সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ, বহন ও ব্যবহার করিতে পারিবে।

### প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দকরণ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা

১২। ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইন প্রতিপালন সাপেক্ষে, কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দকরণ ও গ্রেফতার করিবার ক্ষমতা ইউনিটের থাকিবে।

### কতিপয় ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগ

১৩। এই আইনের অধীন তল্লাশি, আটক, জব্দকরণ ও গ্রেফতার করিবার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যেরূপ ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি থাকে, ইউনিটের অন্যূন পুলিশ উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা সেইরূপ ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি প্রয়োগ বা, ক্ষেত্রমত, সম্পাদন করিতে পারিবেন।

### গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সোপর্দ ও আলামত হস্তান্তর

১৪। ইউনিটের কোনো সদস্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিলে বা কোনো আলামত জব্দ করিলে, ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করিবেন এবং এতৎসংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবেন।

## চতুর্থ অধ্যায় - ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম

### ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত

১৫। (১) আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনো সময় ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শককে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক তাহার অধীন কর্মরত পুলিশ উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এইরূপ কোনো সদস্যকে উক্তরূপ ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) তদন্তকালে ফৌজদারি কার্যবিধি, Police Regulations, 1943-সহ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

(৪) তদন্ত কার্য পরিচালনার প্রয়োজনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকিবে এবং জব্দকৃত মালামাল আদালতের আদেশমতে বা বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

### ফৌজদারি কার্যবিধির প্রযোজ্যতা

১৬। এই আইনের যেক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই সেইক্ষেত্রে অপরাধের তদন্ত, বিচার, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার, ফরেনসিক পরীক্ষা, সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

## পঞ্চম অধ্যায় - শৃঙ্খলা ও আচরণ

### শৃঙ্খলা ও আচরণ

১৭। (১) এই আইনের অধীন ইউনিটের সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণ এবং বিভাগীয় কার্যধারা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, ইউনিটের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান বিধি অথবা, ক্ষেত্রমত, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য বিধি বা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধানাবলি অনুসরণ করিতে হইবে।

(২) এই আইন, বিধি, প্রবিধান ও সরকারের নির্দেশনা সাপেক্ষে, যদি থাকে, পুলিশ মহাপরিদর্শক ইউনিটের সকল সদস্যের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণ সম্পর্কিত নির্দেশাবলি জারি করিতে পারিবেন।

### সংগঠন, মিডিয়া বা সংবাদপত্রে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা

১৮। (১) ইউনিটের কোনো সদস্য কোনো সংগঠনের সদস্য হইতে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উহার সহিত কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা রাখিতে পারিবেন না:

তবে শর্ত থাকে যে, ইউনিটের কোনো সদস্য পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি বা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্বার্থে পেশাজীবী সংঘ বা সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন।

(২) ইউনিটের কোনো সদস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সংবাদপত্রে কোনো প্রকার তথ্য অথবা অন্য প্রকার দলিল প্রকাশ করিতে পারিবেন না বা প্রকাশে সহযোগিতা করিতে পারিবেন না অথবা প্রকাশ করিবার কারণ হইবেন না।

### বিভাগীয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অভিযোগ

১৯। (১) ইউনিটের কোনো সদস্য নিম্নবর্ণিত কোনো কর্ম বা আচরণ করিলে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা যাইবে, যথা:-

(ক) শৃঙ্খলা ও বিধি পরিপন্থি আচরণ বা অসদাচরণ করা;

(খ) পদমর্যাদার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ কোনো আচরণ করা;

(গ) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা;

(ঘ) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে প্যারেডে অনুপস্থিত থাকা;

(ঙ) অর্পিত দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রদর্শন বা অবহেলা বা প্রতারণা করা;

(চ) উৎকোচ গ্রহণ বা অন্য কোনো সদস্যের উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা;

(ছ) সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করা বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি সম্পত্তির ব্যবহার বা সরকারি দলিল জাল বা গোপন করা;

(জ) সরকারি বা ইউনিটের সদস্যের সম্পত্তি চুরি, অসাধুভাবে আত্মসাৎ অথবা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করা;

(ঝ) চোরাই সম্পত্তি জ্ঞাতসারে বা উহা চোরাই সম্পত্তি বলিয়া বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে উহা গ্রহণ করা বা নিজের তত্ত্বাবধানে রাখা;

(ঞ) প্রতারণার উদ্দেশ্যে অথবা কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে কোনো কার্য সম্পাদন বা বিচ্যুতি সংঘটন করা;

(ট) জরুরি বা আর্থিক বিষয়ে দালিলিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন অথবা প্রতারণামূলক তথ্য প্রদান অথবা জালিয়াতিকরণ অথবা কোনো বিচ্যুতি সংঘটন করা;

(ঠ) চাকরিতে নিয়োগের জন্য মিথ্যা তথ্য প্রদান করা;

(ড) চাকরির শর্তানুযায়ী গৃহীত শপথ ভঙ্গ করা;

(ঢ) দাপ্তরিক কোনো বিষয়ে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও তৎসম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা;

(ণ) ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি বা বিধির অধীন জারীকৃত কোনো আদেশ পালন করিতে অবহেলা করা; এবং

(ত) ধারা ১৭-তে উল্লিখিত শৃঙ্খলা ও আচরণ এবং ধারা ১৮-তে উল্লিখিত বিধান লঙ্ঘন করা।

(২) ইউনিটের কোনো সদস্য, যাহার বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এর অধীন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বা যাহার বিরুদ্ধে কোনো তদন্তকার্য পরিচালনা করা হইবে তাহাকে নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সাময়িক বরখাস্ত করা যাইবে, যথা:-

(ক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক;

(খ) পুলিশ পরিদর্শকের ক্ষেত্রে পুলিশ মহাপরিদর্শক কর্তৃক; এবং

(গ) অধস্তন কর্মকর্তা বা আর্মড পুলিশ সদস্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক।

### বিভাগীয় কার্যধারায় আরোপযোগ্য দণ্ড

২০। (১) বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো ইউনিট সদস্যকে নিম্নবর্ণিত যেকোনো গুরুদণ্ড প্রদান করা যাইবে, যথা:-

(ক) চাকরি হইতে বরখাস্ত;

(খ) চাকরি হইতে অপসারণ;

(গ) বাধ্যতামূলক অবসর;

(ঘ) চাকরি হইতে অব্যাহতি;

(ঙ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি;

(চ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদোন্নতি বন্ধ;

(ছ) অনূর্ধ্ব এক বৎসরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন ও ভাতাদি বাজেয়াপ্ত; এবং

(জ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত।

(২) বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো ইউনিট সদস্যকে নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু দণ্ড প্রদান করা যাইবে, যথা:-

(ক) অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা জরিমানা;

(খ) তিরস্কার;

(গ) অনূর্ধ্ব ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক রাখা;

(ঘ) অনূর্ধ্ব ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রাখা এবং তৎসহ এক্সট্রা ড্রিল (Extra Drill), এক্সট্রাগার্ড (Extra Guard), ফ্যাটিগ (Fatigue) বা অন্য কোনো ডিউটি প্রদান; এবং

(ঙ) দৈনিক ২ (দুই) ঘণ্টা করিয়া অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) দিনের জন্য শাস্তিস্বরূপ ড্রিল (Drill) প্রদান।

(৩) পুলিশ মহাপরিদর্শক বা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের নিম্নে নহেন এইরূপ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাহার অধীনস্থ কোনো ইউনিট সদস্যকে উপ-ধারা (১) বা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত যেকোনো এক বা একাধিক দণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) হইতে দফা (ঙ)-তে উল্লিখিত দণ্ড কর্মকর্তা ও অধস্তন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(৪) আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান না করিয়া কোনো ইউনিট সদস্যকে এই ধারার অধীন কোনো দণ্ড প্রদান করা যাইবে না।

### বিভাগীয় কার্যধারায় প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল

২১। (১) ধারা ২০ এর অধীন প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করা যাইবে, যথা:-

(ক) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপ-মহাপরিদর্শকের নিকট; অথবা

(খ) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের আদেশের ক্ষেত্রে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিকট।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ও (খ)-তে প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

## ষষ্ঠ অধ্যায় - আদালত গঠন, বিচার ও দণ্ড

### বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন

২২। (১) ধারা ২৩ এ বর্ণিত অপরাধের বিচার করিবার জন্য বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত এবং ধারা ২৪ এ বর্ণিত অপরাধের বিচার করিবার জন্য সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত নামে ২ (দুই) ধরনের আদালত গঠন করা যাইবে।

(২) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত গঠন করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অন্যূন উপ-মহাপরিদর্শক পদের ১ (এক) জন কর্মকর্তা, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন; এবং

(খ) পুলিশ সুপার পদের নিম্নে নহেন এইরূপ ২ (দুই) জন কর্মকর্তা:

তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি পুলিশ সুপার বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হন, তাহা হইলে দফা (খ) এ বর্ণিত সদস্যগণ হইবেন অভিযুক্ত ব্যক্তির উর্ধ্বতন পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা।

(৩) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ মহাপরিদর্শকের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত গঠন করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অন্যূন অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক পদের ১ (এক) জন কর্মকর্তা, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন; এবং

(খ) পুলিশ সুপার পদের নিম্নে নহেন এইরূপ ২ (দুই) জন কর্মকর্তা:

তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি পুলিশ সুপার বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হন, তাহা হইলে দফা (খ) এ বর্ণিত সদস্যগণ হইবেন অভিযুক্ত ব্যক্তির উর্ধ্বতন পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা।

(৪) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক সরকারের পক্ষে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করিবার জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অন্যূন ১ (এক) জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আইন কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োজিত করিতে পারিবেন।

(৫) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, অভিযুক্ত ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, তাহার পক্ষে আইনানুগ প্রতিনিধি হিসাবে মামলা শুনানির জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।

### বিশেষ আদালত কর্তৃক বিচার্য অপরাধ ও দণ্ড

২৩। (১) ইউনিটের কোনো সদস্য কর্তৃক কৃত নিম্নবর্ণিত কোনো কার্য হইবে অপরাধ, যাহা বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে, যথা:-

(ক) বিদ্রোহ সংঘটন, উহাতে প্ররোচনা প্রদান, বিদ্রোহের কারণ সৃষ্টি, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া বা উহাতে যোগদান করা;

(খ) বিদ্রোহ স্থলে উপস্থিত থাকিয়া উহা দমনের জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা গ্রহণ না করা;

(গ) বিদ্রোহ সম্পর্কে জ্ঞাত থাকিয়া বা উক্তরূপ কোনো বিদ্রোহের অস্তিত্ব রহিয়াছে বলিয়া বিশ্বাস করিয়া ষড়যন্ত্রের কথা যুক্তিযুক্তভাবে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও তাহার অধিনায়ক বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত না করা;

(ঘ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিদ্রোহের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো সদস্য বা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বহির্ভূত কোনো ব্যক্তিকে অস্ত্র, গোলাবারুদ বা দ্রব্য-সামগ্রী দ্বারা অথবা অন্য কোনো উপায়ে সহায়তা করা;

(ঙ) বিদ্রোহের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির সহিত যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস, সহায়তা প্রদান, অন্য যেকোনো অপরাধ সংঘটন করা বা তৎসংক্রান্ত তথ্য গোপন করা;

(চ) জ্ঞাতসারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর অপরাধজনক বল প্রয়োগ করা বা বল প্রয়োগের চেষ্টা করা;

(ছ) ইউনিটের কোনো সদস্যকে সরকারের প্রতি তাহার কর্তব্য বা আনুগত্য হইতে বিরত রাখা;

(জ) ক্যাম্প, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর বা ব্যারাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা বিপদ সংকেতের কারণ ঘটানো বা প্রচার করা; এবং

(ঝ) উপরি-উক্ত অপরাধসমূহ সংঘটনে সহায়তা করা।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে বিশেষ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হইলে, নিম্নবর্ণিত যেকোনো দণ্ড আরোপ করা যাইবে, যথা:-

(ক) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) হইতে দফা (ঙ)-তে বর্ণিত অপরাধের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক ক্ষতির ক্ষেত্রে সমপরিমাণ অর্থদণ্ড; বা

(খ) উপ-ধারা (১) এর দফা (চ) হইতে দফা (ঝ)-তে বর্ণিত অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক ক্ষতির ক্ষেত্রে সমপরিমাণ অর্থদণ্ড।

(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এ বর্ণিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(৪) বিশেষ আদালত এই ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য যেকোনো অপরাধ স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া অথবা কোনো ব্যক্তির দাখিলকৃত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমলে নিতে পারিবে এবং এতদ্দ্বারা নির্দেশিত কার্যবিধি অনুসরণ করিবে।

### সংক্ষিপ্ত আদালত কর্তৃক বিচার্য অপরাধ ও দণ্ড

২৪। (১) ইউনিটের কোনো সদস্য কর্তৃক কৃত নিম্নবর্ণিত কোনো কার্য হইবে অপরাধ, যাহা সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে, যথা:-

(ক) ইউনিটের অস্ত্র, গোলাবারুদ, পোশাক, যন্ত্রাংশ বা যানবাহনের অংশবিশেষ পরিকল্পিতভাবে বিনষ্ট করা বা অবহেলার কারণে হারাইয়া ফেলা বা প্রতারণা বা জালিয়াতির আশ্রয় লইয়া তছরুপ করা;

(খ) কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল হওয়া বা মাতলামি করা;

(গ) কোনো প্রহরীর প্রতি আঘাত বা অপরাধজনক বল প্রয়োগ করা কিংবা বল প্রয়োগের চেষ্টা করা;

(ঘ) যথাযথভাবে হস্তান্তরিত কোনো কয়েদি গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা, কর্তৃত্ব বহির্ভূতভাবে কোনো কয়েদিকে মুক্তি প্রদান করা অথবা কর্তব্যে অবহেলার কারণে কোনো কয়েদির পলায়ন ঘটানো;

(ঙ) কোয়ার্টার গার্ডের কমান্ডে থাকা অবস্থায় লিখিত আদেশ সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অন্তরীণ না রাখা বা অন্তরীণ রাখিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা বা অন্তরীণ রাখা ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় ছাড়িয়া দেওয়া;

(চ) কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ডিউটি পোস্ট বা টহল পরিত্যাগ করা;

(ছ) প্রহরারত অবস্থায় নিদ্রা গমন করা অথবা নিয়মিত পালাবদল বা ছুটি ব্যতিরেকে প্রহরা পরিত্যাগ করা;

(জ) কোনো দায়িত্বপূর্ণ এলাকা, ডিউটি পোস্ট বা টহল দলের কমান্ডে থাকিয়া উক্ত দায়িত্বাধীন স্থলে মোতায়েনকৃত কোনো ব্যক্তিকে জুয়া খেলার অথবা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজ করিবার অনুমতি প্রদান করা;

(ঝ) এই আইনের অধীন অন্তরীণ থাকাবস্থায়, আটকাদেশ হইতে অব্যাহতি পাইবার পূর্বে কৌশলে উক্ত স্থান ত্যাগ করা;

(ঞ) দাপ্তরিক কর্মকান্ডে উর্ধ্বতন অফিসারের প্রতি অবাধ্যতা বা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করা;

(ট) আদিষ্ট পুলিশি কার্য বা সহায়ক কর্ম সম্পাদনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা;

(ঠ) ইউনিটের কোনো সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করিয়া জখম করা;

(ড) কোনো ডিউটি পোস্ট বা নির্ধারিত এলাকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়া সত্ত্বেও আহত ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা;

(ঢ) অধস্তন কর্তৃক সংঘটিত নির্যাতন, দুর্ব্যবহার বা দাঙ্গা সংক্রান্ত অভিযোগে প্রমাণ প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে ব্যর্থ হওয়া বা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে ব্যর্থ হওয়া;

(ণ) পরিকল্পিতভাবে, প্রতারণাপূর্বক বা অবহেলার কারণে তাহার হেফাজতে অর্পিত অস্ত্র, বস্ত্র, সরঞ্জাম, গোলাবারুদ, যানবাহন বা অন্য কোনো সরকারি উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত করা, হারাইয়া ফেলা বা কর্তৃত্ব বহির্ভূতভাবে হস্তান্তর করা;

(ত) স্বীয় অসুস্থতা বা অক্ষমতার ভান করা, স্বেচ্ছায় অসুস্থ হওয়া, রোগের সংক্রমণ ঘটানো, আরোগ্য বিলম্বিত করা অথবা উহার প্রকোপ বৃদ্ধি করা;

(থ) নিজেকে বা অপর কোনো ব্যক্তিকে কর্মে অনুপযুক্ত করিবার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা;

(দ) অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তি, পরিবহন, যানবাহন, ইত্যাদি হইতে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা;

(ধ) পরিকল্পিতভাবে বা অবহেলার কারণে তাহার দায়িত্বে থাকা সরকারি ঘোড়া বা সরকারি অন্য কোনো প্রাণীর প্রাণহানি করা বা জখম করা বা হারাইয়া ফেলা;

(ন) ইউনিটের জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যের আইনানুগ আদেশ অমান্য করা;

(প) পরিকল্পিতভাবে বা অবহেলার কারণে কোনো অপরাধীকে আটক করিতে অথবা অবহেলাজনিত কারণে তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়া;

(ফ) কোনো সম্পত্তি লুট, ধ্বংস বা বিনষ্ট করা; এবং

(ব) ইউনিটের কোনো সদস্যকে স্বেচ্ছায় আঘাত করা (voluntarily causing hurt), তাহাকে আক্রমণ করা (assault), বলপ্রয়োগ করা, অপরাধজনক বল প্রয়োগ করা (criminal force)

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত আদালতে দোষী সাব্যস্ত হইলে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক ক্ষতির ক্ষেত্রে সমপরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।

(৩) সংক্ষিপ্ত আদালত এই ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য যেকোনো অপরাধ স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া অথবা কোনো ব্যক্তির দাখিলকৃত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমলে নিতে পারিবে এবং এতদ্দ্বারা নির্দেশিত কার্যবিধি অনুসরণ করিবে।

### অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে আটক

২৫। যদি কোনো অধিনায়ক, কোম্পানি অধিনায়ক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো সদস্যের নিকট ইউনিটের কোনো সদস্য কর্তৃক ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক), (খ), (গ), (ঘ) ও (ঙ)-তে বর্ণিত কোনো অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনা রহিয়াছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে, তাহা হইলে তিনি উক্ত সদস্যকে অবিলম্বে আটক করিতে পারিবেন।

### বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল

২৬। (১) বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালতের যেকোনো দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকারের নিকট; এবং

(খ) পুলিশ পরিদর্শক, অধস্তন কর্মকর্তা বা আর্মড পুলিশ সদস্যের ক্ষেত্রে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিকট।

(২) সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালতের যেকোনো দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকারের নিকট;

(খ) পুলিশ পরিদর্শকের ক্ষেত্রে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিকট; এবং

(গ) অধস্তন কর্মকর্তা বা আর্মড পুলিশ সদস্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিকট।

(৩) উপ-ধারা (১) বা উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত আপিল মামলার ক্ষেত্রে সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক অথবা ক্ষেত্রমত, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক-

(ক) দণ্ডটি নিশ্চিত করিতে পারিবেন অথবা আইনগত বৈধ কর্তৃত্বমতে যেকোনো দণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন;

(খ) দোষী সাব্যস্তকরণ বাতিল ঘোষণা করিতে পারিবেন এবং অভিযুক্তকে এইরূপ যেকোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করিতে পারিবেন যাহা বিশেষ আদালত করিতে পারিত, কিংবা একই বা সংশোধিত অভিযোগের ভিত্তিতে নূতন করিয়া বিচারের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন; অথবা

(গ) অভিযুক্তকে অভিযোগ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন কোনো নিশ্চিতকরণ আদেশ প্রদান করা যাইবে না যতক্ষণ না আপিল আবেদনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয় অথবা যদি উক্ত সময়ের মধ্যে আপিল করা হইলে আপিলের নিষ্পত্তি না হয়।

### বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালতের বিচার পদ্ধতি

২৭। (১) বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন গঠিত আদালত বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালতের বিচার পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির Chapter XXII অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিতে হইবে।

### আদালতের এখতিয়ার বারিত

২৮। সংক্ষিপ্ত ও বিশেষ আদালতের কোনো কার্যধারা, রায়, আদেশ, আরোপিত দণ্ড বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি কর্তৃক উক্তরূপ দন্ডের ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আপিল আদালতের রায় বা আদেশ বা সিদ্ধান্ত ঘোষণার ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন দাখিল করা যাইবে।

### দণ্ড কার্যকরকরণ

২৯। (১) দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যের দণ্ড কার্যকরকরণের উদ্দেশ্যে উক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত সদস্যকে দণ্ড প্রদানকারী আদালতের সভাপতি কর্তৃক তফসিল অনুযায়ী পরোয়ানা স্বাক্ষরপূর্বক কারাগারে প্রেরণ করিতে হইবে।

(২) ইউনিটের কোনো সদস্য ৯০ (নব্বই) দিনের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি হইতে বরখাস্ত বলিয়া গণ্য হইবেন।

### ইউনিটের কোনো সদস্য কর্তৃক সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ

৩০। এই আইনে বর্ণিত অপরাধ ব্যতীত ইউনিটের কোনো সদস্য কর্তৃক অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উহার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

### ইউনিট হইতে পলাতক সদস্যের গ্রেপ্তার

৩১। ইউনিটের কোনো সদস্য কর্মস্থল হইতে পলায়ন করিলে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাহাকে গ্রেপ্তার করিয়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করিবার জন্য উক্ত পলাতক সদস্যের স্থায়ী অথবা বর্তমান বাসস্থান যে থানায় অবস্থিত সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করিবেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত অনুরোধকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারীকৃত পরোয়ানা গণ্য করিয়া পলাতক সদস্যকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করিবেন।

## সপ্তম অধ্যায় - বিবিধ

### প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম

৩২। (১) ইউনিটের সকল সদস্যকে ইউনিটে যোগদানের পর নির্ধারিত মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) ইউনিটের সদর দপ্তরে একটি গবেষণা ইউনিট থাকিবে, যাহা অপারেশনাল ও তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করিবে।

(৩) বিধি দ্বারা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ইউনিটের কর্মপরিধি, পরামর্শক সেবা ও অন্যান্য বিষয়াবলি নির্ধারিত হইবে।

### বার্ষিক প্রতিবেদন

৩৩। (১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউনিট উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, ইউনিটের নিকট হইতে যেকোনো সময় উহার কার্যাবলির উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং ইউনিট উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

### ক্ষমতা অর্পণ

৩৪। (১) সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, বিধি বা প্রবিধানের অধীন উহার কোনো ক্ষমতা ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।

(২) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, এই আইন এবংবিধি বা প্রবিধানের অধীন তাহার উপর অর্পিত কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, ইউনিটের কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৩৫। এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৩৬। এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, ইউনিটের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, সরকারের অনুমোদনক্রমে ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

### ইউনিট সদস্যদের আইনি সুরক্ষা

৩৭। ইউনিটের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে (In good faith) কৃত কোনো কাজের জন্য ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় কার্যধারা রুজু বা ক্ষতিপূরণ আদায় বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

৩৮। (১) [Armed Police Battalions Ordinance, 1979](https://laws.sayed.app/laws/act-593.md "Act 593") (Ordinance No. XXV of 1979), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইলো।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন-

(ক) কৃত কোনো কাজ বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) নির্ধারিত কোনো আবেদন পেশের অথবা কোনো আপিল অথবা পুনরীক্ষণ (Revision) দায়েরের সময়সীমার মেয়াদ অবশিষ্ট থাকিলে, উক্ত মেয়াদ অব্যাহত থাকিবে এবং অন্যান্য অনিষ্পন্ন কার্যাদি, যতদূর সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুসারে নিষ্পন্ন করিতে হইবে;

(গ) চলমান মামলাসমূহ এইরূপভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উক্ত Ordinance রহিত হয় নাই; এবং

(ঘ) প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান, প্রদত্ত সকল আদেশ, জারীকৃত সকল প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, এইরূপভাবে বলবৎ থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত বা জারীকৃত হইয়াছে।

### ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৩৯। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ইহার ইংরেজিতে অনুদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

***

### Footnotes

> [!NOTE]
>
> Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1740.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.


This documentation is built and hosted on [Mintlify](https://mintlify.com), a developer documentation platform.