এই আইন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন) দ্বারা রহিত করা হইয়াছে।
যেহেতু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ নামে অভিহিত হইবে৷ (২) ইহা ১৩৯৬ বাংলা সালের ১৯শে পৌষ মোতাবেক ১৯৯০ সালের ২রা জানুয়ারী তারিখ হইতে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে- (ক) “অধিদপ্তর” অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর; (খ) “এ্যালকোহল” অর্থ স্পিরিট এবং যে কোন ধরনের মদ 1 [, ওয়াইন, বিয়ার] বা 2 [০.৫% (দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর] অধিক এ্যালকোহলযুক্ত যে কোন তরল পদার্থ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; 3 [(খখ) “ওয়াশ” অর্থ শর্করা কিংবা শ্বেতসার সম্বলিত যে কোন বস্তুকে পানি ও অন্যান্য উপকরণ সহযোগে গাঁজানোর মাধ্যমে উত্পন্ন এ্যালকোহল মিশ্রিত দ্রবণ;] (গ) “চিকিত্সক” অর্থ Medical and Dental Council Act, 1980 (XVI of 1980) এর section 2 এর clause (l) ও (m) এ সংজ্ঞায়িত registered dentists ও registered medical practitioner এবং Bangladesh Veterinary Practitioners Ordinance, 1982 (XXX of 1982) এর section 2(g) তে সংজ্ঞায়িত registered veterinary practitioner ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (ঘ) “ডিস্টিলারী” অর্থ এ্যালকোহল তৈরীর যে কোন কারখানা; (ঙ) “তফসিল” অর্থ এই আইনের সহিত সংযুক্ত যে কোন তফসিল; 4 [(ঙঙ) “নিয়ন্ত্রিত বিলি” অর্থ এই আইনের অধীন বিচারার্থ গ্রহণীয় অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করার উদ্দেশ্যে, কোন মাদকদ্রব্য, উহার উত্সবস্তু, উপাদান বা মিশ্রণের বেআইনী বা সন্দেহজনক চালান, সরকারের জ্ঞাতসারে ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের ভিতরে আনিতে, বাহিরে প্রেরণ করিতে বা মধ্য দিয়া চলাচল করিতে দেওয়ার কৌশল;] (চ) “পারমিট” অর্থ এই আইনের অধীন প্রদত্ত পারমিট; (ছ) “পাস” অর্থ এই আইনের অধীন প্রদত্ত পাস; 5 [(ছছ) “বাহন” অর্থ বিমান, মোটরযান, জলযান এবং রেলগাড়িসহ যে কোন প্রকারের বাহন;] (জ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; 6 [(জজ) “বিয়ার” অর্থ মল্ট, হপস্ সহযোগে কিংবা মল্ট বা হপস্ সহযোগে ব্রিউয়িং পদ্ধতিতে ব্রিউয়ারীতে প্রস্তুতকৃত অন্যুন ০.৫% (দশমিক পাঁচ শতাংশ)(ভলিয়ুম) এ্যালকোহলযুক্ত যে কোন পানীয়;] (ঝ) “বোর্ড” অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড; 7 [(ঞ) “ব্রিউয়ারী” অর্থ বিয়ার অথবা বিয়ারের গুণাগুণ সম্পন্ন যে কোন তরল পদার্থ প্রস্তুতের কারখানা বা কেন্দ্র;] (ট) “মহা-পরিচালক” অর্থ এই আইনের অধীন নিযুক্ত মহা-পরিচালক; 8 [(ঠ) “মাদকদ্রব্য” অর্থ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত কোন দ্রব্য এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, মাদকদ্রব্য বলিয়া ঘোষিত অন্য কোন দ্রব্য;] (ড) “ক-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য”, “খ-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য” ও “গ-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য” অর্থ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত যথাক্রমে ক-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য, খ-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য ও গ-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য; (ঢ) “মাদকাসক্ত” অর্থ শারীরিক বা মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বা অভ্যাসবশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী; (ণ) “মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র” অর্থ এই আইনের অধীন স্থাপিত বা ঘোষিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র; (ত) “লাইসেন্স” অর্থ এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স; (থ) “স্থান” বলিতে যে কোন বাড়ী-ঘর, যান-বাহন স্থিতাবস্থায় বা চলমান যে ভাবেই থাকুক না কেন, এবং বিমান বন্দর, সামুদ্রিক বন্দর ও বৈদেশিক ডাকঘর, বহিরাগমন চেক পোষ্ট ও শুল্ক ফাঁড়ি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে৷আইনের প্রাধান্য
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী 9 [বাংলাদেশের সর্বত্র] কার্যকর থাকিবে৷জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা
৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকিবে৷ (২) বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:- 10 [(ক) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;] (খ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; 11 [* * *] (ঘ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (ঙ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (চ) তথ্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (ছ) সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (জ) অর্থ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (ঝ) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (ঞ) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (ঠ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী; (ড) আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়; 12 [(ডড) সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়;] (ঢ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রখ্যাত সমাজসেবক; (ণ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রখ্যাত লোকহিতৈষী ব্যক্তি; (ত) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী; (থ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক; (দ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রখ্যাত চিকিত্সক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ; (ধ) মহা-পরিচালক, যিনি বোর্ডের সচিবও হইবেন৷ (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগে যদি মন্ত্রী না থাকেন, তাহা হইলে ঐ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, যদি থাকেন, বোর্ডের সদস্য হইবেন৷ (৪) বোর্ডের কোন মনোনীত সদস্য তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় তাঁহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে৷ (৫) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে কোন মনোনীত সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷বোর্ডের দায়িত্ব ও কর্তব্য
৫৷ বোর্ডের নিম্নরূপ দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকিবে, যথা:- (ক) মাদকদ্রব্য-সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া রোধকল্পে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ; (খ) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য যে কোন ধরনের গবেষণা বা জরিপ পরিচালনা; (গ) মাদকদ্রব্য উত্পাদন, সরবরাহ, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন; (ঘ) মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও উহা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ; (ঙ) মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ; (চ) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সহিত যোগাযোগ স্থাপন এবং এতদসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন; (ছ) উপরি-উক্ত দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ৷সভা
৬৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷ (২) বোর্ডের সকল সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷ (৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে তত্কর্তৃক মনোনীত বোর্ডের অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷ (৪) বোর্ডের মোট সদস্যের এক-চতুর্থাংশের উপস্থিতিতে উহার সভার কোরাম গঠিত হইবে৷ (৫) বোর্ড গঠনে ত্রুটি রহিয়াছে যা উহাতে কোন শূন্যতা রহিয়াছে শুধুমাত্র এই কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা বে-আইনী হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তহবিল
৭৷ (১) মাদকদ্রব্য ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন করার প্রয়োজনে সরকারী সাধারণ বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে বোর্ড জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তহবিল নামে একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করিতে পারিবে৷ (২) উক্ত তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:- (ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (খ) কোন বিদেশী সরকার বা সংস্থা বা কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (গ) কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (ঘ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; 13 [(ঘঘ) ধারা ৩৫ক এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ;] (ঙ) অন্য কোন উত্স হইতে প্রাপ্ত অর্থ৷ (৩) তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখা হইবে৷ (৪) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে তহবিল রক্ষণ ও উহার অর্থ ব্যয় করা যাইবে৷ (৫) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও কর্তৃপক্ষের দ্বারা তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে৷ (৬) তহবিল-নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ তহবিল সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল নিরীক্ষা করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে বোর্ডের যে কোন সদস্য এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে৷ (৭) তহবিলের হিসাব নিরীক্ষার পর নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ সরকারের নিকট নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে৷মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
৮৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামে একটি অধিদপ্তর স্থাপন করিবে৷ (২) বোর্ডের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিদপ্তর সহায়তা প্রদান করিবে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য অধিদপ্তর দায়ী থাকিবে৷এ্যালকোহল ব্যতীত মাদকদ্রব্যের উত্পাদন ইত্যাদি নিষিদ্ধ
৯৷ (১) এ্যালকোহল ব্যতীত অন্য কোন মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ, উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানী, রপ্তানী, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ, প্রদর্শন 14 [প্রয়োগ ও ব্যবহার করা যাইবে না, অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোন প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ গ্রহণ, অর্থ বিনিয়োগ কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পরিচালনা বা উহার পৃষ্ঠপোষকতা করা যাইবে না]৷ (২) কোন মাদকদ্রব্যের উত্পাদনে ব্যবহৃত হয় এই প্রকার কোন দ্রব্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ, উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানী, রপ্তানী, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ, প্রদর্শন 15 [, প্রয়োগ] ও ব্যবহার করা যাইবে না৷ (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত উপ-ধারাদ্বয়ে উল্লিখিত কোন মাদকদ্রব্য, দ্রব্য বা উদ্ভিদ কোন আইনের অধীন অনুমোদিত কোন 16 [ঔষধ প্রস্তুত শিল্পে ব্যবহার, চিকিত্সা] বা কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য প্রয়োজন হইলে উহা এই আইনের অধীন প্রদত্ত- (ক) লাইসেন্সবলে 17 [চাষাবাদ,] উত্পাদন প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানী, রপ্তানী, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ ও প্রদর্শন করা যাইবে; 18 [(খ) পারমিটবলে প্রয়োগ ও ব্যবহার করা যাইবে;] (গ) পাসবলে বহন বা পরিবহন করা যাইবে৷ 19 [(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন উত্পাদিত, প্রক্রিয়াজাত এবং আমদানীকৃত মাদকদ্রব্যের মোড়ক ও লেবেলের উপর উহার অপব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে সতর্কবানী স্পষ্টাক্ষরে মুদ্রণ বা ছাপাংকন করিতে হইবে৷ (৫) যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত কোন জলযান, আকাশযান বা স্থলযানে জরুরী চিকিত্সার প্রয়োজনে চিকিত্সকের নিয়ন্ত্রণে রক্ষিত প্রাথমিক চিকিত্সা বাক্সে, যদি থাকে, সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত পরিমাণ ঔষধ হিসাবে ব্যবহার যোগ্য মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, বহন, পরিবহন, প্রয়োগ ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷]এ্যালকোহল উত্পাদন ইত্যাদি সম্পর্কে বিধান
১০৷ (১) এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি- (ক) কোন ডিষ্টিলারী বা ব্রিউয়ারী স্থাপন করিতে পারিবেন না; (খ) কোন এ্যালকোহল উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানী, রপ্তানী, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ, প্রদর্শন ও ব্যবহার করিতে পারিবেন না; (গ) কোন এ্যালকোহল ঔষধ তৈরীর উপাদান হিসাবে ব্যবহার করিতে পারিবেন না৷ (২) এই আইনের অধীন প্রদত্ত পারমিট ব্যতীত কোন ব্যক্তি এ্যালকোহল পান করিতে পারিবেন না; এবং চিকিত্সার প্রয়োজনে অন্যুন সিভিল সার্জন বা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের কোন সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তি ছাড়া কোন মুসলমানকে এ্যালকোহল পান করার জন্য পারমিট দেওয়া যাইবে না 20 [: তবে শর্ত থাকে যে,- (ক) মুচি, মেথর, ডোম, চা বাগানের কুলি ও উপ-জাতীয়গণ কর্তৃক তাড়ী ও পঁচুই পান করার ক্ষেত্রে, এবং (খ) রাংগামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহের উপ-জাতীয়গণ কর্তৃক ঐতিহ্যগতভাবে প্রস্তুতকৃত মদ উক্ত জেলাসমূহের উপ-জাতীয়গণ কর্তৃক পান করার ক্ষেত্রে, এই উপ-ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷] (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রে যে রোগের চিকিত্সার জন্য এ্যালকোহল ব্যবহার করা আবশ্যিক সেই রোগের নাম উল্লেখ করিতে হইবে এবং উক্তরূপ আবশ্যকতা সম্পর্কে ব্যবস্থাপত্রে চিকিত্সকের প্রত্যয়ন থাকিতে হইবে৷ (৪) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন বিদেশী নাগরিক লাইসেন্স প্রাপ্ত বার এ বসিয়া এ্যালকোহল পান করিতে পারিবেন৷ (৫) কুটনৈতিক পাসপোর্টধারী বিদেশী নাগরিক বা শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত পাসবইধারী বা প্রচলিত ব্যাগেজ রুলস এর দ্বারা স্বীকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রমত এ্যালকোহল আমদানী, রপ্তানী, ক্রয়, বহন, সংরক্ষণ বা পানের ব্যাপারে এই ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷মাদকদ্রব্য ইত্যাদির হিসাব রক্ষণ
21 [১০ক৷ ধারা ৯ ও ১০ এর অধীন উত্পাদিত বা, ক্ষেত্রমত, প্রক্রিয়াজাত মাদকদ্রব্য, উদ্ভিদ ও এ্যালকোহল এবং এতদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত উপকরণের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিতে হইবে৷]লাইসেন্স ইত্যাদি প্রদান
১১৷ (১) এই আইনের অধীন প্রদেয় লাইসেন্স, পারমিট ও পাস, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ফরমে, শর্তে এবং ফিস প্রদানে মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদান করা যাইবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন লাইসেন্স, পারমিট বা পাস এর মেয়াদ উহাতে উল্লিখিত শর্তে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অথবা উহা প্রদানের তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট অর্থ বত্সর শেষ হওয়া পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে: 22 [তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের কোন বিধান বা লাইসেন্স বা পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন করা না হইলে এই আইনের অধীন প্রদত্ত সকল লাইসেন্স বা পারমিট, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফিস প্রদান সাপেক্ষে, বত্সরভিত্তিক নবায়ন করা যাইবে৷]লাইসেন্স ইত্যাদি প্রদানের ব্যাপারে বিধি-নিষেধ
১২৷ এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন লাইসেন্স বা পারমিট পাইবার যোগ্য হইবেন না, যদি- (ক) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর তিন বত্সর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে, অথবা পাঁচশত টাকার অধিক অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হন এবং দণ্ডের টাকা আদায় করার পর তিন বত্সর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে; (খ) তিনি এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন; (গ) তিনি এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স বা পারমিটের কোন শর্ত ভঙ্গ করেন এবং সেজন্য তাঁহার উক্ত লাইসেন্স বা পারমিট বাতিল হইয়া যায়৷মাদকদ্রব্যের ব্যবস্থাপত্র সম্পর্কে বিধি-নিষেধ
১৩৷ (১) মহা-পরিচালকের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে লিখিত অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন চিকিত্সক ‘ক’ শ্রেণীর বা ‘খ’ শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসা েব্যবস্থাপত্র দিতে পারিবেন না৷ (২) চিকিত্সক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি ‘গ’ শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসা েব্যবস্থাপত্র দিতে পারিবেন না৷ (৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে একবারের অধিক মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাইবে না৷মাদকদ্রব্যের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা
১৪৷ (১) কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, তাঁহার এখতিয়ারাধীন কোন এলাকায় আইন শৃংখলা রক্ষার্থে কোন মাদকদ্রব্যের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি, লিখিত আদেশ দ্বারা, অনধিক পনের দিনের জন্য উক্ত দোকান বন্ধ রাখার আদেশ দিতে পারিবেন; এবং বোর্ডের অনুমোদনক্রমে এই মেয়াদ আরও ত্রিশ দিন পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবেন৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত কোন আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে মহা-পরিচালকের নিকট তাঁহার অবগতির জন্য প্রেরণ করিতে হইবে৷মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, নিরাময় কেন্দ্র ইত্যাদি
23 [১৫৷ (১) এই আইনের প্রয়োজনে- (ক) সরকার মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে; (খ) লাইসেন্সবলে বেসরকারী পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা যাইবে৷ (২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জেল হাসপাতালসহ কোন সরকারী হাসপাতাল বা চিকিত্সা কেন্দ্রকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা দিতে পারিবে৷]মাদকাসক্তের চিকিত্সা
১৬৷ (১) যদি মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা জানিতে পারেন যে, কোন ব্যক্তি মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে প্রায়শঃ অপ্রকৃতিস্থ থাকেন এবং তাঁহাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাইয়া আনার জন্য অনতিবিলম্বে তাঁহার চিকিত্সা করা প্রয়োজন, তাহা হইলে মহা-পরিচালক বা উক্ত কর্মকর্তা লিখিত নোটিশ দ্বারা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে চিকিত্সার্থে কোন উপযুক্ত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিজেকে সমর্পণ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন৷ (২) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত ব্যক্তি উহার মর্মার্থ বুঝিতে অক্ষম হন, তাহা হইলে নোটিশটি তাঁহার অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়কের উপর জারি করিতে হইবে, এবং যাহার উপর নোটিশটি জারি করা হইবে তিনি মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিত্সার্থে কোন চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে হাজির করিবেন৷ (৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে নোটিশের নির্দেশ মান্য করা না হইলে নোটিশ প্রদানকারী কর্মকর্তা, উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার পর, সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিমের নিকট মাদকাসক্ত ব্যক্তির বাধ্যতামূলক চিকিত্সার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন৷ (৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিম লিখিত নোটিশ দ্বারা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কেন বাধ্যতামূলকভাবে চিকিত্সার জন্য কোন নির্দিষ্ট চিকিত্সক বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হইবে না তজ্জন্য ব্যক্তিগতভাবে বা কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হইয়া, নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে, কারণ দর্শাইবার জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত তাহার তত্ত্বাবধায়ক বা অভিভাবককে নির্দেশ দিবেন৷ (৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নির্দেশ পাওয়ার পর যথাসময়ে কারণ দর্শানো হইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিম, অনধিক পনের দিনের মধ্যে, মাদকাসক্ত ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, তাহার তত্ত্বাবধায়ক বা অভিভাবক বা তাঁহার প্রতিনিধি এবং উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত আবেদনকারীকে শুনানী দেওয়ার পর মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে, আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে বাধ্যতামূলক চিকিত্সার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন বা তাহার চিকিত্সার জন্য দাখিলকৃত আবেদনটি বাতিল করিতে পারিবেন৷ (৬) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি যথাসময়ে কারণ দর্শাইতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিম উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন বিবেচনার পর, হয় মাদকাসক্ত ব্যক্তির বাধ্যতামূলক চিকিত্সার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন অথবা আবেদনটি বাতিল করিতে পারিবেন৷ (৭) উপ-ধারা (৫) বা (৬) এর অধীন চিকিত্সার জন্য আদেশ জারির সাত দিনের মধ্যে যদি মাদকাসক্ত ব্যক্তি আদেশে উল্লিখিত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার্থে উপস্থিত না হন বা তাহাকে উপস্থিত করানো না হয় তাহা হইলে উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত আবেদনকারী কর্মকর্তা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিত্সার্থে উক্ত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে, প্রয়োজনবোধে বল প্রয়োগ করিয়া, হাজির করিবার ব্যবস্থা করিতে পারিবেন৷ 24 [(৭ক) কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে যদি তাহার পিতা, মাতা, পরিবার প্রধান বা উক্ত ব্যক্তি যাঁহার উপর নির্ভরশীল তিনি কোন চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার্থে সমর্পণ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) হইতে উপ-ধারা (৭) এর কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷] (৮) এই ধারার অধীন বাধ্যতামূলক চিকিত্সার যাবতীয় খরচ ও ব্যয় সরকার বহন করিবে৷ 25 [(৯) এই ধারার অধীন চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সমর্পিত ব্যক্তি ধারা ৯, ১০ বা ২২ এর অধীন মাদকদ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবেন এবং তাহার বিরুদ্ধে এই জন্য কোন আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হইবে না৷]মাদকাসক্তি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ
১৭৷ (১) যদি কোন পরিবারের কোন সদস্য মাদকাসক্ত হন, তাহা হইলে তত্সম্পর্কে উক্ত পরিবারের কর্তা বা অন্য কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি মহা-পরিচালক বা তদধীন কোন কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন৷ (২) কোন চিকিত্সক যদি এইরূপ মনে করেন যে, তাঁহার চিকিত্সাধীন কোন ব্যক্তি মাদকাসক্ত এবং তজ্জন্য চিকিত্সার প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিত্সার পরামর্শ দিবেন এবং এই চিকিত্সার প্রয়োজনীয়তার কথা লিখিতভাবে মহাপরিচালককে অবহিত করিবেন৷মাদক শুল্ক
১৮৷ (১) দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত হারে সকল প্রকার উত্পাদিত এ্যালকোহলের উপর মাদক শুল্ক নামে এক প্রকার শুল্ক আরোপ করা হইবে 26 [: তবে শর্ত থাকে যে, কোন উত্পাদিত এ্যালকোহল রপ্তানী করা হইলে উহার উপর উক্ত মাদকশুল্ক আরোপ করা হইবে না৷] (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আরোপিত শুল্ক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মহা-পরিচালক বা তদধীন কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক আদায় করা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত খাতে উহা জমা করা হইবে৷ধারা ৯ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
১৯৷ (১) কোন ব্যক্তি নিম্ন টেবিলের কলাম (২) এ উল্লিখিত কোন মাদকদ্রব্য সম্পর্কে ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) বা (২) এর, চাষাবাদ 27 [উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রয়োগ ও ব্যবহার] সম্পর্কিত বিধান ব্যতীত, কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি উক্ত মাদকদ্রব্যের বিপরীতে টেবিলের কলাম (৩) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যথা:-ক্রমিক নং | মাদকদ্রব্যের নাম | দণ্ড |
১ | ২ | ৩ |
১ | হেরোইন, কোকেন এবং কোকা উদ্ভূত মাদকদ্রব্য … … | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
২ | পেথিডিন, মরফিন ও টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ১০ গ্রাম হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড৷ |
৩ | অপিয়াম, ক্যানাবিস রেসিন বা2 28 [অপিয়াম উদ্ভূত, তবে হেরোইন ও মরফিন ব্যতীত, মাদকদ্রব্য] | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২ কেজি হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
৪ | মেথাডন | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫০ গ্রাম হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
৫ | ক-শ্রেণীর অন্যান্য মাদকদ্রব্য | অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
৭ | গাঁজা বা যে কোন ভেষজ ক্যানাবিস | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫ কেজি হইলে অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৩ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
৮ | যে কোন প্রজাতির ক্যানাবিস গাছ | (ক) ক্যানাবিস গাছের সংখ্যা অনূর্ধ্ব ২৫টি হইলে অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৩ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
৯ | ফেনসাইক্লিআইন, মেথাকোয়ালন এল, এস, ডি, বারবিরেটস এ্যামফিটামিন, অথবা এইগুলির যে কোনটি দ্বারা প্রস্তুত মাদকদ্রব্য | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫ গ্রাম হইলে অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৩ বত্সর কারাদণ্ড৷ |
১০ | খ-শ্রেণীভুক্ত অন্যান্য মাদকদ্রব্য | অন্যুন ৬ মাস অনূর্ধ্ব ৫ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
১১ | গ-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য | অনূর্ধ্ব এক বত্সর বা অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড ৷ |
(২) কোন ব্যক্তি ক-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ4 30 [উত্পাদন বা প্রক্রিয়াজাত] করিলে, তিনি অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ |
(৩) কোন ব্যক্তি খ ও গ-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ5 31 [উত্পাদন বা প্রক্রিয়াজাত] করিলে, তিনি অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ |
6 32 [(৩ক) কোন ব্যক্তি ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লেখিত মাদকদ্রব্যের প্রয়োগ ও ব্যবহার সম্পর্কিত কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি- |
(ক) ক-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে, অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ৭ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; |
(খ) খ-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে, অন্যুন ১ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ৫ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; |
(গ) গ-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে, অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ২ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; |
(৩খ) উপ-ধারা (৩ক) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া, কোন মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারীকে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে বা উক্ত দণ্ডের পরিবর্তে কোন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার জন্য প্রেরণের আদেশ দিতে পারিবে৷] |
(৪) উপ-ধারা (১) এর টেবিলে, ক্রমিক নং (১১) ব্যতীত, উল্লেখিত প্রত্যেক অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট অপরাধী উহাতে উল্লেখিত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ |
(৫) এই ধারায় উল্লিখিত কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর যদি কোন ব্যক্তি পুনরায় এই ধারার উল্লিখিত কোন অপরাধ করেন, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হইলে, তিনি উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুন দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷ |
