Skip to main content
Status: Repealed Date of Publication: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ Act No: ২০২৬ সনের ১০৯ নং আইন যেহেতু দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখিবার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার উদ্দেশ্যে আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকা প্রয়োজন; এবং যেহেতু এইরূপ বিশেষায়িত বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন; এবং যেহেতু বিদ্যমান Rapid Action Battalion বিলুপ্ত করিয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) নামে পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল:-

প্রথম অধ্যায় - প্রারম্ভিক

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে। (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,- (১) “অধস্তন কর্মকর্তা (Subordinate Officer)” অর্থ ইউনিটে পদায়িত পুলিশ বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর এবং ইউনিটে কর্মরত অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (২) “অধিনায়ক (Commanding Officer)” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য যিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ড করেন; (৩) “অভিযোগ প্রতিকার কমিটি” অর্থ ধারা ২৪ এর অধীন গঠিত কমিটি; (৪) “আটক” অর্থ এইরূপ অবস্থা যেখানে ইউনিটের কোনো সদস্যকে ইউনিটের তাঁবু, ক্যাম্প বা ব্যারাকে নজরদারির আওতাভুক্ত রাখিয়া শর্তসাপেক্ষে সীমিত চলাফেরা করিতে দেওয়া হয়; (৫) “আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী” অর্থ ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তা ব্যতীত শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো সদস্য বা সংস্থার কোনো কর্মচারী বা ইউনিটে কর্মরত সিভিল কোনো সদস্য; (৬) “ইউনিট” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB); (৭) “ইউনিট সদস্য” অর্থ ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী, নন-পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী; (৮) “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (Superior Officer)” অর্থ ইউনিটে পদায়িত পুলিশ বাহিনীর সহকারী পুলিশ সুপার ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ইউনিটে কর্মরত শৃঙ্খলা বাহিনী বা অন্য কোনো সংস্থার সমপদমর্যাদা ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (৯) “কর্মকর্তা” অর্থ ইউনিটে পদায়িত পুলিশ বাহিনীর পুলিশ পরিদর্শক হইতে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ইউনিটে কর্মরত শৃঙ্খলা বাহিনীর বা অন্য সংস্থার সমপদমর্যাদা ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (১০) “ক্যাম্প” অর্থ নিজ কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় মোতায়েনকৃত ইউনিট; (১১) “কোম্পানি” অর্থ কতিপয় প্লাটুন ও কমান্ডারের সমন্বয়ে গঠিত কোনো কোম্পানি; (১২) “গ্রেফতার” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের অধীন কোনো ব্যক্তিকে আইনানুগ হেফাজতে গ্রহণ; (১৩) “জনবল প্রেরণকারী বাহিনী বা সংস্থা” অর্থ সে সকল শৃঙ্খলা বাহিনী বা সংস্থা যাহাদের নিকট হইতে সদস্য প্রেষণের মাধ্যমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন গঠন করা হইবে; (১৪) “তদন্ত” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর section 4 এর sub-section (1) এর clause (1) এ সংজ্ঞায়িত Investigation; (১৫) “পুলিশ বাহিনী” অর্থ Police Act, 1861 (Act No. V of 1861) এর অধীন গঠিত বাহিনী; (১৬) “পুলিশ মহাপরিদর্শক” অর্থ Police Act, 1861 (Act No. V of 1861) এর অধীন নিযুক্ত Inspector General of Police; (১৭) “প্লাটুন” অর্থ কতিপয় সেকশনের সমন্বয়ে গঠিত কোনো প্লাটুন; (১৮) “ফৌজদারি কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898); (১৯) “ব্যাটালিয়ন” অর্থ কতিপয় কোম্পানি ও কমান্ডারের সমন্বয়ে গঠিত ব্যাটালিয়ন; (২০) “মহাপরিচালক” অর্থ ধারা ৭ এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিচালক; (২১) “শৃঙ্খলা বাহিনী” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ের ১৫২ অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত শৃঙ্খলা বাহিনী; এবং (২২) “সেকশন” অর্থ ইউনিটের ক্ষুদ্র কোনো দলের সমন্বয়ে গঠিত সেকশন।

আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

দ্বিতীয় অধ্যায় - ইউনিট প্রতিষ্ঠা, গঠন, ইত্যাদি

ইউনিট প্রতিষ্ঠা, গঠন, ইত্যাদি

৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকিবে। (২) সরকার কর্তৃক প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারীর পদায়ন বা, ক্ষেত্রমত, প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিট গঠিত হইবে। (৩) ইউনিটের কর্মকর্তা বা আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারীদের পদবিন্যাস, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

ইউনিটের পতাকা, প্রতীক ও পোশাক

৫। ইউনিটের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত একটি পতাকা, প্রতীক ও সুনির্দিষ্ট পোশাক থাকিবে।

ইউনিটের সদর দপ্তর ও দপ্তর

৬। (১) ইউনিটের সদর দপ্তর ঢাকায় থাকিবে। (২) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, অন্য কোনো স্থানে ইউনিটের দপ্তর স্থাপন করা যাইবে।

মহাপরিচালক

৭। (১) ইউনিটের ১ (এক) জন মহাপরিচালক থাকিবেন, যিনি সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন। (২) মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ইউনিটের নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা ও আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারীর সমন্বয়ে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশনে শ্রেণিবিন্যাস করিতে পারিবেন। (৩) মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন। (৪) মহাপরিচালক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ও অপারেশনাল কাজে পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংস্থার সমন্বয় কাজে সহায়তা করিবেন।

ইউনিটের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা

৮। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, মহাপরিচালকের আদেশে ইউনিটের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হইবে।

মহাপরিচালকের নির্দেশনা জারির ক্ষমতা

৯। মহাপরিচালক, সরকারের অনুমোদনক্রমে, তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন এবং ইউনিট পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকল্পে নির্দেশনাবলি জারি করিতে পারিবেন।

তৃতীয় অধ্যায় - ইউনিটের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি

ইউনিটের দায়িত্ব ও কার্যাবলি

১০। ইউনিটের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:- (ক) জননিরাপত্তা রক্ষা; (খ) সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন; (গ) বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার; (ঘ) মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; (ঙ) নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; (চ) আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ; (ছ) অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা; (জ) আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে উল্লিখিত অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত কার্যক্রম; এবং (ঝ) সরকার কর্তৃক অর্পিত আইনসঙ্গত অন্যান্য দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন

১১। এই আইন, বিধি অথবা সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত নির্দেশনার বিধান সাপেক্ষে, ইউনিটের সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ, বহন ও ব্যবহার করিতে পারিবে।

প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দকরণ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা

১২। ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে, কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দকরণ, গ্রেফতার, ইত্যাদি করিবার ক্ষমতা ইউনিটের থাকিবে।

কতিপয় ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগ

১৩। তল্লাশি, আটক, জব্দকরণ ও গ্রেফতার করিবার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যেরূপ ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি থাকে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন ইউনিটের এইরূপ কোনো কর্মকর্তা সেইরূপ ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি প্রয়োগ বা, ক্ষেত্রমত, সম্পাদন করিতে পারিবেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সোপর্দ ও আলামত হস্তান্তর

১৪। ইউনিটের কোনো সদস্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা কোনো আলামত জব্দ করিলে, ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করিবেন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবেন।

চতুর্থ অধ্যায় - ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম

ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত

১৫। (১) আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনো সময় মহাপরিচালককে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে। (২) মহাপরিচালক, ইউনিটে কর্মরত পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এইরূপ কোনো সদস্যকে উক্তরূপ ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন। (৩) তদন্তকালে ফৌজদারি কার্যবিধি ও Police Regulations, 1943-সহ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে। (৪) তদন্ত কার্য পরিচালনার প্রয়োজনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকিবে এবং জব্দকৃত মালামাল আদালতের আদেশমতে বা সরকারের বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির প্রযোজ্যতা

১৬। এই আইনের যে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই সেইক্ষেত্রে অপরাধের তদন্ত, বিচার, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার, ফরেনসিক পরীক্ষা, সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

পঞ্চম অধ্যায় - শৃঙ্খলা ও আচরণ

ইউনিটের সদস্য কর্তৃক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন

১৭। যদি ইউনিটে প্রেষণে বা, ক্ষেত্রমত, পদায়িত কোনো সদস্য নিম্নবর্ণিত কোনো কার্য করেন, তাহা হইলে অনুরূপ কার্য শৃঙ্খলা লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তাহার বিরুদ্ধে ধারা ১৮, ১৯, ২১ বা, ক্ষেত্রমত, ২২ এর বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে, যথা:- (ক) কর্তব্য পালনকালে মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকেন; (খ) ইউনিটের কোনো কর্মরত সদস্যকে আঘাত করেন বা সদস্যের উপর বল প্রয়োগ করেন বা করিবার চেষ্টা করেন কিংবা অসদাচরণ করেন; (গ) কোনো গার্ড, চৌকি বা পেট্রোলে নিযুক্ত হইয়া ছুটি কিংবা ছাড়পত্র ব্যতিরেকে উহা পরিত্যাগ করেন বা ছাড়িয়া চলিয়া যান; (ঘ) গ্রেফতার কিংবা আটক থাকিয়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মুক্তি না দেওয়া সত্ত্বেও গ্রেফতার বা আটকাবস্থা হইতে পালাইয়া যান; (ঙ) উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করেন, অবাধ্যতা প্রকাশ করেন বা অশোভন আচরণ প্রদর্শন করেন; (চ) আইনসংগত কোনো কাজ করিতে অস্বীকার করেন; (ছ) কোনো চৌকি বা কুচকাওয়াজে কমান্ডার হিসাবে দায়িত্বে থাকিয়া তাহার অধীন কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্য কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করা বা অন্য কোনোভাবে দুর্ব্যবহার, বা নির্যাতন করিবার কিংবা কোনো দাঙ্গা বা অনধিকার প্রবেশ করিবার অভিযোগ পাইয়া অভিযোগের সত্যতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব আইনানুগ সহায়তা প্রদানে ব্যর্থ হন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করিতে অবহেলা করেন; (জ) পরিকল্পিতভাবে বা অবহেলাজনিত কারণে তাহার অস্ত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, হাতিয়ার, সাজ-সরঞ্জাম, গোলাবারুদ, সাঁজোয়া যানবাহন, প্রয়োজনীয় কোনো বস্তু বা তাহার হেফাজতে প্রদত্ত অন্য কোনো বস্তুর ক্ষতি সাধন করেন, হারাইয়া ফেলেন বা প্রতারণামূলকভাবে পরিত্যাগ করেন; (ঝ) কর্তব্যে ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অসুস্থতার ভান করেন, ছল-চাতুরি করেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে সুস্থতা অর্জনে বিলম্ব ঘটান বা অসুস্থতা বাড়াইয়া তোলেন; (ঞ) কর্তব্য পালন না করিবার উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে অক্ষমতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিজ দেহে বা অপর কাহারও দেহে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেন; (ট) বলপূর্বক অর্থ আদায় করেন কিংবা কোনো আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে অন্যায়ভাবে কাহারও যানবাহন ব্যবহার করেন বা কোনো সেবা আদায় করেন; (ঠ) বলপূর্বক কোনো জমি বা ভূমি দখল করেন কিংবা কোনো আইনগত কর্তৃত্ব বা উপযুক্ত কোনো কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা ব্যতীত অন্যায়ভাবে কোনো জমি বা ভূমির দখল কাউকে বুঝিয়ে দেন; (ড) পরিকল্পিতভাবে বা অবহেলাজনিত কারণে জনস্বার্থে ব্যবহৃত ঘোড়া, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীকে হত্যা বা আহত করেন বা এইরূপ কার্যের আলামত নষ্ট করিয়া ফেলেন বা উহাদের সহিত দুর্ব্যবহার করেন বা হারাইয়া ফেলেন; (ঢ) যেকোনো ধরনের সম্পদ চুরি করেন বা ধ্বংস করেন বা ক্ষতিগ্রস্ত করেন; (ণ) পরিকল্পিতভাবে বা অবহেলাজনিত কারণে কোনো অপরাধীকে আটক করিতে ব্যর্থ হন; (ত) পরিকল্পিতভাবে বা অবহেলাজনিত কোনো দায়িত্ব পালন করিতে ব্যর্থ হন; (থ) জুয়া, অবৈধ মাদকদ্রব্য বা নৈতিক স্খলনের সহিত জড়িত থাকেন; (দ) এই আইন বা বিধির কোনো বিধান পরিপালন করিতে অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করেন বা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কার্য করেন বা বৈধ কোনো কার্য করা হইতে বিরত থাকেন; এবং (খ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো কার্য করেন।

ইউনিটের সদস্যকে আটক

১৮। (১) যদি ইউনিটের কোনো সদস্য কর্তৃক ধারা ১৭-তে বর্ণিত কোনো শৃঙ্খলা লঙ্ঘিত হয় বা লঙ্ঘনের আশংকা রহিয়াছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে, তাহা হইলে কমান্ডার, কোম্পানি কমান্ডার বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত সদস্যকে নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে, আটক করিতে পারিবেন, যথা:- (ক) আদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত দায়িত্ব অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে হইবে; (খ) আটককৃত সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ অবহিত করিতে হইবে; (গ) নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান আরম্ভ করিতে হইবে এবং, প্রয়োজনে, অভিযোগ গঠন করিতে হইবে; এবং (ঘ) কোনো সদস্য ১৫ (পনেরো) দিনের অধিক আটক থাকিলে ৭ (সাত) দিন অন্তর অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিতে হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনো প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।

প্রাক-তদন্ত, ইত্যাদি

১৯। (১) ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ধারা ১৭-তে বর্ণিত কোনো শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে কিংবা অন্য কোনোভাবে অবহিত হইলে, মহাপরিচালক নিজে কিংবা তদধীন কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগটি প্রাক-তদন্ত করিবেন বা, ক্ষেত্রমত, করাইবেন। (২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত প্রাক-তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে, মহাপরিচালক ইউনিটে প্রেষণে নিযুক্ত উক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনবল প্রেরণকারী বাহিনী বা সংস্থার নিকট প্রতিবেদনসহ তাহাকে ফেরত পাঠাইবেন। (৩) এই ধারার অধীন প্রাক-তদন্তের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

পলাতক সদস্যের গ্রেফতার

২০। যদি ইউনিটের কোনো সদস্য এই আইনে বর্ণিত শৃঙ্খলা লঙ্ঘন অথবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটন করিয়া পলায়ন করেন, তাহা হইলে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার তাহাকে গ্রেপ্তার করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করিবার জন্য উক্ত পলাতক সদস্যের স্থায়ী অথবা বর্তমান বাসস্থান যে থানায় অবস্থিত সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করিবেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত অনুরোধ প্রতিপালন করিয়া পলাতক সদস্যকে উক্ত ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করিবেন।

ইউনিটের সদস্য কর্তৃক সংঘটিত শৃঙ্খলা লঙ্ঘন

২১। (১) ধারা ১৭-তে বর্ণিত শৃঙ্খলা ব্যতীত ইউনিটের সদস্য কর্তৃক অন্য কোনো শৃঙ্খলা লঙ্ঘিত হইলে তাহার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। (২) সরকার, পুলিশ মহাপরিদর্শক ও মহাপরিচালকের সহিত পরামর্শক্রমে, ইউনিটের পদায়িত কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারী এবং প্রেষণে নিযুক্ত ও পদায়িত সকল সংস্থার সদস্যদের আচরণ ও শৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একক ও অভিন্ন বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত Armed Police Battalions Ordinance, 1979 (XXV of 1979) এর অধীন প্রণীত র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, ইউনিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

বিভাগীয় কার্যধারায় আরোপযোগ্য দণ্ড

২২। (১) ইউনিটে পদায়িত কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারী বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত হইলে নিম্নবর্ণিত যে কোনো গুরুদণ্ড প্রদান করা যাইবে, যথা:- (ক) চাকরি হইতে বরখাস্ত; (খ) চাকরি হইতে অপসারণ; (গ) বাধ্যতামূলক অবসর; (ঘ) চাকরি হইতে অব্যাহতি; (ঙ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি; (চ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদোন্নতি বন্ধ; (ছ) অনূর্ধ্ব এক বৎসরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন ও ভাতাদি বাজেয়াপ্ত; এবং (জ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত। (২) ইউনিটে পদায়িত কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারী বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত হইলে নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘুদণ্ড প্রদান করা যাইবে, যথা:- (ক) অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা জরিমানা; (খ) তিরস্কার; (গ) অনূর্ধ্ব ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক রাখা; (ঘ) অনূর্ধ্ব ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রাখা এবং তৎসহ এক্সট্রা ড্রিল (Extra Drill), এক্সট্রা গার্ড (Extra Guard), ফ্যাটিগ (Fatigue) বা অন্য কোনো ডিউটি প্রদান; এবং (ঙ) দৈনিক ২ (দুই) ঘণ্টা করিয়া অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) দিনের জন্য শাস্তিস্বরূপ ড্রিল (Drill) প্রদান। (৩) পুলিশ মহাপরিদর্শক বা মহাপরিচালক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের নিম্নে নহেন এইরূপ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাহার অধীনস্থ ইউনিটে পদায়িত কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারীকে উপ-ধারা (১) বা (২) এ উল্লিখিত যে কোনো এক বা একাধিক দণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) হইতে (ঙ) এ উল্লিখিত দণ্ড কর্মকর্তা ও অধস্তন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না: আরও শর্ত থাকে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে। (৪) আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান না করিয়া কোনো ইউনিট সদস্যকে এই ধারার অধীন কোনো দণ্ড প্রদান করা যাইবে না। (৫) ইউনিটের কোনো সদস্য, যাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বা যাহার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কার্য পরিচালনা করা হইবে তাহাকে নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সাময়িক বরখাস্ত করা যাইবে, যথা:- (ক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক; (খ) পুলিশ পরিদর্শক বা সমপদমর্যাদার কর্মকর্তার ক্ষেত্রে পুলিশ মহাপরিদর্শক কর্তৃক; এবং (গ) অধস্তন কর্মকর্তা অথবা আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারীর ক্ষেত্রে মহাপরিচালক বা তদ্‌কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক।

বিভাগীয় কার্যধারায় প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল

২৩। (১) ধারা ২২ এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করা যাইবে, যথা:- (ক) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নিকট; (খ) মহাপরিচালকের আদেশের ক্ষেত্রে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিকট। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

ষষ্ঠ অধ্যায় - অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন, ইত্যাদি

অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন ও কার্যপরিধি

২৪। (১) ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি দ্বারা উত্থাপিত অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনের জন্য নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠিত হইবে, যথা:- (ক) ইউনিটের ১ (এক) জন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন; (খ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিনিধি; (গ) পুলিশ অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত অন্যূন এআইজি পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি; (ঘ) সরকার কর্তৃক মনোনীত আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এইরূপ ১ (এক) জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা; (ঙ) সরকার কর্তৃক মনোনীত মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এইরূপ ১ (এক) জন ব্যক্তি; এবং (চ) ইউনিটের পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া), যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন। (২) অভিযোগ প্রতিকার কমিটি কোনো ব্যক্তির অভিযোগ বা বাহিনীর সদস্যের সংক্ষোভ নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন করিবেন, যথা:- (ক) কোনো ব্যক্তির অভিযোগ বা সংক্ষোভ নিরসনে নিজ উদ্যোগে বিভাগীয় কার্যপদ্ধতিতে অনুসন্ধান করিতে পারিবে; (খ) প্রয়োজনে, ব্যক্তির অভিযোগ বা সংক্ষোভ নিরসনে নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ অনুসন্ধান দল গঠনপূর্বক বিভাগীয় কার্যপদ্ধতিতে অনুসন্ধান করিতে পারিবে; (গ) অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করিতে পারিবে; (ঘ) ইউনিটের কার্যক্রমে বিধিবহির্ভূত প্রভাব, পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণ ইত্যাদি সংক্রান্ত সংক্ষোভ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে; (ঙ) ইউনিটের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা বিধি বহির্ভূত ও অযাচিত প্রভাব বিস্তার করিলে এবং অনুসন্ধানে প্রমাণিত হইলে, উক্ত ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে দায়-দায়িত্ব নিরূপণপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে; এবং (চ) ব্যক্তির অভিযোগ বা বাহিনীর সদস্যের সংক্ষোভ নিরসন সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন মহাপরিচালকের মাধ্যমে সরকারের নিকট দাখিল করিবে। (৩) অভিযোগ প্রতিকার কমিটি কর্তৃক কোনো অভিযোগ অনুসন্ধান করিবার ক্ষেত্রে সাক্ষী ও দলিল উপস্থাপনের বিষয়ে উহার দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার থাকিবে।

সপ্তম অধ্যায় - প্রশিক্ষণ ও গবেষণা

প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম

২৫। (১) ইউনিটের সকল সদস্যকে ইউনিটে যোগদানের পর নির্ধারিত মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিতে হইবে। (২) ইউনিটের সদর দপ্তরে একটি গবেষণা সেল থাকিবে, যাহা অপারেশনাল ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করিবে। (৩) প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা সেলের কর্মপরিধি ও অন্যান্য বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

অষ্টম অধ্যায় - বিবিধ

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত

২৭। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Armed Police Battalions (Amendment) Act, 2003 (২০০৩ সনের ২৮ নম্বর আইন) দ্বারা Rapid Action Battalion গঠন সংক্রান্ত Armed Police Battalions Ordinance, 1979 (Ordinance No. XXV of 1979) এ যে সকল বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছিল, কেবল সেইসকল বিধান রহিত হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও এই আইনের অধীন কোনো বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত Armed Police Battalions Ordinance, 1979 (Ordinance No. XXV of 1979) এর section 14 এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারিকৃত র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫ এবং উক্ত বিধিমালা অথবা অন্য কোনো আইন বা বিধির অধীন ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারা বহাল ও বলবৎ থাকিবে। (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও Rapid Action Battalion সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং এতদসংক্রান্ত সকল দলিল, ইত্যাদি এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) এর অনুকূলে তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত বা অর্পিত হইবে।

ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২৮। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে। (২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

Footnotes

Click here to see the original act on the Bangladesh Legal Database.