> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://laws.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন আইন, ২০০৩

> এনার্জি সেক্টরে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রেগুলেটরী কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷

**Status:** Active

**Date of Publication:** ১৩ মার্চ, ২০০৩

**Act No:** ২০০৩ সনের ১৩ নং আইন

যেহেতু বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং গ্যাস সম্পদ ও পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থের সঞ্চালন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে বেসরকারী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, উক্ত খাতে ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, ট্যারিফ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনয়ন, ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রেগুলেটরী কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

## অধ্যায়-১ - প্রারম্ভিক

### সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন

১৷ (১) এই আইন [বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন আইন, ২০০৩](/laws/act-902 "Act 902") নামে অভিহিত হইবে৷

(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে৷

### সংজ্ঞা

২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “আন্ডারটেকিং” অর্থ বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি, সঞ্চালন পরিবহন, মজুতকরণ, বিতরণ বা সরবরাহের কোন স্থাপনা বা উহার অংশ বিশেষ;

(খ) “এনার্জি” অর্থ বিদ্যুত্, গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ;

(গ) “এনার্জি অডিট” অর্থ এনার্জি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও প্রক্রিয়া এনার্জি ব্যবহারের ও খরচের হিসাব যাচাই (Verification), পরীক্ষণ (monitoring) ও বিশ্লেষণ (analysis) এবং উহার দক্ষতা নিরূপণ;

(ঘ) “কর্মচারী” অর্থ কমিশনের কর্মকর্তা বা কর্মচারী;

(ঙ) “কমিশন” অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন;

(চ) “গ্যাস” অর্থ প্রাকৃতিক গ্যাস, প্রাকৃতিক তরল গ্যাস (NGL), তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG), সিনথেটিক (synthetic) প্রাকৃতিক গ্যাস বা সাধারণ চাপে ও তাপে গ্যাসীয় পদার্থে রূপান্তরিত হয় এমন প্রাকৃতিক হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ;

(ছ) “গ্যাস কার্যক্রম পরিচালনা” অর্থ গ্যাস মজুতকরণ, সঞ্চালন, বিতরণ বা সরবরাহ;

(জ) “চেয়ারম্যান” অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যও অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(ঝ) “ট্যারিফ” অর্থ এনার্জি সরবরাহ বা তদ্‌সম্পর্কিত বিশেষ সেবার মূল্য হার;

(ঞ) “ডেসা আইন” অর্থ ঢাকা বিদ্যুত্ বিতরণ কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৩৬ নং আইন);

(ট) “দেওয়ানী কার্যবিধি” অর্থ [Code of Civil Procedure, 1908](/laws/act-86 "Act 86") (Act V of 1908);

(ঠ) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(ড) “পল্লী বিদ্যুতায়ন আইন” অর্থ [Rural Electrification Board Ordinance, 1977](/laws/act-557 "Act 557") (Ord. No. LI of 1977);

(ঢ) “পরিদর্শক” অর্থ কমিশন কর্তৃক পরিদর্শনের জন্য নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা ব্যক্তি;

(ণ) “পাইপ লাইন” অর্থ গ্যাস সরবরাহের জন্য অনুমোদিত পাইপ লাইন এবং কমপ্রেসর, যোগাযোগ যন্ত্রপাতি, মিটার, চাপ নিয়ন্ত্রক, পাম্প, ভাল্‌ভ এবং উহার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতিও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ত) “পেট্রোলিয়াম আইন” অর্থ [Bangladesh Petroleum Act, 1974](/laws/act-480 "Act 480") (Act LXIX of 1974);

(থ) “পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ” অর্থ প্রক্রিয়াজাত বা অপ্রক্রিয়াজাত তরল কিংবা কঠিন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং পেট্রোলিয়াম উপজাত যেমন: লুব্রিকেন্ট ও পেট্রোলিয়াম দ্রাবক (Solvent) উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে প্রাকৃতিক গ্যাস উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(দ) “পেট্রোলিয়াম কার্যক্রম পরিচালনা (Petroleum Operations)” অর্থ পেট্রোলিয়াম উত্পাদন, উন্নয়ন, আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিশুদ্ধকরণ বা বাজারজাতকরণ;

(ধ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(ন) “প্রাকৃতিক গ্যাস” অর্থ প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসীয় অবস্থায় প্রাপ্ত হাইড্রোকার্বন বা হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ বা তরল, বাষ্পীভূত বা সংযুক্ত অবস্থায় প্রাপ্ত গ্যাস, যাহার সহিত নিম্্নবর্ণিতসহ অন্যান্য অজৈব এক বা একাধিক পদার্থ মিশ্রিত থাকিতে পারে বা নাও থাকিতে পারে, যথা:-

(অ) হাইড্রোজেন সালফাইড;

(আ) নাইট্রোজেন;

(ই) হিলিয়াম;

(ঈ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড;

(প) “বিদ্যুত্ আইন” অর্থ [Electricity Act, 1910](/laws/act-93 "Act 93") (IX of 1910);

(ফ) “বিদ্যুত্ শিল্প” অর্থ বিদ্যুত্ উত্পাদন, সঞ্চালন, বিতরণ বা সরবরাহ ব্যবসা বা কর্মকাণ্ডের সহিত জড়িত ব্যক্তি বা সম্পদ, পাওয়ার সিস্টেম ক্রিয়াকলাপ এবং তদ্‌সংশ্লিষ্ট সম্পূরক ও প্রাসংগিক বিষয়াদি;

(ব) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(ভ) “ব্যক্তি” অর্থে কোম্পানী, সমিতি বা ব্যক্তিসমষ্টি সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ম) “ভোক্তা” অর্থ সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন দলিল অনুযায়ী যে ব্যক্তি তাহার মালিকানাধীন বা দখলকৃত কোন আঙিনা বা স্থাপনায় লাইসেন্সী কর্তৃক <sup><a id="fnref-1" href="#fn-1">1</a></sup> \[এনার্জি] সরবরাহ পাইয়াছে;

(য) “মন্ত্রণালয়” অর্থ বিদ্যুত্, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়;

(র) “রাষ্ট্রপতির আদেশ” অর্থ Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P.O.No. 59 of 1972);

(ল) “লাইসেন্সী” অর্থ এই আইনের অধীন বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, বিতরণ, মজুতকরণ ও সরবরাহের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি;

(শ) “লাইসেন্স” অর্থ এই আইনের অধীন ইস্যুকৃত কোন লাইসেন্স;

(ষ) “সদস্য” অর্থে কমিশনের সদস্য এবং চেয়ারম্যান ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(স) “সরকারী কর্তৃপক্ষ” অর্থ রাষ্ট্রপতির আদেশের অধীন স্থাপিত বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন আইনের অধীন স্থাপিত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডেসা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিদ্যুত্ বিতরণ কর্তৃপক্ষ এবং সম্পূর্ণভাবে সরকারী মালিকানাধীন অন্য কোন সংস্থা;

(হ) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ সংবিধানে ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে আইনের দ্বারা গঠিত স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ৷

### আইনের প্রাধান্য

৩৷ আপাতত: বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷

## অধ্যায়-২ - কমিশন প্রতিষ্ঠা

### কমিশন প্রতিষ্ঠা

৪৷ (১) এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হইবে৷

(২) কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা নিজের নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷

### কমিশনের কার্যালয়, ইত্যাদি

৫৷ (১) কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে৷

(২) কমিশন, প্রয়োজনবোধে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷

### কমিশনের গঠন, ইত্যাদি

৬৷ (১) চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হইবে৷

(২) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহারা কমিশনের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন৷

(৩) এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন সদস্য নিয়োগ করিতে হইবে এবং উক্তরূপ নিয়োগের এক বত্সর পর অপর দুইজন সদস্য নিয়োগ করিতে হইবে৷

(৪) চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন৷

### সদস্যের যোগ্যতা, অযোগ্যতা, ইত্যাদি

৭। <sup><a id="fnref-2" href="#fn-2">2</a></sup> \[(১) কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীগণের নিম্নবর্ণিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে, যথা :-

(ক) খনি ও খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ, কেমিক্যাল, মেকানিক্যাল অথবা পেট্রোলিয়াম বিষয়ে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রীধারী প্রকৌশলী; অথবা

(খ) ভূ-বিজ্ঞান, ভূ-তত্ত্ব ও খনিজ বিদ্যা, আইন, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায়-প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, মার্কেটিং, লোক-প্রশাসন, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা অথবা ফলিত পদার্থবিদ্যা বিষয়ে কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হইতে কমপক্ষে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী; এবং

(গ) দফা (ক) অথবা (খ)তে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে পনের বৎসরের বাস্তব কর্ম অভিজ্ঞতা।

(১ক) খনি ও খনিজ সম্পদ, কেমিক্যাল, মেকানিক্যাল অথবা পেট্রোলিয়াম বিষয় হইতে একজন এবং বিদ্যুৎ বিষয় হইতে একজন সদস্য নিয়োগ করিতে হইবে এবং অবশিষ্ট তিনজন সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) তে উল্লিখিত বিষয়সমূহের যে কোনটি হইতে একজন করিয়া সদস্য নিয়োগ করিতে হইবে।]

(২) কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-

(ক) বাংলাদেশের নাগরিক না হন;

(খ) কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ খেলাপী হিসাবে ঘোষিত হন;

(গ) আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন;

(ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক অন্যুন দুই বত্সর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছেন এবং উক্ত দণ্ড হইতে মুক্তি লাভের পর পাঁচ বত্সর সময় অতিক্রান্ত হয় নাই <sup><a id="fnref-3" href="#fn-3">3</a></sup> \[৷

\[\* \* \*]]

<sup><a id="fnref-4" href="#fn-4">4</a></sup> \[(২ক) সরকারী চাকুরীতে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ চেয়ারম্যান বা সদস্য পদের জন্য, এই ধারার অন্যান্য বিধানবলী সাপেক্ষে, তাঁহাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন, তবে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হইলে উক্ত ব্যক্তিগণ শুধুমাত্র সরকারী চাকুরীর অবসান ঘটাইয়া উক্ত পদে যোগদান করিতে পারিবেন৷]

(৩) কমিশনের আওতাভুক্ত কোন কিছুতে ব্যবসায়িক স্বার্থ রহিয়াছে এমন কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিয়োগের যোগ্য হইবেন না৷

(৪) চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর তিনি নিজ নামে বা অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে এনার্জি খাতে ব্যবসায়িক স্বার্থে জড়িত হইতে পারিবেন না৷

ব্যাখ্যা৷- দফা (খ) তে উল্লিখিত “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ [আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩](/laws/act-781 "Act 781") (১৯৯৩ সালের ২৭ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান৷

### চেয়ারম্যান ও সদস্যদের চাকুরীর মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি

৮৷ (১) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বত্সর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন এবং অনুরূপ একটি মাত্র মেয়াদের জন্য পুনঃনিয়োগের যোগ্য হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্যের বিধি দ্বারা নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হইলে সদস্য পদে নিযুক্ত হইবার বা উক্ত পদে বহাল থাকিবার যোগ্য হইবেন না৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য যে কোন সময়, এক মাসের নোটিশ প্রদানপূর্বক, রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন৷

(৩) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান শূন্য পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কোন সদস্য চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন৷

### সদস্যপদে শূন্যতার কারণে কার্য বা কার্যধারা অবৈধ না হওয়া

৯৷ শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা কমিশন গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কমিশনের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷

### সদস্যদের পদমর্যাদা, বেতন, ভাতা, ইত্যাদি

১০৷ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে:

আরও শর্ত থাকে যে, চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের বেতন, ভাতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্ত, তাঁহার নিয়োগের পর, এমন তারতম্য করা যাইবে না যাহা তাঁহার পক্ষে অসুবিধাজনক হইতে পারে৷

### সদস্যের অপসারণ

১১৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, রাষ্ট্রপতি কমিশনের যে কোন সদস্যকে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি-

(ক) শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন বা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানান;

(খ) কারণ ব্যতীত তিন মাস দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন;

(গ) ধারা ৭(২) (৩) ও (৪) এর অধীন সদস্য থাকিবার অযোগ্য হইয়া পড়েন;

(ঘ) এমন কোন কাজ করেন যাহা কমিশনের জন্য ক্ষতিকর হয়;

(ঙ) এমনভাবে নিজেকে পরিচালনা করেন, বা নিজের পদকে অপব্যবহার করেন যাহা এই আইনের উদ্দেশ্য বা জনস্বার্থকে ব্যাহত করে৷

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কারণে কোন সদস্য তাহার পদে বহাল থাকিবার অযোগ্য মনে করিলে, রাষ্ট্রপতি, উক্ত <sup><a id="fnref-5" href="#fn-5">5</a></sup> \[কারণের] যথার্থতা যাচাই করিবার জন্য, সুপ্রীমকোর্টের একজন বিচারক সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন <sup><a id="fnref-6" href="#fn-6">6</a></sup> \[করিবেন] এবং কমিটি গঠনের আদেশে উক্ত তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমাও নির্ধারণ করিয়া <sup><a id="fnref-7" href="#fn-7">7</a></sup> \[ িদবেন]৷

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটি <sup><a id="fnref-8" href="#fn-8">8</a></sup> \[রাষ্ট্রপতির] নিকট সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি ও কারণসহ এই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করিবে যে, সংশ্লিষ্ট <sup><a id="fnref-9" href="#fn-9">9</a></sup> \[সদস্যের] বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হইয়াছে কিনা এবং উক্ত <sup><a id="fnref-10" href="#fn-10">10</a></sup> \[সদস্যকে] অপসারণ করা সমীচীন কিনা, এবং <sup><a id="fnref-11" href="#fn-11">11</a></sup> \[রাষ্ট্রপতি] যথাসম্ভব উক্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ <sup><a id="fnref-12" href="#fn-12">12</a></sup> \[করিবেন]৷

(৪) প্রস্তাবিত অপসারণের ব্যাপারে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসংগত সুযোগ <sup><a id="fnref-13" href="#fn-13">13</a></sup> \[প্রদান] না করিয়া এই ধারার অধীনে <sup><a id="fnref-14" href="#fn-14">14</a></sup> \[রাষ্ট্রপতি] কোন <sup><a id="fnref-15" href="#fn-15">15</a></sup> \[সদস্যকে] অপসারণ <sup><a id="fnref-16" href="#fn-16">16</a></sup> \[করিবেন না]৷

(৫) কোন <sup><a id="fnref-17" href="#fn-17">17</a></sup> \[সদস্যের] ব্যাপারে উপ-ধারা (২) এর অধীনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হইলে, <sup><a id="fnref-18" href="#fn-18">18</a></sup> \[রাষ্ট্রপতি], সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে, উক্ত <sup><a id="fnref-19" href="#fn-19">19</a></sup> \[সদস্যকে], তাহার দায়িত্ব পালন হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দিতে <sup><a id="fnref-20" href="#fn-20">20</a></sup> \[পারিবেন] এবং এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হইলে উক্ত <sup><a id="fnref-21" href="#fn-21">21</a></sup> \[সদস্য] তাহা পালনে বাধ্য থাকিবেন৷

(৬) তদন্ত কমিটি Commission of Enquiry Act, 1956 (VI of 1956) এর অধীনে নিযুক্ত কমিশন বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে উক্ত Act এর বিধানাবলী তদন্ত কমিটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে৷

(৭) এই ধারার অধীন অপসারিত কোন ব্যক্তি কমিশনের সদস্য হিসাবে বা সরকারের বা সরকারী সংস্থার বা কমিশনের অন্য কোন পদে পুনঃনিয়োজিত হইতে পারিবেন না৷

### কমিশনের সভা

১২৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কমিশন উহার সভার কার্যপদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে৷

(২) কমিশনের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷

(৩) চেয়ারম্যান কমিশনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷

(৪) তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিশনের সভার কোরাম হইবে৷

(৫) উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কমিশনের সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷

<sup><a id="fnref-22" href="#fn-22">22</a></sup> \[(৬) কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২ (দুই) জন সদস্য কমিশনের সভা আহ্বানের জন্য লিখিতভাবে চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ অনুরোধ প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সভা আহ্বান করিবেন৷]

### কমিশনের সচিব, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি

১৩৷ (১) কমিশন উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সচিবসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(২) কমিশনের কর্মচারীর নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

(৩) প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রেষণে কমিশনের সচিব নিয়োগ করিতে পারিবে৷

### কমিটি

১৪৷ কমিশন উহার কাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে এক বা একাধিক সদস্য, বা উহার যে কোন কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তি সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং এইরূপ কমিটির দায়িত্ব ও কার্যধারা কমিশন নির্ধারণ করিবে৷

### প্রেষণে কমিশনের জনবল নিয়োগ

১৫৷ (১) কমিশন যে কোন সরকারী কর্মচারী বা কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীকে, তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে, কমিশন প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত ব্যক্তি কমিশনের কর্মচারীর ন্যায় একইরূপ শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাধীনে কর্মরত থাকিবেন, তবে কোন দণ্ড আরোপের প্রশ্ন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি উক্ত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

### কমিশন বহির্ভূত চাকুরী

১৬৷ (১) কমিশনের সদস্য, সরকারের লিখিত অনুমতি ব্যতীত, এবং কোন কর্মচারী, কমিশনের লিখিত অনুমতি ব্যতীত, কমিশন বহির্ভূত কোন ধরণের লাভজনক কাজে নিয়োজিত হইতে বা থাকিতে পারিবেন না৷

(২) কোন সদস্য বা কমিশনের কর্মচারী এমন কোন কাজে নিয়োজিত হইবেন না বা থাকিবেন না যাহা, যথাক্রমে সরকার বা কমিশনের মতে, তাহার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব রাখে বা রাখিতে পারে৷

## অধ্যায়-৩ - কমিশনের আথির্ক বিষয়াদি

### কমিশনের তহবিল

১৭৷ (১) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন তহবিল নামে কমিশনের একটি তহবিল থাকিবে এবং এই তহবিলে নিম্্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) কমিশন কর্তৃক গৃহীত ঋণ;

(গ) এই আইনের অধীন জমাকৃত ফিস, চার্জ; এবং

(ঘ) অন্য কোন উত্স হইতে প্রাপ্ত অর্থ৷

(২) তহবিলের অর্থ কমিশনের নামে কমিশন কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্ত ব্যাংক হইতে অর্থ উত্তোলনের পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

(৩) তহবিল হইতে সদস্য ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইত্যাদি প্রদান এবং কমিশনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷

(৪) কমিশনের সকল ব্যয় নির্বাহের পর <sup><a id="fnref-23" href="#fn-23">23</a></sup> \[রাজস্ব বাজেটের] উদ্বৃত্ত অর্থ থাকিলে উহা প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে জমা করিতে হইবে৷

ব্যাখ্যা৷- “তফসিলি ব্যাংক” বলিতে [Bangladesh Bank Order, 1972](/laws/act-415 "Act 415") (P.O. No. 127 of 1972) এর Article 2(J) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank বুঝাইবে৷

### ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা

১৮৷ কমিশন এই আইনের অধীন উহার কার্যাবলী সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ এবং উহা পরিশোধ করিতে পারিবে, তবে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হইবে৷

### বার্ষিক বাজেট বিবরণী

১৯৷ কমিশন প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বত্সরের সরকারের নিকট হইতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে এবং উক্ত অর্থ-বত্সর শুরু হইবার পূর্বেই সরকার উক্ত বাজেট বিবরণীর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন করিবে৷

### হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা

২০৷ (১) কমিশন তত্কর্তৃক প্রাপ্ত বা ব্যয়িত সকল অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করিবে; এবং সরকারের কোন সাধারণ নির্দেশ সাপেক্ষে, এইরূপ হিসাব সংরক্ষণের পদ্ধতি কমিশন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে, তবে উক্ত হিসাবে উহার আর্থিক পরিস্থিতির সঠিক এবং যথাযথ প্রতিফলন অবশ্যই থাকিতে হইবে৷

(২) কমিশন প্রতি অর্থ-বত্সর শেষ হইবার পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহার বার্ষিক হিসাব-বিবরণী এবং আর্থিক-বিবরণী প্রস্তুত করিবে এবং [Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973](/laws/act-442 "Act 442") (P.O. No. 2 of 1973) এর অধীনে নিবন্ধিত কোন চার্টার্ড একাউনটেন্ট ফার্মের দ্বারা নিরীক্ষা করাইয়া উহাদিগকে সংসদে পেশ করিবার উদ্দেশ্যে পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করিবে এবং মন্ত্রণালয় যথাশীঘ্র সম্ভব উক্ত বিবরণীসমূহ প্রতিবেদনের সহিত সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবে৷

(৩) উপধারা (২) এ বর্ণিত নিরীক্ষা ছাড়াও কমিশন, Comptroller and Auditor General (Additional Functions) Act, 1974 (XXIV of 1974) এর অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের এখ্‌তিয়ারভুক্ত হইবে৷

### প্রতিবেদন

২১৷ প্রতি অর্থ-বত্সর সমাপ্তির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কমিশন তত্-কর্তৃক পূর্ববর্তী অর্থ-বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর খতিয়ান সম্বলিত একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করিবে এবং মন্ত্রণালয় যথাশীঘ্র সম্ভব উহা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবে৷

## অধ্যায়-৪ - কমিশনের কাযাবর্লী, ক্ষমতা এবং কার্যধারা

### কমিশনের কার্যাবলী

২২৷ এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কমিশনের কার্যাবলী হইবে নিম্্নরূপ, যথা:-

(ক) এনার্জি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, উহার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের মান নিরূপণ, এনার্জি অডিটের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে জ্বালানী ব্যবহারের খরচের হিসাব যাচাই, পরীক্ষণ, বিশ্লেষণ, জ্বালানী ব্যবহারের দক্ষতার মান বৃদ্ধি ও সাশ্রয় নিশ্চিতকরণ;

(খ) বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, সরবরাহ, মজুতকরণ, বিতরণ, দক্ষ ব্যবহার, সেবার মান, ট্যারিফ নির্ধারণ ও নিরাপত্তার উন্নয়ন;

(গ) লাইসেন্স প্রদান, বাতিল, সংশোধন, লাইসেন্সের শর্ত নির্ধারণ, লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা হইতে অব্যাহতি প্রদান এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক পালনীয় শর্ত নির্ধারণ;

(ঘ) লাইসেন্সীর সামগ্রিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে স্কীম অনুমোদন এবং এই ক্ষেত্রে তাহার চাহিদার পূর্বাভাষ (load forecast) ও আর্থিক অবস্থা (financial status) বিবেচনায় নির্ধারিত পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ;

(ঙ) এনার্জির পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পর্যালোচনা এবং প্রচার;

(চ) গুণগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কোডস্‌ ও স্ট্যান্ডার্ডস্‌ প্রণয়ন করা ও উহার প্রয়োগ বাধ্যতামূলক করা;

(ছ) সকল লাইসেন্সীর জন্য অভিন্ন হিসাব পদ্ধতি নির্ধারণ;

(জ) লাইসেন্সীদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে উত্সাহ প্রদান;

(ঝ) বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, মজুতকরণ, বিতরণ ও সরবরাহ বিষয়ে, প্রয়োজনবোধে, সরকারকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান;

(ঞ) লাইসেন্সীদের মধ্যে এবং লাইসেন্সী ও ভোক্তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা করা এবং প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে আরবিট্রেসনে প্রেরণ করা;

(ট) ভোক্তা বিরোধ, অসাধু ব্যবসা বা সীমাবদ্ধ (monopoly) ব্যবসা সম্পর্কিত বিরোধের উপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিত করা;

(ঠ) প্রচলিত আইন অনুযায়ী এনার্জির পরিবেশ সংক্রান্ত মান নিয়ন্ত্রণ করা; এবং

(ড) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে কমিশন কর্তৃক যথাযথ বিবেচিত হইলে <sup><a id="fnref-24" href="#fn-24">24</a></sup> \[বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, সরবরাহ, মজুতকরণ, দক্ষ ব্যবহার, সেবার মান, ট্যারিফ নির্ধারণ ও নিরাপত্তার উন্নয়ন] সংক্রান্ত যে কোন আনুষঙ্গিক কার্য সম্পাদন করা৷

### তদন্ত সম্পর্কিত ক্ষমতা

২৩৷ (১) এই আইনের অধীন কোন তদন্ত বা কার্যধারার উদ্দেশ্যে কমিশনের ঐ সকল ক্ষমতা থাকিবে যেইসকল ক্ষমতা দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন মামলা বিচারকালে কোন দেওয়ানী আদালতের থাকে, যেমন-

(ক) সাক্ষীর সমন ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও শপথের মাধ্যমে সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা;

(খ) কোন দলিল বা সাক্ষ্য হিসাবে দাখিল হইতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ কোন দলিল উদ্‌ঘাটন এবং উপস্থাপন করা;

(গ) শপথ পত্রের মাধ্যমে প্রমাণাদি সংগ্রহ;

(ঘ) কোন আদালত বা অফিস হইতে পাবলিক রেকর্ড তলব করা;

(ঙ) শুনানী মুলতবী রাখা;

(চ) পক্ষগণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতি নিশ্চিতকরণ; এবং

(ছ) কমিশন কর্তৃক উহার সিদ্ধান্ত, নির্দেশ বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করা৷

(২) কমিশন উহার সম্মুখে পরিচালিত কোন কার্যধারা বা শুনানী বিষয়ে অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

(৩) কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি ক্রয়, উত্পাদন, সঞ্চালন, বিতরণ, সরবরাহ বা ব্যবহার সম্পর্কিত বা উক্তরূপ কোন আন্ডারটেকিং এর কর্মকাণ্ড বা অন্য কোন বিষয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট কোন বই, হিসাব বা অন্য কোন দলিল, যাহার পরীক্ষা-নিরীক্ষা এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে বা এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের স্বার্থে প্রয়োজন, কোন ব্যক্তির হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণে রহিয়াছে, তাহা হইলে কমিশন উক্ত ব্যক্তিকে বই, হিসাব বা দলিল কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত কমিশনের কোন কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করিতে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাইতে নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তির নিকট বা নিয়ন্ত্রণে থাকা কোন তথ্য, যাহা এই আইনের অধীন কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন, উক্ত কর্মকর্তাকে সরবরাহ করিতে নির্দেশ দিতে পারিবে৷

(৪) এই আইনের অধীন কোন তদন্ত বা কার্যধারা চলাকালীন কমিশনের নিকট যদি এই মর্মে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, তদন্তাধীন ইউনিট বা ব্যক্তির স্বার্থ সম্পর্কিত কোন বই বা হিসাব বা দলিল, যাহা উক্ত তদন্তে উপস্থাপন করা প্রয়োজন হইবে, উহার ধ্বংস, আংশিক নষ্ট, পরিবর্তন, জাল করা হইতেছে বা লুকানো হইতেছে বা হইতে পারে, তাহা হইলে কমিশন, লিখিত আদেশ দ্বারা, উহার কোন কর্মকর্তাকে [কোম্পানী আইন, ১৯৯৪](/laws/act-788 "Act 788") (১৯৯৪ সনের ১৮নং আইন) এর অধীন নিযুক্ত পরিদর্শক প্রবেশ, অনুসন্ধান এবং জব্দ করিবার যে ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

(৫) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এই আইনের অধীন উহার কার্যাবলী সম্পাদনের স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা লাইসেন্সীর নিকট হইতে নিম্নোক্ত বিষয়ে তথ্য যে কোন সময়তলব করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিতরণ, ক্রয়, সরবরাহ বা ব্যবহারের সহিত সম্পর্কিত কোন বিষয়;

(খ) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়৷

(৬) কমিশনের সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির সাথে কমিশন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে, প্রয়োজনে, আলোচনা করিতে পারিবে৷

(৭) বিদ্যুত্ আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন, লিখিত আদেশ দ্বারা, বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিতরণ বা সরবরাহ কাজে নিযুক্ত কোন লাইসেন্সী [Telegraph Act, 1885](/laws/act-55 "Act 55") (XIII of 1885) এর অধীন টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের টেলিগ্রাফ লাইন ও পোস্ট বসানো সংক্রান্ত বিষয়ে যেই ক্ষমতা রহিয়াছে সেই ক্ষমতা, আদেশে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে, অর্পণ করিতে পারিবে৷

(৮) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে লিখিত আদেশ দ্বারা, গ্যাস সঞ্চালন, মজুতকরণ, বিতরণ বা সরবরাহের কাজে নিযুক্ত কোন লাইসেন্সীকে প্রাকৃতিক গ্যাস নিরাপত্তা বিধিমালা, ১৯৯১ এর অধীন এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়ে যে ক্ষমতা রহিয়াছে সেই ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে৷

## অধ্যায়-৫ - সরকার ও কমিশনের সম্পর্ক

### এনার্জির ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা

২৪৷ (১) এনার্জির উন্নয়ন ও সামগ্রিক পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিষয়ে সরকার নীতিগত নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে৷

(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, কমিশনের সহিত আলোচনাক্রমে, যে কোন নীতিগত বিষয়ে নির্দেশনা জারী করিবে৷

(৩) এনার্জি উন্নয়নের স্বার্থে সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে এনার্জির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনাক্রমে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক শ্রেণীর ও দেশের বিভিন্ন এলাকার এনার্জির চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার প্রদান এবং ভবিষ্যত্-শক্তির উত্স হিসাবে বিবেচনাক্রমে এনার্জি সংরক্ষণের বিষয়ে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করিবে৷

### এনার্জি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরী ক্ষমতা

২৫৷ সরকার অপ্রত্যাশিত স্বল্প মেয়াদী এনার্জি ঘাটতি বা এনার্জির প্রাপ্যতা সম্পর্কিত জরুরী অবস্থা মোকাবিলার জন্য বিশেষ পরিস্থিততে এনার্জি ব্যবহার করিবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নির্দিষ্ট প্রান্তিক ব্যবহারকারীগণের জন্য এনার্জি বন্টন সম্পর্কিত বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, তবে স্বল্প মেয়াদী বা জরুরী অবস্থা মোকাবিলা সম্পর্কিত উক্তরূপ বিধি যাহাতে লাইসেন্সী এবং অন্যান্যদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর না হয় সরকার তাহা নিশ্চিত করিবে৷

### বিরোধ নিষ্পত্তি

২৬৷ যদি এই আইনে উল্লিখিত কোন বিষয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য বা বিরোধ দেখা দেয়, সেইক্ষেত্রে সরকার কমিশনের সহিত আলোচনা করিবে এবং প্রয়োজন মনে করিলে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সহায়তা গ্রহণ করিয়া সরকার মতপার্থক্য বা বিরোধ নিষ্পত্তি করিবে৷

## অধ্যায়-৬ - লাইসেন্স

### লাইসেন্স

২৭৷ (১) লাইসেন্স দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত বা এই আইন বা অন্য কোন আইনের অধীন অব্যাহতিপ্রাপ্ত না হইলে কোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত ব্যবসায় নিয়োজিত হইবেন না, যথা:-

(ক) বিদ্যুত্ উত্পাদন;

(খ) এনার্জি সঞ্চালন;

(গ) এনার্জি বিপণন ও বিতরণ;

(ঘ) এনার্জি সরবরাহ; এবং

(ঙ) এনার্জি মজুতকরণ৷

(২) বিদ্যুত্ আইন, রাষ্ট্রপতির আদেশ, পল্লী বিদ্যুতায়ন আইন, ডেসা আইন, পেট্রোলিয়াম আইন বা উহার অধীন প্রণীত কোন বিধি এর অধীন বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি সঞ্চালন, বিতরণ, বিপণন, মজুতকরণ, সরবরাহের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীন লাইসেন্সী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং এই আইনের বিধানাবলী উক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে৷

(৩) যেই সকল বেসরকারী কোম্পানীর সহিত এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে সরকার বা উহার কোন এজেন্সি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হইয়াছে ঐ সকল কোম্পানী এই আইনের অধীন বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং বাল্ক সরবরাহসহ এনার্জি সরবরাহ, সঞ্চালন, বিতরণ, মজুতকরণ বা সরবরাহের জন্য লাইসেন্সী বলিয়া গণ্য হইবে এবং চুক্তির সংশ্লিষ্ট শর্ত তাহাদের ক্ষেত্রে, এই ধারায় ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও, প্রযোজ্য হইবে৷

(৪) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, মজুতকরণ, সরবরাহ, সঞ্চালন বা বিতরণ কাজে নিযুক্ত আছেন কিনা মর্মে প্রশ্ন বা মতভেদ দেখা দিলে, উক্ত প্রশ্ন বা মতভেদের উপর কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷

(৫) লাইসেন্সী নয় বা অন্য কোনভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয় এমন কোন ব্যক্তিকে কমিশন বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি সঞ্চালন, মজুতকরণ, বিপণন, সরবরাহ বা বিতরণের সহিত সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি চালানো বন্ধ বা এনার্জি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিবার আদেশ দিতে পারিবে৷

### কমিশন কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান

২৮৷ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত বিষয়ে লাইসেন্স প্রদান করাযাইবে, যথা:-

(ক) বিদ্যুত্ উত্পাদন;

(খ) এনার্জি সঞ্চালন;

(গ) এনার্জি বিপণন ও বিতরণ;

(ঘ) এনার্জি সরবরাহ; এবং

(ঙ) এনার্জি মজুতকরণ৷

### লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা হইতে অব্যাহতি

২৯৷ (১) লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা হইতে, নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে, অব্যাহতি প্রদান করিবার জন্য কমিশন প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন লাইসেন্সীকে লাইসেন্স বা এই আইন বা প্রবিধানের অধীন যে সব শর্তাবলী পালন করিতে হয়, অব্যাহতিপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তিকে কমিশন কর্তৃক অব্যাহতিজনিত আদেশ বা প্রবিধানে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, সেই সব শর্তাবলী পালন করিতে হইবে৷

(২) এই ধারার অধীন প্রদত্ত অব্যাহতি কোন ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রদান করা যাইবে৷

(৩) কমিশন যে কোন সময়, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক, অব্যাহতি বাতিল করিতে পারিবে৷

### লাইসেন্স নবায়ন, সংশোধন ও বাতিল

৩০৷ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স নবায়ন, বাতিল ও সংশোধন করা যাইবে৷

### লাইসেন্সীর সাধারণ কর্তব্য ও ক্ষমতা

৩১৷ (১) প্রত্যেক লাইসেন্সী দক্ষ, সুচারুভাবে, সমন্বিত এবং স্বল্প ব্যয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, বিতরণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা করিবে৷

(২) প্রত্যেক লাইসেন্সী নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী তাহার দায়িত্ব সম্পাদনকালে এনার্জি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান ও কৌশল অনুসরণ করিবে৷

### লাইসেন্সীর উপর বিধি-নিষেধ

৩২৷ (১) কোন লাইসেন্সী, কমিশনের পূর্বসম্মতি ব্যতিরেকে, ক্রয় বা অন্য কোন ভাবে আন্ডারটেকিং অর্জন করিতে পারিবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সম্মতির জন্য আবেদন করিবার পূর্বে লাইসেন্সী কমিশনকে, এবং যদি লাইসেন্সীর লাইসেন্স বিতরণ বা সরবরাহের জন্য হয়, সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অন্যুন ৩০ (ত্রিশ) দিনের নোটিশ প্রদান করিতে হইবে৷

(২) কোন লাইসেন্সী কমিশনের পূর্বসম্মতি ব্যতীত তাহার আন্ডারটেকিং বা উহার অংশবিশেষ বিক্রয়, বন্ধক, লিজ, বিনিময় বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করিবেন না৷

(৩) কোন লাইসেন্সী, লাইসেন্সের শর্ত বা কমিশনের সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ না হইলে, এনার্জি ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হইতে পারিবে৷

### লাইসেন্সীর বাত্সরিক হিসাব

৩৩৷ প্রত্যেক লাইসেন্সী কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তারিখের পূর্বে উহার আন্ডারটেকিং ও প্রত্যেক ব্যবসা ইউনিটের হিসাবের বাত্সরিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে তৈরী করিয়া কমিশনের নিকট প্রেরণ করিবে এবং উহা বা উহার উদ্ধৃতাংশ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রকাশ করিবে৷

## অধ্যায়-৭ - ট্যারিফ

### ট্যারিফ

৩৪৷ (১) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারের সহিত আলোচনাক্রমে কমিশন কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা ও পদ্ধতি (methodology) অনুসরণে পাইকারী বাল্ক ও খুচরাভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি সঞ্চালন, মজুতকরণ, বিপণন, সরবরাহ, বিতরণ এবং ভোক্তা (end-user) পর্যায়ে ট্যারিফ নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে সরকার বা উহার এজেন্সি এবং বেসরকারী কোম্পানীর মধ্যকার এনার্জি সংক্রান্ত সম্পাদিত চুক্তিতে নির্ধারিত ট্যারিফ হার এর ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না৷

(২) নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিম্্নবর্ণিত <sup><a id="fnref-25" href="#fn-25">25</a></sup> \[বিষয়গুলি] কমিশন বিবেচনা করিবে, যথা:-

(ক) বিদ্যুত্ আইন, রাষ্ট্রপতির আদেশ, পল্লী বিদ্যুতায়ন আইন এবং ডেসা আইন;

(খ) বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, বিতরণ, সরবরাহ ও মজুতকরণের ব্যয়ের সহিত ট্যারিফ সামঞ্জস্যপূর্ণ করা;

(গ) দক্ষতা, ন্যুনতম ব্যয়, উত্তম সেবা প্রদান, উত্তম বিনিয়োগ;

(ঘ) ভোক্তার স্বার্থ;

(ঙ) বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিতরণ ও সরবরাহ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনা;

(চ) জাতীয় <sup><a id="fnref-26" href="#fn-26">26</a></sup> \[এনার্জি] পাওয়ার সিস্টেম উন্নয়ন পরিকল্পনা; এবং

(ছ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন কর্তৃক বিবেচিত অন্যান্য বিষয়৷

(৩) কমিশন ট্যারিফ নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে পদ্ধতি (methodology) নির্ধারণ করিবে <sup><a id="fnref-27" href="#fn-27">27</a></sup> \[;

<sup><a id="fnref-28" href="#fn-28">28</a></sup> \[তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন কর্তৃক প্রবিধান প্রণয়ন না করা পর্যন্ত, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ট্যারিফ নির্ধারণ, পুনঃনির্ধারণ বা সমন্বয় করিতে পারিবে।]

(৪) কমিশন লাইসেন্সী এবং অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে শুনানী দেওয়ার পর ট্যারিফ নির্ধারণ করিবে৷

<sup><a id="fnref-29" href="#fn-29">29</a></sup> \[(৫) কমিশন, একক বা পৃথক পৃথক আদেশ দ্বারা, তৎকর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থ বৎসরে প্রয়োজনে এক বা একাধিকবার পরিবর্তন করিতে পারিবে।]

(৬) লাইসেন্সী ট্যারিফ পরিবর্তনের প্রস্তাব বিস্তারিত বিবরণসহ, কমিশনের নিকট উপস্থাপন করিতে পারিবে এবং কমিশন, আগ্রহী পক্ষগণকে শুনানী দেওয়ার পর, ট্যারিফ পরিবর্তনের প্রস্তাবসহ সকল তথ্যাদি প্রাপ্তির <sup><a id="fnref-30" href="#fn-30">30</a></sup> \[৬০(ষাট) দিনের] মধ্যে উহার সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি জারী করিবে <sup><a id="fnref-31" href="#fn-31">31</a></sup> \[উহার প্রয়োজনীয় প্রচারের জন্য লাইসেন্সীকে নির্দেশ প্রদান করিবে]৷

(৭) \[বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৮ ধারাবলে বিলুপ্ত৷]

### 32\[\*\*\*]

## অধ্যায়-৮ - আদেশ প্রদান ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা

### শর্ত পালনে অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত আদেশ

৩৫৷ কমিশন যদি এই মর্মে নিশ্চিত হয় যে, কোন লাইসেন্সী সংশ্লিষ্ট কোন শর্ত লঙ্ঘন করিতেছে বা করিতে পারে, তাহা হইলে কমিশন নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী উক্ত শর্ত পালন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করিবে৷

### জরুরি বিধান

৩৬৷ এই আইনের উদ্দেশ্য এবং ভোক্তার নিকট এনার্জি সেবা অব্যাহত রাখিবার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনাক্রমে কমিশন, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে, লাইসেন্সীর কোন আন্ডারটেকিং, উহার সম্পদ, স্বার্থ ও অধিকারসহ, এর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আইনের উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয়তা রক্ষার্থে এবং ভোক্তাদের নিকট নিরাপদ ও নিরবিচ্ছিন্ন এনার্জি সরবরাহের স্বার্থে অন্য কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্ত করিবার জন্য কমিশন লাইসেন্সীকে নির্দেশ দেওয়ার অধিকারী হইবে এবং এইরূপ নির্দেশের বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না; তবে এইরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে এই আইনের বিধান অনুসারে কমিশন লাইসেন্সীকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিবে৷

### অন্তর্বর্তীকালীন এবং চূড়ান্ত আদেশের বাস্তবায়ন

৩৭৷ (১) এই আইনের কোন বিধান ক্ষুণ্ন না করিয়া, কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত সকল আদেশ বা নির্দেশ, অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত যাহাই হউক না কেন, এমনভাবে বাস্তবায়িত হইবে যেন উহা কোন দেওয়ানী আদালতের ডিক্রী৷

(২) অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের সময় কমিশন, উহার আদেশ বা নির্দেশ অমান্যকারী বা লঙ্ঘনকারীকে তাহার কর্মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে৷

## অধ্যায়-৯ - তথ্য প্রবাহ

### কার্যসম্পাদনের মান সম্পর্কে তথ্য

৩৮৷ কমিশন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করিতে পারিবে৷

### তথ্য প্রকাশে বাধা-নিষেধ

৩৯৷ (১) কোন বিশেষ ব্যবসা বা ব্যক্তি সম্পর্কে এই আইনের অধীন সংগৃহীত কোন গোপন তথ্য, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ব্যতিরেকে, ব্যবসা চলাকালীন সময়ে কমিশন প্রকাশ করিবে না৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বাধা-নিষেধ নিম্নোক্ত তথ্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(ক) ট্যারিফ নির্ধারণসহ এই আইনের অধীন কমিশনের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন সংক্রান্ত;

(খ) এই আইনের অধীন সরকারের দায়িত্ব সম্পাদনে সহায়তাকরণ সম্পর্কিত তথ্য;

(গ) এই আইনের অধীন মহা-হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব সম্পাদনে সহায়ক কোন তথ্য;

(ঘ) কোন ফৌজদারী অপরাধের তদন্ত বা কোন ফৌজদারী কার্যধারা সম্পর্কিত তথ্য;

(ঙ) [দেউলিয়া বিষয়ক আইন, ১৯৯৭](/laws/act-812 "Act 812") (১৯৯৭ সনের ১০ নং আইন) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে তাহার দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সরবরাহকৃত তথ্য; এবং

(চ) এই আইন বা অন্য কোন আইনের অধীন দায়েরকৃত কোন দেওয়ানী কার্যধারার সহিত সরাসরি সম্পর্কিত কোন তথ্য৷

## অধ্যায়-১০ - সালিস-মীমাংসা ও আপীল

### কমিশন কর্তৃক সালিস-মীমাংসা

৪০৷ (১) [সালিস আইন, ২০০১](/laws/act-850 "Act 850") (২০০১ সনের ১ নং আইন) বা অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, লাইসেন্সীদের মধ্যে অথবা লাইসেন্সী ও ভোক্তার মধ্যে উদ্ভূত যে কোন বিবাদ মীমাংসার জন্য কমিশনের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে কোন বেসরকারী কোম্পানীর সহিত সরকার বা সরকারের কোন সংস্থার এনার্জি সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদিত হইয়া থাকিলে, বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে উক্ত চুক্তির শর্তাবলী প্রযোজ্য হইবে৷

(২) কমিশন সালিসকারী হিসাবে স্বীয় উদ্যোগে পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়া রোয়েদাদ প্রদান করিতে পারিবে বা বিরোধের নিষ্পত্তি করিবার জন্য সালিসকারী নিয়োগ দিতে পারিবে৷

(৩) উক্তরূপ মীমাংসা করিবার নিয়ম ও পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

(৪) কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত সালিসকারী তাহার রোয়েদাদ কমিশন বরাবরে উপস্থাপন করিবে এবং কমিশন উহার ভিত্তিতে নিম্্নরূপ যথাযথ আদেশ প্রদান করিবে, যথা:-

(ক) রোয়েদাদ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন;

(খ) রোয়েদাদ রদ বা সংশোধন; বা

(গ) সালিসকারী কর্তৃক পুনর্বিবেচনার জন্য রোয়েদাদ প্রেরণ৷

(৫) কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত রোয়েদাদ বা আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷

(৬) কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত রোয়েদাদ বা আদেশ এমনভাবে কার্যকর হইবে যেন উহা দেওয়ানী আদালতের একটি ডিক্রী৷

(৭) এই অংশের অধীন কার্যধারা চলাকালীন যে কোন সময় বা উহা শুরু করিবার পূর্বে যে কোন সময় কমিশন তদ্‌কর্তৃক যথাযথ বিবেচিত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

### পরিদর্শকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল

৪১৷ বিদ্যুত্ আইন বা পেট্রোলিয়াম আইন বা উহাদের অধীন প্রণীত বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিদ্যুত্ বা পেট্রোলিয়াম পরিদর্শকের যে কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনের নিকট আপীল করা যাইবে৷

## অধ্যায়-১১ - অপরাধ ও শাস্তি

### শাস্তি

৪২৷ যদি কোন ব্যক্তি এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের বিধান লঙ্ঘন করেন, তিনি অনধিক ৩ (তিন) বত্সরের কারাদণ্ড বা অন্যুন ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং অপরাধ অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে প্রতি দিনের জন্য অনধিক ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷

### আদেশ লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা ও শাস্তি

৪৩৷ যদি কোন লাইসেন্সী বা অন্য কোন ব্যক্তি, যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত, এই আইনের অধীন প্রদত্ত কমিশনের কোন আদেশ বা নির্দেশ পালন করিতে অস্বীকার করেন বা ব্যর্থ হন, তাহা হইলে-

(ক) কমিশন উক্ত ব্যক্তির উপর প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ প্রশাসনিক জরিমানা হিসাবে আরোপ করিতে পারিবে এবং এইরূপ জরিমানা সরকারী পাওনা হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে; বা

(খ) ইহা অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অন্যুন ২,০০০ (দুই হাজার) টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং অপরাধ অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে প্রতি দিনের জন্য অনধিক ৫০০ (পাঁচশত) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷

### এনার্জি চুরির শাস্তি

৪৪৷ (১) কোন ভোক্তা বিদ্যুত্ বা বিদ্যুতের মালামাল চুরি করিলে বা সহায়তা করিলে বা অনুরূপ কাজের সহিত জড়িত থাকিলে তিনি [Electricity Act, 1910](/laws/act-93 "Act 93") (Act No. IX of 1910) এর অধীন দণ্ডিত হইবে৷

(২) কোন ভোক্তা গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম পদার্থ চুরি করিলে, চুরিতে সহায়তা করিলে বা অনুরূপ কাজের সহিত জড়িত থাকিলে তিনি সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বত্সরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অন্যুন ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন চুরি বলিতে নিম্নর এক বা একাধিক বিষয়কে স্বতন্ত্রভাবে বা যৌথভাবে বুঝাইবে:-

(ক) লাইসেন্সীর যথাযথ অনুমোদন বা নির্দেশনা ব্যতীত বা ব্যবহারের অনুমোদিত উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা বা কার্যক্রমের ব্যত্যয় ঘটাইয়া কাহারও নিকট হইতে গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম পদার্থ ব্যবহার করিলে;

(খ) এই আইন বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধির আওতায় প্রযোজ্য যথাযথ মিটার ব্যতীত গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম পদার্থ ব্যবহার করিতে দিলে;

(গ) ভোক্তা মিটার বাইপাস বা টেম্পারিং বা পাইপ লাইনে ছিদ্র করিয়া বা কোনরূপ পরিবর্তন করিয়া বা গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম পদার্থের ব্যবহারের নির্দেশিকা বা পদ্ধতি বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান ভঙ্গ করিয়াছেন; এবং

(ঘ) গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম পদার্থের অপচয় বা অপব্যবহার বা অননুমোদিত বা চুক্তি বহির্ভূত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার করিলে বা করিবার কারণ হইলে বা সহায়তা করিলে৷

### বিদ্যুত্ লাইন বা গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন ইত্যাদি নির্মাণ বা মেরামতে বাধা প্রদানের শাস্তি

৪৫৷ কেহ কোন লাইসেন্সীকে বা তাহার অনুমোদিত প্রতিনিধকে বিদ্যুত্ বা গ্যাস সরবরাহ সম্পর্কিত লাইন বা পাইপ লাইন বা তদ্‌সংশ্লিষ্ট কোন সরঞ্জাম, স্থাপনা, নির্মাণ বা মেরামত কার্যে বাধা প্রদান করিলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বত্সরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অন্যুন ১,০০০ (এক হাজার) টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷

### কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

৪৬৷ এই আইনের অধীন যদি কোন কোম্পানী কর্তৃক কোন অপরাধ সংঘটিত হয় তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা যিনি এই অপরাধ সংঘটনকালে কোম্পানীর ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তিনি অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷

ব্যাখ্যা৷- এই ধারায়-

(ক) “কোম্পানী” বলিতে কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও সমিতি বা সংগঠনকে বুঝাইবে; এবং

(খ) বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে “পরিচালক” বলিতে কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যকে বুঝাইবে৷

### অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ

৪৭৷ কমিশন কর্তৃক লিখিতভাবে সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমতা প্রদত্ত উহার কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না৷

### অন্য আইনের অধীন ব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ন না করা

৪৮৷ এই আইন, বিধি বা প্রবিধান এর অধীন গৃহীত কার্যধারা বা ব্যবস্থা অন্য কোন আইনের অধীন গৃহীত ব্যবস্থার অতিরিক্ত হইবে এবং উক্তরূপ ব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ন করিবে না৷

### আমল আদালতের এখ্‌তিয়ার

৪৯৷ (১) শুধুমাত্র ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট কমিশনের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার লিখিত রিপোর্টের ভিত্তিতে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ আমলে লইতে পারিবেন৷

(২) উক্ত আদালত কোন অপরাধ আমলে লইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করিবার উদ্দেশ্যে সমন বা গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীসহ মামলাটি বিচারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করিবার জন্য ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে৷

### বিচার আদালতের এখ্‌তিয়ার

৫০৷ ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সেশন (দায়রা) আদালতের নিম্্নতর কোন আদালত এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় কোন অপরাধের বিচার (trial) করিবে না৷

### অভিযোগ দায়ের ও তদন্ত পদ্ধতি

৫১৷ (১) এই আইনে বর্ণিত কোন অপরাধের তদন্ত করিবার জন্য কমিশন পরিদর্শক বা অন্য কোন কর্মকর্তাকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে৷

(২) পরিদর্শক বা উক্ত কর্মকর্তা, অতঃপর তদন্তকারী কর্মকর্তা বলিয়া উল্লিখিত, কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ বা অন্য যে কোন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই ধারার অধীন কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন৷

(৩) কোন অপরাধের তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত অপরাধ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত কর্মকর্তার নিকট পেশ করিবেন এবং উক্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে, ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা অথবা এই আইন বা প্রবিধান অনুসারে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা বা আদৌ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা সমীচীন কি না এবং তদ্‌নুসারে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হইবে৷

(৪) কোন অপরাধ তদন্তের ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন থানার একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ন্যায় একই ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন৷

(৫) তদন্ত সমাপ্তির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার তদন্ত রিপোর্টের মূলকপি এবং উক্ত রিপোর্টের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বা উহাদের সত্যায়িত অনুলিপি এখ্‌তিয়ারসম্পন্ন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করিবেন, এবং একটি অনুলিপি তাহার দপ্তরে জমা করিবেন৷

(৬) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সত্ত্বেও, তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট অপরাধ ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে, উক্ত উপ-ধারার অধীন আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির পূর্বেই অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট দলিল, বস্তু বা যন্ত্রপাতি আটক করিতে পারিবেন, যদি তিনি সন্তুষ্ট হন যে, বিলম্বের কারণে উক্ত দলিল, বস্তু বা যন্ত্রপাতি সরাইয়া ফেলা বা নষ্ট করা হইতে পারে এবং অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করিতে পারিবেন যদি তিনি মনে করেন যে, তাহার পলাতক হইবার সম্ভাবনা আছে৷

### ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ

৫২৷ (১) এই আইন এবং উহার অধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধান সাপেক্ষে, এই আইনে বর্ণিত যে কোন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল এবং আনুষংগিক সকল বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে৷

(২) এই আইনের অধীন তদন্তকারী কর্মকর্তার রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালতে সূচিত মামলা ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে সূচিত মামলা বলিয়া গণ্য হইবে৷

### পাবলিক প্রসিকিউটর ইত্যাদিকে কমিশনের কর্মকর্তা কর্তৃক সহায়তা

৫৩৷ এই আইনের অধীন সেশন আদালতে কোন মামলা পরিচালনার সময় পাবলিক প্রসিকিউটর বা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরকে কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিয়োজিত কর্মকর্তা সহায়তা করিতে পারিবেন এবং উক্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির থাকিয়া তাহার বক্তব্য পেশ করিতে পারিবেন৷

## অধ্যায়-১২ - ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি

### ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি

৫৪৷ (১) এই আইনের অধীন এনার্জি, সেবা বা তত্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভোক্তাদের অসুবিধা বা অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হইবার জন্য প্রত্যেক লাইসেন্সী প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভিযোগ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করিবে এবং এই সব কেন্দ্রের অবস্থান ও উহার সহিত যোগাযোগ সম্পর্কিত তথ্যাদিসহ সময় সময় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করিবেন৷

(২) যে কোন ভোক্তা তাহার অসুবিধা বা অভিযোগ উক্ত কেন্দ্রে টেলিফোনের মাধ্যমে বা লিখিতভাবে পেশ করিতে পারিবেন৷

(৩) ভোক্তার নিকট হইতে প্রাপ্ত সকল অভিযোগ এবং উহা নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য উক্ত কেন্দ্রে একটি রেজিিস্ট্রতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে৷

(৪) ভোক্তার অসুবিধা সংক্রান্ত কোন তথ্য বা অভিযোগ প্রাপ্তির পর লাইসেন্সী উহা ৭ (সাত) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে এবং এই ব্যাপারে কমিশন কর্তৃক প্রণীত কার্যপদ্ধতি (code of practice) অনুসরণ করিবে৷

(৫) কোন ভোক্তা তাহার অসুবিধা বা অভিযোগ সম্পর্কে লাইসেন্সীকে অবহিত করা সত্ত্বেও উহা যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করা হইলে উক্ত ভোক্তা কমিশনের নিকট লিখিতভাবে বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন৷

(৬) এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে কমিশন প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিবে৷

## অধ্যায়-১৩ - বিবিধ

### কমিশনের আদেশ চূড়ান্ত

৫৫৷ এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানের আওতায় কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন সিদ্ধান্ত বা আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷

### ফি, জরিমানা ও চার্জ আদায়

৫৬৷ এই আইনের অধীন প্রদেয় ফি, জরিমানা ও চার্জ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় অর্থ [Public Demands Recovery Act, 1913](/laws/act-98 "Act 98") (Ben. Act III of 1913) এর অধীন সরকারী দাবী হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷

### জরিমানা ও চার্জ এর ব্যয়

৫৭৷ এই আইনের অধীন জরিমানা ও চার্জ আরোপকারী কমিশন বা আদালত আদায়কৃত উক্ত সমুদয় অর্থ বা উহার অংশবিশেষ কার্যধারার খরচ হিসাবে ব্যয় করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে৷

### বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৫৮৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, কমিশনের সহিত আলোচনা সাপেক্ষে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

### প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৫৯৷ (১) কমিশন এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

(২) উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া নিম্্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে উক্তরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করা যাইবে:

(ক) কমিশনের সভা আহ্বানসহ সভা অনুষ্ঠানের স্থান, সময় এবং অন্যান্য বিষয়;

(খ) কমিশনের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন;

(গ) কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা এবং চাকুরীর শর্তাদি;

(ঘ) লাইসেন্সী এবং এই আইনের অধীন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কার্যাবলী নির্ধারণ;

(ঙ) বিভিন্ন কোড ও স্ট্যান্ডার্ড তৈরি;

(চ) লাইসেন্সীর ক্ষমতা, কার্যাবলী, দায়িত্ব ও কর্তব্য;

(ছ) লাইসেন্সী কর্তৃক অনুসরণী এনার্জি ক্রয় প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী;

(জ) লাইসেন্সীর রাজস্ব ও ট্যারিফ নির্ধারণ পদ্ধতি;

(ঝ) লাইসেন্স নবায়ন, সংশোধন ও বাতিল করিবার পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ঞ) কমিশনের হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ত) বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি সঞ্চালন, বিতরণ, মজুতকরণ ও সরবরাহের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি ও শর্তাদি এবং এতদ্‌সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াদি;

(থ) লাইসেন্সীর তথ্যাদি প্রদানের পদ্ধতি নির্ধারণ; এবং

(দ) ন্যুনতম ব্যয়ে উত্পাদিত এনার্জি সরবরাহের অগ্রাধিকার নীতি৷

(৩) এই ধারার অধীন প্রণীতব্য সকল প্রবিধানের প্রাক-প্রকাশনার মাধ্যমে উহার উপর আপত্তি বা পরামর্শ আহ্বান করিয়া প্রাপ্ত আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনাক্রমে কমিশন প্রবিধান প্রণয়ন করিবে৷

### ক্ষমতার্পণ

৬০৷ কমিশন, লিখিত আদেশ দ্বারা, আদেশে নির্ধারিত শর্তাধীনে, এই আইনের অধীন উহার সকল ক্ষমতা কমিশনের কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তিকে অর্পণ করিতে পারিবে৷

### জনসেবক (Public Servant)

৬১৷ কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ কমিশনের দায়িত্ব পালনকালে Penal Code (Act, XLV of 1860) এর Section 21 এ যে অর্থে জনসেবক (Public Servant) কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক (Public Servant) বলিয়া গণ্য হইবেন৷

### সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ

৬২৷ এই আইন, বিধি বা প্রবিধান এর অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান, কোন সদস্য, কর্মকর্তা, বা কর্মচারী বা কমিশনের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷

### কার্যধারা বিচার বিভাগীয় কার্যধারা হিসাবে গণ্য

৬৩৷ কমিশনের সম্মুখে সকল কার্যধারা (Penal Code Act, XLV of 1860) এর Sections 193 এবং 228 এর অর্থে এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯৫ এ বিধৃত বিচার বিভাগীয় কার্যধারা হিসাবে গণ্য হইবে৷

### বিশেষ বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

৬৪৷ খেলাপী ভোক্তার গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ সংক্রান্ত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তিকল্পে লাইসেন্সীর অনুরোধে সরকার [Code of Criminal Procedure, 1898](/laws/act-75 "Act 75") (Act V of 1898) এর Section 14, Section 18(3) এবং Section 190(1)(A) হইতে (C) এর অধীন বিশেষ বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করিবে৷

### ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৬৫৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে, তাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে৷

## অধ্যায়-১৪ - ক্রান্তিকালীন বিধান

### ক্রান্তিকালীন লাইসেন্স প্রদান সম্পর্কিত বিধান

৬৬৷ (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন প্রবর্তন হইবার তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে সরকার কোন ব্যক্তিকে বিদ্যুত্ উত্পাদন, এনার্জি সঞ্চালন, সরবরাহ ও বিতরণের জন্য, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ শর্তাবলী সাপেক্ষে কিংবা নিম্নের শত অনুসারে, অনধিক বার মাসমেয়াদী সাময়িক লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেকটি সাময়িক লাইসেন্স তাত্ক্ষণিকভাবে কমিশনের বরাবরে পেশ করা হইবে, যাহা এই আইনের অধীন কমিশন কর্তৃক লাইসেন্স প্রদানের জন্য আবেদন পত্র হিসাবে বিবেচিত হইবে;

(খ) এই ধারার অধীন প্রদত্ত প্রত্যেক সাময়িক লাইসেন্সের বৈধতা কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে দফা (ক) এ উল্লিখিত আবেদনপত্রে নির্ধারিত তারিখ হইতে বিলুপ্ত হইবে৷

(২) এই আইনের অধীন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত কোন লাইসেন্সীর যে ক্ষমতা, অধিকার এবং কর্তৃত্ব থাকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সাময়িক লাইসেন্সীর সেই একই ক্ষমতা, অধিকার ও কর্তৃত্ব থাকিবে৷

(৩) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কোন সাময়িক লাইসেন্সী কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্সীর মত একই ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে৷

***

### Footnotes

<a id="fn-1" />**1.** "এনার্জি" শব্দটি "বিদু্যৎ বা গ্যাস" শব্দগুলির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ২ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-2" />**2.** উপ-ধারা (১) ও (১ক) পূর্ববর্তী উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৬ নং আইন) এর ২ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।

<a id="fn-3" />**3.** দাঁড়িটি (।) "; এবং" সেমিকোলন ও শব্দটির পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত এবং অতঃপর দফা (ঙ) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৩ ধারাবলে বিলুপ্ত

<a id="fn-4" />**4.** উপ-ধারা (২ক) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৩ ধারাবলে সনি্নবেশিত

<a id="fn-5" />**5.** "কারণের" শব্দটি "কারণে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-6" />**6.** "করিবেন" শব্দটি "করিবে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-7" />**7.** "দিবেন" শব্দটি "দিবে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-8" />**8.** "রাষ্ট্রপতির" শব্দটি "সরকারের" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-9" />**9.** "সদস্যের" শব্দটি "কমিশনারের" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-10" />**10.** "সদস্যকে" শব্দটি "কমিশনারকে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-11" />**11.** "রাষ্ট্রপতি" শব্দটি "সরকার" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-12" />**12.** "করিবেন" শব্দটি "করিবে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-13" />**13.** "প্রদান" শব্দটি "প্রধান" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-14" />**14.** "রাষ্ট্রপতি" শব্দটি "সরকার" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-15" />**15.** "সদস্যকে" শব্দটি "কমিশনারকে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-16" />**16.** "করিবেন না" শব্দগুলি "করিবে না" শব্দগুলির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-17" />**17.** "সদস্যের" শব্দটি "কমিশনারের" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-18" />**18.** "রাষ্ট্রপতি" শব্দটি "সরকার" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-19" />**19.** "সদস্যকে" শব্দটি "কমিশনারকে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-20" />**20.** "পারিবেন" শব্দটি "পারিবে" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-21" />**21.** "সদস্য" শব্দটি "কমিশনার" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-22" />**22.** উপ-ধারা (৬) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৫ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-23" />**23.** "রাজস্ব বাজেটের" শব্দগুলি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৬ ধারাবলে সনি্নবেশিত

<a id="fn-24" />**24.** "বিদু্যৎ উৎপাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, সরবরাহ, মজুতকরণ, দক্ষ ব্যবহার, সেবার মান, ট্যারিফ নির্ধারণ ও নিরাপত্তার উন্নয়ন " শব্দগুলি ও কমাগুলি "এনার্জি" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৭ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-25" />**25.** "বিষয়গুলি" শব্দটি "বিষয়গুলির" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৮ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-26" />**26.** "এনার্জি" শব্দটি "পাওয়ার" শব্দটির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৮ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

<a id="fn-27" />**27.** “:” চিহ্ন “।“ চিহ্নের পরিবর্তে [বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৩](/laws/act-1423 "Act 1423") (২০২৩ সনের ০৬ নং আইন) এর ২(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।

<a id="fn-28" />**28.** শর্তাংশ [বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৩](/laws/act-1423 "Act 1423") (২০২৩ সনের ০৬ নং আইন) এর ২ (ক) ধারাবলে সংযোজিত।

<a id="fn-29" />**29.** উপ-ধারা (৫) [বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২০](/laws/act-1354 "Act 1354") (২০২০ সনের ২৫ নং আইন) এর ২ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।

<a id="fn-30" />**30.** “৬০ (ষাট) দিনের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী “৯০ (নব্বই) দিনের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনীর পরিবর্তে [বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৩](/laws/act-1423 "Act 1423") (২০২৩ সনের ০৬ নং আইন) এর ২(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।

<a id="fn-31" />**31.** "উহার প্রয়োজনীয় প্রচারের জন্য লাইসেন্সীকে নির্দেশ প্রদান করিবে" শব্দগুলি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৩ নং আইন) এর ৮ ধারাবলে সনি্নবেশিত

<a id="fn-32" />**32.** ধারা ৩৪ক [বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬](/laws/act-1669 "Act 1669") (২০২৬ সনের ৪০ নং আইন) এর ২ ধারাবলে বিলুপ্ত।

<Note>
  Click [here](http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-902.html) to see the original act on the Bangladesh Legal Database.
</Note>
