> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# এডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০

> এডমিরালটি এখতিয়ার সংক্রান্ত আইন বাতিল ও পুনঃপ্রণয়ন করিবার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷

**Status:** Active

**Date of Publication:** ২৭ নভেম্বর, ২০০০

**Act No:** ২০০০ সনের ৪৩ নং আইন

যেহেতু এডমিরালটি এখতিয়ার সংক্রান্ত আইন বাতিল ও পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিন্মরূপ আইন করা হইল:-

### সংক্ষিপ্ত শিরোনামা

১। এই আইন [এডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০](/laws/act-849 "Act 849") নামে অভিহিত হইবে।

### সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) "অভ্যন্তরীণ জলসীমা" অর্থ রাষ্ট্রীয় জলসীমা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইনের অধীন সমুদ্রের অংশ ছাড়াও, সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপন দ্বারা বাংলাদেশের উপকূলবর্তী সমুদ্রের যে সকল অংশ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অন্তর্বর্তী বলিয়া ঘোষিত হয় তাহা অন্তর্ভুক্ত;

(খ) "জাহাজ" অর্থে নৌপরিবহনে ব্যবহৃত হয় এমন যে কোন জলযান (vessel) অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(গ) "পণ্য" অর্থে মালপত্র অন্তভর্ুক্ত হইবে;

(ঘ) "প্রজাতন্ত্র" অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ;

(ঙ) "বন্দর" অর্থ কোন বন্দর, পোতাশ্রয়, নদী, মোহনা, আশ্রয়, জাহাজঘাটা, খাল বা এমন কোন স্থান যেখানে কোন জাহাজ রাখার জন্য বা জাহাজকে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য কোন ব্যক্তি বা সংস্থা কোন আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া ফিস আদায় করিবার অধিকারী;

(চ) "বন্দরসীমা" অর্থ আইন দ্বারা বা আইনের অধীন স্থিরকৃত কোন বন্দরসীমা;

(ছ) "বিমান" অর্থ এমন কোন যান যাহা বায়ুমন্ডলে বায়ুর প্রতিক্রিয়ায় শক্তি লাভ করিয়া চলিতে সক্ষম, এবং নিয়ন্ত্রিত (captive) বা অনিয়ন্ত্রিত (free) বেলুন, ঘুড়ি, ইঞ্জিনবিহীন বিমান বা উড়িবার যানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(জ) "মাষ্টার" অর্থ পাইলট বা পোতাশ্রয় মাষ্টার ব্যতীত, জাহাজ পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত বা জাহাজ নিয়ন্ত্রণকারী যে কোন ব্যক্তি বুঝাইবে;

(ঝ) "রাষ্ট্রীয় জলসীমা" অর্থ বাংলাদেশের স্থলভাগের বাহিরে সরকার কর্তৃক সময় সময় ঘোষিত এবং স্থলভূমির সীমানা হইতে পরিমাপকৃত রাষ্ট্রীয় সীমানার বহিঃস্থ অভ্যন্তরীণ জলসীমা;

(ঞ) "সুপ্রীম কোর্ট" অর্থ [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান](/laws/act-957 "Act 957") ের ৯৪ অনুচ্ছেদ দ্বারা গঠিত বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট;

(ট) "হাইকোর্ট বিভাগ" অর্থ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ;

(ঠ) "প্রধান বিচারপতি" অর্থ বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি।

### হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার

৩। (১) হাইকোর্ট বিভাগ এডমিরালটি কোর্ট হইবে।

(২) এডমিরালটি কোর্টের নিম্নবর্ণিত যে কোন প্রশ্ন বা দাবী সম্পর্কে শুনানী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবার এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-

(ক) জাহাজের দখল বা মালিকানা বা উহার শেয়ারের মালিকানা বা নিবন্ধন সার্টিফিকেট, লগবুক বা জাহাজ চলাচল ও নৌপরিবহন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল সার্টিফিকেটসহ জাহাজের স্বত্ব-মালিকানার দলিল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত সকল দাবী;

(খ) জাহাজের দখল, কর্মনিয়োগ বা আয় সম্পর্কিত বিষয়ে কোন জাহাজের সহমালিকগণের মধ্যে উত্থাপিত যে কোন প্রশ্ন;

(গ) কোন জাহাজ বা উহার শেয়ারের বন্ধক বা চার্জ (charge) সংক্রান্ত দাবী;

(ঘ) কোন জাহাজ কর্তৃক সংঘটিত ক্ষতির দাবী;

(ঙ) ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণের দাবী;

(চ) জাহাজের ত্রুটি, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির কারণে বা জাহাজের মালিক, ভাড়াকারী, দখলকার বা নিয়ন্ত্রণকারী অথবা মালিক, ভাড়াকারী বা দখলকারের নিকট দায়ী মাষ্টার, নাবিক বা অন্য কোন ব্যক্তির বেআইনী কর্ম, অবহেলা বা ব্যর্থতার কারণে অথবা জাহাজের ত্রুটিপূর্ণ পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, জাহাজে পণ্য বোঝাই, জাহাজ হইতে পণ্য খালাস, জাহাজে পণ্য পরিবহন, জাহাজে যাত্রী উঠানো বা জাহাজ হইতে যাত্রী নামানোর কারণে সংঘটিত প্রাণহানি বা ব্যক্তিগত ক্ষতির দাবী;

(ছ) জাহাজে পরিবহনকৃত পণ্য হারাইয়া যাওয়া বা ক্ষতির দাবী;

(জ) কোন জাহাজে পণ্য পরিবহন বা কোন জাহাজের ব্যবহার বা ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তি হইতে উদ্ভূত কোন দাবী;

(ঝ) [Civil Aviation Ordinance, 1960](/laws/act-301 "Act 301") (Ord. XXXII of 1960) এর section 12 এর দ্বারা বা অধীন দরখাস্ত উদ্ভূত বা কোন বিমান, বিমানের যাত্রী বা সরঞ্জামাদি ও মালপত্র উদ্ধার সংক্রান্ত আইনের আওতায় দরখাস্ত দ্বারা আনীত দাবীসহ সমুদ্র, রাষ্ট্রীয় জলসীমা বা অভ্যন্তরীণ জলসীমা বা বন্দরে সম্পাদিত জাহাজের লোকদের জীবন রক্ষা বা জাহাজ বা জাহাজের সরঞ্জামাদি উদ্ধার বা জাহাজে রক্ষিত মালপত্র বা সম্পদ উদ্ধার কাজের জন্য যে কোন দাবী;

(ঞ) কোন জাহাজ বা বিমান টানিয়া (towage) আনা সংক্রান্ত দাবী;

(ট) কোন জাহাজ বা বিমান চালনা (Pilotage) সংক্রান্ত দাবী;

(ঠ) জাহাজ পরিচালনা বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সামগ্রী সরবরাহ সংক্রান্ত দাবী;

(ড) জাহাজের নির্মাণ, মেরামত বা সজ্জিতকরণ বা জাহাজঘাটার খরচাদি বা দায় সংক্রান্ত দাবী;

(ঢ) জাহাজের মাষ্টার বা নাবিকের মজুরীর দাবী বা Merchant Shipping Ordinance, 1983 (XXVI of 1983), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লেখিত, এর আওতায় বা আদালতে জাহাজের মাষ্টার বা নাবিকের মজুরী হিসাবে আদায়যোগ্য অর্থ বা সম্পত্তির দাবী;

(ণ) জাহাজের মাষ্টার, পণ্য প্রেরক, ভাড়াকারী বা এজেন্ট কতর্ৃক জাহাজের বাবদ বা জাহাজের জন্য ব্যয়কৃত অর্থ সংক্রান্ত দাবী;

(ত) সাধারণ গড়পড়তা কাজ (general average act) বা উক্তরূপ কাজ বলিয়া দাবীকৃত কাজ হইতে উত্থাপিত দাবী;

(থ) জাহাজ বা জাহাজের মাল বন্ধক, (bottomry ও respondentia) হইতে উদ্ভূত দাবী;

(দ) কোন জাহাজ বা কোন জাহাজ দ্বারা পরিবহনাধীন বা পরিবহনকৃত বা পরিবহন প্রচেষ্টারত পণ্য বাজেয়াপ্তকরণ বা ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করা সংক্রান্ত দাবী বা জব্দকৃত জাহাজ বা জাহাজের মালপত্র ফেরৎ প্রদান বা droits of admiralty সংক্রান্ত দাবীসহ উক্ত অধ্যাদেশ এর বিধানানুযায়ী প্রতিকার প্রদানের এখতিয়ার বা এই আইন প্রণয়নের অব্যবহিতপূর্বে এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের উপর ন্যস্ত অথবা এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে প্রথাগতভাবে সামুদ্রিক জাহাজ বা বিমানের ব্যাপারে হাইকোর্ট বিভাগের যে সকল বিষয়ে এখতিয়ার ছিল, সেই সব বিষয়।

(৩) কোন জাহাজের ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (২) (খ) এর অধীন এডমিরালটি কোর্টের এখতিয়ার অর্থে পক্ষগণের মধ্যে বকেয়া এবং অমীমাংসিত হিসাবের মীমাংসা করা, জাহাজ বা উহার শেয়ার বিক্রয় করার নির্দেশ প্রদান এবং কোর্ট যেইরূপ উপযুক্ত মনে করে সেইরূপ অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।

(৪) উপ-ধারা (২) (ঝ)-তে উল্লেখিত রক্ষা (salvage) হিসাবে দাবী অর্থে আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের অধীন জাহাজ বা বিমান হইতে প্রাণরক্ষার জন্য, কোন জাহাজ বা বিমানের মালামাল, সরঞ্জাম বা ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের জন্য প্রদত্ত সেবার দাবীও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৫) এই ধারার পূর্ববর্তী বিধানাবলী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা:-

(ক) কোন জাহাজ বা বিমানের ক্ষেত্রে, উহা বাংলাদেশী হউক বা না হউক, নিবন্ধিত হউক বা না হউক এবং উহার মালিকের বাসস্থান বা স্থায়ী নিবাস যেখানেই থাকুক না কেন;

(খ) সকল দাবীর ক্ষেত্রে, দাবী উত্থাপনের স্থান নির্বিশেষে মালামাল বা ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার বা ভূমিতে প্রাপ্ত মালামাল বা ধ্বংসাবশেষ সংক্রান্ত দাবী;

(গ) বন্ধক ও চার্জ-এর ক্ষেত্রে, বিদেশী আইনের অধীনে সৃষ্ট বন্ধক বা চার্জসহ আইনানুগ বা ন্যায়ানুগ সকল বন্ধক বা চার্জ, নিবন্ধিত হউক বা না হউক:

তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার কোন কিছুই উক্ত অধ্যাদেশ-এর অধীনে আদায়যোগ্য কোন অর্থ বা সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলিয়া গণ্য হইবে না।

### এডমিরালটি কোর্টরূপে হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার প্রয়োগের পদ্ধতি

৪। (১) ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার সকল ক্ষেত্রে action in personam এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যাইবে।

(২) ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) হইতে (গ) এবং (দ)-তে উল্লেখিত দাবীর ক্ষেত্রে এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে action in rem এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যাইবে।

(৩) যদি দাবীকৃত অর্থ এমন কোন জাহাজ, বিমান বা অন্য কোন সম্পত্তি সংক্রান্ত হয় যাহার উপর সামুদ্রিক পূর্বস্বত্ব (maritime lien) বা অন্যবিধ চার্জ থাকে, তাহা হইলে উক্ত জাহাজ, বিমান বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার action in rem এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যাইবে।

(৪) ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ঘ) হইতে (থ)-তে উল্লেখিত কোন জাহাজ সম্পর্কিত কোন দাবীর ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মামলার কারণ উদ্ভবের সময় উক্ত জাহাজের মালিক বা ভাড়াকারী বা দখলকার বা নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে action in prsonam-এ দায়ী থাকেন, সে ক্ষেত্রে, জাহাজটির উপর সামুদ্রিক পূর্বস্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হউক বা না হউক, এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে নিম্নবর্ণিত জাহাজের বিরুদ্ধে action in rem আনয়ন করা যাইবে, যথা:-

(ক) যদি মামলা আনয়ন করিবার সময় উক্ত জাহাজের সকল শেয়ারের উপর উক্ত ব্যক্তির লাভজনক (beneficial) মালিকানায় থাকে; বা

(খ) যদি মামলা করিবার সময় অন্য কোন জাহাজ পূর্বোক্তরূপে উক্ত ব্যক্তির লাভজনক (beneficial) মালিকানায় থাকে।

(৫) কোন বিমান টানিয়া আনা (towage) অথবা বিমান চালনার (pilotage) পারিশ্রমিক সংক্রান্ত দাবীর ক্ষেত্রে, এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে উক্ত বিমানের বিরুদ্ধে action in rem আনয়ন করা যাইতে পারে যদি মামলা দায়ের করার সময় বিমানটির এমন ব্যক্তির লাভজনক (beneficial) মালিকানায় থাকে যিনি action in rem-এ উক্ত দাবীর জন্য দায়ী হইতেন।

(৬) এই ধারার পূর্ববর্তী দফাসমূহ যাহা কিছু থাকুক না কেন, এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ঢ)-তে উল্লেখিত কোন দাবীর জন্য action in rem আনয়ন করা যাইবে না যদি না দাবীটি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মজুরী সংক্রান্ত হয়।

(৭) হাইকোর্ট বিভাগ এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়া কোন জাহাজ, বিমান বা অন্য কোন সম্পদ বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করিলে উক্ত বিভাগ একই এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়া সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থের স্বত্ব বা দাবীর অগ্রাধিকার বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের উপর শুনানি করিয়া নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।

(৮) উপ-ধারা (৪) এবং (৫) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন ব্যক্তি action in personam-এ দায়ী হইবেন কিনা তাহা নিরূপণের জন্য উক্ত ব্যক্তি সাধারণতঃ বাংলাদেশে বসবাস করেন বা তাহার ব্যবসার স্থান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে।

### সংঘর্ষ ও অনুরূপ মামলার ক্ষেত্রে কোর্টের in personam এখতিয়ার

৫। (১) এই ধারা প্রযোজ্য হয় এমন কোন দাবী কার্যকর করণার্থ বাংলাদেশের কোন আদালত action in personam বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না, যদি না-

(ক) বিবাদীর সাধারণ বসবাসের বা ব্যবসার স্থান বাংলাদেশে থাকে;

(খ) মামলার কারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বা রাষ্ট্রীয় জলসীমার মধ্যে বা বাংলাদেশের কোন বন্দর সীমার মধ্যে উদ্ভব হয়; অথবা

(গ) একই ঘটনা বা এক সম্পর্কযুক্ত ঘটনাবলী হইতে উদ্ভূত কোন মামলা উক্ত কোর্টে বিচারাধীন থাকে বা শুনানী গ্রহণের পর উক্ত মামলায় সিদ্ধান্ত হইয়া থাকে।

(২) এই ধারা প্রযোজ্য হয় এমন কোন দাবী কার্যকর করণার্থ বাংলাদেশের কোন আদালত কোন action in personam বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না, যদি বাংলাদেশের বাহিরের কোন আদালতে বাদী কর্তৃক পূর্বে দায়েরকৃত একই বিবাদীর বিরুদ্ধে এবং একই ঘটনা বা এক সম্পর্কযুক্ত ঘটনাবলী সংক্রান্ত কোন মামলা প্রত্যাহার করা না হয় বা অন্য কোনভাবে উহার পরিসমাপ্তি ঘটানো না হয়।

(৩) action in personam-এ প্রযোজ্য এই ধারার পূর্বোক্ত বিধানাবলী একই ঘটনা বা এক সম্পর্কযুক্ত ঘটনাবলী হইতে উদ্ভূত পাল্টা দাবী নহে এইরূপ পাল্টা দাবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, তবে বাদী ও বিবাদী বলিতে যথাক্রমে পাল্টা দাবীর বাদী ও পাল্টা দাবীর বিবাদীকে বুঝাইবে।

(৪) এই ধারার পূর্ববর্তী বিধানাবলী কোন মামলা বা পাল্টা দাবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত মামলা বা পাল্টা দাবীর বিবাদী আদালতের এখতিয়ার মানেন বা মানিতে রাজী হন।

(৫) এই ধারা প্রযোজ্য হয় এমন সব দাবী কার্যকরণার্থে এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, action in personam গ্রহণ করিবার এখতিয়ার থাকিবে যদি উপ-ধারা (১) এর শর্তাবলীর যে কোন শর্ত পূরণ হয়।

(৬) জাহাজে জাহাজে সংঘর্ষ বা এক বা একাধিক জাহাজের কৌশলী পরিচালনার (manoeuvre) বা কৌশলী পরিচালনা হইতে বিরত থাকিবার কারণে বা এক বা একাধিক জাহাজ কর্তৃক উক্ত অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান না মানার কারণে সাধিত ক্ষতিপূরণ, প্রাণহানি বা ব্যক্তিগত ক্ষতি সংক্রান্ত দাবীর ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে।

### আরজি দ্বারা মামলা রুজু

৬। [Code of Civil Procedure, 1908](/laws/act-86 "Act 86") (Act V of 1908) এর বিধান অনুযায়ী লিখিত, স্বাক্ষরকৃত ও সত্যায়িত আরজি দ্বারা এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে মামলা রুজু করিতে হইবে, তবে action in rem মামলার ক্ষেত্রে, অবস্থা বিশেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে, যে জাহাজ বা সম্পদের বিরুদ্ধে মামলা আনয়ন করা হয় উহার নামের পরিবর্তে "মালিক বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ" বলিয়া আরজিতে বিবাদীকে বর্ণনা করা যাইবে।

### কোর্ট ফিস

৭। (১) এই ধারার উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, Court Fees Act, 1870 (VII of 1870) এর বিধানাবলী হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে আনীত সকল প্রকার action in rem বা action in personam মামলা ও দাবীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত Court Fees Act-এ ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও এই আইনের ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ঢ)-এ উল্লেখিত দাবী বাদে অন্য সকল দাবীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কোর্ট ফি অনধিক টাঃ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) হইবে এবং উক্ত দফা (ঢ)-তে উল্লেখিত দাবীর ক্ষেত্রে কোর্ট ফি ১০০ (একশত) টাকা প্রদেয় হইবে।

(২) এই আইনের অধীন আরজির উপর আরোপযোগ্য সকল ফিস স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বা বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত ব্যক্তি বরাবরে নগদ প্রদানের মাধ্যমে আদায় করা যাইবে।

### একক বিচারক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কর্তৃক মামলা গ্রহণ, শুনানী ও বিচারকার্য নিষ্পন্ন, ইত্যাদি

৮। এই আইনের অধীন দায়েরকৃত প্রত্যেক মামলা হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে একক বিচারক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দায়ের, শুনানী এবং নিষ্পত্তি করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের আওতায় কোন মামলা শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি দুই বা অধিক বিচারক সমন্বয়ে বেঞ্চ গঠন করিতে পারিবেন।

### অব্যাহতি

৯। এই আইনের কোন কিছুই প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোন দাবীর জন্য action in rem আনয়নের বা প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেল্স, বাংলাদেশ পুলিশ বা কোস্ট গার্ডের কোন জাহাজ বা বিমান গ্রেফতার, আটক বা বিক্রয়ের অধিকার প্রদান করে না।

### ইংরেজীতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ

১০। এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনুদিত একটি প্রমাণীকৃত পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের প্রমাণীকৃত ইংরেজীতে পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১১। এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করণার্থে সুপ্রীম কোর্ট, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন বিধি প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিতপূর্বে বিদ্যমান বিধি, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, কার্যকর থাকিবে।

### রহিতকরণ ও হেফাজত

১২। (১) The Courts of Admiralty Act, 1891 (XVI of 1891) এতদ্বারা রহিত করা হইল এবং the Admiralty Court Act, 1840 (3 & 4 Vict. e. 65), the Admiralty Court Act, 1861 (24 & 25 Vict. c. 10) এর প্রয়োগ প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রে রহিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আইনগুলি রহিত বা, ক্ষেত্রমত, রহিত বলিয়া গণ্য হওয়া সত্ত্বেও, রহিতকৃত আইনগুলির অধীন দায়েরকৃত যে সকল মামলা উক্তরূপ রহিত বা রহিত বলিয়া গণ্য হইবার তারিখে নিষ্পন্নের অপেক্ষায় ছিল সেই সকল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমনভাবে বিচারাধীন থাকিবে যেন উক্ত আইনগুলি রহিত বা রহিত বলিয়া গণ্য করার কোন বিধান করা হয় নাই।

***

### Footnotes

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-849.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
